সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রতি রাতে ঘুম একই সময় ভেঙে যায়, জেনে নিন কারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রতি রাতে ঘুম একই সময় ভেঙে যায়, জেনে নিন কারণ

অনেক মানুষ লক্ষ্য করেন যে তারা প্রায় প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট একটি সময়ে ঘুম ভেঙে যায়। কখনো সেটি মাঝরাতে, কখনো ভোরের দিকে। বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে শরীরের ভেতরের জৈবিক ঘড়ি, ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ এবং কিছু শারীরিক সমস্যাও কাজ করতে পারে।

ঘুমের এই পুনরাবৃত্তি সবসময়ই বড় কোনো রোগের ইঙ্গিত নাও হতে পারে, তবে কারণগুলো বুঝতে পারলে ঘুমের মান উন্নত করা সহজ হয়।

শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের ছন্দ
মানুষের শরীরের একটি নিজস্ব সময়সূচি থাকে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এটি প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি চক্র, যা মস্তিষ্কের একটি অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

এই জৈবিক ঘড়ি ঠিক করে দেয় কখন ঘুম আসবে, কখন শরীর জেগে উঠবে, এমনকি শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোন নিঃসরণের সময়ও নিয়ন্ত্রণ করে।

যদি কেউ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যায়, তাহলে শরীর সেই সময় অনুযায়ী একটি অভ্যাস তৈরি করে নেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কেউ প্রতিদিন রাত ১০টায় ঘুমিয়ে পড়েন এবং শরীরের ঘুমের চক্র ছয় ঘণ্টার হয়, তাহলে ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

অনেক সময় মানুষ এই জেগে ওঠা টেরও পান না, কারণ ঘুম এবং জাগরণের মাঝামাঝি একটি হালকা অবস্থায় তারা আবার ঘুমিয়ে পড়েন।

ঘুমের ধাপগুলো যেভাবে কাজ করে
ঘুম একটানা এক অবস্থায় থাকে না। এটি কয়েকটি ধাপে বিভক্ত থাকে।

প্রথমে থাকে হালকা ঘুম, এরপর গভীর ঘুম, এবং পরে আসে স্বপ্নের ধাপ। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি চক্রের মতো চলতে থাকে।

প্রতি ৯০ থেকে ১২০ মিনিট পর ঘুমের একটি পূর্ণ চক্র শেষ হয়। তখন সামান্য সময়ের জন্য ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অনেক সময় এটি এত দ্রুত ঘটে যে আমরা তা মনে রাখি না।

প্রতি রাতে একই সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ-

পরিবেশগত কারণ
ঘুম ভাঙার পেছনে আশপাশের পরিবেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

রাতের শব্দ, যেমন যানবাহন, ট্রেন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের শব্দ ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘরের এসি বা হিটার চালু এবং বন্ধ হওয়াও ঘুম ভেঙে দিতে পারে।

তাপমাত্রার পরিবর্তনও একটি কারণ। শীতকালে রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে বা গরমে বেশি গরম লাগলে শরীর ঘুমের মধ্যে সাড়া দিতে পারে।

ডিজিটাল ডিভাইসের প্রভাব
মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের মতো ডিভাইস ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব যন্ত্র থেকে আসা আলো বা শব্দ মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে রাখতে পারে।

ঘুমের সময় হালকা শব্দ বা আলোও ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দিতে পারে, ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
চাপ এবং দুশ্চিন্তা ঘুমের বড় শত্রু। দীর্ঘ সময় মানসিক চাপ থাকলে শরীরের রক্তচাপ এবং হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে।

এর ফলে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা অস্থির অনুভূতি হতে পারে। উদ্বেগজনিত সমস্যায় এই পরিস্থিতি আরও বেশি দেখা যায়।

ঘুমের ব্যাধি
কিছু শারীরিক সমস্যাও নিয়মিত ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে।

ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এতে শরীর অক্সিজেনের ঘাটতি অনুভব করে এবং হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

আরেকটি সমস্যা হলো ঘুমের সময় শরীর চলতে না পারা, যা অনেককে ভয় পেয়ে জাগিয়ে তোলে।

