শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেবহাটার পাঁচ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা, ভোটের আমেজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটার পাঁচ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা, ভোটের আমেজ শুরু

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থীরা মাঠে নামার সাথে সাথেই পুরো উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। হাট-বাজার ও চায়ের দোকানগুলো এখন ভোটের আলোচনায় মুখর।
ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেনÑ কুলিয়া ইউনিয়নে মাওলানা রুহুল আমিন, পারুলিয়া ইউনিয়নে মাওলানা অলিউল ইসলাম, সখিপুর ইউনিয়নে মঈন উদ্দীন ময়না (সাবেক চেয়ারম্যান), নওয়াপাড়া ইউনিয়নে আব্দুল খালেক তরফদার (সাবেক চেয়ারম্যান) এবং দেবহাটা সদর ইউনিয়নে আবু তালেব বুলবুল (সাবেক চেয়ারম্যান)।
মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে তিনজনেই সাবেক চেয়ারম্যান। ফলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পূর্বের জনপ্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন মুখগুলোও ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে সভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থীরা ইতোমধ্যে গ্রামগুলোতে উঠান বৈঠক ও কুশল বিনিময় শুরু করেছেন। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশ্বাস নিয়ে তাঁরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাবেক ও বর্তমানের লড়াইয়ে এবারের নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টিই ভোটারদের পছন্দের ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে মাঠে নামায় দেবহাটা জনপদে এখন পুরোদমে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।

Ads small one

দেড় লাখ টাকা খরচ করে নিজের বাড়িকে বানালেন ‘ব্রাজিল বাড়ি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
দেড় লাখ টাকা খরচ করে নিজের বাড়িকে বানালেন ‘ব্রাজিল বাড়ি’

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মাতোয়ারা পুরো বিশ্ব। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেই চলছে। এমনই এক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ছতুরা-চান্দপুর গ্রামের রুবেল মিয়া।

রুবেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। তাই নিজের পুরো বাড়িটির রঙ করিয়েছেন, নিজদল ব্রাজিলের পতাকার আদলে। বাড়ির সীমানা দেওয়ালে ব্রাজিলের পতাকার পাশাপাশি সে দেশের খেলোয়াড়দের ছবি এঁকেছেন। বাড়ির ভবনে আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও।

এদিকে বাড়িটিকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ব্রাজিল সমর্থকরা ছুটে আসছেন। ব্রাজিল ছাড়া অন্য দলের সমর্থকরাও বাড়িটির প্রশংসা করছেন। পুরো উপজেলাজুড়ে এমন বাড়ি নেই বলে দাবি করছেন মালিক রুবেল। বাড়িটির কারণে এলাকার নামও চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে ব্রাজিল বাড়ি বলে।

বাড়ির মালিক রুবেল মিয়া বলেন, ব্রাজিলের খেলা আমার পছন্দ। আমি ছোট বেলা থেকে ব্রাজিল সাপোর্ট করে আসছি। আর এই কারণেই ব্রাজিলের পতাকার আদলে বাড়ির ভবন ও সীমানা দেয়াল রঙ করিয়েছি। খেলোয়াড়দের ছবিও আঁকিয়েছি। গত ১৬ দিন ধরে কাজ চলছে। এখনও কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রঙ করতে প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। অনেকে আসছেন বাড়িটি দেখতে। আমি মনে করি আমার প্রিয় দল ব্রাজিল এবার বিশ্বকাপে ভালো করবে এবং শিরোপা জয়লাভ করবে।

তিনি তার প্রিয় দল ব্রাজিল দলের জন্যে সবার কাছে দোয়া চান।

 

প্রতিরক্ষায় ৪২ হাজার কোটি টাকা: আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে কতটা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
প্রতিরক্ষায় ৪২ হাজার কোটি টাকা: আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে কতটা?

নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। অঙ্কটি বড়। তবে এই অর্থের কতটা নতুন যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যাবে, আর কতটা ব্যয় হবে বিদ্যমান বাহিনীর বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে— এ প্রশ্নই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা বাজেটকে শুধু ‘অস্ত্র কেনার বাজেট’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একইসঙ্গে সামরিক প্রস্তুতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, সমুদ্রসীমা সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত একটি বড় রাষ্ট্রীয় ব্যয়।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি এখন ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, সাইবার প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং তথ্যযুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেটের মূল প্রশ্ন— সশস্ত্র বাহিনী কি প্রচলিত কাঠামো থেকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে যথেষ্ট দ্রুত এগোতে পারছে?

