শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

পাইকগাছায় নার্সারীতে জোড় কলম তৈরীতে ব্যস্ত শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় নার্সারীতে জোড় কলম তৈরীতে ব্যস্ত শ্রমিক

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বর্ষার শুরুতে পাইকগাছায় নার্সারীতে চারা উৎপাদনে জোড় কলম তৈরীতে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। তীব্র গরম ও রোদের মধ্যে শ্রমিকরা মাথার উপর ছাতা দিয়ে কাজ করছে। মে থেকে জুলাই পর্যন্ত কলম করার উপযুক্ত সময়। কারণ এ সময় বাতাসের আদ্রতা ও গাছের কোষের কার্যকারিতা বেশি থাকে। তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে এবং সফলতার হারও বেশি থাকে।

মাতৃগুণ বজায় রাখা, দ্রুত ফলন, রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়ানো এবং অধিক ফলন পেতে অঙ্গজ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। গাছের চারা তৈরীর পদ্ধতির নাম কলম। এ কলম তৈরীতে রয়েছে নানা নাম ও পদ্ধতি। যেমন, গুটি কলম, শাখা কলম (কাটিং), চোখ কলম বা বাডিং। তবে কলম তৈরীতে গ্রাফটিং বা জোড় কলম, কাটিং বা উপজোড় কলম উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি। এ কলম তৈরী করতে গ্রাফটিং চাকু, ব্লেড, সিকাচার, পলিথিন ক্যাপ, পলিথিন ফিতা, সুতলী, গাছের ডগা বা সায়ন এবং কলম তৈরীতে দক্ষ কারিগর বা মালির প্রয়োজন হয়।

উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ন ও পাশের বিভিন্ন গ্রামে ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিত নার্সারী গড়ে উঠেছে। যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে গদাইপুর গ্রামে। মৌসুম শুরুতে চারা তৈরীর জন্য নার্সারী মালিক ও কর্মচারীরা ব্যস্ত হয়ে ওঠে। জোড় কলম তৈরী করতে গাছের ডালের সঙ্গে গাছের ডাল জোড়া লাগিয়ে জোড় কলম তৈরী করা হয়।

 

তেজপাতার সঙ্গে কাবাবচিনি, আম সঙ্গে আম, ছবেদার সঙ্গে খিরখাজুর, আতা সঙ্গে দেশী আতা জোড় দিয়ে জোড় কলম তৈরী করা হয়। কাঁটা জাতীয় কুল সহ বিভিন্ন ফলের চারা চোখ বসিয়ে বাডিং কলম তৈরী করা হয় এবং ফুল জাতীয় গাছের ডাল কেঁটে সরাসরি মাটিতে পুতে কমল তৈরী করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন নার্সারীতে চলতি মৌসুমে আম, পেয়ারা, জামসহ বিভিন্ন ফলের ১০ লাখ ও কুলের প্রায় ১৫ লাখ কলম তৈরী হচ্ছে। গদাইপুর গ্রামের নার্সারী মালিক সামসুর রহমান জানান, এ বছরও তিনি নার্সারীতে ৬০ হাজার চারা উৎপাদনে ব্যস্ত রয়েছে। হিতামপুর গ্রামের রজনীগন্ধা নার্সারীর মালিক সুকনাথ পাল জানান, তার নার্সারীতে প্রায় ৪০ হাজার কলম তৈরীর কাজ চলছে। গদাইপুর গ্রামের অবস্থিত সততা নার্সারীর মালিক অশোক কুমার পাল জানান, তার নার্সারীতে বিভিন্ন জাতের কুলের প্রায় এক লাখ কলম তৈরী করছেন।

 

শ্রমিকের অভাবে কলম তৈরী করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে কলম তৈরীর সময় পার হয়ে গেলে এ মৌসুমের আর কলম তৈরী করা যাবে না। সে কারনে কলম তৈরীতে অধিক পয়সা খরচ হচ্ছে। নার্সারীতে বিভিন্ন জাতের হাইব্রীড জাত কাটিমন আম, মাল্টা, পিয়ারা, সফেদা, জামরুল। তাছাড়া এ সব কলমের মধ্যে থাই পেয়ারা, জামরুল, কুল, মালাটা, কদবেল, কমলালেবু, আমসহ বিভিন্ন জাতের কলম রয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা নার্সারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন জানান, বিগত বছর আশানারুপ চারা বিক্রি হয়নি, এতে নার্সারী মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এবছর চারার চাহিদা প্রচুর, তাই কলমও তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে শ্রমিক। কলম তৈরীর শ্রমিক ঠিকমত না পাওয়ায় উচ্চ মূল্যে শ্রমিক নিয়ে কলম তৈরী করতে হচ্ছে। কারণ সময় চলে গেলে এ মৌসুমে আর জোড় কলম তৈরী করা যাবে না।

গদাইপুর এলাকার তৈরী কলম দেশের চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। তবে ঠিকমত বাজার দর না পাওয়ায় নার্সারী মালিকরা আশানারুপ ব্যবসা করতে পারছে না। নার্সারী ব্যবসায়ীরা জানান, চারা উৎপাদনে সরকারি ভাবে লোনের ব্যবস্থা করলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নার্সারী শিল্প আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, পাইকগাছার নার্সারী শিল্প খুলনা জেলা শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। নার্সারী ব্যবসায়ীরা চারা বিক্রি করার আশানারুপ বাজার ধরতে না পারায় তারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নার্সারী ব্যবসা করে মালিক ও ব্যবসায়ীরা সাবলম্বী হচ্ছে, তেমনি নার্সারীতে নিয়জিত হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। নার্সারীতে উৎপাদিত চারা সবুজ বননায়নে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। তেমনি ভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