চোখেই মিলতে পারে ফ্যাটি লিভারের ইঙ্গিত, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন
রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হলে ঘুম নিয়মিতভাবে ভেঙে যেতে পারে। এটি ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট সমস্যা, ব্লাডার সমস্যা বা অতিরিক্ত পানি পান করার কারণে হতে পারে।

কখনো কখনো ঘুমের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও এই অবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে।

হজমজনিত সমস্যা
অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে শোয়ার পর বুক জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে।

বিশেষ করে সমতলভাবে শুয়ে থাকলে পেটের অ্যাসিড ওপরে উঠে এসে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, যা ঘুম ভেঙে দেয়।

হরমোনের পরিবর্তন
নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বা শারীরিক পরিবর্তনের কারণে হরমোনের ওঠানামা ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে রাতের ঘাম, হঠাৎ গরম লাগা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

গর্ভাবস্থায়ও শরীরের পরিবর্তনের কারণে ঘুম ভাঙা সাধারণ একটি বিষয়।

বয়স বাড়ার প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের মান পরিবর্তিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে গভীর ঘুম কমে যায় এবং ঘুম ভাঙার প্রবণতা বেড়ে যায়।

এ ছাড়া বয়সজনিত নানা রোগ যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টও ঘুমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধ ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ওষুধ শরীরকে উত্তেজিত রাখে, আবার কিছু ওষুধ বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন বাড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া ক্যাফেইন বা উদ্দীপক জাতীয় উপাদানও ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে।

প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় গুরুতর সমস্যা নাও হতে পারে। অনেক সময় এটি শরীরের স্বাভাবিক অভ্যাস বা জীবনযাত্রার ফল। তবে যদি এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং ক্লান্তি বা অস্বস্তি বাড়ায়, তাহলে ঘুমের অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সঠিক অভ্যাস এবং সচেতনতার মাধ্যমে ঘুমের মান উন্নত করা সম্ভব এবং রাতে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ

