রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুঃখের অন্তরে সুখের আগুন, নিভানো কি যায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
দুঃখের অন্তরে সুখের আগুন, নিভানো কি যায়?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

মানুষের জীবনে দুঃখ নতুন কিছু নয়। জন্মের পর থেকেই মানুষ সংগ্রামের মধ্যে বড় হয়। কেউ অভাবের সঙ্গে লড়াই করে, কেউ সম্পর্কের ভাঙনে ভেঙে পড়ে, কেউ প্রিয়জন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়ায়, আবার কেউ নিজের ভেতরের একাকিত্বের কাছে প্রতিদিন পরাজিত হয়। তবু আশ্চর্য জনক ভাবে মানুষ বেঁচে থাকে। শুধু বেঁচেই থাকে না, নতুন স্বপ্নও দেখে। ভাঙা হৃদয় নিয়েও ভালোবাসে। অপমান ভুলে আবার নতুন করে পথচলা শুরু করে। প্রশ্ন হলোÑমানুষ এই শক্তি কোথা থেকে পায়?

সম্ভবত মানুষের ভেতরে এমন এক অদৃশ্য আগুন আছে, যা সব দুঃখের পরও নিভে যায় না। সেই আগুনের নাম সুখের আকাক্সক্ষা, আশার আলো, বেঁচে থাকার ইচ্ছা। পৃথিবীর সবচেয়ে হতাশ মানুষটিও কোনো না কোনো জায়গায় একটু আলো খুঁজে বেড়ায়। কেউ সন্তানের মুখে, কেউ মায়ের দোয়ায়, কেউ ভালোবাসার মানুষটির অপেক্ষায়, কেউ আবার ভবিষ্যতের কোনো অজানা সম্ভাবনায়।

এই কারণেই মানুষ কাঁদতে কাঁদতেও বেঁচে থাকে।আজকের পৃথিবীতে মানুষের বাহ্যিক উন্নতি যত বেড়েছে, ভেতরের অস্থিরতাও যেন তত বেড়েছে। উঁচু দালান, আধুনিক প্রযুক্তি, বিলাসী জীবনÑসবকিছুর মাঝেও মানুষের মনে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতা শুধু অর্থ দিয়ে পূরণ হয় না। কারণ মানুষের ভেতরের সুখ কোনো বাজারে বিক্রি হয় না।একসময় মানুষ সুখ খুঁজত পরিবারের মধ্যে। সন্ধ্যায় সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া, উঠানে গল্প করা, গ্রামের মেঠোপথে হাঁটা কিংবা ঈদের নতুন জামায় হাসিÑএসব ছিল সুখের অংশ। এখন সুখের সংজ্ঞা বদলে গেছে। মানুষ এখন সুখকে সামাজিক মর্যাদা, দামি মোবাইল, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাইক-কমেন্টের মধ্যে খুঁজছে। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষ বাহ্যিকভাবে সফল হলেও ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। কারণ সুখ যখন তুলনার বিষয় হয়ে যায়, তখন তা আর সুখ থাকে না; তা হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতা।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য সাজানো হাসিমুখ দেখি। কেউ বিদেশ ভ্রমণে, কেউ নতুন গাড়ির পাশে, কেউ সুখী পরিবারের ছবিতে। এসব দেখে অনেকের মনে হয়, পৃথিবীর সবাই সুখী, শুধু সে-ই অসুখী। অথচ বাস্তবতা হলো, ছবির হাসির পেছনেও অজস্র কান্না লুকিয়ে থাকে। আজ মানুষ নিজের দুঃখ প্রকাশ করতেও ভয় পায়। কারণ সমাজ দুর্বল মানুষকে সহজে গ্রহণ করে না। সবাইকে শক্ত থাকার অভিনয় করতে হয়। এই অভিনয় একসময় মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। দুঃখকে আমরা সাধারণত অভিশাপ মনে করি। কিন্তু জীবনের গভীর সত্য হলো, দুঃখ মানুষকে এমন কিছু শিক্ষা দেয়, যা সুখ কখনো দিতে পারে না।একজন মানুষ যখন কষ্টের ভেতর দিয়ে যায়, তখন সে অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখে। অভাব মানুষকে বিনয়ী করে, ব্যর্থতা মানুষকে ধৈর্য শেখায়, অপমান মানুষকে আত্মসম্মানের মূল্য বোঝায়।

