সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

চলন্ত বাসে জ্বলন্ত সিগারেট!/ কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
চলন্ত বাসে জ্বলন্ত সিগারেট!/ কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক

কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের জাতীয় আলোচনা ঘুরেফিরে কয়েকটি নির্দিষ্ট উপাদানেই সীমাবদ্ধ থাকে- সড়কের নকশাগত ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সহীন চালক কিংবা বেপরোয়া গতি। কিন্তু এর বাইরেও কিছু সূক্ষ্ম অথচ মারাত্মক মানবীয় আচরণগত ঝুঁকি রয়েছে, যা প্রতিদিন নিঃশব্দে আমাদের সড়কগুলোকে মৃত্যুর মিছিলে পরিণত করছে। এমনই এক অবহেলিত ও প্রায়-উপেক্ষিত ঘাতক হলো ‘গাড়ি চালনাকালে ধূমপান’। উন্নয়ন সংস্থা ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্টিভিটিস অব সোসাইটি’-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই আশঙ্কাজনক তথ্য: ড্রাইভিংকালে ধূমপান কেবল চালকের ব্যক্তিগত ফুসফুসের ক্ষতি করছে না, বরং এটি হয়ে উঠেছে ‘মনোযোগ বিচ্যুতি’ এবং কঠিন মাদকাসক্তির অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার।

আন্তর্জাতিক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী, চালকের মনোযোগ বিচ্যুতি চার ধরনের হতে পারে- দৃশ্যমান, শারীরিক, জ্ঞানীয় বা মানসিক এবং শ্রবণগত। ড্রাইভিংয়ের সময় ধূমপান এমন একটি বিপজ্জনক গৌণ কাজ, যা একই সঙ্গে এই চার ধরনের মনোযোগই কেড়ে নেয়। পকেট বা ড্যাশবোর্ড থেকে লাইটার বা ম্যাচ বের করা, দেশলাই জ্বালানো, ঠোঁটে সিগারেট নেওয়া এবং ছাই ফেল- এসব আপাত সাধারণ কাজে একজন চালকের দৃষ্টি ও হাত স্টিয়ারিং থেকে সরে যায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য। ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলা একটি গাড়ি মাত্র দুই সেকেন্ডে প্রায় ২৭ মিটার বা ৮০ ফিটেরও বেশি পথ অতিক্রম করে ফেলে- যে সময়ে চালকের দৃষ্টি থাকে রাস্তার বাইরে।

ইতালীয় চিকিৎসা সাময়িকী Annali di Igiene-এ প্রকাশিত মানজিয়্যারাসিনা ও পালুম্বোর গবেষণা বলছে, ধূমপানজনিত ব্যস্ততা গড়ে প্রায় ১২ সেকেন্ড মনোযোগ বিচ্যুতি ঘটায়। সাধারণ গাণিতিক হিসাব বলে, এই ১২ সেকেন্ডে ৫০ কিমি গতিতে চলা একটি গাড়ি চোখ বন্ধ রেখে ১৬০ মিটারের মতো পথ পাড়ি দেয়। রাতের বেলা ক্যাবিনের ভেতর লাইটারের আকস্মিক আলো চালকের চোখে সাময়িক ‘নাইট ব্লাইন্ডনেস’ তৈরি করে। উপরন্তু, তামাকের ধোঁয়ায় থাকা কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যা চালকের মধ্যে অলসতা, ঝিমুনি এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস ঘটায়।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পরিবহন খাতে এই পরিস্থিতি আরও কদর্য রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী International Journal of Mental Health and Addiction-এ তালুকদার ও অন্যদের প্রকাশিত এক গবেষণায় (n=424) দেখা গেছে, ঢাকার ভারী যানবাহন (বাস ও ট্রাক) চালকদের প্রায় ৭৫.৯ শতাংশই তামাকসেবী এবং অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, তাদের ৫৭.৯ শতাংশ চালক চলন্ত অবস্থায় নিয়মিত ধূমপান করেন। পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলন্ত অবস্থায় ধূমপানের সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার অত্যন্ত জোরালো সম্পর্ক বিদ্যমান (p < 0.003; Odds Ratio ≈ 2.087)। অর্থাৎ, যেসব চালক চলন্ত অবস্থায় ধূমপান করেন, তাদের দুর্ঘটনায় পড়ার ঝুঁকি সাধারণ চালকদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

