মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ধরিত্রী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
ধরিত্রী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ধরিত্রী মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিই আমাদের একমাত্র পরিচিত আশ্রয়স্থল। ধরিত্রী আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মল বায়ু, পানি, খাদ্য এবং প্রাকৃতিক উপাদান সরবরাহ করে।
ধরিত্রী শব্দের অর্থ হলো পৃথিবী, ধরণী বা ধরা। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ হলো যা ধারণ করে বা চরাচর ধারণকারী। পৃথিবীর সমার্থক শব্দ হিসেবে: ধরণী, অবনী, বসুধা, বসুন্ধরা বা ক্ষিতি অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়।

মহাবিশ্বে এ পর্যন্ত কেবল পৃথিবীই প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। এটি আমাদের খাদ্য, আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। ধরিত্রী বা আমাদের পৃথিবী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার, তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। ধরিত্রী আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বায়ু, পানি, খাদ্য এবং বাসস্থান প্রদান করে।

 

ধরিত্রী আমাদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। সাগর, নদী, পাহাড় এবং বনভূমি নিয়ে গঠিত ধরিত্রী মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ধরিত্রী কাজ করে। পাহাড়-পর্বত ও বন উজাড় করলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। ধরিত্রী আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ, অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ুম-ল এবং মিঠা পানির আধার হিসেবে কাজ করে, যা সব ধরণের প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে ধার্য করা একটি দিবসই হলো ধরিত্রী দিবস। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে মার্কিন সেনেটর গেলর্ড নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে সানফ্রান্সিস্কোতে ইউনেস্কো সম্মেলনে শান্তি কর্মী জন ম্যাককনেল পৃথিবী মায়ের সম্মানে একটা দিন উৎসর্গ করতে প্রস্তাব করেন এবং শান্তির ধারণা থেকে, উত্তর গোলার্ধে বসন্তের প্রথম দিন হিসেবে ১৯৭০ সালে ২১ মার্চ প্রথম এই দিনটা উদযাপিত হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই দিনই পরে একটা পরিঘোষণায় অনুমোদিত হয়, যেটা লিখেছিলেন ম্যাককনেল এবং মহাসচিব উ থান্ট জাতি সংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এক মাস পর একটা পরিবেশগত শিক্ষামূলক দিন হিসেবে ১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল একটা আলাদা ধরিত্রী দিবসের অবতারণা করেন যুক্তরাষ্ট্র সেনেটর গেলর্ড নেলসন।

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস প্রতি বছর ২২ এপ্রিল পরিবেশ রক্ষার সমর্থনে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। ধরিত্রী দিবস পালনের উদ্দেশ্য পৃথিবী এবং এর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বন উজাড়ের কারণে এই বাসযোগ্য গ্রহটি হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমাদের এই পৃথিবীকে রক্ষায় সচেতন হওয়া জরুরি।

মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রকৃতির সবকিছু একপক্ষীয়ভাবে ভোগ করে আসছে, মানুষ তার চাহিদার সীমানাকে নির্দিষ্ট করতে ভুলে গেছে। মানুষ তার ভোগ-বিলাসপূর্ণ অফুরন্ত চাহিদা আর উন্নত জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন উজাড় করছে,পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলা ও সমুদ্র সৈকতে আবাসিক এলাকা করছে। কলকারখানার বৃদ্ধি, গ্রিনহাউস গ্যাসসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের নিঃসরণ, ক্ষতিকারক কেমিক্যালের ব্যবহারসহ নানা ধ্বংসাত্মক কাজ করায় ফল হিসেবে মাটি, পানি, বায়ুদূষণ, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বরফ গলে সাগরের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে বিশ্বের বহু জনপদ। বিশ্বে এখন এই যে ঘন ঘন ভূমিকম্প, খরা, অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল নামছে তা মানুষে অপরিণামদর্শিতার কারণে ঘটছে। বিশ্বের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কার্বনের নিঃসরণ না কমে বরং তা বাড়ছে।

