সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দ্রুত জনসংখ্যা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ শহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
দ্রুত জনসংখ্যা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ শহর

টেক্সাসের সেলিনা কিংবা নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপেক্সের মতো উপশহরগুলো যখন জনসংখ্যা আর অর্থনীতিতে প্রতিনিয়ত ফুলেফেঁপে উঠছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের শত শত জনপদ হারাচ্ছে তাদের বাসিন্দা। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই নীরব সংকট মার্কিন শহরগুলোর গভীর কাঠামোগত পতনকে স্পষ্ট করে তুলছে। বাসিন্দা কমে যাওয়া এই শহরগুলোতে দারিদ্র্য ঘনীভূত হচ্ছে, অবকাঠামো বুড়িয়ে যাচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এমনকি তরুণেরা এই শহরগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও শিক্ষক আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক শুমারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ২০ হাজার বা তার বেশি জনসংখ্যার প্রায় ৬০০টি শহর তাদের বাসিন্দা হারিয়েছে। এই দ্রুত হ্রাস পাওয়া শহরগুলোর বেশির ভাগই দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান এলাকা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেক্সিকান-আমেরিকান ও আদিবাসী আমেরিকানদের শহর কিংবা মিডওয়েস্টের পুরোনো শিল্পাঞ্চল।

দ্রুত জনসংখ্যা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ শহর

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেক্সাসের বিগ স্প্রিং শহরটি ২০২০ সালের পর থেকে ১৫.৩ শতাংশ বাসিন্দা হারিয়েছে, যা ২০ হাজার বা তার বেশি জনসংখ্যার যেকোনও মার্কিন শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতনের রেকর্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিসিসিপির গ্রিনভিল শহরের জনসংখ্যা ২৯ হাজার ৬৯০ থেকে ১০.৬ শতাংশ কমে ২৬ হাজার ৫৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আদিবাসী বাণিজ্যের কেন্দ্র নিউ মেক্সিকোর গ্যালাপ শহরটি হারিয়েছে ৮.৮ শতাংশ বাসিন্দা। স্থানীয় অর্থনৈতিক ‘ধসের’ কারণে শহরটির দৈনিক পত্রিকা দ্য গ্যালাপ ইন্ডিপেনডেন্ট চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান এর প্রকাশক বব জলিঙ্গার।

বিগ স্প্রিং শহরের এই পতনের মূল কারণ ২০২১ সালে দুটি বেসরকারি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, যার ফলে শত শত মানুষ চাকরি হারান। এ ছাড়া এই অঞ্চলের ভাগ্য দীর্ঘদিন ধরে তেলের অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে জড়িত। দ্রুত সংকুচিত হওয়া শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে তিনটিই মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের, এগুলো হলো- গ্রিনভিল, ভিকসবার্গ ও জ্যাকসন। এই তিনটিই কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান শহর এবং দীর্ঘদিনের বিনিয়োগহীনতা, উচ্চ দারিদ্র্য হার, ভঙ্গুর অবকাঠামো ও তরুণদের অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি। ক্যালিফোর্নিয়ার টুয়েন্টিবাইন পামস শহরটিও ৭.৬ শতাংশ বাসিন্দা হারিয়েছে, তবে সেখানে মার্কিন মেরিন কর্পসের একটি ঘাঁটি থাকায় এই হ্রাস মূলত সামরিক মোতায়েন চক্রের কারণেও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের পর লাখ লাখ নতুন বাড়িঘর তৈরি হলেও তার প্রায় পুরোটাই হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল ও মাউন্ট ওয়েস্টের সমৃদ্ধ মেট্রো এলাকাগুলোতে; দ্রুত সংকুচিত হওয়া এই জনপদগুলোতে কোনো নতুন নির্মাণ হচ্ছে না। অবশ্য জনসংখ্যা হ্রাস মানেই যে সব শেষ, তা নয়। যেমন, সেন্ট লুইস শহরটি গত ৭০ বছর ধরে ছোট হয়ে আসলেও সেখানে এখনও সচল নাগরিক অর্থনীতি, বড় বিশ্ববিদ্যালয় এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা টিকে আছে।