প্রতিরক্ষা বাজেট কোথায় ব্যয় হয়

সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা আছে—প্রতিরক্ষা বাজেট মানেই যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্র কেনা। বাস্তবে বাজেটের বড় অংশই যায় বাহিনীগুলোর নিয়মিত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে। প্রতিরক্ষা ব্যয় সাধারণত দুই ভাগে দেখা হয়। প্রথমটি পরিচালন বা রেভিনিউ ব্যয়। এর মধ্যে থাকে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা, রেশন, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, মহড়া, জ্বালানি, পরিবহন, অস্ত্র ও সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঘাঁটি ও অবকাঠামো পরিচালনা। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবে এই খাতেই ব্যয় হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় অংশটি উন্নয়ন বা আধুনিকায়ন ব্যয়। এতে থাকে নতুন যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহ, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার কেনা, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাইবার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি, সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কোনও দেশের সামরিক সক্ষমতা মূল্যায়নে শুধু মোট বাজেটের অঙ্ক দেখলেই যথেষ্ট নয়। বরং দেখতে হয়, সেই বাজেটের কতটা বাস্তব আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে।

‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কতটা এগোচ্ছে

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা অনুসরণ করছে। এর লক্ষ্য সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করা। এই পরিকল্পনার আওতায় বিমানবাহিনীর বহুমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর ব্লু ওয়াটার সক্ষমতা অর্জন, সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ সক্ষমতা, সমন্বিত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে মূল্যবৃদ্ধি আধুনিকায়নের গতিকে প্রভাবিত করছে। ফলে বড় অঙ্কের বাজেট থাকলেও নতুন ক্রয় ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেক সময় ধীর হয়ে যায়।

কেন বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়

গত এক দশকে বাংলাদেশের তিন বাহিনীতে বেশ কিছু আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, রাডার ব্যবস্থা, সাঁজোয়া যান, প্রশিক্ষণ বিমান, হেলিকপ্টার, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও নজরদারি ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে বাহিনীগুলোর সক্ষমতায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরই ব্যয় শেষ হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয় শুরু হয় ক্রয়ের পর। একটি আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত স্পেয়ার পার্টস, ওভারহলিং, প্রযুক্তিগত আপগ্রেড, সফটওয়্যার আপডেট, গোলাবারুদ, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ জনবল প্রয়োজন হয়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ভাষায়, একটি যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ বা রাডার ব্যবস্থা কেনার চেয়ে সেটি বছর বছর সচল রাখা অনেক সময় বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ নতুন সক্ষমতা তৈরির বদলে বিদ্যমান সক্ষমতা ধরে রাখতেই ব্যয় হয়। এ কারণেই ৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট বড় হলেও প্রশ্ন থাকে—এই বরাদ্দের কতটা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতিতে যাচ্ছে, আর কতটা যাচ্ছে বর্তমান কাঠামো টিকিয়ে রাখতে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় আকাশ প্রতিরক্ষা বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে— কম খরচের ড্রোনও যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আগে আকাশ প্রতিরক্ষা বলতে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডারকেই বেশি বোঝানো হতো। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড্রোন শনাক্তকরণ, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক জ্যামিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এই খাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সীমিত বাজেটের মধ্যেও তুলনামূলক কম ব্যয়ে ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানঘাঁটি, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর, সীমান্ত ও সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তায় এসব প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ যুদ্ধের বড় অংশ হবে তথ্য, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে। তাই প্রতিরক্ষা বাজেটে সাইবার সুরক্ষা, এআইভিত্তিক নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা

বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা, অফশোর গ্যাস ব্লক, সমুদ্রবন্দর, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং ব্লু ইকোনমি সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। দেশের অর্থনীতি আমদানি-রফতানি ও সমুদ্রপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে সমুদ্রসীমা শুধু প্রতিরক্ষার বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও অংশ। বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি অনুসন্ধান, মৎস্যসম্পদ, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় নৌ-সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তবে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাস্তবতা ভারত বা পাকিস্তানের মতো নয়। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বাজেটের মূল্যায়নও সেই বাস্তবতার আলোকেই করতে হবে।