ধরিত্রীর বয়স আনুমানিক ৪৫০ কোটি বছর। দীর্ঘ পরিক্রমায় ধরিত্রী যেমন সুগঠিত হয়েছে, ধারণ করেছে প্রাণ-অপ্রাণসহ নানা প্রাকৃতিক উপাদান। ধরিত্রী নিজস্ব নিয়মশৃঙ্খলে আবদ্ধ। ধরিত্রীর এ শৃঙ্খল তার প্রতিটি উপাদানকে একটি একক নিয়মে আবদ্ধ করে রাখে। এ নিয়মের ব্যতিক্রম হলেই দেখা দেয় বিপর্যয়। তাই যখন ধরিত্রীর এই শৃঙ্খলে কোনোভাবে আঘাত আসে, তখন তার প্রভাব প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের ওপর পড়ে। প্রকৃতি যখন বিরূপ হয় মানুষ তখন অসহায় হয়ে পড়ে। পৃথিবী সুস্থ না থাকলে মানুষও বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। তাই অসুস্থ পৃথিবীকে ধীরে ধীরে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তার জন্য মানুষকে পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী ধরিত্রী দিবস পালন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য পরিবেশ রক্ষা এবং পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকলে মানব সভ্যতা হুমকির মুখে পড়বে। পরিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সবুজ বা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পৃথিবী হলো আমাদের একমাত্র ঘর এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ এর ওপরই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য ধরিত্রীর সুস্থ থাকা জরুরি। ধরিত্রী দিবস পালনের মাধ্যমে প্রতিবছর এই সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। মানুষ প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতি যেন মাতৃশ্রদ্ধা পায়। তাই আমাদের প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে সম্মান করা উচিত।

পৃথিবীর অস্তিত্বসংকটের জন্য প্রকৃতি দায়ী নয়, মানুষ দায়ী। আর তাই পৃথিবী রক্ষার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। কেন পৃথিবীর ক্ষতি হচ্ছে এবং কীভাবে তা কমানো যায় তা জানার জন্য সচেতনতা প্রয়োজন। ধরিত্রীকে রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিতিধি : সাতক্ষীরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরা জেলা সংসদ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক সুরেশ পান্ডের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উদীচী সাতক্ষীরার উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, স্বদেশের মাধব দত্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলিত পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জাসদের সুধাংশু সরকার, কমরেড আবুল হোসেন, কবি এস এম তুহিন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, কবি শুভ্র আহমেদ, কবি ও সাহিত্যিক আবু কাজী প্রমুখ।

সমাবেশের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীতবিষয়ক সম্পাদক বিউটি চক্রবর্তী।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বপরিচয় এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।

তাঁরা বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, রাজনৈতিক চিন্তা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও গবেষণা হতে পারে। মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে যুক্তিনির্ভর সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে মতপার্থক্যের কারণে শিল্পকর্ম বিকৃত করা কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অসম্মান করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা আরও বলেন, যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দিতে হয়, সৃষ্টির জবাব দিতে হয় আরও উন্নত সৃষ্টি দিয়ে। কালি লেপন করে কোনো চিন্তাকে পরাজিত করা যায় না। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা যেন ক্ষুণœ না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

সমাবেশ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জনপরিসরে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

 

সাতক্ষীরায় প্রথম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত, থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রথম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত, থানায় মামলা

পত্রদূত ডেস্ক: প্রথম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেল তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষকের নাম- মোশাররফ হোসেন(৫৫)। তিনি সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে।

 

ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর মা জানান, স্বামী তাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি যশোরের শার্মা থানাধীন বাগআঁচড়া গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তার মেয়ে দাদী ও চাচীর কাছে থেকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো।

তিনি আরো জানান, শনিবার বিকেল তিনটার দিকে তার মেয়ে বাড়ির পাশে কয়েকজন বন্ধুর সাথে খেলতে যায়। কিছুক্ষণ পর বন্ধুরা ফিরে এলেও তার মেয়ে ফিরে না আসায় দাদী ও চাচী খুঁজতে বের হয়। একপর্যায়ে তাকে রফিকুল চেয়ারম্যানের বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মোশাররফ তাকে খাওয়ার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে দাদী ও চাচীকে জানায়। একপর্যায়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেলে ভর্তি করাতে না পেরে রবিবার মেয়েকে নিয়ে বাগআঁচড়ায় নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ এসে মেয়েকে নিয়ে সোমবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার দুলা ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা সত্য নয়। আগামি ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে তার সুনাম নষ্ট করার জন্য এ ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদি হয়ে মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোশাররফ হোসেনকে আসামী করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উপপরিদর্শক শাহারিয়ারকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার বিচারিক হাকিম তনিমা ম-ল তার ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

কিশোর বয়স স্বপ্ন দেখার, নিজেকে গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়। অথচ এই বয়সেই যখন কেউ মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় থাকে না। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশÑকিশোরদের দলবদ্ধ অপরাধ প্রবণতা এখন সমাজের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন।

 

প্রশ্ন হলো, যে বয়সে কিশোরদের হাতে থাকার কথা বই, খেলাধুলার সরঞ্জাম আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন, সেই বয়সে তাদের কেউ কেউ অপরাধের পথে যাচ্ছে কেন? তাদের এই বিচ্যুতির দায় কি শুধু তাদের নিজেদের, নাকি এর পেছনে রয়েছে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা? কিশোর গ্যাংয়ের যাত্রা অনেক সময় শুরু হয় সাধারণ বন্ধুত্ব ও আড্ডা থেকে। কয়েকজন কিশোর একসঙ্গে চলাফেরা করে, নিজেদের একটি দল তৈরি করে। একপর্যায়ে সেই দলের মধ্যে তৈরি হয় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। কে বেশি প্রভাবশালী, কে কাকে ভয় দেখাতে পারে, কার কথায় এলাকায় অন্যরা চলবেÑএমন মানসিকতা থেকে সংঘাতের জন্ম হয়। পরে সেই সংঘাত মাদক, মারামারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা গুরুতর অপরাধে রূপ নিতে পারে।

তবে সব কিশোরের দলই অপরাধী দল নয়। বন্ধুত্ব, খেলাধুলা কিংবা সামাজিক কর্মকা-ের জন্য কিশোরদের দলবদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই, যখন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অন্যকে ভয় দেখানো, আইন অমান্য করা এবং অপরাধকে শক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনেক কিশোরের কাছে গ্যাং হয়ে ওঠে পরিচিতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম। পরিবারে গুরুত্ব না পাওয়া, সামাজিকভাবে অবহেলিত বোধ করা কিংবা বন্ধুদের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা তাদের ভুল পথে নিতে পারে।

 

অপরাধী দলের সদস্যরা তাদের এমন একটি ধারণা দেয় যে, ভয় দেখাতে পারলেই সম্মান পাওয়া যায়। অথচ ভয় আর সম্মান এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটি বুঝতে না পারার সুযোগই নেয় অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠী। একটি শিশুর বেড়ে ওঠায় পরিবারের ভূমিকার বিকল্প নেই। কিন্তু সন্তানকে খাবার, পোশাক ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী নিয়ে ভাবছে এবং কোনো মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হয়।

 

বর্তমানে অনেক পরিবারে অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দেখা যায়। কেউ কর্মব্যস্ততায় সন্তানকে সময় দিতে পারেন না, কেউ আবার সন্তানের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে শুধু পড়াশোনা ও ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেন। ফলে কিশোরের অভিমান, হতাশা কিংবা সমস্যার কথা শোনার মানুষটি পরিবারে না থাকলে সে বাইরের মানুষের কাছে আশ্রয় খোঁজে। সেই আশ্রয় যদি ভুল সঙ্গের মধ্যে হয়, তাহলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। অবশ্য কিশোর অপরাধের সব দায় পরিবারকে দেওয়া যাবে না।

