সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাইকগাছার চাঁদখালী গরুর হাট যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার চাঁদখালী গরুর হাট যুবককে পিটিয়ে হত্যা

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার পাইকগাছায় হাসান ওরফে কিং (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী গরুর হাট এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হন। নিহত হাসান চাঁদখালী এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাজমুল হুদার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের একটি গ্রুপ হাসানকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। তিনি জানান, নিহতের মাথা ও হাতে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার পায়েও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads small one

বিলাই-নখা: বিপন্ন প্রকৃতির আত্মকাহিনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
বিলাই-নখা: বিপন্ন প্রকৃতির আত্মকাহিনি

তারিক ইসলাম

‎গ্রামীণ পথের ধারে, ঝোপঝাড়ে বা ফেলে রাখা পতিত জমিতে একসময় অনাদর-অবহেলায় বেড়ে উঠত এক দারুণ উদ্ভিদ। শৈশবে গ্রামের ধুলোবালি মেখে বড় হওয়া মানুষেরা একে একনামে চেনেন— ‘বিলাই-নখা’বা ‘বিলাই-আঁচড়া’। শহুরে যান্ত্রিকতায় অভ্যস্ত বর্তমান প্রজন্মের কাছে নামটি কিছুটা অদ্ভুত ও অচেনা মনে হলেও, আমাদের লোকজ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে এই উদ্ভিদের উপস্থিতি বেশ পুরনো। তবে নির্বিচারে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের মহোৎসবে আজ এই চেনা উদ্ভিদটি আমাদের চারপাশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

‎উদ্ভিদটির এমন নামকরণের পেছনে রয়েছে এর দারুণ এক শারীরিক বৈশিষ্ট্য। বিলাই-নখার বৈজ্ঞানিক নাম Capparis  brevispina এবং ইংরেজিতে একে Flinders Rose বা Indian Caper নামে ডাকা হয়। এই গাছের ডালপালা এবং পাতার গোড়ায় ছোট ছোট, তীক্ষœ ও বাঁকানো কাঁটা থাকে। এই কাঁটাগুলো দেখতে হুবহু বিড়ালের বাঁকানো নখের মতো মনে হয়। অসাবধানতাবশত এই ঝোপের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় জামাকাপড় বা শরীরে আটকে গেলে এটি ঠিক বিড়ালের আঁচড়ের মতোই দাগ কেটে দেয়। মূলত এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই গ্রামবাংলায় এর নাম হয়ে উঠেছে ‘বিলাই-নখা’।

‎বিলাই-নখা মূলত একটি বহুবর্ষজীবী, গুল্ম বা লতাজাতীয় ঝোপালো উদ্ভিদ। এটি শক্ত প্রকৃতির এবং শুষ্ক পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। এর পাতাগুলো বেশ চমৎকার এবং গাঢ় সবুজ রঙের হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো এর ফুল। সাদা বা হালকা রঙের পাপড়ির ওপর অসংখ্য লম্বা পুংকেশর (Stamens) ছড়ানো থাকে, যা ফুলটিকে এক অনন্য রূপ দেয়। ফুলগুলো থেকে পরে ছোট ছোট ফল হয়, যা পাখিদের বেশ প্রিয় খাবার।
‎আমাদের পূর্বপুরুষেরা প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে খুব ভালো করে চিনতেন। কেপারিডি (Capparaceae) পরিবারের এই উদ্ভিদটির নানাবিধ ঐতিহ্যগত ব্যবহার রয়েছে।

‎ঐতিহ্যগত চিকিৎসা: লোকজ চিকিৎসায় এর ছাল এবং শিকড় বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও বাতের ব্যথা উপশমে ব্যবহার করার চল রয়েছে।

‎জীববৈচিত্র্য রক্ষা:এই ঝোপালো উদ্ভিদটি ছোট ছোট পাখি, কীটপতঙ্গ এবং সরীসৃপদের জন্য চমৎকার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এর ফুলগুলো মৌমাছি ও প্রজাপতির খাদ্য জোগায়, যা পরাগায়নে সাহায্য করে।

 

 

