সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দ্রুত জনসংখ্যা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ শহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
দ্রুত জনসংখ্যা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ শহর

টেক্সাসের সেলিনা কিংবা নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপেক্সের মতো উপশহরগুলো যখন জনসংখ্যা আর অর্থনীতিতে প্রতিনিয়ত ফুলেফেঁপে উঠছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের শত শত জনপদ হারাচ্ছে তাদের বাসিন্দা। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই নীরব সংকট মার্কিন শহরগুলোর গভীর কাঠামোগত পতনকে স্পষ্ট করে তুলছে। বাসিন্দা কমে যাওয়া এই শহরগুলোতে দারিদ্র্য ঘনীভূত হচ্ছে, অবকাঠামো বুড়িয়ে যাচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এমনকি তরুণেরা এই শহরগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও শিক্ষক আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক শুমারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ২০ হাজার বা তার বেশি জনসংখ্যার প্রায় ৬০০টি শহর তাদের বাসিন্দা হারিয়েছে। এই দ্রুত হ্রাস পাওয়া শহরগুলোর বেশির ভাগই দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান এলাকা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেক্সিকান-আমেরিকান ও আদিবাসী আমেরিকানদের শহর কিংবা মিডওয়েস্টের পুরোনো শিল্পাঞ্চল।

দ্রুত জনসংখ্যা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ শহর

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেক্সাসের বিগ স্প্রিং শহরটি ২০২০ সালের পর থেকে ১৫.৩ শতাংশ বাসিন্দা হারিয়েছে, যা ২০ হাজার বা তার বেশি জনসংখ্যার যেকোনও মার্কিন শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতনের রেকর্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিসিসিপির গ্রিনভিল শহরের জনসংখ্যা ২৯ হাজার ৬৯০ থেকে ১০.৬ শতাংশ কমে ২৬ হাজার ৫৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আদিবাসী বাণিজ্যের কেন্দ্র নিউ মেক্সিকোর গ্যালাপ শহরটি হারিয়েছে ৮.৮ শতাংশ বাসিন্দা। স্থানীয় অর্থনৈতিক ‘ধসের’ কারণে শহরটির দৈনিক পত্রিকা দ্য গ্যালাপ ইন্ডিপেনডেন্ট চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান এর প্রকাশক বব জলিঙ্গার।

বিগ স্প্রিং শহরের এই পতনের মূল কারণ ২০২১ সালে দুটি বেসরকারি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, যার ফলে শত শত মানুষ চাকরি হারান। এ ছাড়া এই অঞ্চলের ভাগ্য দীর্ঘদিন ধরে তেলের অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে জড়িত। দ্রুত সংকুচিত হওয়া শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে তিনটিই মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের, এগুলো হলো- গ্রিনভিল, ভিকসবার্গ ও জ্যাকসন। এই তিনটিই কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান শহর এবং দীর্ঘদিনের বিনিয়োগহীনতা, উচ্চ দারিদ্র্য হার, ভঙ্গুর অবকাঠামো ও তরুণদের অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি। ক্যালিফোর্নিয়ার টুয়েন্টিবাইন পামস শহরটিও ৭.৬ শতাংশ বাসিন্দা হারিয়েছে, তবে সেখানে মার্কিন মেরিন কর্পসের একটি ঘাঁটি থাকায় এই হ্রাস মূলত সামরিক মোতায়েন চক্রের কারণেও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের পর লাখ লাখ নতুন বাড়িঘর তৈরি হলেও তার প্রায় পুরোটাই হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল ও মাউন্ট ওয়েস্টের সমৃদ্ধ মেট্রো এলাকাগুলোতে; দ্রুত সংকুচিত হওয়া এই জনপদগুলোতে কোনো নতুন নির্মাণ হচ্ছে না। অবশ্য জনসংখ্যা হ্রাস মানেই যে সব শেষ, তা নয়। যেমন, সেন্ট লুইস শহরটি গত ৭০ বছর ধরে ছোট হয়ে আসলেও সেখানে এখনও সচল নাগরিক অর্থনীতি, বড় বিশ্ববিদ্যালয় এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা টিকে আছে।

তবে এই পতনের পেছনে জাতিগত বৈষম্যকে এড়ানো অসম্ভব। মিসিসিপি, আরকানসাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ ১০টি সংকুচিত শহরের বেশির ভাগই কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান, যারা দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বিনিয়োগহীনতা থেকে কখনোই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, সরকারি আবাসন ও অবকাঠামোর তহবিল এখন চলে যাচ্ছে দ্রুত বর্ধনশীল উপশহরগুলোর দিকে, যেখানে নতুন রাস্তা ও স্কুলের প্রয়োজন। ফলে জনসংখ্যা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় এই সংকুচিত শহরগুলো টিকে থাকার জন্য সীমিত সম্পদ নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

