শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথের আত্মমর্যাদা ও আত্মমুক্তির সন্ধানে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথের আত্মমর্যাদা ও আত্মমুক্তির সন্ধানে

২৫ বৈশাখ জন্মতিথির শ্রদ্ধার্ঘ্য

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙ্গালি জাতির পরিচয়ের অনন্য প্রতীক। সাহিত্য ছাড়াও সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখা-প্রশাখায় ছিল তাঁর লেখনীর বলিষ্ট স্পর্শ। তাঁর লেখনী শক্তির মহিমা তাই শুধু দেশ বা কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি-দেশ থেকে দেশান্তরে, কাল থেকে কালান্তরে তা প্রবাহিত হয়ে চলেছে গৌরবের সাথে, মর্যাদার সাথে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর একটি কথা প্রায়শই মনে পড়ে। তিনি বলেছেন, “বিশ্ব সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসে রবীন্দ্র প্রতিভার বহুমুখিনতার সঙ্গে তুলনীয় আরেকটি প্রতিভার সন্ধান লাভ করা সহজ নয়। ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিণী, পত্রসাহিত্য, গান, ছড়াসহ কোন অঙ্গন নেই যাকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর অসামান্য সৃজনশীলতায় ঐশ্বর্যম-িত করে তোলেননি। এর এক একটি শাখার মধ্যেও একইসঙ্গে কী গভীরতা ও বৈচিত্র্য।” বললে অত্যুক্তি হয় না যে, রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে রস, ভাব, ছন্দ, শব্দশৈলী, বাক-চাতৃর্য কিংবা শিল্প বৈচিত্র্য প্রভৃতির আড়ালে যে মূল্যবান বিষয়টি পাঠককুলের নিকট সুক্ষভাবে ধরা পড়ে, তা হলো, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদাবোধ- মানুষের প্রতি মানুষের আচরণের গতি-প্রকৃতি। আমরা যে সমাজের মানুষ বলে সৃষ্টির সেরা পদটির দাবি নিয়ে বাহদুরি করে থাকি, তার সার্থকতা মানুষের সার্বিক আচরণের ফসল বই আর কিছু নয়। ভালো বা মন্দ, উন্নত বা অনুন্নত- সমাজের চেহারা যেমনই হোক, তা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, গোষ্ঠীর সাথে গোষ্ঠীর পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়া দ্বারাই মূলত নির্ণীত হয়ে থাকে।

সমাজবিজ্ঞানে একটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় অধ্যয়ন করা হয়; ‘সামাজিক স্তরবিন্যাস’ নামক এই প্রত্যয়টি মূলগতভাবে সমাজে বসবাসকারী জনসমষ্টির আর্থ-সামাজিক অবস্থানের ক্রমোচ্চ চিত্র অঙ্কন করে থাকে। অর্থাৎ, এই প্রত্যয়টি সুষ্টুভাবে উপলব্ধি করতে পারলে একটি নির্দিষ্ট সমাজের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছোট-বড়, ধনী-নির্ধন, ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীন, অগ্রসর-অনগ্রসর, শিক্ষিত-অশিক্ষিত প্রভৃতি স্তরের ধরন, কারণ, প্রভাব, ফলাফল প্রভৃতি সম্পর্কে সুষ্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা যায়। সামাজিক স্তরবিন্যাসের বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা থেকে সমাজে অনুসৃত নীতি-নৈতিকতা, ধ্যান-ধারণা ও আদর্শিক মানদ-ের সম্যক চরিত্রও উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। যে সমাজব্যবস্থায় মানুষের মধ্যকার উচ্চ-নীচ ব্যবধান যত বেশি সে সমাজ ব্যবস্থা তত বেশি বৈষম্যমূলক, সামাজিক গবেষণা বা পরিসংখ্যানের আশ্রয় গ্রহণ না করেও এ কথা বলা যেতে পারে। ধরুন, কোন সমাজে যুগ যুগ ধরে একটি জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারছে না আবার ঐ সমাজেরই অপর এক জনগোষ্ঠী সম্পদের পাহাড় রচনা করে উর্ধমুখি যাত্রা অব্যাহত রেখেছে, সে সমাজের নৈতিকতা বৈষম্যমূলক; এখানে সম্পদের বণ্টনব্যবস্থা, আয়ের উৎস তথা বৃত্তির অধিকার, সামাজিক পরিষেবা বিতরণের প্রক্রিয়া, মানবিক মূল্যায়নের ভিত্তি, পারস্পরিকতার ধরন প্রভৃতি সব কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

