বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাম্প্রতিক মামলার পরিসংখ্যান যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। জেলাজুড়ে বর্তমানে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ৭৭ হাজার। একটি সীমান্তবর্তী জেলায় মামলার এই বিশাল সংখ্যা শুধু বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপই তৈরি করছে না, বরং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের জীবনকে করে তুলছে স্থবির।

‎মামলার এই বিভাজন বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়। জেলা জজের আওতাধীন আদালতে (দেওয়ানি ও ফৌজদারি) বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার-এর বেশি মামলা। এর মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি-প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৩টি। বছরের পর বছর ধরে চলা ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত জটিলতাও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। এর বাইরে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৭টি এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আটকে আছে ৭ হাজার ২৩৬টি মামলা। অন্যদিকে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আমলি ও বিচারিক) মামলার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৮১০টি।

‎এই পরিসংখ্যানের পেছনের গল্পটি বেশ বেদনাদায়ক। একটি মামলার পেছনে বছরের পর বছর ঘুরতে গিয়ে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ আজ নিঃস্ব। জমিজমার বিরোধ কিংবা ফৌজদারি অপরাধের সুরাহা পেতে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় জুতো ক্ষয় করছেন বিচারপ্রার্থীরা। মামলা পরিচালনার খরচ, যাতায়াত ব্যয় এবং বারবার আদালতে হাজির হওয়ার কারণে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।

‎এর মধ্যে আদালতকেন্দ্রিক ঘুষ-বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে নিঃস্ব, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের অনিয়ম ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। ‎সময়মতো বিচার না পাওয়া বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্তা হারাচ্ছে।

‎এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মামলাজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিচারকের শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সাক্ষীদের সময়মতো হাজির করা, তদন্তে অযথা বিলম্ব কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় মুলতবি এড়ানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে আইনসম্মত মধ্যস্থতার সুযোগ কাজে লাগানো গেলে কিছু মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিও সম্ভব।

‎সাতক্ষীরার মামলাজট শুধু আদালতের সমস্যা নয়; এটি হাজারো বিচারপ্রার্থীর জীবন, সময় ও অর্থের সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা। আদালতের দীর্ঘ বারান্দায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করা মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বস্তিতে রূপ নেয় এটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা।

 

 

Ads small one

ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩৫, ভোগান্তির শেষ কোথায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩৫, ভোগান্তির শেষ কোথায়

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার পর দেশটির বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। সুতরাং নিরাপত্তা বিবেচনায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ওই রুটে গমনেচ্ছু ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট বাতিল হওয়া শুরু হয়। আর এতে করে ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

বেবিচকের দেওয়া তথ্য মতে, বাতিল হওয়া ১৩৫ ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ছিল ৬২টি আর ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল ৭৩টি।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমানের ফ্লাইট ছিল ২৩টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি।

ট্রানজিট ফ্লাইটগুলো হলো ইন্ডিগো এয়ারের ২৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতারে এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি।

কাওছার মাহমুদ জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৪ প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৪ প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

 

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৫১২ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫০৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৪ জন, খুলনা বিভাগে ২০৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন, রংপুর বিভাগে ৪৪ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৬ হাজার ২৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গিয়েছে ৩৬৮ জন।

 

 

 

সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের
কলারোয়া প্রতিনিধি:  বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামীর প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য কলারোয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের পর এবার ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
বৃহস্পতিবার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৫০টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজ হাতে কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর কয়লা, ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা, ১১ নম্বর দেয়াড়া ও ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হবে। আগামী চার দিন এ কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে।
রোপণ করা চারাগুলো যাতে গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর কারণে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রতিটি চারার চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে চারাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলারোয়া উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। তাঁর রোপণ করা তালবীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় বছরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে তালবীজ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
পরিবেশবান্ধব এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের পাশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ-শ্যামল উপজেলা গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, “একটি সবুজ ও সুন্দর কলারোয়া উপজেলা গড়ে তুলতে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে হাত বাড়াই।”