মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন; বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন; বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মনে আনান্দের বন্যা বইছে। মাঠের পর মাঠ তরমুজের সবুজ ক্ষেত। সেই ক্ষেতে ধরেছে ছোট-বড় রঙ-বেংড়ের সবুজ তরমুজ। এ মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন মাঠ জুড়ে তরমুজ ক্ষেতে মহা-উৎসব চলছে। মৌসুমি শ্রমিকদেরও যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। গাছ থেকে তরমুজ উঠানো, আড়ৎ ও পরিবহন কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছে।

পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। গড়ইখালী ও দেলুটি ইউনিয়নের লবণাক্ত জমিতে মিষ্টি পানির আঁধার তৈরি করে এই তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

পাইকগাছা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২শত হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেলুটি ইউনিয়ানে ৫৭৫ হেক্টর এবং গড়ইখালী ইউনিয়ানে ৬২৫ হেক্টর। তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। হেক্টর প্রতি প্রায় ৩৫ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। তবে বাজার মূল্য কম থাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছে কৃষকরা। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

তরমুজ রবি মৌসুমের একটি সুস্বাদু একটি ফল। বাজারে এর চাহিদা ও রয়েছে বেশ। এর উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং অল্প দিনেই বাজারজাত করা যায়। বীজ রোপন থেকে মাত্র ৩ মাসে বাজারজাত করা যায় এবং উৎপাদন খরচও তুলনামূলক অনেক কম হওয়ায় তরমুজ চাষ অধিক লাভজনক। এজন্য অন্যান্য ফসলের তুলনায় তরমুজ চাষ অনেক বেশি লাভজনক। অল্প সময়ে কম বিনিয়োগের দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ লাভ করায় দিন দিন কৃষকদের তরমুজ চাষ ভরসা হয়ে উঠছে। উপকূলীয় পাইকগাছায় প্রতিবছর বাড়ছে তরমুজের আবাদ। কোটি কোটি টাকার উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে জড়ো করে রেখেছেন বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা তরমুজ কিনতে ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দরদাম করে ক্ষেতে কিনে নিচ্ছেন। এই তরমুজ ক্ষেত থেকে ট্রলি বোঝাই করে ট্রাক ভর্তি করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।

 

শ্রমিকরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে ট্রলিতে করে এনে ট্রাকে লোড করছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বাজারজাত করার জন্য ব্যস্ত চাষি ও ব্যাপারীরা। কেউ ক্ষেত হিসাবে তরমুজ বিক্রি করছেন আবার কেউবা পাইকারি বাজারে তরমুজ বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। দেলুটি ইউনিয়নের লোচন সরকার বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে এবং লাভও বেশি হবে বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, তরমুজ স্বল্প মেয়াদি একটি লাভজনক ফসল। রবি মৌসুমে বিলের পতিত এবং ফেলে রাখা জমিতে তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উন্নত বীজ সরবরাহসহ কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। মান সম্মত উপায়ে বেশি উৎপাদন করে তরমুজ চাষের সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় ৩ ফসলী সরকারী জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ৩ ফসলী সরকারী জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রির অভিযোগ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় তিন ফসলী জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। থানার কুমিরা মৌজার কপোতাক্ষ নদের বেড়ি থেকে প্রতিনিয়ত উক্ত মাটি কাটা হয়। এসব মাটি পাশ্ববর্তী ইট ভাটায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছে একটি প্রভাবশালী মহল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, কপোতাক্ষ নদের পাশ্ববর্তী উক্ত জমি সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত। রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত জনৈক আশরাফ এর নেতৃত্বে প্রতিদিন গভীর রাতে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে উক্ত জমির মাটি কাটা হয় এবং উক্ত মাটি ডাম্পারে করে পাশ্ববর্তী ইট ভাটায় পৌছে দেওয়া হয়।

 

প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অবৈধ কাজ চলমান থাকলেও অদৃশ্য কারনে এখানে আইনের কোন প্রয়োগ হচ্ছেনা। স্থানীয়রা অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়েছে।

সুন্দরবনের হরিণ ধরার ৪২ টি মালা ফাঁদ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের হরিণ ধরার ৪২ টি মালা ফাঁদ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির সদস্যদের নিয়মিত টহল চলাকালে হরিণ ধরার ৪২ টি মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দূপুরে মুন্সিগঞ্জ টহলফাঁড়ির অধীনে সুন্দরবনের বেলায়েতের ভারানি ও ছেড়ার খাল থেকে এ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান, বুড়িগোয়লিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বনের ভেতরে পেতে রাখা ৪২টি হরিণ শিকারের ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ টহলফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই ফাঁদগুলো উদ্ধার করি। তাছাড়া ফাঁদগুলো এমনভাবে পাতা ছিল, যাতে বনাঞ্চলে বিচরণরত হরিণ সহজেই আটকা পড়ে শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, সুন্দরবন শুধু দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তাই এখানে বসবাসকারী বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। ফজলুল হক সাধারণ জনগণকে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যদি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য পেয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, এবং তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

স্থানীয় আমিরুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরেই অসাধু শিকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে এসব কর্মকান্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তারপরেও কিছু চক্র বন বিভাগের নজর এড়িয়ে এ সমস্ত কাজ করে চলেছে। আমাদের দাবি তাদেরকে আইনের আওতায় এনে হরিণ শিকার চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

 

খুলনায় নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়নে কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
খুলনায় নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়নে কর্মশালা

নারীদের জন্য জাতীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আর্থিক প্রাক্কলনসহ কর্মপরিকল্পনা ২০২৫ বাস্তবায়ন ও অবহিতকরণের লক্ষ্যে কর্মশালা আজ (মঙ্গলবার) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, জাতীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্যানিটারী ন্যাপকিন উৎপাদন ও আমদানিতে ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগে নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধাসহ পৃথক ওয়াশরুমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক দপ্তরের সেবা গ্রহণকারী নারীদের মাঝে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি।

প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, সকল স্কুলে মেয়েদের জন্য পরিবর্তন রুম নামে আলাদা কক্ষ, স্যানিটারী ন্যাপকিন উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহ’র ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো/ফ্রি করা, স্বল্পমূল্যে স্যানিটারী ন্যাপকিন বিতরণসহ বিভিন্ন পরামর্শ কর্মশালায় উঠে আসে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা ইউনিসেফ এর চীফ মোঃ কাওসার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশেষজ্ঞ মোঃ মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুয়ে মেন জো। ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী