রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ধরিত্রী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
ধরিত্রী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ধরিত্রী মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিই আমাদের একমাত্র পরিচিত আশ্রয়স্থল। ধরিত্রী আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মল বায়ু, পানি, খাদ্য এবং প্রাকৃতিক উপাদান সরবরাহ করে।
ধরিত্রী শব্দের অর্থ হলো পৃথিবী, ধরণী বা ধরা। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ হলো যা ধারণ করে বা চরাচর ধারণকারী। পৃথিবীর সমার্থক শব্দ হিসেবে: ধরণী, অবনী, বসুধা, বসুন্ধরা বা ক্ষিতি অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়।

মহাবিশ্বে এ পর্যন্ত কেবল পৃথিবীই প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। এটি আমাদের খাদ্য, আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। ধরিত্রী বা আমাদের পৃথিবী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার, তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। ধরিত্রী আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বায়ু, পানি, খাদ্য এবং বাসস্থান প্রদান করে।

 

ধরিত্রী আমাদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। সাগর, নদী, পাহাড় এবং বনভূমি নিয়ে গঠিত ধরিত্রী মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ধরিত্রী কাজ করে। পাহাড়-পর্বত ও বন উজাড় করলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। ধরিত্রী আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ, অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ুম-ল এবং মিঠা পানির আধার হিসেবে কাজ করে, যা সব ধরণের প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে ধার্য করা একটি দিবসই হলো ধরিত্রী দিবস। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে মার্কিন সেনেটর গেলর্ড নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে সানফ্রান্সিস্কোতে ইউনেস্কো সম্মেলনে শান্তি কর্মী জন ম্যাককনেল পৃথিবী মায়ের সম্মানে একটা দিন উৎসর্গ করতে প্রস্তাব করেন এবং শান্তির ধারণা থেকে, উত্তর গোলার্ধে বসন্তের প্রথম দিন হিসেবে ১৯৭০ সালে ২১ মার্চ প্রথম এই দিনটা উদযাপিত হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই দিনই পরে একটা পরিঘোষণায় অনুমোদিত হয়, যেটা লিখেছিলেন ম্যাককনেল এবং মহাসচিব উ থান্ট জাতি সংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এক মাস পর একটা পরিবেশগত শিক্ষামূলক দিন হিসেবে ১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল একটা আলাদা ধরিত্রী দিবসের অবতারণা করেন যুক্তরাষ্ট্র সেনেটর গেলর্ড নেলসন।

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস প্রতি বছর ২২ এপ্রিল পরিবেশ রক্ষার সমর্থনে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। ধরিত্রী দিবস পালনের উদ্দেশ্য পৃথিবী এবং এর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বন উজাড়ের কারণে এই বাসযোগ্য গ্রহটি হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমাদের এই পৃথিবীকে রক্ষায় সচেতন হওয়া জরুরি।

মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রকৃতির সবকিছু একপক্ষীয়ভাবে ভোগ করে আসছে, মানুষ তার চাহিদার সীমানাকে নির্দিষ্ট করতে ভুলে গেছে। মানুষ তার ভোগ-বিলাসপূর্ণ অফুরন্ত চাহিদা আর উন্নত জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন উজাড় করছে,পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলা ও সমুদ্র সৈকতে আবাসিক এলাকা করছে। কলকারখানার বৃদ্ধি, গ্রিনহাউস গ্যাসসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের নিঃসরণ, ক্ষতিকারক কেমিক্যালের ব্যবহারসহ নানা ধ্বংসাত্মক কাজ করায় ফল হিসেবে মাটি, পানি, বায়ুদূষণ, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বরফ গলে সাগরের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে বিশ্বের বহু জনপদ। বিশ্বে এখন এই যে ঘন ঘন ভূমিকম্প, খরা, অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল নামছে তা মানুষে অপরিণামদর্শিতার কারণে ঘটছে। বিশ্বের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কার্বনের নিঃসরণ না কমে বরং তা বাড়ছে।