তবে এই পতনের পেছনে জাতিগত বৈষম্যকে এড়ানো অসম্ভব। মিসিসিপি, আরকানসাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ ১০টি সংকুচিত শহরের বেশির ভাগই কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান, যারা দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বিনিয়োগহীনতা থেকে কখনোই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, সরকারি আবাসন ও অবকাঠামোর তহবিল এখন চলে যাচ্ছে দ্রুত বর্ধনশীল উপশহরগুলোর দিকে, যেখানে নতুন রাস্তা ও স্কুলের প্রয়োজন। ফলে জনসংখ্যা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় এই সংকুচিত শহরগুলো টিকে থাকার জন্য সীমিত সম্পদ নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

Ads small one

শ্যামনগরে ১০জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা, ৫দিনেও গ্রেপ্তার নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ১০জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা, ৫দিনেও গ্রেপ্তার নেই

পত্রদূত রিপোর্ট: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গরু চরাতে যেয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ১০ জন জখম হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৮ মে ৫ মিনিটের ব্যবধানে জেলেখালি গ্রামের রণজিৎ কুমার গাইন ও মথুরাপুর গ্রামের হুসাইন গাজীর দায়েরকৃত দুটি মামলা রেকর্ড দেখানো হয়েছে। তবে মামলার পাঁচ দিনেও পুলিশ কোন আসামী গ্রেপ্তার না করায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেলেখালি গ্রামের বৃদ্ধ কৃষ্ণপদ গায়েন।

রবিবার সকালে মথুরাপুর ও জেলেখালি গ্রামে যেয়ে দেখা গেছে, আব্দুল মজিদ পাইক, তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তাদের বাড়ির পাশে ও জেলেখালি গ্রামের কৃষ্ণপদ গায়েন ও তার স্বজনরা বাড়ির সামনেই অবস্থান করছেন। আব্দুল মজিদ পাইকের সাত শতক জমির উপর দিয়ে ইট সোলিং রাস্তা ও তার বাবা- মায়ের কবরস্থান রয়েছে। জেলেখালির ফকির রপ্তান ওরফে শিবপদ রপ্তান ও তার স্ত্রী আরতি রপ্তানের বন্দোবস্তকৃত ৭০ শতকের মধ্যে কৃষ্ণপদ গাইনের নামে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিট করে দখলে নেওয়া ৩৩ শতকের মধ্যে আট শতক জমি আপোষের মাধ্যমে বিনিময় করে তা দখলে রেখেছেন। ওই আট শতক জমি মজিদ পাইক খাস সম্পত্তি হিসেবে নিজের দখল দাবি করে কৃষ্ণপদ গাইনের কাছে নতুন করে ওই জমি দাবি করে আসছেন।

 

আট শতক রাস্তা ও কবরস্থানের জমি ছাড়াও মজিদ পাইক সাড়ে ৯৬ শতক জমি দখলে রয়েছেন। তবে একজন প্রভাবশলিী জনপ্রতিনিধি শান্তিপূর্ণ মীমাংসার স্বার্থে কোন আসামী গ্রেপ্তার হবে না মজিদ পাইককে এমন আশ^াস দেওয়ায় মজিদ পাইক, তার পুত্রবধু খাদিজা, তার ছেলে ইব্রাহীমসহ কয়েকজন বাড়িতে অবস্থান করছেন। মজিদ পাইকের মেয়ে মর্জিনা ওরফে খুকুমনি সাতক্ষীরায় হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে দাবি করা হয়েছে। অপরদিকে মজিদ পাইকের ছেলে হুসাইনের দায়েরকৃত মামলার তিনজন অসামী সাতক্ষীরায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় জামায়ত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মজিদ পাইকের ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কৃষ্ণপদ গায়েনের সুসম্পর্ক রয়েছে।