জীবনের সবচেয়ে বড় সাহিত্য, সবচেয়ে গভীর গান, সবচেয়ে শক্তিশালী কবিতাÑসবই এসেছে মানুষের দুঃখ থেকে। পৃথিবীর বড় বড় শিল্পী ও সাহিত্যিকরা তাদের ব্যক্তিগত বেদনা থেকেই সৃষ্টি করেছেন অমর শিল্প।কাজী নজরুল ইসলাম দারিদ্র্য, বৈষম্য আর অবহেলার আগুন থেকে বিদ্রোহের ভাষা খুঁজে পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একের পর এক প্রিয়জন হারিয়েও জীবনের গান লিখেছেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যেমন নিঃসঙ্গতা আছে, তেমনি আছে বেঁচে থাকার এক নীরব আকুতি। দুঃখ মানুষকে গভীর করে। সুখ মানুষকে আনন্দ দেয়, কিন্তু দুঃখ মানুষকে চিনতে শেখায়।

বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে গেলে এখনো দেখা যায়, দুঃখের মাঝেও মানুষ কী অসাধারণভাবে জীবনকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে। একজন কৃষক সারাবছর পরিশ্রম করে। কখনো খরা, কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড় তার ফসল নষ্ট করে দেয়। ঋণের বোঝা বাড়ে। তবু পরের মৌসুমে আবার সে জমিতে বীজ ফেলে। কারণ সে জানে, আশা ছাড়া জীবন চলে না। উপকূলের মানুষদের জীবন আরও কঠিন। একেকটি ঘূর্ণিঝড় শুধু ঘরবাড়ি ভাঙে না, মানুষের স্বপ্নও ভেঙে দেয়। তারপরও তারা নদীর পাড়ে নতুন ঘর তোলে। কারণ মানুষ স্বভাবতই আশাবাদী। একজন দিনমজুর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে।

 

ঘরে ফিরে হয়তো সন্তানের জন্য এক প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে আসে। সেই মুহূর্তে সন্তানের হাসিই তার সুখ। এই ছোট ছোট সুখই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। বাংলাদেশের লাখো মানুষ জীবিকার তাগিদে বিদেশে যায়। বাইরে থেকে অনেকের জীবনকে চকচকে মনে হলেও বাস্তবে প্রবাসজীবন অসংখ্য ত্যাগ ও কষ্টের গল্প। প্রবাসীরা বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকে। সন্তানের জন্ম, বাবার মৃত্যু, মায়ের অসুস্থতাÑসব খবর তারা দূরদেশে বসে ফোনে শোনে। অনেকেই অপমান, অমানবিক শ্রম আর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটান। তবু তারা ভেঙে পড়েন না। কারণ তাদের বুকের ভেতরে একটি স্বপ্ন জ্বলেÑপরিবারকে ভালো রাখার স্বপ্ন। প্রবাসীর পাঠানো টাকায় গ্রামের ঘর ওঠে, সন্তানের পড়াশোনা হয়, পরিবারের মুখে হাসি ফোটে। সেই হাসিই তাদের দুঃখের ভেতরের সুখের আগুন। একসময় পরিবার ছিল মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

 

এখন সেই পরিবারেও দূরত্ব বাড়ছে। একই ঘরে থেকেও মানুষ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। বাবা মোবাইলে ব্যস্ত, সন্তান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, মা সংসারের চাপে ক্লান্ত। কথা কমছে, অনুভূতি কমছে, সম্পর্ক যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অনেক পরিবারে অর্থ আছে, কিন্তু শান্তি নেই। সন্তানদের দামি স্কুলে পড়ানো হয়, কিন্তু তাদের সঙ্গে বসে গল্প করার সময় নেই। বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানদের জন্য জীবন কাটান, কিন্তু বার্ধক্যে এসে একাকিত্বে ভোগেন। এই সমাজে মানুষ ধীরে ধীরে আবেগ হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু সুখের মূল উপাদান তো সম্পর্ক। মানুষ টাকা দিয়ে ওষুধ কিনতে পারে, কিন্তু মানসিক শান্তি কিনতে পারে না।

 

মানুষ বড় বাড়ি বানাতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার পরিবার তৈরি করতে পারে না। আজ পৃথিবীতে নীরব এক মহামারি ছড়িয়ে পড়েছেÑমানসিক অবসাদ।হতাশা, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আত্মহত্যার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমাদের সমাজ এখনো মানসিক কষ্টকে গুরুত্ব দিতে শেখেনি। কেউ যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়, সবাই সহানুভূতি দেখায়। কিন্তু কেউ মানসিক কষ্টের কথা বললে তাকে দুর্বল ভাবা হয়।ফলে অনেক মানুষ নিজের ভেতরের যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখে। একসময় সেই যন্ত্রণা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আমাদের পরিবার, শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থায় এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহানুভূতির শিক্ষা।