ধরিত্রীর বয়স আনুমানিক ৪৫০ কোটি বছর। দীর্ঘ পরিক্রমায় ধরিত্রী যেমন সুগঠিত হয়েছে, ধারণ করেছে প্রাণ-অপ্রাণসহ নানা প্রাকৃতিক উপাদান। ধরিত্রী নিজস্ব নিয়মশৃঙ্খলে আবদ্ধ। ধরিত্রীর এ শৃঙ্খল তার প্রতিটি উপাদানকে একটি একক নিয়মে আবদ্ধ করে রাখে। এ নিয়মের ব্যতিক্রম হলেই দেখা দেয় বিপর্যয়। তাই যখন ধরিত্রীর এই শৃঙ্খলে কোনোভাবে আঘাত আসে, তখন তার প্রভাব প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের ওপর পড়ে। প্রকৃতি যখন বিরূপ হয় মানুষ তখন অসহায় হয়ে পড়ে। পৃথিবী সুস্থ না থাকলে মানুষও বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। তাই অসুস্থ পৃথিবীকে ধীরে ধীরে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তার জন্য মানুষকে পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী ধরিত্রী দিবস পালন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য পরিবেশ রক্ষা এবং পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকলে মানব সভ্যতা হুমকির মুখে পড়বে। পরিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সবুজ বা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পৃথিবী হলো আমাদের একমাত্র ঘর এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ এর ওপরই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য ধরিত্রীর সুস্থ থাকা জরুরি। ধরিত্রী দিবস পালনের মাধ্যমে প্রতিবছর এই সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। মানুষ প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতি যেন মাতৃশ্রদ্ধা পায়। তাই আমাদের প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে সম্মান করা উচিত।

পৃথিবীর অস্তিত্বসংকটের জন্য প্রকৃতি দায়ী নয়, মানুষ দায়ী। আর তাই পৃথিবী রক্ষার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। কেন পৃথিবীর ক্ষতি হচ্ছে এবং কীভাবে তা কমানো যায় তা জানার জন্য সচেতনতা প্রয়োজন। ধরিত্রীকে রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

গাড়িতে গুলির ঘটনায় আসিফ আকবরের মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
গাড়িতে গুলির ঘটনায় আসিফ আকবরের মামলা

রাজধানীর মগবাজারে নিজের গাড়িতে গুলির ঘটনায় মামলা করেছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে হাতিরঝিল থানায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখনো এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না; বিশাল সেন্টারে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় বা স্টুডিওতে ছিলেন। গাড়িতেও অন্য কেউ ছিলেন না। ফলে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গাড়িটির পেছনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় এসে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে তিনি ওই অটোরিকশায় করেই মালিবাগের দিকে পালিয়ে যান।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৫ জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৫ জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, যা রূপ নিতে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস, আগামী ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে এটি। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় এরই মধ্যে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি জোরদার করেছে ওডিশা সরকার। ঝুঁকি বিবেচনায় রাজ্যের পাঁচ জেলায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে আবহাওয়াবিষয়ক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ওডিশার গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্য সরকার জেলা কালেক্টর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে প্রস্তুতি ও জরুরি কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি দুর্যোগ মোকাবিলায় জননিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং দ্রুত জরুরি সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে রাজ্য সরকার।

আইএমডির পূর্বাভাসে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ ও উপকূলীয় ওডিশায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের আগে ও পরে আশপাশের এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ধেয়ে আসছে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’, কখন কোথায় আঘাত হানবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
ধেয়ে আসছে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’, কখন কোথায় আঘাত হানবে?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপকে ঘিরে ভারতের পূর্ব উপকূলে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, সিস্টেমটি এখনো গভীর নিম্নচাপ অবস্থায় থাকায় একে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বলা যাচ্ছে না। এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে সিস্টেমটি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের এলাকা কালিঙ্গপটনমের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

অর্থাৎ, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগে ঢোকার আগে সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই একে এখনই ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’ বলা ঠিক নয়। উত্তর ভারত মহাসাগরে কোনো সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেই ‘অর্ণব’ নামটি ব্যবহার করা হবে।

গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করবে। সম্ভাব্য এলাকা বিশাখাপত্তনম থেকে গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল, বিশেষ করে কালিঙ্গপটনমের আশপাশ।

আইএমডির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিস্টেমটি বুধবার রাতেই উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সমুদ্র তখনো উত্তাল থাকবে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে খুবই খারাপ সমুদ্র পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।

উপকূলের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ আরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ উড়িষ্যা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

দক্ষিণ উড়িষ্যায় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কোরাপুট, গজপতি ও গঞ্জামসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের একাধিক জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালকানগিরিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনও প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কোথাও জরুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে, কোথাও সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়ালসীমার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শ্রীকাকুলাম ও বিজয়নগরম জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে বুধবার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি।

সরাসরি স্থলভাগে আঘাতের কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ নয়। তবে সিস্টেমটির প্রভাবে রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সিস্টেমটির বাইরের ঘূর্ণাবর্ত স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা বাড়াতে পারে।

পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তাল থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে। উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থলভাগে ঢোকার পর এই সিস্টেমের প্রভাব শুধু উপকূলীয় রাজ্যগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিহারেও ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাত, বজ্রঝড় ও শক্তিশালী বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইএমডির পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ও শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ও রোববার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে, এমনটা নিশ্চিত নয়। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, বঙ্গোপসাগরের বর্তমান সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি।