বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

তুমি সাধু, আমি চোর: ভাবছি কি ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
তুমি সাধু, আমি চোর: ভাবছি কি ?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলা ভাষায় কিছু কিছু বাক্য আছে, যেগুলো ছোট হলেও সমাজের গভীর বাস্তবতাকে অসাধারণ শক্তিতে প্রকাশ করে। “তুমি সাধু, আমি চোর”Ñতেমনই একটি বাক্য। এই কথার ভেতরে আছে আত্ম সমালোচনার অভাব, সামাজিক ভ-ামি, ক্ষমতার দ্বিচারিতা এবং মানুষের চিরন্তন প্রবণতাÑনিজেকে নির্দোষ আর অন্যকে অপরাধী ভাবার মানসিকতা। আজকের সমাজে এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিবার, রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, ধর্মীয় পরিম-ল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমÑসবখানেই বিস্তৃত।আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন মানুষ সত্যের চেয়ে নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে বেশি চিন্তিত। সমাজে কে কতটা সৎ, তার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে কে কত সুন্দরভাবে নিজেকে সৎ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে সততার চর্চার চেয়ে সততার অভিনয়ই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এখানেই “তুমি সাধু, আমি চোর” বাক্যটির গভীর তাৎপর্য। মানুষ সাধারণত নিজের ভুলকে পরিস্থিতির কারণে ব্যাখ্যা করতে চায়, কিন্তু অন্যের ভুলকে চরিত্রগত ত্রুটি হিসেবে দেখে। মনোবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় ংবষভ-ংবৎারহম নরধং। অর্থাৎ নিজের ব্যর্থতা বা অন্যায়কে যুক্তি দিয়ে বৈধতা দেওয়া এবং অন্যের ক্ষেত্রে কঠোর বিচার করা। আমাদের সমাজে এই প্রবণতা ভয়ংকর ভাবে বেড়েছে।রাস্তার এক ব্যক্তি ট্রাফিক আইন ভাঙলে নিজেকে বলেনÑ“অবস্থা এমন ছিল, না করে উপায় ছিল না।” কিন্তু অন্য কেউ একই কাজ করলে বলেনÑ“দেশটা শেষ হয়ে যাচ্ছে।” একজন ব্যবসায়ী কর ফাঁকি দিয়ে নিজেকে চালাক ভাবেন, কিন্তু অন্যের দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতায় থাকলে ভিন্ন ভাষায় কথা বলেন, বিরোধী দলে গেলে একই কাজকে অন্যায় বলেন।এই দ্বিচারিতা সমাজে নতুন কিছু নয়। তবে এখন এর মাত্রা বেড়েছে। কারণ আমরা ক্রমে এমন এক সংস্কৃতির দিকে এগোচ্ছি, যেখানে আত্মসমালোচনা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়। ভুল স্বীকার করাকে ব্যর্থতা মনে করা হয়। ফলে সবাই নিজেকে “সাধু” প্রমাণ করতে ব্যস্ত, আর অন্যকে “চোর” বানাতে আগ্রহী।আজ সমাজে নৈতিকতার ভাষণ খুব বেশি শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই দেখা যায়Ñমানবতা, নীতি, দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য। কিন্তু বাস্তবে সেই বক্তব্যের প্রতিফলন কতটুকু? একজন ব্যক্তি অনলাইনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ছোটখাটো সুবিধার জন্য অনৈতিক পথ বেছে নেন। কেউ নারী অধিকারের কথা বলেন, অথচ নিজের পরিবারে নারীর মতামতকে মূল্য দেন না। কেউ ধর্মের কথা বলেন, কিন্তু মানবিকতার জায়গায় সংকীর্ণতা লালন করেন। এই বৈপরীত্য সমাজকে ধীরে ধীরে অসাড় করে দিচ্ছে। কারণ মানুষ যখন বারবার কথার সঙ্গে কাজের অমিল দেখে, তখন তারা নৈতিকতার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করে। তখন সত্যিকারের সৎ মানুষও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সমস্যা হলো, আমরা এখন নৈতিকতাকে জীবনচর্চা নয়, বরং সামাজিক পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলেছি। মানুষ ভালো হওয়ার চেয়ে ভালো দেখাতে বেশি আগ্রহী। ফলে ভেতরের পরিবর্তনের চেয়ে বাইরের প্রদর্শন বড় হয়ে উঠেছে। একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকে। কিন্তু অনেক পরিবারেই শিশুকে অজান্তেই শেখানো হয় দ্বিচারিতা। তাকে বলা হয়Ñ“বাইরের মানুষের সামনে এমন কথা বলবে না”, “অতিথির সামনে ভালো ব্যবহার করো”, “মানুষ কী বলবে সেটা ভাবো।”এই শিক্ষাগুলো পুরোপুরি ভুল নয়। সামাজিক শিষ্টাচার প্রয়োজন আছে। কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন শিশুকে সত্যের চেয়ে সামাজিক ভাবমূর্তিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শেখানো হয়। তখন সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখেÑভালো হওয়া জরুরি নয়, ভালো দেখানো জরুরি।