মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: জনবল-সংকটে আলোর মুখ দেখছে না চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: জনবল-সংকটে আলোর মুখ দেখছে না চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামার

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ি শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষত সাতক্ষীরা জেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সম্ভাবনাময় খাতের বিশাল এক সম্রাজ্য। সরকারি তথ্যমতে, দেশের মোট উৎপাদিত বাগদা চিংড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই সাতক্ষীরা থেকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং মানসম্মত পোনার অভাবে বর্তমানে এই শিল্প একটি কঠিন সময় পার করছে। এমন এক ক্রান্তিকালে দেশের চিংড়ি শিল্পকে আধুনিক, টেকসই ও বিজ্ঞানসম্মত করতে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের ভূমিকা হওয়ার কথা ছিল অগ্রগণ্য। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই আধুনিক খামারটির সিংহভাগ কার্যক্রম এখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খামারটিতে আধুনিক হ্যাচারি, পিসিআর ল্যাব ও কোয়ারেন্টাইন ল্যাবসহ রোগ নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত ভারী ও আধুনিক সব প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। চিংড়ি চাষের প্রধান শর্ত হলো পোনা ছাড়ার আগে তা রোগমুক্ত কি না এবং খামারের পানির গুণগত মান (তাপমাত্রা, পিএইচ, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন) ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করা। সাতক্ষীরার এই পিসিআর ল্যাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকলে চাষিরা খুব সহজেই পোনা ও পানির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারতেন। এতে পোনা মারা যাওয়ার হার কমত এবং উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেত। অথচ দক্ষ জনবলের অভাবে এই কোটি টাকার ল্যাবরেটরি আজ অলস পড়ে আছে। স্থানীয় চাষিদের যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিপুল অর্থ ও সময় অপচয় করে খুলনা কিংবা ঢাকায় ছুটতে হতো, সেখানে হাতের নাগালে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এর সুফল পাচ্ছেন না।

সবচেয়ে আশঙ্কার কথা হলো, এই আধুনিক ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত মূল্যবান কেমিক্যালগুলোর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এই কেমিক্যালগুলোর মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আগামী দুই বছরের মধ্যে যদি এখানে প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও অপারেটর নিয়োগ দেওয়া না যায়, তবে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে কেনা এই রাসায়নিকগুলো কোনো কাজেই আসবে না। এর চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অপচয় আর কী হতে পারে! অন্যদিকে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের অভাবে এসব সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি চিরতরে অকেজো হয়ে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে সচল করতে আবারও বিপুল বাজেটের প্রয়োজন হবে।

এই প্রদর্শনী খামারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য ছিল মাঠপর্যায়ের খামারিদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বলে, চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত করতে প্রদর্শনী খামারের কোনো বিকল্প নেই। অথচ জনবল সংকটের কারণে এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আমাদের উপকূলের হাজার হাজার খামারি সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে বারবার লোকসানের মুখে পড়ছেন, যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। আমরা মনে করি, এই আমলাতান্ত্রিক চিঠি চালাচালির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। চিংড়ি শিল্পের বৈশ্বিক বাজার ধরে রাখতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবিকা সচল রাখতে সাতক্ষীরার চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা এখন সময়ের দাবি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে এই আধুনিক ল্যাব ও খামারটি কার্যকর করবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads small one

কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

সাকিবুর রহমান বাবলা

পহেলা জুলাই আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস (International Joke Day। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ব্যস্ততার এই পৃথিবীতে দিবসটি যেন একটি মৃদু স্মরণিকাÑমানুষের জীবনে হাসিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। হাসি শুধু আনন্দের প্রকাশ নয়; এটি সামাজিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন, মানসিক প্রশান্তির উৎস এবং বাস্তবতাকে সহজে গ্রহণ করার এক মানবিক কৌশল।

কৌতুকের ইতিহাস মানবসভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত কৌতুকের সন্ধান পাওয়া যায় প্রায় চার হাজার বছর পুরোনো সুমেরীয় সভ্যতার একটি প্রবাদে। মজার বিষয় হলো, সেই প্রাচীন কৌতুকটিও ছিল দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে। এতে বোঝা যায়, হাজার হাজার বছর আগে মানুষ যেমন হাসত, আজও তেমনি হাসে; শুধু ভাষা ও প্রেক্ষাপট বদলেছে।

