বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

Ads small one

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।

 

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: মাছের ঘেরের আইল এক নতুন সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: মাছের ঘেরের আইল এক নতুন সম্ভাবনা

মাছের ঘেরের পাড় বা আইলÑযা একসময় ফেলে রাখা হতো পরিত্যক্ত জায়গা হিসেবেÑআজ তা ধারণ করেছে এক নতুন সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির রূপ। সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় শত শত কৃষকের হাত ধরে সমন্বিত এই চাষ পদ্ধতি কেবল কৃষি অর্থনীতিতেই নতুন মাত্রা যোগ করেনি, বরং প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলোর আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে এক টেকসই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই জমিতে নিচের পানিতে মাছ এবং উপরের মাচায় বিষমুক্ত সবজি চাষের এই সমন্বিত মডেল এখন সারা দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ভাবনায় নতুন পথের দিশারি হতে পারে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার দরুন কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানাবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে তালা উপজেলার নগরঘাটা, সরুলিয়া ও খলিষখালীর কৃষকেরা সেই চ্যালেঞ্জকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করেছেন। ঘেরের আইলে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, খিরাই, তরমুজ ও শাকসবজি চাষ করে একদিকে যেমন তারা বাজারজাতকরণে বাড়তি লাভ পাচ্ছেন, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। অল্প খরচে মাচা তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি লাভের এই হিসাব প্রমাণ করে যে সঠিক প্রয়োগ ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটালে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় রূপান্তর সম্ভব।
এই সমন্বিত ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার। অনাবাদি জায়গাগুলো সদ্ব্যবহারের পাশাপাশি চাষের খরচও কমে আসছে বহুগুণে। তদুপরি, পানির সময়সীমা শেষে একই জমিতে ধানের চাষ করার যে ধারাবাহিকতা কৃষকেরা বজায় রাখছেন, তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তবে এ সাফল্যকে কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় যেভাবে মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহায়তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করছে, এই প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা দরকার। সমন্বিত এই চাষাবাদ পদ্ধতিকে টেকসই রূপ দিতে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। যেমনÑ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য প্রারম্ভিক মূলধন (যেমন—মাচা তৈরির উপকরণ, উন্নত জাতের বীজ ও নেট) সরবরাহে ব্যাংক ও স্থানীয় কৃষি ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ দিতে হবে। পচনশীল সবজি দ্রুত এবং সঠিক দামে বিক্রির জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পরিবহন ব্যবস্থা ও আধুনিক সংসংরক্ষণাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে। বিষমুক্ত সবজির যে সুখ্যাতি তালার কৃষকেরা তৈরি করেছেন, তা ধরে রাখতে জৈব বালাইনাশক ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করতে হবে।
সাতক্ষীরার তালার কৃষকেরা প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে পতিত জমি থেকেও সোনা ফলানো সম্ভব। তাঁদের এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঘেরের আইলে সবজি চাষের এই ‘তালা মডেল’ আগামীতে দেশের প্রান্তিক কৃষির ভাগ্যবদলের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।