আমরা হাত দিয়ে খাবার খেতেই অভ্যস্ত বেশি। তবে অনেক দেশে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চপস্টিক বা কাঁটাচামচ দিয়ে খাওয়া হয়। অনেকে মনে করেন, হাত দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। তবে বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণার ভিত্তি নেই। বরং চামচের চাইতে হাত দিয়ে খাওয়াটাই বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। তবে খাওয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে অবশ্যই।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কোন কোন কারণে চামচের বদলে হাত দিয়ে খাবার খাওয়া উচিত।
গবেষণা বলছে, হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীর ও মস্তিষ্ককে এমনভাবে সক্রিয় করে, যা হজমশক্তি, মনোযোগ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। তাই এই প্রাচীন অভ্যাসকে এখন শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
১। আঙুলের সাহায্যে খাবার গ্রহণ করলে সেটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে হজমে। খাবার স্পর্শ করলে আঙুলের ত্বকে অবস্থিত স্নায়ু খাবারের ধরন মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয় এবং সেই অনুযায়ী পরিপাকতন্ত্র হজমের জন্য প্রয়োজনীয় পরিপাক রস নিঃসরণের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।
২। হাতে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ক্ষতিকারক নয় এবং হাত পরিষ্কার করার পরেও এটি হাতে রয়ে যায়। পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষতিকারক জীবাণু থেকে শরীরকে রক্ষা করে এই ব্যাকটেরিয়া। ফলে হাত দিয়ে খেলে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।
৩। হাত দিয়ে খাওয়া এক ধরনের পেশির ব্যায়াম- যা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
৪। যখন আমরা হাত দিয়ে খাই, তখন সাধারণত ধীরে ধীরে খাওয়া হয়। চামচের সাহায্যে খেলে দ্রæত খাওয়া হয়। ধীরে খাওয়া খাবার ভালোভাবে হজম করতে সাহায্য করে।
৫। হাত দিয়ে খাবার খেলে পরিমিত খাওয়া সম্ভব হয়। এতে স্থুলতা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।
মানব শরীরে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। পরিষ্কার হাত দিয়ে খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবে কিছু উপকারী মাইক্রোফ্লোরা শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ধারণা পাওয়া যায়। তবে এটি এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়, গবেষণা চলমান।