প্রাচীন গ্রিসে কৌতুক ও ব্যঙ্গরস ছিল সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাট্যকার এরিস্টোফেনিসের কমেডি নাটকগুলো জনজীবনের নানা অসঙ্গতিকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরত। পরবর্তীকালে রোমান সভ্যতা, মধ্যযুগের রাজদরবারের ভাঁড় এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁস যুগের রম্যসাহিত্য কৌতুককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কৌতুক সংরক্ষণের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। বিশ্বের প্রাচীনতম পরিচিত কৌতুকসংকলন ‘ফিলোজেলোস’ (Philogelos), যা খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতকে গ্রিক ভাষায় সংকলিত হয়েছিল। এতে ২৬৪টি কৌতুক সংরক্ষিত আছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সেই সংকলনের অনেক কৌতুকের কাঠামো আজও আধুনিক রসিকতায় দেখা যায়।

মানুষ কেবল কৌতুক সৃষ্টি করেনি, সংরক্ষণও করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাস্যরস ও ব্যঙ্গচর্চা নিয়ে বিশেষ জাদুঘর গড়ে উঠেছে। কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত ‘জাস্ট ফর লাফস’ উৎসব ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে বিশ্বের অন্যতম হাস্যরসকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বিভিন্ন দেশে কমেডি, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র সংরক্ষণের জন্য পৃথক জাদুঘরও রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, হাসি মানুষের শরীরে ইতিবাচক রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। হাসলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, পেশির টান কমে, মানসিক চাপ হ্রাস পায় এবং মনোসামাজিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়। এমনকি প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসকেরাও রোগীদের মন ভালো রাখতে নাটক ও কৌতুক উপভোগের পরামর্শ দিতেন। আধুনিক গবেষণাও দেখায় যে হাসি উদ্বেগ কমাতে এবং মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সহায়ক।

তবে কৌতুকেরও একটি নৈতিক সীমারেখা রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হাসি ও কৌতুক নিষিদ্ধ নয়; বরং তা মানবিক ও স্বাভাবিক আচরণের অংশ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও সাহাবিদের সঙ্গে কখনও কখনও রসিকতা করতেন, তবে সেই রসিকতায় মিথ্যা, অপমান, বিদ্রুপ বা কঠোরতা থাকত না। ইসলামী ঐতিহ্যে কৌতুককে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় যা মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে, সম্পর্ক মজবুত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। তবে কাউকে হেয় করা, মিথ্যা বলা বা ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপহাস করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। হযরত আলী (রা.)-এর মতে, “কথায় কৌতুক ততটুকুই মেশানো উচিত, যতটুকু খাবারে লবণ দেওয়া হয়।”

আসলে কৌতুকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি মানুষের মধ্যে দূরত্ব ও জড়তা কমানো। রাজনৈতিক মতভেদ, সামাজিক বিভাজন কিংবা ব্যক্তিগত সংকট—সবকিছুর মাঝেও একটি নির্মল হাসি মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে। হাসি মানুষের বেঁচে থাকার শক্তিকে জাগিয়ে রাখে।

ডিজিটাল বিপ্লবে কৌতুকের রূপ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের হাসির তৃষ্ণা রয়েই গেছে। লোককথা আর বৈঠকখানার আসরের সেই রসিকতা এখন মিম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে নতুন প্রাণ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস আমাদের সেই চিরন্তন মানবিক সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়তো হাসি নয়, কিন্তু কিছু হাসি সমস্যার ভার কিছুটা হলেও হালকা করতে পারে। তাই কৌতুক হোক নির্মল, মানবিক ও ইতিবাচক; হাসি হোক সুস্থ সমাজ গঠনের এক অনন্য শক্তি।

 

‎জনগণের টাকায় উন্নয়ন, কৃতিত্বের মালা কার গলায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
‎জনগণের টাকায় উন্নয়ন, কৃতিত্বের মালা কার গলায়?

মুক্তমত

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎সাতক্ষীরায় বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন হচ্ছে জনগণের করের টাকায় এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট থেকে। কিন্তু বাস্তবে এসব কার্যক্রমের উপস্থাপন ও তদারকি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও ভবিষ্যৎ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বা দলীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে এটি কি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম, নাকি রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশল?

