ফুল কোর্ট রেভারেন্সে অ্যাড. মোতাহারুজ্জামানকে শ্রদ্ধা নিবেদন
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য, বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম অ্যাড. খন্দকার মোহাম্মদ মোতাহারুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে এক ফুল কোর্ট রেভারেন্স সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
সভায় জেলা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মরহুম খন্দকার মোতাহারুজ্জামান ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল একজন আইনজীবী। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিচার অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ ও মানবিক আইনজীবীকে হারালো, যা অপূরণীয় ক্ষতি।”
আইনজীবী সমিতির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সমিতির আহবায়ক বি এম মিজানুর রহমান পিন্টু, সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মজিদ, পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ আব্দুস সাত্তার, অ্যাড মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, অ্যাড. শহিদুল ইসলাম পিন্টু, অ্যাড. শফিউল ইসলাম শফি এবং অ্যাড. শেখ মিজানুর রহমান।
সভায় মরহুমের জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করে শোনানো হয় এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, খন্দকার মোহাম্মদ মোতাহারুজ্জামান সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন সততা ও সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সজ্জন, বিনয়ী ও সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে সক্রিয় একজন মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে আইন অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষ শোকাহত।
গত ২৫ এপ্রিল সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটের সময় তিনি সাতক্ষীরা শহরের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) । ঐদিন মরহুমের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের চাঁদপুর গ্রামে দাফন সম্পন্ন করা হয়। মরহুমের মৃত্যুতে জেলা আইনজীবী সমিতিতেও এক শোক সভার আয়োজন করা হয়।
পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান
মো. সিরাজুল ইসলাম: আকাশের কোণে রোদের ঝিলিক আর বাতাসে বসন্তের শেষ বিকেলের মাতাল হওয়াÑসব মিলিয়েই দিনটি ছিল যেন কোনো ধ্রুপদী গল্পের ফ্রেম। সাতক্ষীরা শহরের পিচঢালা রাজপথ আজ সাক্ষী হলো এক বিস্মৃত ইতিহাসের প্রত্যাবর্তনের। আধুনিক যান্ত্রিকতার এই যুগে যখন দামী গাড়ির গর্জন আর আলোকসজ্জার চাকচিক্যই বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এক তরুণ আইনজীবী বেছে নিলেন ইতিহাসের ধূলোবালি মাখা সেই ধ্রুপদী বাহনÑপালকি।
রোববার বিকেলে শহরের সুলতানপুর সদ্দারপাড়া এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। সুসজ্জিত পঙ্খীরাজ পালকিতে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলাম। আটজন বেহারার কাঁধে তাল মিলিয়ে চলা পালকির সেই ছন্দময় দুলুনি যেন অনেক কাল আগের কোনো গ্রাম্য উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা দৃশ্য।
দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া বাঁধের মুখ এলাকার লামিয়া আরেফিন শোভার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হতে যাওয়ার এই যাত্রায় ছিল না কোনো গাড়ির হর্ন, বরং ছিল শেকড়ের টান। বিয়ে শেষে একইভাবে পালকির ওড়না টেনে নববধূকে নিয়ে যখন শিমুল নিজের আঙিনায় ফেরেন, তখন চারপাশের বাতাসে যেন ফিরে এসেছিল হারিয়ে যাওয়া সেই ম ম গন্ধ।
রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক জনতা। ছোটদের চোখে কৌতূহল আর প্রবীণদের চোখে ছিল ফেলে আসা যৌবনের দীর্ঘশ্বাস। কেউ সেলফি তুলছিলেন, কেউ বা ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন বেহারাদের সেই মাপা কদম।
উল্লসিত এলাকাবাসী বলেনÑ“পালকি তো কেবল কাঠের একটা কাঠামো নয়; এ তো আমাদের সংস্কৃতির স্পন্দন। আজ এই দৃশ্য দেখে মনে হলো আমরা আবারও আমাদের সত্তাকে খুঁজে পেলাম।”
সময়ের বিবর্তনে পালকি আজ কেবল যাদুঘরের জড় বস্তু। কিন্তু অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এক নীরব বার্তা পৌঁছে দিয়েছেÑসভ্যতা এগিয়ে চললেও শিকড়কে ভুলে যাওয়া মানেই শূন্যতা। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের শৌখিন ও ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগ আমাদের হাজার বছরের কৃষ্টিকে নতুন করে জীবন দান করবে।
সাতক্ষীরার এই বিয়ে কেবল দুটি হৃদয়ের মিলন হয়ে থাকল না, এটি হয়ে উঠল হারিয়ে যাওয়া বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক পপ-আপ আর্ট, যা আগামী অনেক দিন এলাকাবাসীর মনে এক টুকরো অমলিন স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে।









