সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বর্ষাতেই আনন্দ, সেই বর্ষাতেই কাঁদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বর্ষাতেই আনন্দ, সেই বর্ষাতেই কাঁদন

আখলাকুর রহমান
কবি সাহিত্যিকদের খাতার পাতায় বর্ষা মানেই এক পরম স্নিগ্ধতা, এক মায়াবী রোমান্টিকতা। রবীন্দ্রনাথ যাকে বলেছিলেন ‘নবযৌবনের দূত’, জীবনানন্দ যার রূপ খুঁজেছিলেন ধানসিঁড়িটির তীরে অন্ধকারে জোনাকির আলোয়, সেই বর্ষা আজও বাঙালির মনে এক চিরন্তন আবেগের নাম। আষাঢ়ের কালো মেঘ যখন আকাশজুড়ে ডানা মেলে, তখন রিমঝিম বৃষ্টির শব্দে অনেকেরই বুক চিনচিন করে ওঠে। বহু বিনিদ্র রজনীতে বৃষ্টির এই একটানা সুর মনকে উদাসী করে তোলে, আবার অনেকের ক্লান্তি দূর করে চোখে এনে দেয় শান্তির ঘুম। পবিত্র কুরআনেও বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত ও সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মনে করিয়ে দেয় প্রতিটি বৃষ্টিবিন্দুই আসলে এক অনন্ত করুণার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই নাগরিক বা সাহিত্যিক বিলাসের আড়ালে বর্ষার আদি ও আসল রূপটি আজ রূপকথার মতো হারাতে বসেছে। আমাদের শৈশবের সেই চেনা বর্ষা আর আজকের বর্ষার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। আগে বর্ষা শুরু হতে না হতেই চারদিক কদম ফুলে ফুলে ছেয়ে যেত। ছোট ছোট বাচ্চারা কদম ফুল হাতে নিয়ে মেতে উঠত উল্লাসে। কিন্তু আজ সেই কদম গাছ আর কদম ফুল যেন আমাদের চারপাশ থেকে হারিয়েই গিয়েছে।
আজকের নতুন প্রজন্মের বাচ্চারা শুধু গল্পের বইয়ে কিংবা কবিতার লাইনে পড়ে, ‘হাতি নাচে ঘোড়া নাচে কদমতলায় কে’। বাস্তবে তারা কদম ফুল চেনেও না, দেখেনি কোনোদিন। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণ ও জলাভূমি ভরাটের কারণে দেশের অনেক অঞ্চল থেকেই কদম, বকুল, হিজলসহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। কদম ফুলের ছোঁয়া ছাড়া বর্ষা যে কতটা রূপহীন ও বিবর্ণ হতে পারে, তা ভাবলে আমাদের প্রজন্মের জন্য এক বুক আফসোস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
আমাদের ছোটবেলার বর্ষার দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। মেঘের ডাক শুনলেই মনের ভেতর কেমন যেন এক চঞ্চলতা জেগে উঠত। বাবা মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে, ঘরের কোণ থেকে ফুটবলটা বগলদাবো করে নিয়ে এক ছুটে চলে যেতাম খোলা মাঠের দিকে। কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে সারা দুপুর বৃষ্টিতে ভিজতাম, গোল দিতাম আর উল্লাসে ফেটে পড়তাম। খেলায় মত্ত হয়ে কত দিন যে পরনের হাফপ্যান্ট ছিঁড়েছে, কাদায় পিছলে গিয়ে পায়ের নিচে দুই এক জায়গায় কেটেকুটে রক্তারক্তি হয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। খেলা শেষে যখন বিষণ্ণ ও অপরাধী মুখে বাড়ি ফিরতাম, তখন মায়ের হাতের গরম তাড়া আর বকুনি ছিল একদম ফ্রি বোনাস। সেই কড়া বকুনির ভেতরেও যে কী অকৃত্রিম স্নেহ আর ভালোবাসা লুকিয়ে থাকত, তা কি আজ সহজে ভুলে যাওয়া যায়? শৈশবের সেই কর্দমাক্ত মাঠ, বৃষ্টির পানিতে ফুটবল নিয়ে দাপাদাপি আর মায়ের সেই চিরাচরিত বকুনি আজ যেন কেবলই স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি এক সোনালী অতীত।
কিন্তু জীবনের নির্মম বাস্তবতা হলো, বর্ষা সবার জন্য এই সুখের ও নস্টালজিয়ার বার্তা নিয়ে আসে না। আমাদের কাছে যা আনন্দের বৃষ্টি, অন্য কারো কাছে তাই আবার কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সকাল হলেই যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন মধ্যবিত্তের মনে শুরু হয় অফিস যাওয়ার তাড়া আর ভিজে যাওয়ার দুশ্চিন্তা। কিন্তু সমাজের সেই সব খেটে খাওয়া দিনমজুর ও গরিব মানুষের কথা কি আমরা কেউ কখনো গভীরভাবে ভেবে দেখেছি? এই অবিরাম বৃষ্টির কারণে রিকশাচালক, ভ্যানচালক কিংবা দিনমজুরদের