আধুনিকায়ন বনাম পরিচালন ব্যয়

৪২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা বাজেটের বড় অংশ যাবে সশস্ত্র বাহিনীর নিয়মিত বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যয়ে। এর বাইরে যে অংশ থাকবে, সেটি দিয়ে ধাপে ধাপে আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

প্রশ্ন হলো, সীমিত উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ কোন খাতে অগ্রাধিকার দেবে? প্রচলিত ভারী অস্ত্র, নাকি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা? বড় প্ল্যাটফর্ম, নাকি ছোট কিন্তু কার্যকর স্মার্ট সিস্টেম? যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ, নাকি ড্রোন, সাইবার প্রতিরক্ষা ও নজরদারি প্রযুক্তি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা থাকবে, তবে তার সঙ্গে যুক্ত হবে সাইবার, ড্রোন, এআই, রাডার, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা যা বলছেন

প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার ওয়ারফেয়ার, ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার এবং ড্রোন প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। তার মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে—তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ের ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতাও আধুনিক যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।’’

আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাস্তবতা বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি। বিশেষ করে ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, সাইবার প্রতিরক্ষা, এআইভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভবিষ্যতের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।’’

‘এটি শুধু খরচ নয়, বিনিয়োগও’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষা খাতের ৪২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দকে শুধু ব্যয় হিসেবে দেখলে হবে না। সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। দেশের নিরাপত্তা, আকাশ প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে এই বাজেট প্রয়োজন।’’

তিনি বলেন, ‘‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে সেনাসদস্যদের নিরাপত্তার জন্য আধুনিক যানবাহন, সুরক্ষিত আর্মার্ড ভেহিকল, অস্ত্র, ড্রোন, এয়ারক্রাফট ও অন্যান্য সরঞ্জাম দরকার হয়। একটি সুরক্ষিত যানবাহনের দাম ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। শুরুতে এসব সরঞ্জাম রাষ্ট্রকে কিনতে হয়—তবে মিশনে ব্যবহারের পর জাতিসংঘ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর বড় অংশ ফেরত দেয়। ফলে এটি শুধু খরচ নয়, এক ধরনের বিনিয়োগও।’’

ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, ‘‘শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে হলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যানবাহন ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতেই হবে। এসব সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ব্যয় আছে— স্পেয়ার পার্টস, টায়ার, ওভারহলিং ও নিয়মিত মেরামতে অর্থ লাগে। তবে এই ব্যয়ের একটি অংশও জাতিসংঘের মাধ্যমে সমন্বয় বা ফেরত পাওয়া যায়।’’

তার মতে, বর্তমান বিশ্বে আকাশ প্রতিরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বিমানবাহিনী, এয়ার ডিফেন্স, ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন সক্ষমতায় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা বাজেটকে অপচয় হিসেবে না দেখে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত।

শাকিরার জাদুতে মাতল অ্যাজটেকা: ঐতিহ্যের ক্যানভাসে বিশ্বকাপের বর্ণিল সাংস্কৃতিক মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
শাকিরার জাদুতে মাতল অ্যাজটেকা: ঐতিহ্যের ক্যানভাসে বিশ্বকাপের বর্ণিল সাংস্কৃতিক মহোৎসব

মেক্সিকো সিটির আকাশ তখন উৎসবের আলোয় রঙিন। ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ফুটবল বিশ্বের চোখ তখন মেক্সিকোতে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। তবে প্রথম বাঁশি বাজার আগের ৯০ মিনিট ফুটবলপ্রেমীরা ডুবে রইলেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক মহোৎসবে, যেখানে ল্যাটিন ঐতিহ্য, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং আধুনিক পপ মিউজিকের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন দেখল বিশ্ব।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি ভিন্ন দেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে, যার প্রথমটি সম্পন্ন হলো মেক্সিকোতে। আর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং উত্তর আমেরিকার সংস্কৃতির এক বিশাল প্রদর্শনী হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

