পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন; বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকা
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মনে আনান্দের বন্যা বইছে। মাঠের পর মাঠ তরমুজের সবুজ ক্ষেত। সেই ক্ষেতে ধরেছে ছোট-বড় রঙ-বেংড়ের সবুজ তরমুজ। এ মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন মাঠ জুড়ে তরমুজ ক্ষেতে মহা-উৎসব চলছে। মৌসুমি শ্রমিকদেরও যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। গাছ থেকে তরমুজ উঠানো, আড়ৎ ও পরিবহন কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছে।
পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। গড়ইখালী ও দেলুটি ইউনিয়নের লবণাক্ত জমিতে মিষ্টি পানির আঁধার তৈরি করে এই তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
পাইকগাছা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২শত হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেলুটি ইউনিয়ানে ৫৭৫ হেক্টর এবং গড়ইখালী ইউনিয়ানে ৬২৫ হেক্টর। তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। হেক্টর প্রতি প্রায় ৩৫ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। তবে বাজার মূল্য কম থাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছে কৃষকরা। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
তরমুজ রবি মৌসুমের একটি সুস্বাদু একটি ফল। বাজারে এর চাহিদা ও রয়েছে বেশ। এর উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং অল্প দিনেই বাজারজাত করা যায়। বীজ রোপন থেকে মাত্র ৩ মাসে বাজারজাত করা যায় এবং উৎপাদন খরচও তুলনামূলক অনেক কম হওয়ায় তরমুজ চাষ অধিক লাভজনক। এজন্য অন্যান্য ফসলের তুলনায় তরমুজ চাষ অনেক বেশি লাভজনক। অল্প সময়ে কম বিনিয়োগের দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ লাভ করায় দিন দিন কৃষকদের তরমুজ চাষ ভরসা হয়ে উঠছে। উপকূলীয় পাইকগাছায় প্রতিবছর বাড়ছে তরমুজের আবাদ। কোটি কোটি টাকার উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে জড়ো করে রেখেছেন বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা তরমুজ কিনতে ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দরদাম করে ক্ষেতে কিনে নিচ্ছেন। এই তরমুজ ক্ষেত থেকে ট্রলি বোঝাই করে ট্রাক ভর্তি করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
শ্রমিকরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে ট্রলিতে করে এনে ট্রাকে লোড করছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বাজারজাত করার জন্য ব্যস্ত চাষি ও ব্যাপারীরা। কেউ ক্ষেত হিসাবে তরমুজ বিক্রি করছেন আবার কেউবা পাইকারি বাজারে তরমুজ বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। দেলুটি ইউনিয়নের লোচন সরকার বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে এবং লাভও বেশি হবে বলে আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, তরমুজ স্বল্প মেয়াদি একটি লাভজনক ফসল। রবি মৌসুমে বিলের পতিত এবং ফেলে রাখা জমিতে তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উন্নত বীজ সরবরাহসহ কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। মান সম্মত উপায়ে বেশি উৎপাদন করে তরমুজ চাষের সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে হবে।