Ads small one

পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ
পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন আজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার পেছনে মূলত শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে মন্ত্রণালয়ের রুটিন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন। নির্বাচন-পরবর্তী গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজ পদত্যাগ করলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা। বিজিবি বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। ভারতীয় বিএসএফ বেশ কিছু বাংলাদেশিকে পুশব্যাকের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় কড়া নজর দারীতে রয়েছে বিজিবি।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক গোলম মোহাম্মদ সাইফুল আলস খান নিশ্চিত করে জানান, বেনাপোল সাদিপুর খড়েরমাঠ এলাকা  ২১/৬ নং পিলারের কাছ দিয় ভারতীয় বিএসএফ বেশকিছু নগরিককে পুশব্যাকের চেষ্টা করলে জিরো লাইন এলাকায় রুখে দিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয়রা জানান সোমবার গভীর রাতে ৮/১০ জনের মত একদল নাগরিককে বাংলাদেশের দিকে টেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। রাত থেকে জিরো লাইনে অবস্থান করছেন তারা।
বিজিবি কর্পকর্তারা জানান, সকাল দশটার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা।

প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছার মৌয়াল বারিক স্থানীয় গাছ ও বাসা-বাড়ি থেকে মৌমাছির চাক কেটে সরাসরি ক্রেতার সামনে মধু বিক্রি করেন। এটি খাঁটি মধু পাওয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপায়। প্রাকৃতিক মৌমাছির চাক থেকে মধু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মৌয়াল আব্দুল বারিক। এলাকায় তিনি মধু বারিক নামে পরিচিত।

 

সবাই খাটি ভালো মধু চায়। ভেজাল মুক্ত মধু পেতে ক্রেতার বিড়ম্বানার শেষ নেই। তাই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু পেতে সবাই বারিকের উপর আস্থা রেখেছে। বারিক চাক কেটে বাগানে বসে ক্রেতাকে মধু দিচ্ছে। কেহ চাইলে চাক সহ মধু নিতে পারে। তাই খাটি মধু পেতে বারিকের উপর ভরসা।

 

খুলনা জেলার পাইকগাছার মটবাটি গ্রামে আব্দুল বারিকের বাড়ি। তিনি এলাকার বিভিন্ন গাছ বা বাসা বাড়িতে মৌমাছির চাক কেটে মধু সংগ্রহ করেন। সেই মধু বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তাই দিয়েই চলে তার সংসার। মধু আহরণের পাশাপাশি সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন।

 

গ্রামের কোথাও মৌচাকের সন্ধান পেলেই মৌয়াল বারিককে ডাকা হয়। অত্যন্ত যত্নসহকারে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বারিক মৌচাক থেকে কীভাবে মধু সংগ্রহ করেতে হয় তার কৌশল আয়ত্ত করেছেন । মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের পেশাদার মৌয়াল হয়ে ওঠেছেন তিনি। কয়েক বছর সুন্দরবনের মধু আহরণে মৌয়ালদের সাথে মধু আহরণ করেছেন। সুন্দরবনের পার্শবর্তি উপকূল এলাকায় বড় বা দাশ মৌমাছির চাক বেশী পাওয়া যায়।

 

মৌয়াল বারিক বলেন, আমি প্রায় ২০ -২৫ বছর যাবৎ মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। মৌচাক কেটে মালিকদের অর্ধেক আমি অর্ধেক নিয়ে থাকি। মৌমাছির চাকের প্রতি কেজি মধু এক হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা দরে বিক্রি করি। চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে শুকনা কাচা পাতা পেচিয়ে মশালের মতন তৈরি করা হয়। একে কোনো কোনো এলাকায় বোলেন বা বুন্দা বলা হয়। এ মশাল জ্বালিয়ে ধোয়া তৈরি করে মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া একেবারে কাছাকাছিতে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো চাক ছেড়ে আশপাশে উড়তে থাকে। এ সময় চাকের কিছু অংশ রেখে মৌয়াল দা বা কাঁচি দিয়ে চাক কেটে বালতিতে রাখেন। এরপর সে চাক থেকে মধু হাত দিয়ে চিপে আলাদা করা হয়। চাক কাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর মৌমাছি আবার চাক বানাতে তৈরি শুরু করে ।

 

মৌয়াল বারিক আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে-গ্রামে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণ ও তাপমাত্রা বেশী হওয়ায় চাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপে অনেক চাক নষ্ট হয়ে ছিড়ে পড়ছে। তাছাড়া এ বছর এই অঞ্চলে সে রকম বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, তাই মধু জমে কম। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাল্গুন মাস থেকে আষাড় মাস পর্যন্ত চাকে মধু বেশী পাওয়া যায়। এসময় প্রায় সকল গাছে ফুল ফোটে। আর বাকী মাস গুলোতে চাকে তেমন মধু পাওয়া যায় না।

 

আব্দুল বারিক পাইকগাছা এলাকার একজন সুপরিচিত পেশাদার মৌচাক সংগ্রহকারী। তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বা গাছের প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করেন। তিনি কোনো ভেজাল বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে সরাসরি চাক থেকে মধু চিপে বা কেটে বিক্রি করেন, যার ফলে মধু শতভাগ খাঁটি থাকে।