জানতে চাইলে মজিদ পাইক বলেন. ১৯৯০ সালে ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এন্তাজ কাগুচীর ছেলে মুনসুর কাগুচী ও তার বোন গোলজান বিবি ও বোন মোমেনা কাগুচির স্বামী আব্দুল হামিদের কাছ থেকে তিনটি দলিল মূলে মুন্সিগঞ্জ মৌজার এসএ ৭৯৪ খতিয়ানের ৯৪ ও ৯৫ দাগের ৯৯ শতক জমি কেনেন তিনি ও তার ভাই আব্দুল মাজেদ। ১৯৯৭ সালের ৩০ মার্চ ভাই মাজেদ তাকে ৩৩ শতক জমি লিখে দেয়। যদিও বর্তমান মাঠজরিপে বিআরএস ৩০৫৫ দাগে ৯৭ শতক জমি আব্দুল মজিদ ও আব্দুল মাজেদ এর নামে রেকর্ড হয়। ফকির রপ্তান ও তার স্ত্রী আরতি রপ্তানের বন্দোবস্তকৃত ৭০ শতক জমির মধ্যে ৬৪ শতক জমি তাদের নামে বিআরএস রেকর্ড হলেও তাকে ৩৩ শতক, তার ভাই বিষ্ণুপদ গাইনের কাছে ২২ শতক ও আবু বাক্কারের কাছে ১২ শতক জমি এফিডেফিডের মাধ্যমে দখলে দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

আব্দুল মজিদ পাইক জানান, তার কেনা জমি কম হয়ে যাওয়ায় তা বুঝে পাওয়ার জন্য গত ১৯ এপ্রিল তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহায়তার শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। এ সময় তিনি কৃষ্ণপদ গায়েনের আট শতক জমি খাস বলে তা নিজের বলে দাবি করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিলে আগামি ৩ জুন উভয়পক্ষকে নিয়ে মাপ জরিপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে গত ২৫ মে সোমবার জমি পরিমাপের সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ি ২৫ মে ও ২৬ মে দুই দিন মাপ জরিপ হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত ঈদের পর পরিষদে বসে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

 

২৭ মে বুধবার সকাল ৬টার দিকে গীতা রানী গাইন গরু ঘাস খাওয়াতে নিংে যাওয়ার সময় নতুন সীমানা পিলার উঠিয়ে দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান তার পুত্রবধু খাদিজা। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কৃষ্ণপদ গাইনের পরিবারের লোকজন ছুঁটে এসে তাকে (মজিদ)সহ জামাতা বেল্লাল, মেয়ে খুকুমনি, পোতা ইব্রাহীম, ছেলে হাসানকে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় তারাও প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন জখম হয়। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হলেও স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতার নির্দেশনা অনুযায়ি পুলিশ কোন আসামীকে ধরবে না এমন আশ^স্ত হওয়ায় তারা বাড়িতেই অবস্থান করছেন। মেয়ে খুকুমনি ও জামাতা বেল্লাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গায়েন পরিবারের কাছে তিনি ১০ শতক জমি পাবেন বলে দাবি করেন। তিনি ৯৪ ও ৯৫ দাগের কেনা জমি বুঝে পেতে চান।

কৃষ্ণপদ গায়েন দাবি করেন, ফকির রপ্তান ও আরতী রপ্তানের কাছ থেকে পাওয়া তার ও তার ভাই বিষ্ণুপদ গায়েনের ৫৫ শতক জমির মধ্যে আট শতক জমি মজিদ পাইকের সাথে বিনিময় করা হয়। এখন ওই আট শতক জমি খাস দাবি করে মজিদ তাদের কাছে নতুন করে জমি চাইছে। ২৫ ও ২৬ মে উভয়পক্ষের সার্ভেয়র দিয়ে জমি মাপ করা হলেও ঈদ পরবর্তী পরিষদে বসে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল।

 