আবার, উর্ধে অবস্থানকারী গোষ্ঠী, যারা আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠা লাভে সমর্থ হয়েছে, তারা বিভিন্ন সময়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে তাদের অধস্তন অবস্থানের জন্য দায়ী করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে থাকেন। নানা নেতিবাচক বিশেষণ প্রদান করে তাদেরকে ছোটো করার, তাদের দীনতাকে আরো প্রকট করে তোলার প্রচেষ্টাও দেখা যায়। কিন্তু সমাজে কোন ধরনের নৈতিক আদর্শ লালনের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে অগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোন দায় রয়েছে কি না, এ বিষয়ে বিশেষ কোন বক্তব্য শোনা যায় না। এখানেই আমরা মানবপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ পাই; ‘রাশিয়ার চিঠি’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, “যে-মানুষকে মানুষ সম্মান করতে পারে না, সে-মানুষকে মানুষ উপকার করতে অক্ষম। .. .. এখানে (রাশিয়ায়) এসে যেটা সবচেয়ে আমার চোখে ভাল লেগেছে, সে হচ্ছে এই ধনগরিমার ইতরতার সম্পূর্ণ তিরোভাব। কেবলমাত্র এই ক্রাণেই এদেশে জনসাধারণের আত্মমর্যাদা এক মুহূর্তে অবারিত হয়েছে। চাষাভূষা সকলেই আজ অসম্মানের বোঝা ঝেড়ে ফেলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। এইটে দেখে আমি যেমন বিস্মিত তেমনি আনন্দিত হয়েছি। মানুষে মানুষে ব্যবহার কী আশ্চর্য সহজ হয়ে গেছে।”

মানুষে মানুষে এই যে সহজ সম্মিলন, পারস্পরিকতা, বুঝাপড়া, আদান-প্রদান ও ভাবের বিনিময়- এসবকে অবজ্ঞা করে বা পাশ কাটিয়ে টেকসই বা আদর্শ সমাজব্যবস্থার যাত্রা নিশ্চিত হতে পারে না, এটিই সমাজের প্রাণস্বরূপ। সম্মানজনক পারস্পরিক মূল্যায়নের উপলব্ধি থেকে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় দায়বদ্ধতা তথা কর্তব্যের বোধ। কর্তব্যবোধের প্রেরণা মানুষের মনে বপন করে মালিকানার দুর্মূল্য বীজ। মালিকানার অনুভূতি থেকেই মানুষ বলিষ্ট কণ্ঠে বলতে পারে, ‘আমার দেশ’, ‘আমার সমাজ’, ‘আমার পথ’, ‘আমার প্রতিষ্ঠান’ প্রভৃতি। যত চেষ্ঠাই করুন, সকল মানুষের অন্তরে সমভারে ‘আমার’ কিংবা ‘আমাদের’ অনুভূতির অনুরণন না ঘটাতে পারলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। ‘লোকহিত’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ এ বিষয়টিকে অত্যন্ত সুষ্পষ্ট করেছেন, “যেখানেই অনুগ্রহ আসিয়া সকলের চেয়ে বড়ো আসনটা লয় সেইখান হইতেই কল্যাণ বিদায় গ্রহণ করে। সকলের গোড়ায় দরকার লোক সাধারণকে লোক বলিয়া নিশ্চিতরূপে গণ্য করা।”

মানুষ আত্মমর্যাদার উপলব্ধি করে তখনই, যখন সমাজ থেকে সে যথাযোগ্য মূল্যায়ন পেয়ে থাকে। এমন সমাজব্যবস্থাও তো রয়েছে. যেখানে সামাজিক পরিচয়ের কারণে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্তেও কাঙ্খিত বস্তু (চাকরি, ব্যবসায়, পরিষেবা, সম্মান, পদবী, বৃত্তি প্রভৃতি) লাভে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে! এতে একদিকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে ও অপরদিকে সমাজকে বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রকৃত মেধার সেবা থেকে। শধু তাই নয়, অলক্ষ্যে সমাজ কলঙ্কিতও হচ্ছে। রাজনৈতিক ও মতাদর্শভিত্তিক বিদ্বেষ ও নিষ্ঠুরতার কথা নাই বা বললাম। এভাবে কি সুন্দর ও অর্থবহ সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব?

