বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুঃখের অন্তরে সুখের আগুন, নিভানো কি যায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
দুঃখের অন্তরে সুখের আগুন, নিভানো কি যায়?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

মানুষের জীবনে দুঃখ নতুন কিছু নয়। জন্মের পর থেকেই মানুষ সংগ্রামের মধ্যে বড় হয়। কেউ অভাবের সঙ্গে লড়াই করে, কেউ সম্পর্কের ভাঙনে ভেঙে পড়ে, কেউ প্রিয়জন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়ায়, আবার কেউ নিজের ভেতরের একাকিত্বের কাছে প্রতিদিন পরাজিত হয়। তবু আশ্চর্য জনক ভাবে মানুষ বেঁচে থাকে। শুধু বেঁচেই থাকে না, নতুন স্বপ্নও দেখে। ভাঙা হৃদয় নিয়েও ভালোবাসে। অপমান ভুলে আবার নতুন করে পথচলা শুরু করে। প্রশ্ন হলোÑমানুষ এই শক্তি কোথা থেকে পায়?

সম্ভবত মানুষের ভেতরে এমন এক অদৃশ্য আগুন আছে, যা সব দুঃখের পরও নিভে যায় না। সেই আগুনের নাম সুখের আকাক্সক্ষা, আশার আলো, বেঁচে থাকার ইচ্ছা। পৃথিবীর সবচেয়ে হতাশ মানুষটিও কোনো না কোনো জায়গায় একটু আলো খুঁজে বেড়ায়। কেউ সন্তানের মুখে, কেউ মায়ের দোয়ায়, কেউ ভালোবাসার মানুষটির অপেক্ষায়, কেউ আবার ভবিষ্যতের কোনো অজানা সম্ভাবনায়।

এই কারণেই মানুষ কাঁদতে কাঁদতেও বেঁচে থাকে।আজকের পৃথিবীতে মানুষের বাহ্যিক উন্নতি যত বেড়েছে, ভেতরের অস্থিরতাও যেন তত বেড়েছে। উঁচু দালান, আধুনিক প্রযুক্তি, বিলাসী জীবনÑসবকিছুর মাঝেও মানুষের মনে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতা শুধু অর্থ দিয়ে পূরণ হয় না। কারণ মানুষের ভেতরের সুখ কোনো বাজারে বিক্রি হয় না।একসময় মানুষ সুখ খুঁজত পরিবারের মধ্যে। সন্ধ্যায় সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া, উঠানে গল্প করা, গ্রামের মেঠোপথে হাঁটা কিংবা ঈদের নতুন জামায় হাসিÑএসব ছিল সুখের অংশ। এখন সুখের সংজ্ঞা বদলে গেছে। মানুষ এখন সুখকে সামাজিক মর্যাদা, দামি মোবাইল, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাইক-কমেন্টের মধ্যে খুঁজছে। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষ বাহ্যিকভাবে সফল হলেও ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। কারণ সুখ যখন তুলনার বিষয় হয়ে যায়, তখন তা আর সুখ থাকে না; তা হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতা।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য সাজানো হাসিমুখ দেখি। কেউ বিদেশ ভ্রমণে, কেউ নতুন গাড়ির পাশে, কেউ সুখী পরিবারের ছবিতে। এসব দেখে অনেকের মনে হয়, পৃথিবীর সবাই সুখী, শুধু সে-ই অসুখী। অথচ বাস্তবতা হলো, ছবির হাসির পেছনেও অজস্র কান্না লুকিয়ে থাকে। আজ মানুষ নিজের দুঃখ প্রকাশ করতেও ভয় পায়। কারণ সমাজ দুর্বল মানুষকে সহজে গ্রহণ করে না। সবাইকে শক্ত থাকার অভিনয় করতে হয়। এই অভিনয় একসময় মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। দুঃখকে আমরা সাধারণত অভিশাপ মনে করি। কিন্তু জীবনের গভীর সত্য হলো, দুঃখ মানুষকে এমন কিছু শিক্ষা দেয়, যা সুখ কখনো দিতে পারে না।একজন মানুষ যখন কষ্টের ভেতর দিয়ে যায়, তখন সে অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখে। অভাব মানুষকে বিনয়ী করে, ব্যর্থতা মানুষকে ধৈর্য শেখায়, অপমান মানুষকে আত্মসম্মানের মূল্য বোঝায়।