২৭ মে সকাল ৬টার পর তার স্ত্রী গীতা রানী গায়েন মজিদের বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে নিজ বিলান জমিতে গরু খাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় নতুন বসানো সীমানা পিলার তোলার মিথ্যা অভিযোগ আনে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মজিদের ছেলে হাসান, হুসাইন, জামাতা বেল্লালসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা গীতার মাথায় ধারোলো দা দিয়ে কুপিয়ে ও পরে লাহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে গীতাকে উদ্ধারে গেলে ছেলে রণজিৎ গাইন, শিবপদ গাইন, ধর্মদাস গাইন, বিষ্ণুপদ গাইন, রবীন্দ্রনাথ গাইন, অনিমেষ গাইন, ইন্দ্রজিৎ গাইন, সুরেন গাইন ও কৌশল্যা গাইন গীতাকে উদ্ধারে গেলে জামায়ত কর্মী হুসাইনের হাতে থাকা লোহার রড, বেল্লালের হাতে থাকা ধারালো দা ও আরো কয়েকজনের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে তাদেরকে টিপিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে।

 

মারাত্মক জখম অবস্থায় তাদেরকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে ছুঁটে আসেন বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান কবীর ও রাজ্জাক সরদারসহ কয়েকজন। অথচ ঘটনা ভিন্নখাতে করতে মজিদ পাইক, তার মেয়ে খুকুমনি, তার জামাতা বেল্লাল ও দুই ছেলে কাল্পনিক ক্ষত তৈরি করে হাসপাতালে ভর্তি হয়। হামলার ঘটনায় তার ছেলে রণজিৎ গায়েন বাদি হয়ে মজিদ পাইকসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে খানায় এজাহার দায়ের করলে ২৭ মে দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে ওই মামলা রেকর্ড করা হয়। একইভাবে ২৭ মে দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মজিদ পাইকের ছেলে আব্দুল হুসাইনের দায়েরকৃত রণজিৎ গায়েনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কাল্পনিক এজাহারটিও মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। গত ৫ দিনেও তাদের দায়েরকৃত মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। ফলে ন্যয় বিচার পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী নন।

এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন, সমাজকর্মী কমল আউলিয়া, মিজানুর কাগুচী, ফজলুর রহমান, বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান ও সার্ভেয়র রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিএস ম্যাপ অনুযায়ি নিদ্দিষ্ট সীমানা পিলার না পাওয়ায় সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে মজিদ পাইক সাড়ে ৯৬ শতক জমি দখলের পাশাপাশি তার জমির উপর দিয়ে ইটসোলিং এর প্রায় আট শতক রাস্তা চলে গেছে। সুতরাং মজিদ পাইক রেকডীয় ৯৭ শতকের চেয়ে সাড়ে সাত শতক বেশি জমি দৃশ্যমান হয়েছে। ঈদের পরপরই পরিষদে বসে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে আসার কথা থাকলেও ২৭ তারিখের হামলার ঘটনা তাদেরকে হতাশ করেছে।

শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক সুদেব পাল জানান, দুটি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা তিনি। তবে কেন আসামী ধরা হচ্ছে না সে ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।

 

সুন্দরবন সুরক্ষা ও আমাদের দায়িত্ব/ ‎‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবন সুরক্ষা ও আমাদের দায়িত্ব/ ‎‎তারিক ইসলাম

‎‎তারিক ইসলাম
‎পৃথিবীর বুকে প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময় আমাদের সুন্দরবন। এর বিশাল ম্যানগ্রোভ বনভূমি কেবল আমাদের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবেই রক্ষা করে না, বরং এটি হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী এবং মৎস্যসম্পদের এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপের কারণে এই ফুসফুস আজ সংকটের মুখে।

‎এই সংকট থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে এবং এর জীববৈচিত্র্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে বন বিভাগ একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ০১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই তিন মাস বনের অভ্যন্তরে জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল বা গোলপাতা সংগ্রহকারী—কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। একই সাথে বন্ধ থাকবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সমাগমও।

‎‎কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
‎জুন থেকে আগস্ট-এই তিন মাস সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী এবং মৎস্যসম্পদের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়ে সুন্দরবনের নদী-খালে থাকা মাছ ডিম ছাড়ে এবং বনের বাঘ, হরিণ, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নির্বিঘেœ বংশবিস্তার করে।

‎বনের ভেতর মানুষের চলাচল, ট্রলারের ইঞ্জিনের বিকট শব্দ এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হয়। মানুষের এই কোলাহলমুক্ত পরিবেশ পেলে বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা দেখায় যে, এই ধরনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবনের প্রকৃতি আবার নিজের মতো করে সেজে ওঠে এবং বনের প্রাণসম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