সমাজের সকল মানুষের মনে আত্মমর্যাদার এই অমূল্য উপলব্ধি ঘটানো তাই খুব জরুরী। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীই নিজেকে/ নিজেদেরকে আত্মনির্ভরতায় বলীয়ান করে তুলে বা অন্তত তুলতে সচেষ্ট হয়। আর তখনই মানুষের মানসলোক থেকে আপনা-আপনি এ গান ধ্বনিত হয়ে ওঠে-

“আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা-
তরিকে পারি শকতি যেন রয়,
আমার ভার লাঘব করি নাই বা দিলে সান্ত¦না,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।”
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : আত্মশক্তি কবিতা)

রবীন্দ্রনাথ বিত্তের স্বাধীনতার চেয়েও চিত্তের স্বাধীনতাকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। পরাধীন চিত্ত কখনো আত্মমর্যাদার কথা ভাবতে পারে না, মুক্তি তো দূরের কথা। চিত্ত বা মন থেকে যখন একজন ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন বলে ভাবতে পারবে, তখনই সে তার নিজকে নিয়ে তৃপ্তি বোধ করতে পারবে। তার বৈভবের পরিমাণ সামান্য হোক, তার পদবী ছোটো হোক, সে তখন এসব বিবেচনায়ই আনতে চাইবে না; যেমনটা ‘জোনাকি’ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,

“তুমি নও তো সূর্য নও তো চন্দ্র
তোমার তাই বলে কি কম আনন্দ
তুমি আপন জীবন পূর্ণ করে
আপন আলো জ্বেলেছো। ….
তুমি আঁধার-বাঁধন ছাড়িয়ে ওঠো
তুমি ছোটো হয়ে নও গো ছোটো
জগতে যেথায় যত আলো
সবায় আপন করে ফেলেছো।”
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ও জোনাকি, গীতবিতান)

শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীই নয়, জাতির ক্ষেত্রেও একই ধারণা প্রযোজ্য। আত্মমর্যাদা ব্যতীত কোন জাতি গঠিত হতে পারে না, আর পারলেও তা টেকসই হয়ে উঠতে পারে না। এজন্যই স্বাধীন জাতির অভিধা থাকা সত্তেও পৃথিবীর সকল জাতির মূল্যায়নগত অবস্থান সমান নয়। পৃথিবীতে অস্তিত্বশীল সকল জাতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা বলতে পারি যে, মার্কিন, বৃটিশ, রুশ বা ফরাসী জাতির সাথে নিশ্চয়ই আফ্রিকা, ল্যাটিন অ্যামেরিকা এমনকি এশিয়ার অনেক জাতির মূল্যায়নের নিক্তি বিস্তর ভারসাম্যহীন, কারণ যাই হোক। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, অধিকার, আইন, বিচার, নিরাপত্তা প্রভৃতির নিরীখে উন্নত বলে সমাদৃত জাতিসমূহ রাষ্ট্র, সম্প্রদায়, গোষ্ঠী ও ব্যক্তি পর্যন্ত এমন এক শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হয়েছে, যেখানেনাগরিক হিসেবে একজন ব্যক্তির মনেও কোন হতাশা বা হীনমন্যতা নেই। ব্যক্তির এহেন আত্মমর্যাদার বোধই জাতীয় চেতনায় পরিণত হয়, যা মুক্তির পথকে সুপ্রশস্ত করে দেয়।

রবীন্দ্রনাথের প্রচুর লেখায় এই বিষয়টির অবতারণা পরিলক্ষিত হয়। বিনয়ের সাথে স্বীকার করছি যে, এই লেখাটি রবীন্দ্রনাথের অনুরূপ চিন্তার খুবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি প্রয়াস মাত্র। আমরা এখানে তাঁর কেবল দু’তিনটি লেখার আলোকে এটি সাজানোর চেষ্টা করেছি। ২৫ বৈশাখ এই মহাপ্রাণের শুভ জন্মতিথিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

লেখক: বাবুল চন্দ্র সূত্রধর, মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক

 

Ads small one

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যা জানালো আইভ্যাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যা জানালো আইভ্যাক

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। ভিসা আবেদনের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে তারা।

আইভ্যাক বলছে, সব আবেদনকারীকে অবহিত করা হচ্ছে যে, ঢাকার হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় সহকারী হাই কমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে রবিবার (২৮ জুন) থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হবে।

সোমবারের (২৯ জুন) ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটগুলি রবিবার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলির (আইভিএসি) অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

ভিসার জন্য সাইন-আপ এবং ওয়েবফাইল আপলোডের সুযোগ দেওয়া হবে দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুধু বিকাল ৫টায় খোলা হবে। শুধু যারা তাদের ওয়েবফাইলগুলো সফলভাবে আপলোড করেছেন তাদের জন্য স্লট খোলা থাকবে।