জীবনের সবচেয়ে বড় সাহিত্য, সবচেয়ে গভীর গান, সবচেয়ে শক্তিশালী কবিতাÑসবই এসেছে মানুষের দুঃখ থেকে। পৃথিবীর বড় বড় শিল্পী ও সাহিত্যিকরা তাদের ব্যক্তিগত বেদনা থেকেই সৃষ্টি করেছেন অমর শিল্প।কাজী নজরুল ইসলাম দারিদ্র্য, বৈষম্য আর অবহেলার আগুন থেকে বিদ্রোহের ভাষা খুঁজে পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একের পর এক প্রিয়জন হারিয়েও জীবনের গান লিখেছেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যেমন নিঃসঙ্গতা আছে, তেমনি আছে বেঁচে থাকার এক নীরব আকুতি। দুঃখ মানুষকে গভীর করে। সুখ মানুষকে আনন্দ দেয়, কিন্তু দুঃখ মানুষকে চিনতে শেখায়।

বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে গেলে এখনো দেখা যায়, দুঃখের মাঝেও মানুষ কী অসাধারণভাবে জীবনকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে। একজন কৃষক সারাবছর পরিশ্রম করে। কখনো খরা, কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড় তার ফসল নষ্ট করে দেয়। ঋণের বোঝা বাড়ে। তবু পরের মৌসুমে আবার সে জমিতে বীজ ফেলে। কারণ সে জানে, আশা ছাড়া জীবন চলে না। উপকূলের মানুষদের জীবন আরও কঠিন। একেকটি ঘূর্ণিঝড় শুধু ঘরবাড়ি ভাঙে না, মানুষের স্বপ্নও ভেঙে দেয়। তারপরও তারা নদীর পাড়ে নতুন ঘর তোলে। কারণ মানুষ স্বভাবতই আশাবাদী। একজন দিনমজুর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে।

 

ঘরে ফিরে হয়তো সন্তানের জন্য এক প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে আসে। সেই মুহূর্তে সন্তানের হাসিই তার সুখ। এই ছোট ছোট সুখই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। বাংলাদেশের লাখো মানুষ জীবিকার তাগিদে বিদেশে যায়। বাইরে থেকে অনেকের জীবনকে চকচকে মনে হলেও বাস্তবে প্রবাসজীবন অসংখ্য ত্যাগ ও কষ্টের গল্প। প্রবাসীরা বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকে। সন্তানের জন্ম, বাবার মৃত্যু, মায়ের অসুস্থতাÑসব খবর তারা দূরদেশে বসে ফোনে শোনে। অনেকেই অপমান, অমানবিক শ্রম আর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটান। তবু তারা ভেঙে পড়েন না। কারণ তাদের বুকের ভেতরে একটি স্বপ্ন জ্বলেÑপরিবারকে ভালো রাখার স্বপ্ন। প্রবাসীর পাঠানো টাকায় গ্রামের ঘর ওঠে, সন্তানের পড়াশোনা হয়, পরিবারের মুখে হাসি ফোটে। সেই হাসিই তাদের দুঃখের ভেতরের সুখের আগুন। একসময় পরিবার ছিল মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

 

এখন সেই পরিবারেও দূরত্ব বাড়ছে। একই ঘরে থেকেও মানুষ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। বাবা মোবাইলে ব্যস্ত, সন্তান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, মা সংসারের চাপে ক্লান্ত। কথা কমছে, অনুভূতি কমছে, সম্পর্ক যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অনেক পরিবারে অর্থ আছে, কিন্তু শান্তি নেই। সন্তানদের দামি স্কুলে পড়ানো হয়, কিন্তু তাদের সঙ্গে বসে গল্প করার সময় নেই। বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানদের জন্য জীবন কাটান, কিন্তু বার্ধক্যে এসে একাকিত্বে ভোগেন। এই সমাজে মানুষ ধীরে ধীরে আবেগ হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু সুখের মূল উপাদান তো সম্পর্ক। মানুষ টাকা দিয়ে ওষুধ কিনতে পারে, কিন্তু মানসিক শান্তি কিনতে পারে না।

 

মানুষ বড় বাড়ি বানাতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার পরিবার তৈরি করতে পারে না। আজ পৃথিবীতে নীরব এক মহামারি ছড়িয়ে পড়েছেÑমানসিক অবসাদ।হতাশা, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আত্মহত্যার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমাদের সমাজ এখনো মানসিক কষ্টকে গুরুত্ব দিতে শেখেনি। কেউ যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়, সবাই সহানুভূতি দেখায়। কিন্তু কেউ মানসিক কষ্টের কথা বললে তাকে দুর্বল ভাবা হয়।ফলে অনেক মানুষ নিজের ভেতরের যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখে। একসময় সেই যন্ত্রণা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আমাদের পরিবার, শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থায় এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহানুভূতির শিক্ষা।

