পাইকগাছায় আমন আবাদ ভালো হলেও নানা প্রতিকূলতায় লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হয়নি
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের আবাদ ভালো হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। বৈরি আবহাওয়, অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়া, চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি করা হলেও অতিবৃষ্টিতে কয়েক দফায় সেগুলো পানিতে ডুবে নষ্ট হয়। এতে নতুন করে চারা উৎপাদনের প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হয়নি। কোথাও লাগানো চারা মারা যাওয়ায় জমি অনাবাদি থেকে গেছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়া জনিত কারণে উপকূল এলাকায় কৃষির মৌসুম দেরিতে শুরু হয়। লবণাক্ত উপকূল এলাকার পানি ও মাটি আমন চাষের জন্য লবনমুক্ত তৈরী করতে কিছুটা সময় বেশি লাগে। মাটি থেকে অতিরিক্ত লবণ দূর করে চাষ উপযোগী ও লবণমুক্ত হলে চারা রোপন করা হয়। তাছাড়া মৎস্য লীজ ঘের গুলো কিছুটা নিচু হওয়ায় আমন চাষের উপযোগি করতে আরো বেশি সময় লাগে। সে কারণে উপকূলের এ অঞ্চলে কৃষির আবাদ অন্যান্য এলাকা থেকে ১৫ থেকে এক মাস পরে আবাদ শুরু হয়।
আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতার পাশাপাশি জমির ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়টিও আমন আবাদের ওপর প্রভাব ফেলছে। কৃষির জন্য আবহাওয়ার পাশাপাশি জমিতে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে চারা রোপণ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় বৃস্টির অভাবে নতুন চারা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলীয় এলাকায় মাটির লবণাক্ততাও ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। পাইকগাছায় এসব প্রতিকূলতা আমন আবাদে প্রভাব ফেলেছে ।
পাইকগাছা গদাইপুর ইউনিয়ানের হিতামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, খারাপ আবহাওয়া ও অতিবৃস্টির কারণে বীজ তলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অধিক দামে চারা কিনে আবাদ করায় খরচ বেড়ে গেছে। তা ছাড়া জমি চাষ, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনে সার কিট নাশক প্রয়োগ, ধান কাটার জন্য অধিক দামে শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকতে হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেলুটি ইউনিয়নে সর্বাধিক ৩ হাজার ৭৪৫ হেক্টর, গড়ইখালী ইউনিয়নে ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর, চাঁদখালী ইউনিয়নে ১ হাজার ৯০০ হেক্টর, কপিলমুনি ইউনিয়নে ৮৮০ হেক্টর, লতা ইউনিয়নে ৮৭০ হেক্টর, লস্কর ইউনিয়নে ৮২০ হেক্টর, হরিঢালী ইউনিয়নে ৮১৫ হেক্টর, গদাইপুর ইউনিয়নে ৫৯০ হেক্টর, সোলাদানা ইউনিয়নে ৫৮০ হেক্টর, রাড়ুলী ইউনিয়নে ৫২৫ হেক্টর ও পৌরসভায় ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে কয়েক দফায় বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো চারা লাগানো সম্ভব হয়নি। কিছু জমিতে রোপণ করা চারাও মারা গেছে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার সমস্যাও রয়েছে। এসব কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা যাতে ভালো ফলন পান, সেজন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জমির ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।