আদিবাসী ঐতিহ্যের নান্দনিকতা ও ‘পাপেল পিকাডো’র জাদু
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতেই গ্যালারি ও মাঠজুড়ে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প ‘পাপেল পিকাডো’ (কাগজ কেটে তৈরি বিশেষ নকশা)-এর আদলে তৈরি চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল ফুটিয়ে তোলা হয়। মেক্সিকোর নিজস্ব সাংস্কৃতিক শেকড়কে সম্মান জানাতে মঞ্চে হাজির হন দেশটির আদিবাসী পারফর্মাররা। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাদের লোকনৃত্য এবং সমসাময়িক ফোকলোর অ্যাক্টের নান্দনিক কোরিওগ্রাফি পুরো স্টেডিয়ামকে এক মায়াবী আবহে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণিল পোশাক আর প্রযুক্তিনির্ভর থ্রিডি মঞ্চসজ্জা উদ্বোধনী আয়োজনের নান্দনিকতাকে নিয়ে যায় এক ভিন্ন উচ্চতায়।

 

মঞ্চ মাতালেন শাকিরা-বার্না বয়: প্রথমবার লাইভে ‘দাই দাই’
বিশ্বকাপের মঞ্চ আর কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরা—এই দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণই ছিল এই পপ তারকার উপস্থিতি। মঞ্চে তার নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারিতে রীতিকতো করতালির ঝড় ওঠে। নাইজেরিয়ান সুপারস্টার বার্না বয়ের সাথে মঞ্চে এসে শাকিরা পরিবেশন করেন ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যান্থেম বা থিম সং ‘দাই দাই’ । এই প্রথম গানটি কোনো লাইভ মঞ্চে পরিবেশন করলেন এই দুই গ্লোবাল আইকন। আফ্রোবিট আর ল্যাটিন পপের এই অনবদ্য ফিউশন দর্শকদের নাচতে বাধ্য করে।

 

ল্যাটিন ও মেক্সিকান তারকাদের মেলা
শুধু শাকিরা বা বার্না বয়-ই নন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে রঙিন করতে মেক্সিকোর ঘরের তারকা এবং বিশ্বখ্যাত ল্যাটিন শিল্পীদের এক বিশাল লাইনআপ জড়ো করেছিল ফিফা। কলম্বিয়ান তারকা জে বালভিন মঞ্চে ঝড় তোলেন তার জনপ্রিয় ট্র্যাকগুলো দিয়ে। বিশেষ করে তরুণদের ক্রেজ রায়ান কাস্ত্রো মঞ্চে এসে জে বালভিনের সাথে এক যুগল পরিবেশনায় মেতে ওঠেন।

মেক্সিকোর নিজস্ব সঙ্গীত ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে মঞ্চে আসেন গ্র্যামি জয়ী কিংবদন্তি পপ-রক ব্যান্ড ‘মানাঁ’। এছাড়া বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, লিলা ডাউনস এবং লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলসের মতো জনপ্রিয় মেক্সিকান ও ল্যাটিন শিল্পীদের একের পর এক পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দেয়।

আবেগঘন জাতীয় সঙ্গীত ও সালমা হায়েকের উপস্থিতি
সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন মেক্সিকোর অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ স্বদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অন্যদিকে উদ্বোধনী ম্যাচের অপর দল দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে শোনান দক্ষিণ আফ্রিকান তরুণ সেনসেশন টাইলা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই বিশাল আয়োজনে বিশেষ অতিথি ও ফিফা বিশ্বকাপের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মাঠে উপস্থিত ছিলেন মেক্সিকান-আমেরিকান একাডেমি অ্যাওয়ার্ড মনোনীত বিখ্যাত অভিনেত্রী ও পরিচালক সালমা হায়েক পিনল্ট। তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তকে মেক্সিকোর মাটিতে স্বাগত জানান এবং ফুটবলের একতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।

বিশ্বরেকর্ড ও তিন দেশের ত্রয়ী আয়োজন
মেক্সিকোর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ে ফেলল অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) উদ্বোধনী ম্যাচ বা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনন্য কীর্তি গড়ল পেলে-ম্যারাডোনার স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক মাঠ।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজনকে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শো’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। মেক্সিকোর এই বর্ণিল সাংস্কৃতিক যজ্ঞের পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রেশ ছড়াবে কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। যেখানে মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং কেটি পেরির মতো তারকারা নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতির ডালি নিয়ে হাজির হবেন। তবে প্রথম রাতটি যে শাকিরা, বার্না বয় এবং মেক্সিকোর চোখধাঁধানো লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে রইল, তা বলাই বাহুল্য।