পায়ে আঘাত পেয়ে অর্থাভাবে দিন কাটছে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার প্রতিমা মুন্ডার
এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে দেশ-বিদেশে মাঠ কাঁপানো নারী ফুটবলার প্রতিমা মুন্ডা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
খেলার মাঠে পাওয়া গুরুতর জখম ও পারিবারিক চরম দারিদ্র্যের কারণে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার তো বটেই, স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও থমকে গেছে। পাটকেলঘাটার খলিশখালী ইউনিয়নের গাছার দুর্গাপুর গ্রামের শ্রীকান্ত মু-ার ছোট মেয়ে প্রতিমা মুন্ডা। বসতভিটাহীন দিনমজুর পরিবারের এই সন্তান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতেই ফুটবল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহায়তায় তাঁর ফুটবলের পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা ক্রীড়া কমিটির তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল হাসান প্রিন্সের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় প্রতিমার ক্রীড়াশৈলী আরও বিকাশ লাভ করে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ডান পায়ে প্রচ- আঘাত পান একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী প্রতিমা মুন্ডা। এতে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচের টানাপোড়েনে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়ি আসার সময় বিকেএসপি কর্তৃপক্ষ বকেয়া বাবদ ৪৬ হাজার ৮৪০ টাকা পরিশোধের নির্দেশসংবলিত একটি বার্তা অভিভাবকের কাছে পাঠায়। পরে এক সপ্তাহের জন্য তাঁর চিকিৎসাজনিত ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
প্রতিমার মা সুনিতা মুন্ডা অশ্রুসজল চোখে জানান, অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে মেয়ের খরচ চালিয়েছেন। কিন্তু এখন অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণা জানান, এই নারী ফুটবলারের চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষদেরও এই উদীয়মান ক্রীড়াবিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।