 

একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষ দাঁড়ানো। শুধু বিচার না করে শোনা। শুধু উপদেশ না দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা।কারণ কখনো কখনো একটি আন্তরিক কথাই একজন মানুষকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। মানুষ সারাজীবন সুখ খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু সুখ কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। সুখ কখনো সন্তানের প্রথম ডাক, কখনো মায়ের মুখের হাসি, কখনো প্রিয় মানুষের অপেক্ষা, কখনো বৃষ্টিভেজা বিকেল, কখনো দীর্ঘ কষ্টের পর পাওয়া সামান্য শান্তি। সুখের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলোÑএটি খুব ছোট ছোট জিনিসে লুকিয়ে থাকে। যে মানুষ ছোট ছোট আনন্দকে অনুভব করতে পারে, সে জীবনকে ভালোবাসতে পারে। আর যে মানুষ শুধু বড় সাফল্যের অপেক্ষায় থাকে, তার জীবনে অপূর্ণতা থেকেই যায়। পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম ও দর্শনই মানুষকে ধৈর্য, আশা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। মানুষের ভেতরে যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও আশা আছে, সেটিই তাকে টিকিয়ে রাখে।

বর্তমান সমাজে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটির অভাব দেখা যাচ্ছে, তা হলো সহমর্মিতা। মানুষ এখন অন্যের কষ্ট দেখেও নির্লিপ্ত থাকতে শিখছে। দুর্ঘটনা ঘটলে সাহায্যের আগে ভিডিও করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও বিদ্রƒপ এখন বিনোদনের অংশ হয়ে গেছে। কারণ মানুষ যদি মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তবে সমাজ শুধু ইট-পাথরের কাঠামো হয়ে যাবে। একটি মানবিক সমাজ তৈরি করতে হলে পরিবার থেকেই শিক্ষা শুরু করতে হবে। সন্তানকে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সহানুভূতি শেখাতে হবে। শুধু সফল হওয়ার শিক্ষা নয়, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে।

বাংলার মানুষের জীবন সংগ্রামের। তবু এই বাংলায় ভাটিয়ালি আছে, বাউল গান আছে, কবিতা আছে। একজন জেলে নদীতে জাল ফেলতে ফেলতে গান গায়। একজন রিকশাচালক ক্লান্ত শরীর নিয়েও রেডিও শুনে হাসে। একজন গৃহবধূ সংসারের হাজার কষ্টের মাঝেও ঈদের সকালে সন্তানকে নতুন জামা পরিয়ে আনন্দ পান। এই আনন্দই মানুষের অদম্য শক্তি। মানুষ কাঁদে, কিন্তু পুরোপুরি ভেঙে পড়ে না। কারণ মানুষের ভেতরে সুখের একটি অমর আগুন আছে।

 

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ভয়ংকর এক মানসিক চাপে বড় হচ্ছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের সামনে সফলতার এমন মানদ- দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। চাকরি নেই, অনিশ্চয়তা আছে, সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমেছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় বাড়ছে। ফলে অনেক তরুণ হতাশ হয়ে পড়ছে। কিন্তু তরুণদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আশার ভাষা। তাদের বুঝতে হবে, জীবন শুধু প্রতিযোগিতা নয়। ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়।যে মানুষ পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে পারে, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হয়।

দুঃখ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ তা এড়িয়ে যেতে পারে না। কিন্তু দুঃখ কখনো মানুষের সব আলো নিভিয়ে দিতে পারে না। কারণ মানুষের হৃদয়ের গভীরে সুখের যে আগুন জ্বলে, তা সহজে নিভে না। কখনো তা ক্ষীণ হয়, কখনো ঝড়ের মধ্যে কাঁপে, কিন্তু আবার জ্বলে ওঠে।

একজন মা সন্তানের মুখ দেখে বাঁচেন। একজন কৃষক নতুন ফসলের স্বপ্নে বাঁচেন। একজন প্রবাসী পরিবারের সুখের জন্য বাঁচেন। একজন প্রেমহারা মানুষও একদিন নতুন ভোরের অপেক্ষা করেন।

জীবন আসলে এই অপেক্ষার নাম। এই আশার নাম। অন্ধকার যত গভীর হোক, মানুষ তবু আলো খোঁজে। কারণ মানুষের ভেতরের সুখের আগুন কখনো পুরোপুরি নিভে যায় না। আর যতদিন সেই আগুন জ্বলবে, ততদিন মানুষ কাঁদবে, হাসবে, ভাঙবে, আবার গড়বেÑতবু বেঁচে থাকবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক আগামী ১৯ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে আজ (রবিবার) সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ।