দৈনিক কাজটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষার দিনে কাজে বের হতে না পারলে দিন শেষে অনেকের ঘরেই রাতের উনুন জ্বলে না, সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়া সম্ভব হয় না। এক ফোঁটা বৃষ্টির আনন্দ যখন কারো ঘরের চুলো নেভানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বর্ষার চেয়ে নিষ্ঠুর আর কিছুই হতে পারে না। তবে এই বর্ষাই আবার আমাদের জন্য মানবতা প্রদর্শনের এক চমৎকার সুযোগ এনে দেয়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। আমরা যদি একটু সচেতন হই, তবে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুধার্ত প্রতিবেশীর ঘরে চাল ডাল পৌঁছে দিয়ে তাদের একটু হলেও সহযোগিতা করতে পারি। এই মানবিক হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই হতে পারে বর্ষার সবচেয়ে সুন্দর রূপ। প্রতিবেশীর দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই তো প্রকৃত মানবিকতা, আর এই বর্ষাকালই সেই মানবিকতা যাচাইয়ের এক নীরব পরীক্ষাক্ষেত্র।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে, আষাঢ় ও শ্রাবণের এই দিনগুলোতে সাতক্ষীরার মানুষের মনে এক চরম আতঙ্ক আর ভয়ের সৃষ্টি হয়। মেঘের গর্জন শুনলেই আমাদের মনে সবার আগে কু ডাক দিয়ে ওঠে, ঐতিহাসিক প্রাণসায়ের খাল কি এবার ঠিকমতো শহরের পানি টেনে নিতে পারবে? এক সময় প্রাণসায়ের খাল ছিল সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্র। এই খাল দিয়েই ব্যবসায়ীরা নৌকায় পণ্য আনা নেওয়া করতেন, আর এই খালের নামানুসারেই অনেকে মনে করেন শহরের নামকরণ হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত দখল আর পলি জমে যাওয়ার কারণে এই খালটি আজ নামমাত্র জোয়ারভাটায় রূপ নিয়েছে, হারিয়েছে তার চেনা নাব্যতা। বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরার বহু রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকা যেভাবে পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে, তা আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
অতীতের মতো এবারও যদি আমাদের এই বর্ষার পানির কাছে মাথা নত করতে হয়, তবে সাতক্ষীরার মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকবে না। আশপাশের জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় মানুষের চরম ভোগান্তি শুরু হয়ে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এই বন্যার চিত্র দেখে আমাদের বুক কেঁপে ওঠে। কবি ফররুখ আহমদের ভাষায় বলা যায়, ‘সংগ্রাম, সংগ্রাম, সংগ্রাম চাই’, প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের বিরুদ্ধে আজ আমাদেরও প্রয়োজন সেই সম্মিলিত সংগ্রামের মানসিকতা। তাই সাতক্ষীরাকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই প্রাণসায়ের খাল পুনখনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজকে একযোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে আসতে হবে। নইলে আমাদের প্রিয় শহর প্রতি বছরের এই একই দুর্ভোগের বৃত্তেই আটকে থাকবে, আর আষাঢ়ের রহমতের বৃষ্টি পরিণত হবে অভিশাপে।
আজকের এই লেখা শুধু আক্ষেপ প্রকাশের জন্য নয়, বরং একটি আন্তরিক আহ্বান। আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সচেতন হই, প্রতিবেশীর কষ্টে পাশে দাঁড়াই, আর প্রাণসায়ের খালসহ শহরের জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি নিজেরাও সোচ্চার হই, তবেই এই বর্ষা আবার তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে অঙ্গীকার করি, আগামী বর্ষায় সাতক্ষীরার মানুষকে যেন আর পানিবন্দি জীবনের এই একই দুর্ভোগ সহ্য করতে না হয়। প্রকৃতির এই রহমতকে অভিশাপে পরিণত হতে দেওয়া চলবে না, বরং একে আবার আনন্দের বার্তাবাহী হিসেবেই ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