 

একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষ দাঁড়ানো। শুধু বিচার না করে শোনা। শুধু উপদেশ না দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা।কারণ কখনো কখনো একটি আন্তরিক কথাই একজন মানুষকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। মানুষ সারাজীবন সুখ খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু সুখ কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। সুখ কখনো সন্তানের প্রথম ডাক, কখনো মায়ের মুখের হাসি, কখনো প্রিয় মানুষের অপেক্ষা, কখনো বৃষ্টিভেজা বিকেল, কখনো দীর্ঘ কষ্টের পর পাওয়া সামান্য শান্তি। সুখের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলোÑএটি খুব ছোট ছোট জিনিসে লুকিয়ে থাকে। যে মানুষ ছোট ছোট আনন্দকে অনুভব করতে পারে, সে জীবনকে ভালোবাসতে পারে। আর যে মানুষ শুধু বড় সাফল্যের অপেক্ষায় থাকে, তার জীবনে অপূর্ণতা থেকেই যায়। পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম ও দর্শনই মানুষকে ধৈর্য, আশা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। মানুষের ভেতরে যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও আশা আছে, সেটিই তাকে টিকিয়ে রাখে।

বর্তমান সমাজে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটির অভাব দেখা যাচ্ছে, তা হলো সহমর্মিতা। মানুষ এখন অন্যের কষ্ট দেখেও নির্লিপ্ত থাকতে শিখছে। দুর্ঘটনা ঘটলে সাহায্যের আগে ভিডিও করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও বিদ্রƒপ এখন বিনোদনের অংশ হয়ে গেছে। কারণ মানুষ যদি মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তবে সমাজ শুধু ইট-পাথরের কাঠামো হয়ে যাবে। একটি মানবিক সমাজ তৈরি করতে হলে পরিবার থেকেই শিক্ষা শুরু করতে হবে। সন্তানকে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সহানুভূতি শেখাতে হবে। শুধু সফল হওয়ার শিক্ষা নয়, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে।

বাংলার মানুষের জীবন সংগ্রামের। তবু এই বাংলায় ভাটিয়ালি আছে, বাউল গান আছে, কবিতা আছে। একজন জেলে নদীতে জাল ফেলতে ফেলতে গান গায়। একজন রিকশাচালক ক্লান্ত শরীর নিয়েও রেডিও শুনে হাসে। একজন গৃহবধূ সংসারের হাজার কষ্টের মাঝেও ঈদের সকালে সন্তানকে নতুন জামা পরিয়ে আনন্দ পান। এই আনন্দই মানুষের অদম্য শক্তি। মানুষ কাঁদে, কিন্তু পুরোপুরি ভেঙে পড়ে না। কারণ মানুষের ভেতরে সুখের একটি অমর আগুন আছে।

 

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ভয়ংকর এক মানসিক চাপে বড় হচ্ছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের সামনে সফলতার এমন মানদ- দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। চাকরি নেই, অনিশ্চয়তা আছে, সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমেছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় বাড়ছে। ফলে অনেক তরুণ হতাশ হয়ে পড়ছে। কিন্তু তরুণদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আশার ভাষা। তাদের বুঝতে হবে, জীবন শুধু প্রতিযোগিতা নয়। ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়।যে মানুষ পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে পারে, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হয়।

দুঃখ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ তা এড়িয়ে যেতে পারে না। কিন্তু দুঃখ কখনো মানুষের সব আলো নিভিয়ে দিতে পারে না। কারণ মানুষের হৃদয়ের গভীরে সুখের যে আগুন জ্বলে, তা সহজে নিভে না। কখনো তা ক্ষীণ হয়, কখনো ঝড়ের মধ্যে কাঁপে, কিন্তু আবার জ্বলে ওঠে।

একজন মা সন্তানের মুখ দেখে বাঁচেন। একজন কৃষক নতুন ফসলের স্বপ্নে বাঁচেন। একজন প্রবাসী পরিবারের সুখের জন্য বাঁচেন। একজন প্রেমহারা মানুষও একদিন নতুন ভোরের অপেক্ষা করেন।

জীবন আসলে এই অপেক্ষার নাম। এই আশার নাম। অন্ধকার যত গভীর হোক, মানুষ তবু আলো খোঁজে। কারণ মানুষের ভেতরের সুখের আগুন কখনো পুরোপুরি নিভে যায় না। আর যতদিন সেই আগুন জ্বলবে, ততদিন মানুষ কাঁদবে, হাসবে, ভাঙবে, আবার গড়বেÑতবু বেঁচে থাকবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।