নবারুণ গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ ও অনিয়মের সত্যতা, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক গাজীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি, বিধি বহির্ভূত নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর।
গত ১৫ জুলাই যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কবীর আহমেদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে একটি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ডের অনুরোধে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করে। জেলা প্রশাসক উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে তা পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজীর বিরুদ্ধে মূলত ছয়টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো— সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) হিসেবে তাঁর প্রাথমিক নিয়োগ ও যোগদান প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। রয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত তাঁর বি.এড সনদটি ত্রুটিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত। ২য় শ্রেণীতে স্নাতক পাশ করার পূর্বেই সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি সিনিয়র স্কেল সুবিধা গ্রহণ করেছেন। সেকায়েপ (ঝঊছঅঊচ) প্রকল্পের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালার চরম লঙ্ঘন করা হয়েছে। নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত শাখা খোলা এবং খ-কালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিধি বহির্ভূতভাবে ছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কিশোরী টয়লেট এবং ‘কমফোর্ট জোন’ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রেরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক দ্রুত আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এই চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং অভিযোগকারী সিনিয়র শিক্ষক কবীর আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।









