সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বর্ষাতেই আনন্দ, সেই বর্ষাতেই কাঁদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বর্ষাতেই আনন্দ, সেই বর্ষাতেই কাঁদন

আখলাকুর রহমান
কবি সাহিত্যিকদের খাতার পাতায় বর্ষা মানেই এক পরম স্নিগ্ধতা, এক মায়াবী রোমান্টিকতা। রবীন্দ্রনাথ যাকে বলেছিলেন ‘নবযৌবনের দূত’, জীবনানন্দ যার রূপ খুঁজেছিলেন ধানসিঁড়িটির তীরে অন্ধকারে জোনাকির আলোয়, সেই বর্ষা আজও বাঙালির মনে এক চিরন্তন আবেগের নাম। আষাঢ়ের কালো মেঘ যখন আকাশজুড়ে ডানা মেলে, তখন রিমঝিম বৃষ্টির শব্দে অনেকেরই বুক চিনচিন করে ওঠে। বহু বিনিদ্র রজনীতে বৃষ্টির এই একটানা সুর মনকে উদাসী করে তোলে, আবার অনেকের ক্লান্তি দূর করে চোখে এনে দেয় শান্তির ঘুম। পবিত্র কুরআনেও বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত ও সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মনে করিয়ে দেয় প্রতিটি বৃষ্টিবিন্দুই আসলে এক অনন্ত করুণার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই নাগরিক বা সাহিত্যিক বিলাসের আড়ালে বর্ষার আদি ও আসল রূপটি আজ রূপকথার মতো হারাতে বসেছে। আমাদের শৈশবের সেই চেনা বর্ষা আর আজকের বর্ষার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। আগে বর্ষা শুরু হতে না হতেই চারদিক কদম ফুলে ফুলে ছেয়ে যেত। ছোট ছোট বাচ্চারা কদম ফুল হাতে নিয়ে মেতে উঠত উল্লাসে। কিন্তু আজ সেই কদম গাছ আর কদম ফুল যেন আমাদের চারপাশ থেকে হারিয়েই গিয়েছে।
আজকের নতুন প্রজন্মের বাচ্চারা শুধু গল্পের বইয়ে কিংবা কবিতার লাইনে পড়ে, ‘হাতি নাচে ঘোড়া নাচে কদমতলায় কে’। বাস্তবে তারা কদম ফুল চেনেও না, দেখেনি কোনোদিন। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণ ও জলাভূমি ভরাটের কারণে দেশের অনেক অঞ্চল থেকেই কদম, বকুল, হিজলসহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। কদম ফুলের ছোঁয়া ছাড়া বর্ষা যে কতটা রূপহীন ও বিবর্ণ হতে পারে, তা ভাবলে আমাদের প্রজন্মের জন্য এক বুক আফসোস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
আমাদের ছোটবেলার বর্ষার দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। মেঘের ডাক শুনলেই মনের ভেতর কেমন যেন এক চঞ্চলতা জেগে উঠত। বাবা মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে, ঘরের কোণ থেকে ফুটবলটা বগলদাবো করে নিয়ে এক ছুটে চলে যেতাম খোলা মাঠের দিকে। কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে সারা দুপুর বৃষ্টিতে ভিজতাম, গোল দিতাম আর উল্লাসে ফেটে পড়তাম। খেলায় মত্ত হয়ে কত দিন যে পরনের হাফপ্যান্ট ছিঁড়েছে, কাদায় পিছলে গিয়ে পায়ের নিচে দুই এক জায়গায় কেটেকুটে রক্তারক্তি হয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। খেলা শেষে যখন বিষণ্ণ ও অপরাধী মুখে বাড়ি ফিরতাম, তখন মায়ের হাতের গরম তাড়া আর বকুনি ছিল একদম ফ্রি বোনাস। সেই কড়া বকুনির ভেতরেও যে কী অকৃত্রিম স্নেহ আর ভালোবাসা লুকিয়ে থাকত, তা কি আজ সহজে ভুলে যাওয়া যায়? শৈশবের সেই কর্দমাক্ত মাঠ, বৃষ্টির পানিতে ফুটবল নিয়ে দাপাদাপি আর মায়ের সেই চিরাচরিত বকুনি আজ যেন কেবলই স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি এক সোনালী অতীত।
কিন্তু জীবনের নির্মম বাস্তবতা হলো, বর্ষা সবার জন্য এই সুখের ও নস্টালজিয়ার বার্তা নিয়ে আসে না। আমাদের কাছে যা আনন্দের বৃষ্টি, অন্য কারো কাছে তাই আবার কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সকাল হলেই যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন মধ্যবিত্তের মনে শুরু হয় অফিস যাওয়ার তাড়া আর ভিজে যাওয়ার দুশ্চিন্তা। কিন্তু সমাজের সেই সব খেটে খাওয়া দিনমজুর ও গরিব মানুষের কথা কি আমরা কেউ কখনো গভীরভাবে ভেবে দেখেছি? এই অবিরাম বৃষ্টির কারণে রিকশাচালক, ভ্যানচালক কিংবা দিনমজুরদের দৈনিক কাজটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষার দিনে কাজে বের হতে না পারলে দিন শেষে অনেকের ঘরেই রাতের উনুন জ্বলে না, সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়া সম্ভব হয় না। এক ফোঁটা বৃষ্টির আনন্দ যখন কারো ঘরের চুলো নেভানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বর্ষার চেয়ে নিষ্ঠুর আর কিছুই হতে পারে না। তবে এই বর্ষাই আবার আমাদের জন্য মানবতা প্রদর্শনের এক চমৎকার সুযোগ এনে দেয়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। আমরা যদি একটু সচেতন হই, তবে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুধার্ত প্রতিবেশীর ঘরে চাল ডাল পৌঁছে দিয়ে তাদের একটু হলেও সহযোগিতা করতে পারি। এই মানবিক হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই হতে পারে বর্ষার সবচেয়ে সুন্দর রূপ। প্রতিবেশীর দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই তো প্রকৃত মানবিকতা, আর এই বর্ষাকালই সেই মানবিকতা যাচাইয়ের এক নীরব পরীক্ষাক্ষেত্র।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে, আষাঢ় ও শ্রাবণের এই দিনগুলোতে সাতক্ষীরার মানুষের মনে এক চরম আতঙ্ক আর ভয়ের সৃষ্টি হয়। মেঘের গর্জন শুনলেই আমাদের মনে সবার আগে কু ডাক দিয়ে ওঠে, ঐতিহাসিক প্রাণসায়ের খাল কি এবার ঠিকমতো শহরের পানি টেনে নিতে পারবে? এক সময় প্রাণসায়ের খাল ছিল সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্র। এই খাল দিয়েই ব্যবসায়ীরা নৌকায় পণ্য আনা নেওয়া করতেন, আর এই খালের নামানুসারেই অনেকে মনে করেন শহরের নামকরণ হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত দখল আর পলি জমে যাওয়ার কারণে এই খালটি আজ নামমাত্র জোয়ারভাটায় রূপ নিয়েছে, হারিয়েছে তার চেনা নাব্যতা। বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরার বহু রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকা যেভাবে পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে, তা আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
অতীতের মতো এবারও যদি আমাদের এই বর্ষার পানির কাছে মাথা নত করতে হয়, তবে সাতক্ষীরার মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকবে না। আশপাশের জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় মানুষের চরম ভোগান্তি শুরু হয়ে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এই বন্যার চিত্র দেখে আমাদের বুক কেঁপে ওঠে। কবি ফররুখ আহমদের ভাষায় বলা যায়, ‘সংগ্রাম, সংগ্রাম, সংগ্রাম চাই’, প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের বিরুদ্ধে আজ আমাদেরও প্রয়োজন সেই সম্মিলিত সংগ্রামের মানসিকতা। তাই সাতক্ষীরাকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই প্রাণসায়ের খাল পুনখনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজকে একযোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে আসতে হবে। নইলে আমাদের প্রিয় শহর প্রতি বছরের এই একই দুর্ভোগের বৃত্তেই আটকে থাকবে, আর আষাঢ়ের রহমতের বৃষ্টি পরিণত হবে অভিশাপে।
আজকের এই লেখা শুধু আক্ষেপ প্রকাশের জন্য নয়, বরং একটি আন্তরিক আহ্বান। আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সচেতন হই, প্রতিবেশীর কষ্টে পাশে দাঁড়াই, আর প্রাণসায়ের খালসহ শহরের জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি নিজেরাও সোচ্চার হই, তবেই এই বর্ষা আবার তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে অঙ্গীকার করি, আগামী বর্ষায় সাতক্ষীরার মানুষকে যেন আর পানিবন্দি জীবনের এই একই দুর্ভোগ সহ্য করতে না হয়। প্রকৃতির এই রহমতকে অভিশাপে পরিণত হতে দেওয়া চলবে না, বরং একে আবার আনন্দের বার্তাবাহী হিসেবেই ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

Ads small one

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার সেহারা গ্রামের মৃত সামত আলীর ছেলে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এসআই সোহাগ মিয়া ও এসআই সাহিদুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নওয়াপাড়া ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদার দিকে যাওয়ার পথে জনৈক আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ রেজাউল ইসলাম (৪৮) কে আটক করে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১০ আগস্ট সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।