প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন মা, গাড়ি দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন ড. মনিরুজ্জামান
এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): শ্যামনগরে প্রসব বেদনায় ছটফট করা এক নারীকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ড. মো. মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা থেকে এক প্রসূতিকে নিয়ে তাঁর স্বজনেরা নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌঁছান। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় এবং দুর্গম এলাকা হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা। প্রসব বেদনায় ওই নারী যখন ঘাটে কাতরাচ্ছিলেন, তখন তাঁর পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
ঠিক সেই সময় ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন সমাজসেবক ড. মো. মনিরুজ্জামান। প্রসূতি মায়ের অসহায় অবস্থা ও স্বজনদের আকুতি দেখে তিনি কালক্ষেপণ না করে নিজের ব্যবহৃত গাড়িটি ছেড়ে দেন। দ্রুত ওই নারীকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। তাঁর এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান ওই নারী।
প্রসূতি মায়ের পরিবারের এক সদস্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ঠিক সময়ে গাড়িটি না পেলে হয়তো পথেই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেত। উনি দেবদূতের মতো আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। একজন মুমূর্ষু মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি কেবল সেই দায়িত্বটুকু পালনের চেষ্টা করেছি।”
উপকূলীয় এই জনপদে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও যানবাহনের সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী। এমন পরিস্থিতিতে একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তির এগিয়ে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা মনে করেন, সমাজের বিত্তবানরা এভাবে বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ালে উপকূলের মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।