তালায় অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
তালায় অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ

তালার নুরু বিশ^াস ও যুব জামায়াতের নেতা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায় বিচার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, তালার হাজরাকাটি গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব সরদারের পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রব সরদার।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, স্থানীয় হাজরাকাটি মৌজায়, জেএল নং -১৪৫, এসএ খতিয়ান নং-৪৫৮, এসএ দাগ ৬১, ০.২১ একর ও ৬২ দাগে ০.১৭ একর মোট ০.৩৮ একর জমির মধ্যে ০.২৭ একর জমি যাহার ডিপি খতিয়ান নং ১১৬০, হাল ৬৮, ৬৯ দাগে ০.২৭ একর নিজস্ব জমিতে ৪০ টি দোকান ঘর আছে যার মধ্যে ৩টি পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করে নিজে ব্যবসা করি এবং ভাড়াটিয়া দিয়ে ২৬ বছর যাবৎ শান্তিপূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি।

 

গত ০৬ আগস্ট ২০২৪ রাত অনুমান ৮টার দিকে ২৫জন ব্যক্তি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লোহার হাতুড়ী, গ্যাসলাইট, পেট্রোল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার মার্কেটে অনধিকার প্রবেশ করে শক্তির মহড়া পরিদর্শন করে দোকানঘর ভাংচুর ও দোকানে থাকা মালামাল ও নগদ টাকা পয়সা লুটপাট করে এবং পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করলে সিআইডি সাতক্ষীরা এর উপর তদন্ত দিলে তদন্ত করে সিআর মামলা দ্রুত বিচার নং-৩৬/২৪/২০২৪, ধারা-আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার আইন-২০০২ এর ৪/(১)(২)/৫ ধারা চার্জশীট দাখিল করে।

এর জের ধরে হাজরাকাটি গ্রামের শামছুদ্দীনের পুত্র যুব জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলী শেখ, আটারাই গ্রামের মৃত মোমিন উদ্দীনের পুত্র জুলফিকার আলী শেখ, মৃত আব্দুর রহমান বিশ^াসের পুত্র নূর ইসলাম বিশ্বাস, মোঃ হাফিজুর রহমান, মৃত জাফর সরদারের পুত্র মোঃ শফিকুল সরদার, মৃত আবু গাজীর পুত্র মোঃ রবিউল গাজী, মৃত মনিরউদ্দীন মোড়লের পুত্র মতিয়ার মোড়লসহ কতিপয় ব্যক্তিরা চাঁদার দাবিতে উক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে সেখানে নির্মিত দোকান ঘরের সকল ভাড়াটিয়াদের নিকট চাঁদা দেওয়ার কথা বয়ে যায় এবং ৫ নভেম্বর ২৫ তারিখের মধ্যে চাঁদা দেওয়ার হুমকি প্রদর্শণ করে।

 

পূর্বে নির্ধারিত তারিখে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় অনুরূপভাবে অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভাড়াটিয়া সাহাবুদ্দীন জোয়ার্দ্দার, আলামিন জোয়ার্দ্দার, উভয় পিতা-মৃত মহিউদ্দীন জোয়ার্দ্দার, সাজ্জাদ শেখ-পিতা- ইউসুফ শেখ, বাবলু শেখ, পিতা-মৃত সবুর শেখ, ছোরমান গাজী, পিতা-মৃত ছিয়ামউদ্দীন গাজী, হানেফ গাজী, পিতা-মৃত সুরত গাজী, কিনা রজক, পিতা-অনিল রজক, বিও রজক, নিমাই রজক, উভয় পিতা নন্দ রজক, ছোট খোড়া, পিতা-মৃত সোনাই শেখ, রনি শেখ, পিতা- ছোট খোড়াদের নিকট থেকে চাঁদা উত্তোলন করে আসছে। বাধা দিলে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে।

 