অনেক পরিবারে বাবা-মা নিজেরাই নিয়ম ভাঙেন, কিন্তু সন্তানকে নিয়ম মানতে বলেন। সন্তান তখন বিভ্রান্ত হয়। সে দেখে, নীতির কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ফলে তার মধ্যেও দ্বৈত মানসিকতা তৈরি হয়। একসময় এই শিশুরাই বড় হয়ে সমাজের দায়িত্ব নেয়। তারা অফিসে, রাজনীতিতে, ব্যবসায় কিংবা সামাজিক জীবনে একই সংস্কৃতি বহন করে। ফলে আত্মপ্রবঞ্চনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা জ্ঞান দিচ্ছে, দক্ষতা তৈরি করছে, কিন্তু নৈতিক সাহস গড়ে তুলতে পারছে কি? পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার চাপ এত বেশি যে, অনেক শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই প্রতিযোগিতাকে নৈতিকতার চেয়ে বড় মনে করতে শেখে।শিক্ষার্থীরা দেখেÑযে বেশি নম্বর পায়, সমাজ তাকে বেশি সম্মান দেয়। সে কীভাবে সেই নম্বর পেল, সেটি বড় প্রশ্ন নয়। ফলে অনেকেই শর্টকাট খোঁজে। কেউ নকল করে, কেউ কোচিং নির্ভর হয়ে পড়ে, কেউ মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করে।একটি সমাজ যখন সাফল্যকে নৈতিকতার ওপরে স্থান দেয়, তখন সেখানে সততা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন মানুষ ভাবেÑ“সবাই করছে, আমি করলে দোষ কোথায়?” এই মানসিকতা ধীরে ধীরে পুরো সমাজকে গ্রাস করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। শিক্ষকদের আচরণ, প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার পরিবেশের মধ্যেও নৈতিকতার প্রতিফলন থাকতে হবে। সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে বিনয়ী করে। সে নিজের ভুল দেখতে শেখায়। কিন্তু যখন ধর্ম অহংকারের উপকরণ হয়, তখন মানুষ নিজেকে “সাধু” ভাবতে শুরু করে এবং অন্যকে “চোর” হিসেবে বিচার করতে থাকে। রাজনীতিতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ক্ষমতায় থাকলে এক ধরনের বক্তব্য, বিরোধী দলে গেলে আরেক ধরনের বক্তব্যÑএ যেন বহু দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। একসময় যে দল মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছিল, ক্ষমতায় গিয়ে তারাই সমালোচনা সহ্য করতে চায় না। যারা বিরোধী অবস্থানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তারাই ক্ষমতায় গিয়ে একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। এতে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। তারা মনে করতে শুরু করেÑসবাই একই। ফলে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়। মানুষ রাজনীতিকে সেবার জায়গা হিসেবে না দেখে ক্ষমতার খেলা হিসেবে দেখতে শুরু করে।রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট এখানেইÑআদর্শের চেয়ে ক্ষমতা বড় হয়ে ওঠা। আর ক্ষমতা যখন নৈতিকতার ওপরে উঠে যায়, তখন সমাজে “তুমি সাধু, আমি চোর” সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করেছে, এটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু একই সঙ্গে এটি এক ধরনের কৃত্রিম আত্মপ্রদর্শনের সংস্কৃতিও তৈরি করেছে। এখানে সবাই নিজের জীবনের সুন্দর অংশগুলো দেখাতে চায়। কেউ নিজের দুর্বলতা, ব্যর্থতা বা ভুল প্রকাশ করতে চায় না। ফলে এমন এক ভার্চ্যুয়াল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে সবাই সফল, সবাই সচেতন, সবাই নৈতিক।এই সংস্কৃতি মানুষকে ভেতর থেকে আরও একাকী ও ভ- করে তুলছে। কারণ বাস্তব জীবনের মানুষ আর অনলাইন পরিচয়ের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নৈতিক ক্ষোভও এক ধরনের ট্রেন্ড। কোনো ঘটনা ঘটলেই মানুষ দ্রুত বিচারক হয়ে ওঠে। প্রমাণের আগেই কাউকে দোষী বানানো হয়। সবাই যেন নৈতিকতার আদালতের বিচারপতি।কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআমরা কি নিজেদের একইভাবে বিচার করি? গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। কিন্তু এই দর্পণও অনেক সময় প্রভাব, ব্যবসা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ঝাপসা হয়ে যায়। কোনো ঘটনা বিশেষভাবে প্রচার পায়, কোনো ঘটনা চাপা পড়ে যায়। মিডিয়া যখন নিরপেক্ষতা হারায়, তখন মানুষ সত্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়। তারা বুঝতে পারে নাÑকোনটা প্রকৃত তথ্য, আর কোনটা সাজানো বয়ান। এতে সমাজে অবিশ্বাস বাড়ে। একই সঙ্গে দর্শক বা পাঠকের মধ্যেও এক ধরনের নির্বাচিত নৈতিকতা কাজ করে। নিজের পছন্দের ব্যক্তি বা দলের ভুলকে ছোট করে দেখা হয়, অপছন্দের ব্যক্তির ভুলকে বড় করে দেখানো হয়। এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য বিপজ্জনক। কারণ তখন সত্য নয়, পক্ষপাত বড় হয়ে ওঠে। একটি সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আত্মসমালোচনার ক্ষমতা। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রÑসবারই নিজের ভুল বিশ্লেষণ করার সাহস থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে আত্মসমালোচনা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কেউ ভুল স্বীকার করতে চায় না। কারণ ভুল স্বীকার করলে দুর্বল ভাবা হবেÑএমন ভয় কাজ করে। ফলে মানুষ আত্মরক্ষামূলক হয়ে ওঠে। সে যুক্তি দাঁড় করায়, দায় অন্যের ওপর চাপায়, পরিস্থিতিকে দোষ দেয়। কিন্তু নিজের ভেতরে তাকায় না। আত্মসমালোচনার অভাব মানুষকে উন্নতির পথ থেকেও দূরে সরিয়ে দেয়। কারণ ভুল না মানলে সংশোধনের সুযোগও থাকে না। আজকের সমাজে সত্য বলা কঠিন। কারণ সত্য অনেক সময় সুবিধার বিরুদ্ধে যায়। কর্মক্ষেত্রে সত্য বললে চাকরি ঝুঁকিতে পড়ে, রাজনীতিতে সত্য বললে হুমকি আসে, সামাজিক জীবনে সত্য বললে সম্পর্ক নষ্ট হয়। ফলে মানুষ নীরবতা বেছে নেয়। কেউ কেউ আপস করে। ধীরে ধীরে সমাজে সত্য বলার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে।একসময় দেখা যায়Ñমিথ্যাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তখন মানুষ সত্য শুনতে অস্বস্তি বোধ করে।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে ভয়ংকর। কারণ কোনো সমাজ যদি সত্যের জায়গা হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেখানে ন্যায়বিচারও দুর্বল হয়ে পড়ে।সমাজে প্রকৃত ভালো মানুষ খুব বেশি প্রচার পান না। কারণ সত্যিকারের সৎ মানুষ সাধারণত নিজের সততা নিয়ে প্রচারণা চালান না। তারা নীরবে কাজ করেন।প্রকৃত ভালো মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে জানেন। তিনি অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় করার চেষ্টা করেন না। তিনি জানেনÑমানুষ হিসেবে সবারই সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমাদের সমাজে এখন উচ্চকণ্ঠ মানুষ বেশি দৃশ্যমান। যারা বেশি নৈতিকতার ভাষণ দেন, তাদেরই অনেক সময় বেশি সম্মান দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত বিনয় হারিয়ে যাচ্ছে। সমাজ পরিবর্তনের শুরু হতে হবে ব্যক্তি থেকে। প্রত্যেক মানুষকে নিজের ভেতরে তাকাতে হবে। প্রশ্ন করতে হবেÑআমি কি সত্যিই সেই মানুষ, যেভাবে নিজেকে উপস্থাপন করি? পরিবারে শিশুদের সত্য বলার সাহস শেখাতে হবে। ভুল করলে তা স্বীকার করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা শুধু পাঠ্যবইয়ে নয়, বাস্তব আচরণে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।রাজনীতিতে আদর্শ ও জবাবদিহি শক্তিশালী করতে হবে। ধর্মকে বাহ্যিক পরিচয়ের বদলে মানবিকতার চর্চা হিসেবে দেখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের বুঝতে হবেÑভুল করা মানবিক, কিন্তু ভুল অস্বীকার করা বিপজ্জনক। “তুমি সাধু, আমি চোর”Ñএই বাক্যটি কেবল ব্যঙ্গ নয়; এটি আমাদের সমাজের গভীর অসুখের প্রতীক। আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে বাস করছি, যেখানে মানুষ নিজের মুখোশ রক্ষা করতে ব্যস্ত, কিন্তু আত্মার আয়নায় তাকাতে ভয় পায়।সভ্যতার অগ্রগতি প্রযুক্তি দিয়ে হয়, কিন্তু মানবিক অগ্রগতি হয় সততা দিয়ে। সমাজ তখনই সুস্থ হয়, যখন মানুষ অন্যকে বিচার করার আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করে। আমাদের দরকার এমন এক সংস্কৃতি, যেখানে ভুল স্বীকার করাকে দুর্বলতা নয়, সাহস হিসেবে দেখা হবে। যেখানে মানুষ নিজেকে সাধু প্রমাণের চেয়ে ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে। কারণ শেষ পর্যন্ত, সমাজকে বদলানোর সবচেয়ে বড় শক্তি আইন নয়, প্রযুক্তি নয়, ক্ষমতাও নয়Ñমানুষের বিবেক। আর সেই বিবেক জাগ্রত হওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিজের ভেতরের অন্ধকারকে স্বীকার করা।যেদিন আমরা বলতে শিখবÑ“হ্যাঁ, আমারও ভুল আছে”Ñসেদিনই হয়তো “তুমি সাধু, আমি চোর” সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি সত্যভিত্তিক মানবিক সমাজ গড়ার পথ খুলে যাবে। লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