 

আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় তেজগাঁও ভূমিভবন থেকে সারাদেশে একযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন করবেন।

 

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ১৯ থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ মে সকাল ১১টায় শহিদ হাদিস পার্ক থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত মেলা উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

মেলা চলাকালীন সময় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৃথক দুইটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনব্যাপী মেলায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভূমিসেবা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রতিদিন মেলা পরিদর্শন, ডিজিটাল ভূমিসেবা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভূমিসেবা ও ভূমি আইন বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

 

সরকার ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাকে সজহীকরণ এবং হয়রানিমুক্ত করতে খুলনা জেলায় ১৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে এবং আরও নয়টি কেন্দ্র সদ্য অনুমোদন করা হয়েছে, যেন ভূমিসেবা সহায়তা আরও বৃদ্ধি পায়। ভূমি সংক্রান্ত যেকোন তথ্য, অভিযোগ বা জিজ্ঞাসার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা যাবে।

 

ভূমিসেবা মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য land.gov.bd সার্ভিস পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন, হোল্ডিং এন্ট্রি ও অনুমোদন এবং অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে সার্বিক সহায়তা প্রদান, ই-নামজারির আবেদন দাখিলে সহায়তা করা এবং নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণে সহায়তা করা হবে।

 

অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা, অনলাইনে মৌজাম্যাপ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ করা বিষয়ে অবহিত করা, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ চেক সরাসরি মেলা থেকে প্রদান, গণশুনানীর মাধ্যমে ভূমিসেবা সংক্রান্ত যেকোন অভিযোগ গ্রহণ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত সমাধান করা হবে ও ভূমি সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে সেবাগ্রহীতাদের পরামর্শ প্রদান করা হবে এবং একইসাথে জনসাধারণের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।

 

প্রেস কনফারেন্সে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কানিজ ফাতেমা লিজা, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): জৈষ্ঠ মাসের শুরুতে তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। পাশাপাশি বেড়েছে বাতাসে আর্দ্রতা। সব মিলিয়ে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পাইকগাছায় প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। অনেকে তালের শাস, শরবত খেয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করছেন। দুপুর বারোটার পর থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত রাস্তা ও বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচন্ড গরম লাগছে। বোরো ধানের মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা তাপদাহে হাপিয়ে উঠছে। শ্রমজীবী ও স্থানীয়রা বলেন, গরমে কোনো কাজ করতে পারছেন না তারা। উপকূলের পাইকগাছা এলাকায় লবনাক্ত হাওয়ায় গরম বেশী অনুভূত হচ্ছে।

জ্যৈষ্ঠের শেষে আরো তেতে উঠছে সূর্য। কয়েক দিন ধরে দেশের বড় অংশজুড়ে প্রচন্ড গরম পড়েছে। দিনে আগুনে রোদ ও গরমে খাঁ খাঁ করে চারদিক। রাতেও তাপমাত্রা কমে না। আর সেই সাথে লোডশেড়র্িং ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের কারণে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

ঘরের ফ্যানের বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। তারপরও রয়েছে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বেলা বাড়ার সাথেই বাড়ছে তাপপ্রবাহ। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছুই ছুই অবস্থা। শহর এলাকায় গরমে নাভিশ্বাস বাড়ছে মানুষের।

পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপস গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের প্রখর তাপদাহ ও তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের জীবন যেন বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘাম ঝরিয়ে ছুটতে হচ্ছে তাদের। পাইকগাছার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পাইকগাছা পৌর শহরের ভ্যান চালক আবুল হোসেন বলেন, বেশি তাপের কারণে দুই-তিন ঘন্টার বেশি ভ্যান চালাতে পারছি না। রাস্তা থেকে গরম তাপ এসে যেন মুখে লাগছে। তাপ ও রৌদ্রের কারণে রাস্তায় বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। গোপালপুর গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, এই তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে শরীরে আগুনের তাপ লাগছে।

প্রচন্ড গরমের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। বিনা কারণে শিশুকে ঘরের বাইরে বের না হতে বলা হচ্ছে অভিভাবকদের। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি ও টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে ও ফ্যানের নিচে বাতাসে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

লিখিত এজাহার থেকে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে একজন আসামির ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

এঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।