পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল, রাষ্ট্রপতির শাসন জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে না চাওয়ার মধ্যেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। তার এই আদেশের মধ্য দিয়ে ইস্তফা ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারালেন ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত দুই দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল বলেন, ‘ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ বৃহস্পতিবার। এদিনই বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাও বিবৃতি জারি করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যকালে আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটল এবং নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ প্রশস্ত হলো।
রাজ্যে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
পরাজয়ের পর রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্থফা দেওয়া সাংবিধানিক রীতি। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমরা তো হারিনি। ভোট লুট করে হারানো হয়েছে। আমি রাজভবনে যাব না, ইস্তফা দেব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। এই দিনটা বাংলার ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে লেখা থাকবে।’
নতুন বিজেপি সরকার আগামী ৯ মে (শনিবার) শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মাঝের এই দুই দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হলো। রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করবেন রাজ্যপাল।
শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপি ও এনডিএর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করতে গতকাল রাতেই কলকাতায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।






