বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: উপকূলের নিরাপত্তায় আধুনিক সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখন সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের নিরাপত্তায় আধুনিক সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখন সময়ের দাবি

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদ মানেই প্রকৃতির সঙ্গে এক নিরন্তর সংগ্রামের নাম। বিশেষ করে সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধ ধসের আতঙ্কে দিন কাটায়। বৈশাখের কালো মেঘ কিংবা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের খবর এলেই উপকূলের মানুষের মনে ফিরে আসে আইলা, সিডর কিংবা আম্পানের ভয়াবহ স্মৃতি। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র—এটি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় অবহেলার একটি বড় উদাহরণ।

প্রযুক্তির এই যুগে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। একটি নির্ভরযোগ্য সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অনেক সময় হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। কিন্তু আশাশুনিসহ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো সেই ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তারা শুধু দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছেন না; তারা লড়াই করছেন অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক ও তথ্যের অপ্রতুলতার সঙ্গেও। আইলার সময় সময়মতো খবর না পাওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ বিপদের মুখে পড়েছিল। অথচ সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেও আমরা যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারিনি।

বর্তমানে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসগুলো সীমিত তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠায়। এরপর বিশ্লেষণ শেষে সতর্কবার্তা আসে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ ঘটে, যা দুর্যোগের সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উপকূলের নদী ও সাগরসংলগ্ন অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার বিলম্বও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে সক্ষম। ফলে আশাশুনি অঞ্চলে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও বেড়িবাঁধের দুর্বলতা উপকূলবাসীর জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আশাশুনি ও শ্যামনগর অঞ্চলের বহু কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস হলে এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কেবল আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বা বাঁধ সংস্কার করলেই চলবে না; প্রয়োজন দুর্যোগের আগাম ও নির্ভুল তথ্য দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় মৃত্যুহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু সেই সফলতা ধরে রাখতে হলে উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। স্যাটেলাইটনির্ভর তথ্য, স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, সাইরেন নেটওয়ার্ক, মোবাইলভিত্তিক সতর্কবার্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত তথ্য প্রচারের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত আশাশুনি ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলকে ঘিরে একটি আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও সাধারণ মানুষকে দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে আরও সচেতন করতে হবে।

উপকূলের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছেন, তারা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে জানেন। কিন্তু তাদের সেই লড়াইকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। দুর্যোগের আগাম বার্তা যদি সময়মতো পৌঁছে যায়, তাহলে অসংখ্য প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। তাই আশাশুনিসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন এখন শুধু একটি দাবি নয়Ñএটি সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন।

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।