রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: উপকূলের নিরাপত্তায় আধুনিক সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখন সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের নিরাপত্তায় আধুনিক সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখন সময়ের দাবি

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদ মানেই প্রকৃতির সঙ্গে এক নিরন্তর সংগ্রামের নাম। বিশেষ করে সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধ ধসের আতঙ্কে দিন কাটায়। বৈশাখের কালো মেঘ কিংবা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের খবর এলেই উপকূলের মানুষের মনে ফিরে আসে আইলা, সিডর কিংবা আম্পানের ভয়াবহ স্মৃতি। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র—এটি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় অবহেলার একটি বড় উদাহরণ।

প্রযুক্তির এই যুগে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। একটি নির্ভরযোগ্য সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অনেক সময় হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। কিন্তু আশাশুনিসহ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো সেই ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তারা শুধু দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছেন না; তারা লড়াই করছেন অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক ও তথ্যের অপ্রতুলতার সঙ্গেও। আইলার সময় সময়মতো খবর না পাওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ বিপদের মুখে পড়েছিল। অথচ সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেও আমরা যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারিনি।

বর্তমানে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসগুলো সীমিত তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠায়। এরপর বিশ্লেষণ শেষে সতর্কবার্তা আসে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ ঘটে, যা দুর্যোগের সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উপকূলের নদী ও সাগরসংলগ্ন অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার বিলম্বও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে সক্ষম। ফলে আশাশুনি অঞ্চলে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও বেড়িবাঁধের দুর্বলতা উপকূলবাসীর জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আশাশুনি ও শ্যামনগর অঞ্চলের বহু কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস হলে এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কেবল আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বা বাঁধ সংস্কার করলেই চলবে না; প্রয়োজন দুর্যোগের আগাম ও নির্ভুল তথ্য দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় মৃত্যুহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু সেই সফলতা ধরে রাখতে হলে উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। স্যাটেলাইটনির্ভর তথ্য, স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, সাইরেন নেটওয়ার্ক, মোবাইলভিত্তিক সতর্কবার্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত তথ্য প্রচারের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত আশাশুনি ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলকে ঘিরে একটি আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও সাধারণ মানুষকে দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে আরও সচেতন করতে হবে।

উপকূলের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছেন, তারা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে জানেন। কিন্তু তাদের সেই লড়াইকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। দুর্যোগের আগাম বার্তা যদি সময়মতো পৌঁছে যায়, তাহলে অসংখ্য প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। তাই আশাশুনিসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন এখন শুধু একটি দাবি নয়Ñএটি সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

পত্রদূত রিপোর্ট: “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রবিবার (১০ মে) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিস সাতক্ষীরার আয়োজনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

 

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ৮ টি ইভেন্টের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অতিথি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিসের উচ্চমান সহকারী মোঃ মনিরুজ্জামান।

প্রভাষক মামুন ও আলফাতকে জেলা গণসংহতির অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
প্রভাষক মামুন ও আলফাতকে জেলা গণসংহতির অভিনন্দন

গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) এর জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান প্রভাষক মোঃ মামুনুর রহমান ও মোঃ আলফাত হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, সাতক্ষীরা জেলা কমিটি। বিবৃতিদাতারা হলেন সাতক্ষীরা জেলা গণসংহতি আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক মোঃ মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব রুবেল গাইন, যুগ্ম সদস্য সচিব সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, সদস্য প্রভাষক শপ্না রানী সিংহ, শ্রী সুকুমার চক্রবর্তী, প্রভাষক গোলাম মোস্তফা, মাষ্টার ফলজুল হক, মাষ্টার আমিনউদ্দীন, সাংবাদিক আব্দুর রশীদ, মোঃ সুরাত আলী, নাসরিন নাজরানা বেবি, প্রভাষক যামিনী কুমার মন্ডল, জি,এম মাহফুজ, শ্রমিক নেতা আব্দুল্লাহ বিশ^াস, আশরাফ সরদার প্রমুখ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) গণমানুষের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। সাতক্ষীরা দুই কৃতি সন্তান গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সাতক্ষীরায় দলের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। প্রভাষক মামুনুর রহমান ও আলফাত হোসেনের অগ্রযাত্রা সাতক্ষীরায় গণসহতি আন্দোলন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ও ৯ মে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য গণসংহতি আন্দোলনের বিশেষ সাংসঠনিক সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনে সাতক্ষীরা জেলা কমিটির আহবায়ক প্রভাষক মোঃ মামুনুর রহমান ও যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলফাত হোসেনকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত করা হয়। উক্ত সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষীয়ান কৃষকনেতা দেওয়ান আব্দুর রশীদ নিলু এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন ডাঃ আবুল হাসান রুবেল। সম্মেলনে ২১ সদস্যের সম্পাদকমন্ডলী ও ২১৫ সদস্যের জাতীয় পরিষদ ঘোষণা করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

 

কপিলমুনির বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ দ্রুতই শুরু হবে: এমপি আবুল কালাম আজাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনির বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ দ্রুতই শুরু হবে: এমপি আবুল কালাম আজাদ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): কপিলমুনি হাসপাতালের দ্রুত চিকিৎসা সেবার উপযোগী, কপিলমুনি বাজার উন্নয়ন, কপিলমুনি বণিক সমিতির নির্বাচন, বহুতল বিশিষ্ট কপিলমুনি ইউনিয়ন কাউন্সিল ভবন নির্মাণ করা হবে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কপিলমুনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় স্থানীয় সুধিজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে খুলনা ০৬ এর মাননীয় এমপি মাওঃ আবুল কালাম আজাদ উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।

 

তিনি কিশোর-যুবকদের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে কয়রা পাইকগাছায় দুটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে জানান। এছাড়া তিনি ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দখল বাজী ও মাদক নির্মূল করতে সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগীতা চেয়েছেন। তিনি শোষণ ও বঞ্চনাহীন একটি সমাজ বিনির্মাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কপিলমুনি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুচ মোড়লের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত ইসলামির জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমির জি এম বুলবুল আহম্মেদ, উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ আলতাপ হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ, কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সহ সাধারণ সম্পাদক এস কে আলীম, কপিলমুনির পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই সোহরাব হেসেন, সুদ্বীপ পাল, কপিলমুনি ইউনিয়ণ জামায়াত আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, জামায়াত নেতা মোঃ ওমর আলী, মোঃ জাকির হোসেন, উপজেলা উত্তর ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, জামায়াতের কপিলমুনি সদর সভাপতি মোঃ আসাদুল ইসলাম মিলন, কপিলমুনি বাজার শাখার সভাপতি মাওঃআমিনুল ইসলাম সিরাজি, বাজার শাখার সেক্রেটারি আরিফ মল্লিক।

 

উপস্থিত ছিলেন কপিলমুনির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তাপস কুমার সাধু, বিশ্বজিৎ সাধু সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।