Ads small one

ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি সমাজের জন্য অশনিসংকেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি সমাজের জন্য অশনিসংকেত

প্রতিকী ছবি

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎ধর্ম মানুষের আত্মিক শান্তি, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। একজন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও পরমতসহিষ্ণুতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে ‘ধর্মপ্রাণতা’ এবং ‘ধর্মান্ধতা’ এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়কে একাকার করে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা সমাজে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।

 

ধর্মান্ধতা বলতে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও উদ্দেশ্য না বুঝে অন্ধ অনুসরণ, গোঁড়ামি এবং অসহিষ্ণুতাকে বোঝায়। ধর্মান্ধ ব্যক্তি নিজের মতকেই একমাত্র সত্য মনে করেন এবং অন্যের মতামত বা বিশ্বাসকে সম্মান করতে চান না। এর ফলে সমাজে বিভেদ, বিদ্বেষ, উগ্রতা ও অশান্তির জন্ম হয়। অথচ কোনো ধর্মই এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।

 

অন্যদিকে প্রকৃত ধর্মপ্রাণতা মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম, মানবতা ও পরোপকারের শিক্ষা দেয়। ইসলাম নিজেকে মানবজাতির জন্য আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছে (সূরা আলে ইমরান: ১৯)। ইসলামের প্রকৃত অনুসারী ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর নির্দেশনা মেনে চলেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে দ্বীনদার মুসলিমদের ‘ধর্মান্ধ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

 

অথচ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে উগ্রতা নয়, বরং প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা ও ভারসাম্যের দিকে আহ্বান করে। মানুষের জ্ঞান সীমিত, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান অসীম। তাই কোনো বিষয় মানুষের বোধগম্যতার বাইরে থাকলেও আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা একজন মুসলিমের ঈমানের অংশ।

 

পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের ‘সর্বোত্তম উম্মত’ (সূরা আলে ইমরান: ১১০) এবং ‘মধ্যপন্থী জাতি’ (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বাড়াবাড়ি কিংবা শিথিলতা উভন্তয় চরমপন্থা থেকে দূরে থেকে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই ইসলামের শিক্ষা।

 

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য যুবসমাজকে সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ইতিবাচক সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ধর্মকে বিভেদ নয়, মানবকল্যাণ ও নৈতিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‎আসুন, আমরা গোঁড়ামি ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করে প্রকৃত ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে একটি শান্তিময়, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণকর সমাজ গড়ে তুলি।

 

দেবহাটায় মাদক বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় মাদক বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে দেবহাটায় মাদক বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৩ টায় দেবহাটা উপজেলা জামাতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের আয়োজনে পারুলিয়া বাস স্টেশন থেকে একটি মটর সাইকেল র‌্যালী শুরু হয়। র‌্যালীটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পারুলিয়া বাস স্টেশনে এসে শেষ হয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সমাবেশে দেবহাটা উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারী মাসুদ রানার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি থেকে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, সহকারী সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান মুকুল, জেলা জামাতের কর্ম পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা ওলিউল্লাহ, উপজেলা জামতের সেক্রেটারী ইমদাদুল হক, উপজেলা জামাতের কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা দেলওয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া, কুলিয়া ইউনিয়ন জামাতের সভাপতি রুহুল আমিন, কুলিয়া ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুর রহমান, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, সখিপুর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি আফসার আলী, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারী আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

মানহীন রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি : আশাশুনিতে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মানহীন রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি : আশাশুনিতে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা

আশাশুনি সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানের সংখ্যা। তবে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের একটি অংশে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, অতিরিক্ত দাম আদায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। ফলে প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

উপজেলার বুধহাটা, আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর, গুনাকরকাটি, কুল্যার মোড, দরগাপুর, কাদাকাটি, কালীবাড়ি, আনুলিয়া ও খাজরা বাজারের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জায়গায় খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। রান্নাঘর অপরিষ্কার, পুরোনো তেল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ফ্রিজে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মাংস ও মাছ দিয়ে বিভিন্ন খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তা অভিযোগ করেন।

 

আশাশুনি সদর বাজারের এক ভোক্তা, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “মেন্যুতে যেভাবে খাবারের বর্ণনা দেওয়া থাকে, বাস্তবে খাবারে সেই উপকরণ পাওয়া যায় না। চিকেনের পরিবর্তে হাড় বেশি, সবজির পরিবর্তে অতিরিক্ত সস ব্যবহার করা হয়। দামও তুলনামূলক বেশি নেওয়া হয়।” আরেকজন কলেজ শিক্ষার্থী জানান, অনেক ফাস্টফুড দোকানে বারবার একই তেল ব্যবহার করে চিকেন ফ্রাই, বার্গার ও অন্যান্য ভাজাপোড়া তৈরি করা হয়। এতে খাবারের স্বাদ যেমন নষ্ট হয়, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা মাংস, মাছ কিংবা বারবার ব্যবহৃত তেলে রান্না করা খাবার শরীরে নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব খাবার থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, লিভারের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে।

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, উপজেলার অনেক রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানে ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশনের সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়মিত নবায়ন করা হয় না। তবুও এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযান বা নিয়মিত মনিটরিং চোখে পড়ে না। এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করেন। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো খাতের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে।

 

নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি হলে অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং লাইসেন্স যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য ভোক্তার মৌলিক অধিকার। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা জরুরি।