বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

কলারোয়া ও তালায় শতাধিক পূজাম-প পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
কলারোয়া ও তালায় শতাধিক পূজাম-প পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব

তালা ও কলারোয়া প্রতিনিধি: পূজার শেষ দিনে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ১৫টি পূজাম-প পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব। ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা তালা ও কলারোয়ায় ২৫২টি মন্দিরের মধ্যে প্রায় ১০০টি পূজাম-প পরিদর্শন করেন তিনি। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য অঞ্চলের আরও প্রায় ২০টি পূজাম-প পরিদর্শন করেন।

২১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় নাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের খাশপুর পূজাম-প পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। পরে চন্দনপুর, কেরালকাতা ও কুশডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক আয়োজন, পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “এ বছর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গোৎসব নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে আমরা সব সময় সার্বক্ষণিক আপনাদের পাশে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকব।”

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। এ সময় তিনি এলাকার মানুষের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র অধ্যক্ষ রইস উদ্দিন, চন্দনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মন্টু, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম শফি, কেরালকাতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, চেয়ারম্যান প্রার্থী রাজু হোসেন, কুশডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসা কারিম, মামুন কবির, যুবনেতা ইসারুল, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম মধু, সাংবাদিক মারুফ হুসাইনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এর আগে তালা উপজেলায় তিন দিনে ৭০টি পূজাম-প পরিদর্শন করেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। ১৭, ১৯ ও ২০ অক্টোবর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এসব পূজাম-প পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রতিটি পূজাম-পের কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব উদ্যোগে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। ২০ অক্টোবর বিকেল থেকে খলিলনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।

 

পরে তালা সদর, তেঁতুলিয়া, কুমিরা ও সরুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি পূজার সার্বিক আয়োজন, পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি প্রতিটি পূজাম-প কর্তৃপক্ষের হাতে তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি শেখ গোলাম মোস্তফা, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, বিএনপি নেতা আবুল কালাম বিশ্বাস, মাস্টার শাহাদাত হোসেন, শেখ জিল্লুর রহমান, তেঁতুলিয়া বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক জোয়ারদার ফারুক হোসেন, বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, যুবদল নেতা আব্দুল করিম, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান রাজু, ছাত্রদল নেতা রিপন হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

Ads small one

হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

আসাদুজ্জামান সরদার: কার্তিকের সোনাঝরা রোদ আর স্নিগ্ধ বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতিতে তখন হেমন্তের রূপময় উপস্থিতি। শারদীয় দুর্গাপূজার মহাবিজয়াদশমীর বিষাদ ও আনন্দের মিশ্র সুরের মাঝেই গ্রামীণ জনপদে বেজে উঠেছিল উৎসবের অন্যরকম এক বাদ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলুয়া নদীর শান্ত বুকে স্বর্গীয় বাশিরাম স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণিল ও রোমাঞ্চকর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

 

বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বলগ্নে নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন রূপ দেখতে বলুয়া নদীর দুই তীরে উপচে পড়ে হাজারো মানুষের ভিড়। স্বচ্ছ জলের আলপনায় নদীর বুকে তখন সাজ সাজ রব। বৈঠার জাদুকরী ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠা জলের ঢেউ আর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ঐতিহ্য ও উদ্দীপনার এই প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলোÑসোনা বাঁধাল, দাদপুর, বনবিবি, চর মাগুরা, কুলপোতা, মহিষাডাংগা কালিমাতা ও মহিষাডাংগা জয়মা।

নৌকাগুলোর গতি আর মাঝিদের সমস্বরে গাওয়া ভাটিয়ালি ও জারি গানের সুরে নদীর দুই তীরের দর্শকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় বিজায়ীদের নাম। এতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে কুলপোতা। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চর মাগুরা এবং তৃতীয় হয় মহিষাডাংগা কালীমাতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। সহকারী অধ্যাপক হিরুলাল বিশ্বাস ও দেবব্রত বিশ্বাস দেবুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর রহমান, কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ছাকী পলাশ, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও মেহেদী হাসান সগর।

 

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন। হেমন্তের এই আনন্দময় সন্ধ্যায় বিজয়াদশমীর অনন্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বলুয়া নদীর তীরে উপস্থিত মানুষের মনে দীর্ঘদিনের জন্য এক অমলিন উৎসবের রেশ রেখে গেছে।

 

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

খলিষখালি (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে দেবী দুর্গাকে আপন মনে পূজা-অর্চনা করার পর ২১ অক্টোবর সাতক্ষীরা ও তালার খলিলপুর, দলুয়া, মাগুরা, ইসলামকাটি, কুমিরা ও পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন পূজাম-পে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাজির হন প্রতিমা বিসর্জনের জন্য। শুধু তাই নয়, নদের দুই তীরে বসেছিল নানা রকম মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কসমেটিকস ও হরেক রকমের মিষ্টির দোকান।

বিকেল থেকে দলুয়া শালিকা নদীর তীরে, মাগুরা কপোতাক্ষ নদের তীরে ও ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগমে উৎসব ও আনন্দে একাকার হয়ে যায় চারপাশ। অবশেষে সন্ধ্যা নামতেই প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শুরু হয়। বিসর্জন শেষে নারী-পুরুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়ি ফিরে যান।

আশাশুনি সদরের চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুজ্জমানের পূজা ম-প পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনি সদরের চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুজ্জমানের পূজা ম-প পরিদর্শন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গাপূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার বিকেল ৩টায় পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

সঙ্গীদের নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুজ্জামান তুষার দাসেরআটি সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প, বলাবাড়িয়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প, বিল দুর্গাপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প, হাঁসখালী সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প, হাড়িভাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প, কোদন্ডা সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প ও বড় দুর্গাপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প পরিদর্শন করেন।