১০টি পয়েন্টে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে সাংসদের ডিও লেটার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
১০টি পয়েন্টে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে সাংসদের ডিও লেটার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মারাত্মক নদী ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। গত ১১ মে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এ সংক্রান্ত একটি ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) প্রদান করেন তিনি।
ডিও লেটারে সাংসদ উল্লেখ করেন, আশাশুনি উপজেলা মারাত্মক নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। টেকসই বাঁধের অভাবে অনেক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগরের কুড়িকাউনিয়া ও হরিশখালি, আনুলিয়ার মনিপুর ও বিছট, বুধহাটা বাজার এলাকা এবং বড়দলের গোয়ালডাঙ্গাসহ ১০টি পয়েন্টে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর আশা, এই আবেদন বাস্তবায়িত হলে তারা ভিটেমাটি হারানোর দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন এবং দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান ঘটবে।

একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বেচে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন লেবানন, ফিরছে লাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বেচে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন লেবানন, ফিরছে লাশ

আসাদুজ্জামান সরদার: সুরঞ্জন দাসের এখন আর কোনো নিজের জমি নেই। তিন বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইÑএক শতক বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই, মেজ ছেলে শুভ দাসকে (২৫) লেবাননে পাঠিয়ে সংসারের অভাব ঘোচানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন চিতাভস্ম হওয়ার পথে। গত সোমবার রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন শুভ।
বুধবার সকালে শ্রীপতিপুর গ্রামে সুরঞ্জনের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে ডুকরে কাঁদছেন মা শিখা দাস। একটি ভ্যানের উপর বসে নির্বাক হয়ে বসে আছেন বৃদ্ধ বাবা সুরঞ্জন। তার পাশে বসে সান্ত¦না দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন প্রতিবেশি। প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়ে বাড়িটি শোকাতুর হয়ে উঠেছে। সবার চোখেমুখে একটাই আকুতিÑছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখা।
পেশায় ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস জানান, বাড়ি বিক্রি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। চড়া সুদে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুভকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। ভিটে হারিয়ে গত তিন বছর ধরে সপরিবারে এক হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় থাকছেন তিনি। প্রতি মাসে শুভ ৩৫ হাজার টাকা করে পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়েই ঋণের কিস্তি শোধ আর ছোট দুই ভাই-বোনের পড়াশোনা চলছিল।
বিলাপ করতে করতে মা শিখা রানী দাস বলেন, “সংসারের হাল ফেরাতে ছেলেটা বিয়েও করেনি। বলেছিল আরও কিছুদিন থেকে টাকা জমিয়ে বাড়ি ফিরে ঘর বাঁধবে। ভগবান কেন আমাদের কপাল পুড়িয়ে দিল? এখন ঋণের টাকা কে শোধ করবে, আর আমার মানিককেই বা কই পাব?”