আমার ভাড়াটিয়া আছাদুল খাঁ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ১ ও ৩ নং আসামী ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে মারপিট করে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে ১৮ মার্চ ২০২৫ আমার অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্পে দায়িত্বরত মেজর ইফতেখার ৫/০৭/২০২৫ ইং তারিখ উভয় পক্ষকে নোটিশ করে সেনা ক্যাম্পের অফিসে ডেকে জমি সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র দেখে আমার পক্ষে রায় দেন এবং ০৬ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে সেনাবাহিনী সরেজমিনে জায়গা ও দোকানঘর বুঝ করে দেন।

 

পরবর্তীতে তারা সেনাবাহিনীর আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক আমার নিজস্ব দোকানঘর দখল করে নেয়। এনিয়ে আমি সাতক্ষীরা এডিএম কোর্টে মামলা করলে পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বারিত অর্ডার হয়। যার মামলা নং- পি-১৭১৫/২৪, তারিখ- ০৯/০৪/২০২৪। জমি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ও ভূমি আপিল বোর্ড স্থগিত আদেশ দেন। যাহা আমার পক্ষে। বর্তমানে সাতক্ষীরা দেওয়ানী কোর্টে উক্ত জমি নিয়ে মামলা চলমান। মামলা নং দেওয়ানী- ২/২০২৩ ও ১৯৩/২৪।

 

এছাড়া জমি নিয়ে ২৬/০৪/২০২৬ ইং তারিখে তালা থানায় এজাহার দায়ের করলে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ সরেজমিনে তদন্ত করে জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমার পক্ষে রায় দেন। তারপরও আমার সম্পত্তি তারা জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। তিনি তার নিজস্ব সম্পত্তি রক্ষায় এবং নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ সংকট, সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ সংকট, সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন

ইব্রাহিম খলিল: প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে শত শত গ্রাহককে সরাসরি অফিসে এসে বিদ্যুৎ রিচার্জ করতে হচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) ও সোমবার (৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন গ্রাহক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ করতে, আবার কেউ টোকেন নম্বর সংগ্রহ করতে এসেছেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্কদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে তাদের ওজোপাডিকোর অফিসে এসে রিচার্জ করতে হচ্ছে। অনেক গ্রাহকের মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, আমরা দিনমজুর মানুষ। সকাল থেকে কারেন্ট ভরার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন কারেন্ট ভরব আর কখন মাঠে গিয়ে কাজ করব বুঝতে পারছি না। এখানে মানুষের দীর্ঘ লাইন, অথচ কাউন্টার মাত্র একটি। এতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এই গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

হাফিজুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কাজের জন্য বিভিন্ন মানুষ ফোন দিচ্ছে, কিন্তু যেতে পারছি না। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। মিটারে ১৮০ সংখ্যার টোকেন নম্বর দিতে হয়। সেখানে কোনো ভুল হলে আবার নতুন করে ঝামেলায় পড়তে হয়।

গ্রাহক আশিকুর রহমান বলেন, আমার পায়ে সমস্যা আছে, ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। তারপরও সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রচন্ড গরমে তৃষ্ণা পাচ্ছে, পায়ে ব্যথা করছে। শারীরিক সমস্যার মধ্যেও বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়েছে।

কলেজ শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সকাল ৯টার দিকে এসেছিলাম, এসে দেখি প্রচুর সিরিয়াল। কাউন্টার সংখ্যা বাড়ানো হলে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে। এই গরমের মধ্যে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, দুর্ভোগ তো আছেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক গ্রাহক রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ বসার জায়গা না পেয়ে কষ্ট করছেন, আবার কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে দ্রুত রিচার্জের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সেবা সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হলেও বর্তমানে তা নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন-তখন মিটার লক হয়ে যাওয়া, রিচার্জ জটিলতা, ব্যাটারির সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেকের ভাষায়, প্রিপেইড মিটার এখন তাদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওজোপাডিকো এর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে বর্তমানে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা দুটি কাউন্টার চালুর ব্যবস্থা করেছি। প্রয়োজনে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমেও বিল পরিশোধ ও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। কারিগরি সমস্যার বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তবে দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু এবং কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধি না হলে গ্রাহক ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, আধুনিক সেবার নামে নতুন দুর্ভোগ নয়, সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করুক কর্তৃপক্ষ।