‎আমাদের দায়িত্ব ও করণীয়
‎সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস এবং সমগ্র দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রতীক। তাই একে রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু বন বিভাগের একার নয়, এটি আমাদের সবার জাতীয় দায়িত্ব। এই নিষেধাজ্ঞা সফল করতে আমাদের কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
‎আইন ও নিয়ম মেনে চলা: এই তিন মাস বনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাওয়াল, মৌয়াল ও জেলেরা যাতে কোনোভাবেই বনের ভেতর প্রবেশ না করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বনকে তার নিজস্ব গতিতে বাড়তে দেওয়া আমাদের সবার কর্তব্য।

‎বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা: নিষেধাজ্ঞার এই দীর্ঘ সময়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা থমকে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে যে খাদ্য সহায়তা বা ভিজিডি (ঠএউ) চাল দেওয়া হয়, তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সুষম ও সময়মতো বণ্টন করা হয়, সেদিকে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
‎পর্যটকদের সচেতনতা: ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে। সুন্দরবন ভালো থাকলে তবেই আমাদের পর্যটন শিল্প ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হবে-এই বোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

‎অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে পাহারা: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো অসাধু চক্র বা শিকারি দল যাতে সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করে হরিণ শিকার বা বিষ দিয়ে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য বন বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জনগণকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

‎সুন্দরবন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, এখন সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের।”
‎প্রকৃতির একটি নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে। তিন মাসের এই নীরবতা সুন্দরবনকে তার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং নিজেকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করবে। সাময়িক এই ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফিরে পাব এক সমৃদ্ধ, সবুজ ও প্রাণবন্ত সুন্দরবন। আসুন, বনের এই প্রজননকালকে সম্মান জানাই এবং সুন্দরবন সুরক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি।

‎তারিক ইসলাম: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

খোলপেটুয়া নদীতে ধরা পড়ল ১২ কেজির বিশাল ভেটকি, দেখতে জনতার ভিড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
খোলপেটুয়া নদীতে ধরা পড়ল ১২ কেজির বিশাল ভেটকি, দেখতে জনতার ভিড়

oplus_2

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদী থেকে ১২ কেজি ওজনের একটি বিশাল ভেটকি মাছ ধরা পড়েছে। রবিবার (৩১মে) দিবাগত রাতে ফাঁস জালের মাধ্যমে মাছটি ধরেন উপজেলার কাপসন্ডা গ্রামের জেলে রবিউল ইসলাম গাজী। বিরল আকারের এই মাছটি দেখতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং মাছের আড়তে ভিড় জমে যায়।

জেলে রবিউল ইসলাম গাজী জানান, ২০২৬ সালে খোলপেটুয়া নদী থেকে তিনি বেশ কয়েকটি বড় মাছ পেয়েছেন। তবে এবারই তার জালে সর্বোচ্চ ওজনের মাছ ধরা পড়েছে। ১২ কেজি ওজনের ভেটকি মাছটি পেয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দিত। এছাড়াও একই সময় ২ কেজি ওজনের আরেকটি মাছ পেয়েছেন তিনি।

 

কাপসন্ডা মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম সরদার জানান, তাদের আড়তে এর আগে এত বড় ভেটকি মাছ আসেনি। খোলপেটুয়া নদী থেকে ধরা পড়া এই ১২ কেজি ওজনের মাছটি প্রথমবারের মতো আড়তে আসে। মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। পরে ঢাকার একজন চাকরিজীবী পুরো মাছটি কিনে নেন।

বড় আকারের মাছটির খবর ছড়িয়ে পড়লে আড়তে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই মাছটির সঙ্গে ছবি তোলেন এবং বিরল এই ধরা নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয়দের মতে, খোলপেটুয়া নদীতে এখনও বড় আকারের মূল্যবান মাছ পাওয়া যায়, যা নদীর জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আশা করছেন, নদীতে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার হলে ভবিষ্যতেও এমন বড় মাছ ধরা পড়বে এবং জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।