রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনগত সহায়তা অপরিহার্য: নজরুল ইসলাম 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনগত সহায়তা অপরিহার্য: নজরুল ইসলাম 

 

বদিউজ্জামান : “জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬” যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রদত্ত আইনগত সহায়তা কার্যক্রম অপরিহার্য। বিচারপ্রার্থীদের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” তিনি আরও বলেন, “আইনগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং আইনের শাসন সুদৃঢ় হচ্ছে।”

তিনি জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “এই দিবসটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দিবসটি উপলক্ষে এমন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আইনগত সহায়তা সম্পর্কে জানতে পারে এবং সহজে এ সেবা গ্রহণ করতে পারে।”

সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিগণ, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধি, প্যানেল আইনজীবীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপনকে সফল করতে নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

বক্তারা বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ, প্রচার-প্রচারণা এবং গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আসন্ন জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন উপলক্ষে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, আইনি সহায়তা বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, গণমাধ্যমে প্রচার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ এপ্রিল “জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬” উপলক্ষে সাতক্ষীরায় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক্তদান কর্মসূচি সহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। দিবসটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এছাড়া দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে একাধিক সাব কমিটিও গঠন করা হয়।

প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সহও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৬৪জন আইনজীবীকে কমিটির প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় এবং প্যানেল আইনজীবীদের দাখিলকৃত বিল অনুমোদন দেয়া হয়। সমগ্র সভাটি পরিচালনা করেন চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার ( যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মুস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিভিল জজ) লিটন দাস।

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে নিয়ে সংসদে কটূক্তির প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে নিয়ে সংসদে কটূক্তির প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন

‎তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার নারী জেলা প্রশাসককে নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে করা কটূক্তির প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় তালা প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক মেহেরুন নেছা মিনি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাঈদ।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃনাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সেখ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী মিলি খাতুন ও নাজনীন আক্তার কেয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মির্জা আতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাদুভাই, বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, ফারুক হোসেন এবং তালা থানা ছাত্রদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান।

‎এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মহিলা দল, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎এসময় বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানে একজন নারী জেলা প্রশাসককে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। তারা বলেন, নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মকর্তা বা নারীকে নিয়ে এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে জব্দ ৭৩ কোটির মাদক ধ্বংস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে জব্দ ৭৩ কোটির মাদক ধ্বংস
এসএম বিপ্লব হোসেন: সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীর সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা ৭৩ কোটি ৭৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ জন আসামিকে আটক করা হয়। এ সময় ১২৬ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আজ ধ্বংস করা হয়।
ধ্বংসকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে: ৩ হাজার ৭৯১ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমগোত্রীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৬ লক্ষ ০৭ হাজার ৭৬৯ পিস বিড়ি/সিগারেট, ৩৩.৪০০ কেজি গাঁজা, ৬৩ লক্ষ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ঔষধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুড়া, ২ বোতল লিকুইড সীসা এবং ১০০ কেজি মাদক তৈরির বট পাতা। এছাড়াও অতি উচ্চমূল্যের মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৭২.৫০ মিলিলিটার এলএসডি, ৮.৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং ২০ বোতল আফিম তৈরির কেমিক্যাল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন,  মাদকমুক্ত দেশ গড়তে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ রোধে আমাদের সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন। তবে মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। এটি মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ ও সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য। তিনি বিজিবির সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ র‍্যাব-৬ এর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী সকলেই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বিজিবি নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

oplus_0

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি মহিদুল গাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কাশিমনগর বাজারের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজসেবক এম বুলবুল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা পারভীন, মাওলানা আবু মুসা, গোলাম মোস্তফা গাজী ও তাসমিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও নিজের ভাবিকে হত্যাকারী মহিদুল গাজীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চাচা মহিদুল গাজী আমার মাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা উল্টো তাদের ও মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।