‘সামথিং বিগ’ নিয়ে আসছেন জাজের ‘ডানাকাটা’ পরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
‘সামথিং বিগ’ নিয়ে আসছেন জাজের ‘ডানাকাটা’ পরী

ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি আবারও নতুন প্রজেক্টের ইঙ্গিত দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে তার সম্ভাব্য নতুন কাজ ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। দীর্ঘ বিরতির পর এই খবর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

পরীমণি ২০১৫ সালে বড়পর্দায় অভিষেক করেন। এরপর ২০১৬ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নির্মিত ‘রক্ত’ চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। অ্যাকশন-রোম্যান্টিক ঘরানার এই ছবিতে তার গ্ল্যামার ও পর্দার উপস্থাপনা তাকে ‘ডানাকাটা পরী’ ইমেজ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

এই ছবিরই সেই সাড়া জাগানো আইটেম গান— “স্ট্যাটাস আমার সিঙ্গেল দেখে, লাগায় হুড়োহুড়ি, হায়রে কি যে করি, আমি ডানা কাটা পরী”— দুই বাংলায় দেখিয়েছিল গ্ল্যামারের ঝলক। জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে পরীমনির সে একটি চলচ্চিত্রের পর এবার ফের নতুন সম্ভাবনার ডাক এসেছে।

এরপর ধীরে ধীরে পরীমনির ক্যারিয়ারে আসে একাধিক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ২০১৮ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘বিশ্বসুন্দরী’ (২০২০), ‘গুণিন’ (২০২১), ‘স্ফুলিঙ্গ’ (২০২১) এবং ‘মুখোশ’ (২০২২) চলচ্চিত্রে।

সবশেষে বড়পর্দায় তাকে দেখা যায় ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এ, যার পর থেকে তিনি কিছুটা বিরতিতে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবন, মাতৃত্ব এবং নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি কমে যায়।

সম্প্রতি ‘বিশ্ব পরী দিবস’ উপলক্ষে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজক আব্দুল আজিজ পরীমনির বাসায় যান। সেখানে পরীমনির সন্তান রাজ্যের সঙ্গে কেক কাটার মুহূর্তও দেখা যায়। পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন— “সেলিব্রেটিং সামথিং বিগ! কামিং সুন!! জাজ মাল্টিমিডিয়া এক্স পরীমনি এগেইন”।

তবে নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি নন জাজের প্রযোজক আব্দুল আজিজ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়ে এখনই আমরা কিছু বলতে চাই না। অফিসিয়ালি ঘটা করে জানাবো।”

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাজের সঙ্গে নতুন কাজের ইঙ্গিত পাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— দর্শক যে ‘ডানাকাটা পরী’কে একসময় বড়পর্দায় দেখেছিল, তিনি কি আবারও স্বরূপে ফিরতে পারবেন?

পরীমণিও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলছেন না তিনিও। তবে, ‘সামথিং বিগ’ কিছু যে আসছে, তার ইঙ্গিত তো তিনি দিয়েছেনই।

ভক্তদের প্রত্যাশা, নতুন এই প্রজেক্টের মাধ্যমে পরীমনি আবারও শক্তিশালী উপস্থিতি নিয়ে বড়পর্দায় ফিরবেন।

৩ বছর পর খুললো গাজার চোখের ক্লিনিক, তবু কাটছে না সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
৩ বছর পর খুললো গাজার চোখের ক্লিনিক, তবু কাটছে না সংকট

প্রায় তিন বছর পর আবার চালু হয়েছে গাজার একমাত্র কৃত্রিম চোখের ক্লিনিক। ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য নিবন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। তবে প্রয়োজনীয় কৃত্রিম চোখের সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মাত্র ১৪০টি কৃত্রিম চোখ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হওয়ার প্রথম দুই সপ্তাহেই চিকিৎসার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৮৫০ জনের বেশি রোগী।

কৃত্রিম চোখ বিশেষজ্ঞ সাবরি হাজাজ বলেন, যেসব কৃত্রিম চোখ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর কিছু রোগীদের প্রয়োজনীয় আকারের সঙ্গে মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে রঙও উপযুক্ত নয়।

ইবোলা শঙ্কায় বদলে গেল ভারতে প্রবেশের নিয়মইবোলা শঙ্কায় বদলে গেল ভারতে প্রবেশের নিয়ম
তিনি আরও জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চোখের গহ্বরের অবস্থান সামান্য ভিন্ন হওয়ায় কৃত্রিম চোখ ঠিকভাবে বসানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার কারণে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কৃত্রিম চোখ লাগানোই সম্ভব হচ্ছে না।