বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘বহিপীর’ থেকে সাতক্ষীরা-৪: ধর্ম, ক্ষমতা ও নারী শোষণের এক অপরিবর্তিত সমীকরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
‘বহিপীর’ থেকে সাতক্ষীরা-৪: ধর্ম, ক্ষমতা ও নারী শোষণের এক অপরিবর্তিত সমীকরণ

‎তারিক ইসলাম

‎বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘বহিপীর’ নাটকের কথা নিশ্চয়ই আমাদের মনে আছে। সেখানে বয়োবৃদ্ধ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা বহিপীর তার ক্ষমতার দাপট ও ধর্মের দোহাই দিয়ে এক অল্পবয়সী তরুণী তাহেরাকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে চেয়েছিল। সমাজের অন্ধবিশ্বাস, ধর্মীয় অন্ধতা এবং পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার দাপট ছিল সেই নাটকের মূল উপজীব্য। বহিপীর ভেবেছিল ধর্মের আবরণ আর সামাজিক প্রভাব দিয়ে একজন নারীর অনিচ্ছাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়।
‎‎ওয়ালীউল্লাহর সেই রূপক কাহিনী যে আজ একুশ শতকে এসে আমাদের বাস্তবতার আয়নায় এভাবে ফুটে উঠবে, তা হয়তো সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল। সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের বিতর্কিত নারীঘটিত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, নীতি নৈতিকতাহীনতা এবং নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণের এই ঘটনা যেন ‘বহিপীর’-এর আধুনিক রূপায়ণ।

‎বহিপীর আর বর্তমানের ক্ষমতার রাজনীতি-দুয়ের মধ্যে দৃশ্যত সময়ের তফাত অনেক হলেও মূল জায়গায় কোনো তফাত নেই। বহিপীর ব্যবহার করেছিল ধর্মীয় প্রভাব ও অন্ধবিশ্বাসকে, আর আধুনিক যুগের প্রতিনিধিরা ব্যবহার করেন রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সামাজিক আধিপত্যকে। দুই ক্ষেত্রেই অস্ত্র ভিন্ন, কিন্তু শিকার একই-নারী, এবং পরিণতি একই-নৈতিকতার চরম অবক্ষয়।
‎একজন সংসদ সদস্য একটি সংসদীয় আসনের কোটি মানুষের অভিভাবকতুল্য। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায় আইন প্রণয়ন, এলাকার উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে যখন সেই পদের মর্যাদা ধূলোয় লুটিয়ে পড়ে এবং নারীঘটিত কেলেঙ্কারি লোকচক্ষুর সামনে আসে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে-আমরা কি তবে এখনও সেই ‘বহিপীর’-এর যুগেই বাস করছি?

‎সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাটকে তাহেরা নামের সেই তরুণী অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি; সে পালিয়ে এসে নিজের অধিকারের জন্য প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আজকের সমাজেও নারীরা আর নীরব দর্শক নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কতদিন আর ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছে নারী ও সমাজের নীতি-নৈতিকতা জিম্মি থাকবে?

‎বহিপীরের মতো মানসিকতা যখন কোনো জনপ্রতিনিধির পোশাকে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তা কেবল একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা থাকে না, তা পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য এক লজ্জাজনক সংকেত বহন করে। সময় এসেছে এই ‘আধুনিক বহিপীরদের’ বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার, যেন ক্ষমতার গরম আর অনৈতিকতা কোনো পদের আড়ালে ঢাকা না পড়তে পারে।

লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।