‎সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের। সেই অর্থে বাস্তবায়িত কোনো কাজকে যদি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে জনগণের কাছে এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিশেষ অবদান বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

‎বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা ও স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি দেয়। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু যদি সরকারি উন্নয়নের কৃতিত্ব ধীরে ধীরে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে চলে যায়, তাহলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মর্যাদা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

‎আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে জনগণের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নটি আড়ালে পড়ে যেতে পারে। উন্নয়ন তখন নাগরিক সেবার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রচারণার উপকরণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

‎আমি কাউকে অভিযুক্ত করছি না; তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তুলছি জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত মালিকানা কি জনগণের কাছেই থাকবে, নাকি তা রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হবে?
‎সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়নের সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাও দেখতে চায়। কারণ জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের জবাবদিহিতা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই।

পর্যটন ভিসা চালুর সুসংবাদ: প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে ভোমরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
পর্যটন ভিসা চালুর সুসংবাদ: প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে ভোমরায়

এম শফিকুল ইসলাম

বহু জল্পনা-কল্পনা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কাটল ভারতের ভ্রমণ (ট্যুরিস্ট) ভিসার জটিলতা। দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন একপাশে সরিয়ে রেখে আবারও শুরু হয়েছে ভ্রমণ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া। পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে গত রবিবার (২২ জুন) থেকে বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদি পর্যটন ভিসা চালুর এই ঘোষণা দেন। আর এই ঘোষণার পর থেকেই দুই দেশের পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে আনন্দের হাওয়া বইছে। প্রায় দুই বছর ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গিয়ে এখন তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

ভিসা চালুর খবরে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর এলাকাসহ জেলা ও উপজেলার বন্ধ থাকা ভিসা আবেদন সহযোগী এজেন্সিগুলো একে একে খুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে অফিসগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচঞ্চলতা। অনলাইন আবেদন করতে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।

ভোমরা বন্দরের ভারতীয় ভিসা আবেদন এজেন্সির ব্যবসায়ী মো. সুমন জানান, হাইকমিশনের ঘোষণার পর থেকেই ভিসা আবেদনের ধুম পড়েছে। দ্রুত সেবা দিতে দিনরাত কাজ করছেন তারা। জেলার একাধিক ভিসা আবেদন এজেন্সির মালিকেরা জানান, গত ৫ আগস্টের পর সাতক্ষীরায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রটি (আইভ্যাক) বন্ধ রয়েছে। তাই আপাতত ভ্রমণপ্রত্যাশীদের অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকাস্থ হাইকমিশন কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে দেশের সবকটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে পর্যটক না থাকায় গত দুই বছর ধরে চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটছিল স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের। ভোমরা বন্দরের সিএনজিচালক আব্দুস সবুজ বলেন, “আমাদের সিএনজি, মাহিন্দ্র ও লেগুনা সার্ভিস পুরোপুরি পাসপোর্টধারী যাত্রী ও বিদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন কোনো পর্যটক ছিল না। স্থানীয় যাত্রী টেনে কোনো রকমে বেঁচে ছিলাম। এখন ভিসা চালু হলে আমাদের সুদিন ফিরবে।”

ভ্রমণ ভিসা চালুর ঢেউ লেগেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরেও। সেখানকার ব্যবসায়ী, দোকানদার ও পর্যটক সেবা দেওয়া অফিসগুলোতে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে।

ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ফিরে আসা পাসপোর্টধারী যাত্রী রবিন মন্ডলসহ কয়েকজন জানান, পর্যটন ভিসা চালুর খবরে কলকাতার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতার বড় বড় মার্কেটগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত নিউ মার্কেট এলাকা ও আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এখন সুসংবাদ পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছেন।

ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। এই কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ দেশি-বিদেশি পর্যটক যাতায়াত করবেন। পর্যটকদের দ্রুত সেবা দিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সব সময়ই প্রস্তুত।

ভোমরা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় শুধু মেডিকেল ভিসার যাত্রীরা যাতায়াত করতেন। কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত বা প্রতিবন্ধী মেডিকেল যাত্রীরা ভ্রমণ করের (রাজস্ব) আওতামুক্ত থাকায় এই খাত থেকে রাজস্ব অর্জনে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এখন ভ্রমণ ভিসা পুরোদমে চালু হলে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভ্রমণ কর অর্জিত হবে।

লেখক: নাট্যকর্মী