শুভর ছোট বোন সাধনা দাস কলারোয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। কান্নারত কণ্ঠে সে বলে, “রবিবার রাতে দাদার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। দুই মাস টাকা পাঠাতে পারেনি বলে দাদা খুব আফসোস করছিল। দাদাই আমাদের পড়াশোনার খরচ চালাত। দাদাকে তো আর ফিরে পাব না, কিন্তু এখন আমরা থাকব কোথায়? আমাদের পড়াশোনাই বা হবে কীভাবে?”
প্রতিবেশী সুমন দাস বলেন, শুভ খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। এলাকার সবার সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। তার এই অকাল মৃত্যু পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
শুভসহ গত দুই দিনে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাতক্ষীরার মোট তিনজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় ইউপি মেম্বর শাহাদাত হোসেন বলেন, সুরঞ্জন দাসের এখন আর কোনো নিজের জমি নেই। তিনি এখন পরিবার নিয়ে থাকেন ধানের চাতালের ফেলে রাখা খুপড়ি ঘরে। তিন বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইÑএক শতক বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। চড়া সুদে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুভকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সেই শুভ ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় মারা যাওয়ার খবরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শুভ’র মরদেহ যেন দেশে আনা হয়Ñআমরা সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে এই অসহায় পরিবারটি যেন মাথা গোজার ঠাঁই পায় সে ব্যাপারেও সরকার যেন সহায়তা করেন।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শুভর পরিবার যাতে দ্রুত মরদেহ ফিরে পায়, সে জন্য আমরা কনস্যুলেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছি। একই সঙ্গে সরকারিভাবে সব ধরণের আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানিয়েছেন, প্রবাসীদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
অভাবের তাড়নায় যে ছেলেকে ভিনদেশে পাঠিয়েছিলেন সুরঞ্জন দাস, এখন সেই ছেলের নিথর দেহটুকু ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর। ঋণের বোঝা আর শোকÑদুইয়ের ভারে ন্যুব্জ এই পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

 

 

জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জেলা প্রশাসকের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জেলা প্রশাসকের

 

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ঠজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরায় নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। বুধবার উক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনসেবা, শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। নবাগত জেলা প্রশাসক উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা জেলার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে সরকারের ৫ মহাপরিকল্পনা বিষয়ে অপর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বলা হয়, “সবার আগে বাংলাদেশ, করবো কাজ, গড়বো দেশ”Ñএই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার। ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ দর্শনের আলোকে এসব অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর চৌধুরি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম।
এতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বলা হয়Ñ প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে ডিজিটাল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের বিশেষত্ব হলো, এটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে প্রদান করা হচ্ছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। লক্ষ্য রয়েছে ৫ বছরে ৫০ লাখ গ্রামীণ পরিবারকে এই ডিজিটাল সুরক্ষার আওতায় আনার।
নদী ও খাল খনন বিষয়ে বলা হয়Ñপরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরুজ্জীবিত করেছে সরকার। আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া ৫২০টি নদী ও হাজারো খালের পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। সাতক্ষীরা জেলায় ইতোমধ্যে ৩৩টি খালের মধ্যে ৪টির খনন কাজ শেষ হয়েছে এবং ২৫টির কাজ চলমান রয়েছে।
সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় মোট ৩৩টি খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে আছেÑ কামু খাল, কাটা খাল, কোলকাতলা খাল, খেজুরডাঙ্গা খাল, পুটিমারী খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল, লেবুখালি খাল, নারায়নবাড়ি খাল, হেতালবুনিয়া খাল, কুড়িকাহুনিয়া, গেটের খাল, আই খাল, আইতলা খাল, চিত্রা খাল, হিমখালির খাল, ফারি খাল, খোসালখালি খাল, ধানখালি খাল, খলশিমুখো খাল, সোয়লিয়া খাল, হেতেলখালি খাল, গাবলাখালি খাল, খাশখামার খাল, দশ ফুটের খাল, কুমড়া খাল, কাটাখালি খাল, শ্যাম খাল, পাতাকাটা খাল, টুংগিরপুর খাল-০১, টুংগিরপুর খাল-০২, বসুখালি খাল ও বোয়ালমারি খাল।
এসব খালগুলো মধ্যে কামু খাল, কাটা খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খালগুলোর মধ্যে কুড়িকাহুনিয়া, আইতলা খাল, গাবলাখালি খাল ও হিমখালির খাল খননের জন্য প্রস্তাবিত আকারে রয়েছে। বাকি খালগুলো খননের কাজ চলমান রয়েছে।
কর্মসূচিভুক্ত খালগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান জেলা তথ্য অফিসার। সভায় আরও জানানো হয়, ’সবুজ হোক দেশ, নির্মল হোক পরিবেশ’Ñস্লোগানে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩ দশমিক ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’-এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার আধুনিক ব্যবস্থা চালু করছে সরকার।
জেলা তথ্য অফিসার বলেন, যাতায়াতে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং বিশেষায়িত নিরাপদ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গণপরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাসের চালক ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বেও থাকবেন নারীরা।
তিনি আরও বলেন, ”কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”Ñএই চেতনায় দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনার কাজ চলছে। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ সার, বীজ, সহজ শর্তে ঋণ ও শস্য বীমার মতো ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিস জানায়, সরকারের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকা- ও নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তৃণমূলের মানুষকে সচেতন করতে জেলাজুড়ে উঠান বৈঠক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মাইকিং ও ডিজিটাল প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য অফিস আয়োজিত উক্ত প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়েও বসার জায়গা না পেয়ে প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নের আওতায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে বুধবার সাড়ে এগারটার দিকে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যান। এসময় তাঁরা প্রায় সব হলুদ ও ভূইফোড় সাংবাদিকদের চেয়ার দখল করে বসে থাকতে দেখেন। এমতাবস্থায় নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন। মুলধারার সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে রেখে তিনি ব্রিফিং শুরু করলে ‘বসার জায়গা না পেয়ে অগত্য সাংবাদিকরা সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।’
এবিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত জানতে খুবই আগ্রহ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু বসার জায়গা না পাওয়া ও জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমুলক আচরণে আমাদের চলে আসা ছাড়া পথ ছিলনা। ’
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মূলধারার সাংবাদিকরা সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকা-ের সকল খবর প্রচার করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, গত ১লা এপ্রিল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের শ্যামনগর সফরের নিউজ মুলধারার সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ কাভারেজ করেন। অথচ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখা যায়নি।