Ads small one

খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

মোহাম্মদ মুজাহিদ
নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা, ক্লান্তি ও অবসাদ কাটাতে মানুষ খোঁজেন একটু নির্মল পরিবেশ ও স্বস্তির নিঃশ্বাস। আর সেই প্রত্যাশা নিয়েই প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কিন্তু পার্কের উত্তর পাশে স্থাপিত ডাস্টবিন এবং পশ্চিম পাশে অবস্থিত উন্মুক্ত শৌচাগারের তীব্র দুর্গন্ধে দর্শনার্থীদের সেই স্বস্তি এখন পরিণত হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের উত্তর পাশে সড়কের ধারে পৌরসভার ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন এলাকার আবর্জনা জমা করা হচ্ছে। ডাস্টবিনের ঠিক পাশেই অবস্থিত জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার (সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি)। ফলে লাইব্রেরিতে আসা পাঠক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ পথচারীদের দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কসংলগ্ন এলাকার বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য প্রতিদিন এখানে ফেলা হলেও সময়মতো তা অপসারণ করা হয় না। অনেক সময় সকাল ১০টা পর্যন্তও ময়লা বহনের কনটেইনার সরানো হয় না। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ডাস্টবিনে জমে থাকা আবর্জনা ঘেঁটে বিভিন্ন ভাঙাচোরা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহ করেন। এতে ময়লার দুর্গন্ধ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবর্জনার ময়লা পানি পাশের পয়নিষ্কাশন ড্রেনে গড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম করতে আসা সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল আজম খান মামুন বলেন, পার্কটির আয়তন মাত্র দেড় থেকে দুই একর। ফলে ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সহজেই পুরো পার্কে ছড়িয়ে পড়ে। সকালে ব্যায়াম করতে আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিছুদিন পর উত্তর দিকের বাতাস প্রবাহিত হলে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হবে। তখন পার্কে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে। ডায়াবেটিস রোগী মিনাক্ষী জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটতে পার্কে আসেন তিনি। কিন্তু পার্কের উত্তর-পশ্চিম অংশে গেলেই দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য হাঁটতে আসি, অথচ দূষিত বাতাসে উল্টো অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পার্কে নিয়মিত হাঁটতে আসা মানুষের বড় একটি অংশ ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। এছাড়া অনেকেই শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম করতে আসেন। কিন্তু পার্কের পরিবেশগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকেই অসন্তুষ্ট। উন্মুক্ত শৌচাগারের পাশ দিয়ে নাক চেপে হেঁটে যাচ্ছিলেন মুনজিতপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, শৌচাগারটি উন্মুক্ত হওয়ায় এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে পার্কের উত্তর পাশের ডাস্টবিনে সারাদিন ময়লা জমা হচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত অপসারণ করা না হওয়ায় এটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ব্যাংকার ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন শরীরচর্চা করতে পার্কে আসি। কিন্তু আশপাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখন আর আগের মতো ভালো লাগে না। এলাকাবাসী পৌরসভায় অভিযোগ করলে কয়েকদিন পরিস্থিতির উন্নতি হয়, এরপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থানীয়দের মতে, পার্কের ভেতরের পরিবেশ এখনও মোটামুটি পরিচ্ছন্ন থাকলেও বাইরের অংশের অব্যবস্থাপনা পুরো পার্কের সৌন্দর্য ও পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পার্কের চারপাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য এবং দুর্গন্ধে অনেক দর্শনার্থী বিব্রত হচ্ছেন। বর্তমানে সুলতানপুর, মুনজিতপুর, রসুলপুর, কামালনগর, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের অন্যতম মিলনস্থল এই পার্ক। শিশুদের খেলাধুলা, কিশোর-কিশোরীদের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের অবসর সময় কাটানো এবং বয়স্কদের হাঁটাহাঁটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। বিকেল হলেই পার্কে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা মাঠে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে। শহীদ বেদির পাদদেশে বসে চলে আড্ডা, গল্পগুজব। অনেকে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসেন। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও এই পার্ককে বেছে নেন। বদ্ধ শহুরে পরিবেশে একটু মুক্ত বাতাসের সন্ধান মেলে এখানেই। তবে দিনের বেলায় পার্কের চারপাশে হকারদের দোকান বসানো, ড্রেন থেকে ময়লা উপচে পড়া এবং ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে পরিবেশ ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। অনেককে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশান্তির এই পার্কের পাশে অশান্তির ডাস্টবিন থাকায় বিনোদনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পার্কসংলগ্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় শহরের মানুষের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রটি তার আকর্ষণ হারাবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পার্কে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক শুধু একটি পার্ক নয়, এটি সাতক্ষীরা শহরের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি ও অবসর সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু পার্কের পাশে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগারের কারণে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। একটি বিনোদনকেন্দ্রের পাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের সৌন্দর্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পার্ক ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় পৌরসভা, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শহরের একমাত্র বৃহৎ উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের দৈনন্দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সংলগ্ন ডাস্টবিন ও শৌচাগার নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পার্কে আগত দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং শৌচাগারের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পার্কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং পৌরসভার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।

 

চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

সংবাদদাতা: গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহ আর আষাঢ়ের ভ্যাপসা গরমে সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের লোডশেডিং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ গ্রাহক। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। প্রচ- গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বরাদ্দ অনেক কম মেলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফিডার ধরে ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি দপ্তরে। ভোমরা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানের দাপ্তরিক সব কাজ অনলাইন নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও কম্পিউটার বন্ধ থাকছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ফাইল তদারকি ও পণ্য খালাসে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজসহ দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিকেরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যুতের এই চরম সংকটে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মোমবাতি, হারিকেন বা ল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়তে বসতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চলছে।

 

সাতক্ষীরায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় কোনো বৈধ সনদ ছাড়াই নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে রোগী দেখার অভিযোগে ইয়াসিন আলী নামের এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে উপজেলার নলতা এলাকার ‘নলতা মানব স্বপ্ন হেলথ কেয়ার সেন্টারে’ অভিযান চালিয়ে এ দ- দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা সনদ ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অপরাধ স্বীকার করায় তাকে এই কারাদ- দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলাম খান। তিনি জানান, জনস্বার্থে ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রতারণামূলক কর্মকা-ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবার নামে এমন প্রতারণা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।