 

অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য, মাদকের সহজলভ্যতা, অপরাধীদের প্রভাব এবং নিরাপদ বিনোদনের অভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি এলাকায় খেলার মাঠ নেই, পাঠাগার নেই, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ নেই; অথচ কিশোরদের অবসর সময় কাটানোর বিকল্পও তৈরি করা হয়নিÑএমন পরিস্থিতিতে তাদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত রাখার দায়িত্ব কে নেবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পড়ানো ও পরীক্ষায় ভালো ফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

 

একজন শিক্ষার্থীর আচরণ, মানসিক অবস্থা, বন্ধুত্বের ধরন এবং সামাজিক বিকাশের প্রতিও শিক্ষকদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিলে, সহপাঠীদের ভয় দেখালে, মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তাকে সঙ্গে সঙ্গে খারাপ ছেলে হিসেবে চিহ্নিত না করে তার আচরণের কারণ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা, কাউন্সেলিং এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, বিতর্ক, সংগীত, নাটক, পাঠচক্র ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়ানো দরকার।

 

এসব কার্যক্রম কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দলগত দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ শেখায়। যে কিশোর নিজের যোগ্যতা প্রকাশের সুযোগ পায়, তাকে অপরাধী দলের কৃত্রিম পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে তারা জ্ঞান অর্জন ও যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু সহিংসতার ভিডিও, অস্ত্র প্রদর্শন, অপরাধকে বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন এবং অনলাইনে ভয় দেখানোর প্রবণতা তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

 

প্রয়োজন ডিজিটাল সচেতনতা, দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং অভিভাবকের যথাযথ তদারকি। এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করছে কারা? কোনো কিশোর মাদক বহন করছে, চাঁদাবাজি করছে কিংবা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেÑএতেই তদন্ত শেষ হয়ে যেতে পারে না। তার পেছনে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি। যারা কিশোরদের অপরাধে প্ররোচিত করে, অর্থ বা অস্ত্র সরবরাহ করে কিংবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার শিকড় অক্ষত থেকে যাবে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার দিতে হবে। কিন্তু কিশোরদের ক্ষেত্রে বয়স, অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশোধন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। একজন কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে মানেই তার ভবিষ্যৎ শেষÑএমন ধারণা বিপজ্জনক। ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ না দিলে সে আরও গভীরভাবে অপরাধের জগতে ঢুকে পড়তে পারে। তাই সংশোধনমূলক কার্যক্রম, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং পরিবারে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

 

পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের ঝুঁকি চিহ্নিত করা, খেলাধুলার সুযোগ তৈরি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কোনো কিশোর বিপথে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই তাকে সঠিক পথে রাখার উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার আমাদের সামনে আয়না ধরেছে। সেখানে শুধু বিপথগামী কিশোরদের দেখা যায় না; দেখা যায় পরিবারে সময়ের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক উদাসীনতা এবং অপরাধীদের দাপটের চিত্রও। তাই কিশোরদের দোষারোপ করে কিংবা কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং কিশোরদের সুস্থ বিকাশের জন্য বাস্তব উদ্যোগ।

 

আজকের কিশোর আগামী দিনের নাগরিক। তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দিয়ে পরে তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা যায় না। পরিবারকে সন্তানকে সময় দিতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে, সমাজকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিশোরদের হাতে অস্ত্র উঠলে শুধু একজন কিশোরের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় না, সমাজের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা নয়, এখন দরকার দায়িত্ব পালনের সাহস। যারা কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দেয়, তাদের থামাতে হবে; যারা ইতিমধ্যে বিপথে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করতে হবে। কারণ আজ আমরা কিশোরদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে, আগামীকাল সেই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকে।

লেখক: সংবাদ কর্মী