Ads small one

সাতক্ষীরা শুধু সীমান্ত নয়, সম্ভাবনারও শেষ সীমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা শুধু সীমান্ত নয়, সম্ভাবনারও শেষ সীমানা

মো. মামুন হাসান

মানচিত্রে সাতক্ষীরাকে খুঁজলে চোখ থমকে যায় দেশের একেবারে দক্ষিণ পশ্চিম কোণে, যেখানে বাংলাদেশের ভূখণ্ড শেষ হয়ে মিশে গেছে ভারতের সীমান্তে আর সুন্দরবনের অসীম সবুজে। ভৌগোলিক অবস্থানের এই প্রান্তিকতাই দীর্ঘদিন সাতক্ষীরাকে চিনিয়েছে কেবল একটি সীমান্ত জেলা হিসেবে, উন্নয়নের মানচিত্রে যার অবস্থান প্রায়ই থেকে গেছে প্রান্তিক। কিন্তু পরিসংখ্যান আর সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ভিন্ন এক গল্প বলছে, এই জেলা সীমান্ত নয়, বরং সম্ভাবনার এক অব্যবহৃত ভাণ্ডার।

 

সাদা সোনার অর্থনীতি দিয়েই শুরু করা যাক। সাতক্ষীরা প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, মৎস্য ও মানবসম্পদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে, যেখানে চিংড়ি রপ্তানি থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প ও প্রবাসী আয় মিলিয়ে এই অঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত। সংখ্যার ভাষায় এই সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট, সাতক্ষীরায় প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় উৎস, এবং জেলার লবণাক্ততা সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি ইতিমধ্যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যে লবণাক্ততাকে আমরা এতদিন কেবল সংকট হিসেবে দেখেছি, সেই একই লবণাক্ততার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া বাগদা চিংড়ি চাষ আজ জেলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

 

নীতিগত স্বীকৃতির দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরে গেছে সাতক্ষীরার ভাগ্যে। সরকারি সিদ্ধান্তে জেলাটিকে ঘোষণা করা হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার ফলে উৎপাদিত পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন বিস্তৃত হবে, তেমনি বৈদেশিক বাণিজ্যও বাড়বে, পরিকল্পিত উপায়ে শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে এবং কাঁচামাল আমদানিতে বন্দরের গুরুত্বও বাড়বে, যার ফলে এ জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এই একটি প্রশাসনিক স্বীকৃতি আসলে একটি ঘোষণাপত্র, যা বলছে, সাতক্ষীরা আর কেবল কৃষি বা মৎস্যনির্ভর প্রান্তিক জেলা থাকবে না, বরং হয়ে উঠতে পারে একটি পরিকল্পিত শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

 

তবে এই সম্ভাবনার পথে বাধাও কম নয়, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে থেকে গেছে অবহেলিত।অবকাঠামোগত ঘাটতি, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার সাতক্ষীরা শ্যামনগর মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, বাগদা চিংড়িসহ রুই কাতলা ভেটকি ও পারশে মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য একটি আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন প্রতিষ্ঠা করা, এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা। এই তিনটি দাবিই আসলে একটি অভিন্ন বার্তা দেয়, সাতক্ষীরার সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারছে না অবকাঠামোর অভাবে, সম্পদের অভাবে নয়।

 

এই আলোচনায় সুন্দরবনের ভূমিকাকেও পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। সাতক্ষীরা কেবল একটি কৃষি বা মৎস্য জেলা নয়, এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের প্রবেশদ্বারও বটে। সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। যদি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিকল্পিত শিল্পায়ন আর সুন্দরবনকেন্দ্রিক ইকো ট্যুরিজম একসঙ্গে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোয় গাঁথা যায়, তবে সাতক্ষীরা হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার, যেখানে রপ্তানি বাণিজ্য, কৃষি উদ্ভাবন আর পর্যটন একসঙ্গে একটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলবে।

 

শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরার গল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় শিক্ষা দেয়। সীমান্তবর্তী অবস্থান কোনো জেলাকে প্রান্তিক করে রাখার কারণ হতে পারে না, বরং সঠিক পরিকল্পনায় সেই একই অবস্থান হয়ে উঠতে পারে কৌশলগত সুবিধা। অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্বীকৃতি ইতিমধ্যে দরজা খুলে দিয়েছে, এখন প্রয়োজন সড়ক, বন্দর সুবিধা আর প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই দরজা দিয়ে প্রকৃত বিনিয়োগ আর কর্মসংস্থান প্রবেশ করানো। সাতক্ষীরা তাই আক্ষরিক অর্থে দেশের সীমান্ত হলেও, তার সম্ভাবনার কোনো সীমানা নেই, প্রয়োজন কেবল সেই সম্ভাবনাকে চেনার আর লালন করার সাহস।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ। রবিবার ‘পত্রদূত’-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে জেলায় ৬৮৪টি অপরাধের ঘটনা এবং ১৩৬ জনের অপমৃত্যুর তথ্য আমাদের চিন্তিত করে। ২৫১টি মাদক মামলা, ৫০টি নারী নির্যাতন, ২১টি ধর্ষণ এবং ৯টি হত্যাকা-ের মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সর্বাধিক চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক অস্থিরতার প্রকাশ। তিন মাসে ৬৫টি আত্মহত্যার ঘটনা কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়; এটি তীব্র মানসিক সংকট, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও সামাজিক সহমর্মিতার অভাব নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি সুন্দরবনে ডাকাতদের হাতে ৩২ জন জেলের অপহরণ এবং সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা উপকূলীয় ও সীমান্তঘেঁষা মানুষের জীবিকা ও জীবনকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
আইনশৃঙ্খলার এই ধসের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী মানুষের আইনি সুরক্ষার পথও আজ অবরুদ্ধ। সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় শত শত ভুক্তভোগী নারী ও শিশু বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেনÑযা মানবাধিকারের আরেকটি বড় লঙ্ঘন। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই স্থবিরতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। মানবাধিকার রক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার একক দায়িত্ব হতে পারে না; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি। সাতক্ষীরার এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ মাদক ট্রাফিকিং, চুরি-ডাকাতি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের দৃশ্যমান ও কঠোর টহল নিশ্চিত করা। জজ কোর্টের শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে স্থবির হয়ে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা। সীমান্তে কঠোর কূটনৈতিক তদারকি এবং সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার করা। আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা।
একটি সভ্য সমাজে সংখ্যা দিয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বিচার করা যায় না। প্রতিটি অপমৃত্যু ও অপরাধের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সুশীল সমাজকে অবিলম্বে একসঙ্গে বসে এই নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ক্যালারোয়ায় ‘জাতীয় তরুণ সংঘের’ নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রবিউল, সম্পাদক রঞ্জু, সাংগঠনিক মোস্তাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
ক্যালারোয়ায় ‘জাতীয় তরুণ সংঘের’ নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রবিউল, সম্পাদক রঞ্জু, সাংগঠনিক মোস্তাক

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন জাতীয় তরুণ সংঘের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কলারোয়া সরকারি কলেজ সংলগ্ন ক্লাবের নিজস্ব ভবনে এক জরুরি সভায় ক্লাবের সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে মো. রবিউল হোসেনকে সভাপতি, আরিফুর রহমান রঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক ও মোস্তাক আহমেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এছাড়া কমিটিতে ৬ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে।
সভা শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলারোয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন জাতীয় তরুণ সংঘ তার ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে কাজ করবে। মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে অতি দ্রুতই কলারোয়া সরকারি কলেজ মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন, তরুণ প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একই সাথে উপজেলায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মল্লিক, এনায়েত খাঁন টুন্টু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আহম্মেদ সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক ই-ইউনুছ আলী, কোষাধ্যক্ষ আলমগীর কবীর তারেক, দপ্তর সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুকুল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক শাহাদাত হোসেন অপু, প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সহ-প্রচার সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাহেব আলী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উত্তম গোলদার, সহ-সংস্কৃতি সম্পাদক সন্তোষ কুমার, শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম, সহ-শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মজনুর রহমান মজনু, শাহীনুজ্জামান খাঁন পপি, মোজাম্মেল হক ও নজরুল ইসলাম।
এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন-সিরাজুল ইসলাম, মাগফুর রহমান রাজু (সাবেক পৌর কাউন্সিলর), শেখ জামিল হোসেন (সাবেক পৌর কাউন্সিলর), শেখ আমজাদ হোসেন (সাবেক সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য), রফিকুল হাসান (সাবেক পৌর কাউন্সিলর) ও ড্যা. মনোয়ার হোসেন।