ধূমপান কীভাবে একজন চালককে বেপরোয়া করে তোলে, তার একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তামাকের প্রধান উপাদান নিকোটিন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সাময়িকভাবে উত্তেজিত করে ডোপামিন ও এড্রেনালিন হরমোন নিঃসরিত করে। এটি চালকের মধ্যে একধরনের মিথ্যা আত্মতুষ্টি বা ‘ওভারকনফিডেন্স’ তৈরি করে, যার ফলে তারা বেপরোয়া ওভারটেকিং ও গতিসীমা লঙ্ঘনে প্ররোচিত হন। আবার এই ক্ষণিক উত্তেজনা কেটে গেলেই শরীরে ফুটে ওঠে ‘নিকোটিন উইথড্রয়াল’ লক্ষণ। চালক তখন অস্থির ও মেজাজখিঁচড়ে হয়ে পড়েন। তীব্র যানজট বা সিগন্যালে আটকে থাকলে এই অস্থিরতা থেকে অনবরত ও অহেতুক উচ্চশব্দের হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর প্রবণতা দেখা যায়, যা আমাদের নগরগুলোকে মারাত্মক শব্দদূষণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এর চেয়েও বড় শঙ্কার জায়গা হলো, ধূমপান কঠিন মাদক সেবনের ‘গেটওয়ে’ বা প্রাথমিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। নৈশকালীন দূরপাল্লার যাত্রায় ক্লান্তি কাটাতে চালকরা প্রথমে তামাক সেবন শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় নিকোটিনের সহনশীলতা বৃদ্ধি পেলে তামাক বের করে সিগারেটের ভেতর গাঁজা কিংবা গুঁড়ো মাদক পুরে সেবনের প্রবণতা বাড়ে। চালকরা একপর্যায়ে রাত জাগতে অ্যাম্ফিটামিন বা ইয়াবার মতো সিন্থেটিক মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ধূমপায়ী চালকদের গাড়ি চালনাকালে অন্যান্য মাদক গ্রহণের ঝুঁকি অধূমপায়ীদের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি। ২০১৯ সালে প্রবর্তিত বিআরটিএ ও পুলিশের ডোপ টেস্ট কার্যক্রমে যেসব চালক মাদকের পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে তাদের প্রায় ১০০ শতাংশেরই হাতে খড়ি হয়েছিল এই সিগারেট দিয়ে। এই মাদকের প্রভাবেই চালকরা রাস্তায় অলীক দৃশ্য (hallucination) দেখেন এবং গাড়ি খাদে ফেলে দেন বা বিপরীতমুখী গাড়িতে ধাক্কা দেন।

বাংলাদেশের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ (সংশোধিত ২০১৩)-এ গণপরিবহনকে ‘পাবলিক প্লেস’ হিসেবে গণ্য করে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সালের ‘সড়ক পরিবহন আইন’-এ চলন্ত অবস্থায় চালকের আসন থেকে ধূমপানকে প্রত্যক্ষ ‘মনোযোগ বিচ্যুতিমূলক অপরাধ’ হিসেবে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি, কিংবা এর জন্য ‘ডি-মেরিট পয়েন্ট’ কাটার কোনো কার্যকর এনফোর্সমেন্ট ধারা নেই। যেখানে যুক্তরাজ্য, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে ড্রাইভিং অবস্থায় ধূমপানকে ‘অসাবধানতাবশত ড্রাইভিং’ হিসেবে গণ্য করে ভারী জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে, সেখানে আমাদের দেশে আইনি অস্পষ্টতা ও শিথিল প্রয়োগ দৃশ্যমান।

এই জাতীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল আশ্বাস বা মোবাইল কোর্টের খ-কালীন অভিযান যথেষ্ট নয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG Goal 3.6) অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হলে নীতিনির্ধারক, পরিবহন মালিক ও চালক সংগঠনগুলোকে নিচের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে:

১. আইনি কাঠামোর সংশোধন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-তে স্পষ্ট সংশোধনী এনে গাড়ি চালনাকালে ধূমপানকে সরাসরি দ-নীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং চালকের লাইসেন্স থেকে ডিমেরিট পয়েন্ট কাটার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে।

২. লাইসেন্স প্রদান ও ডোপ টেস্টের আধুনিকীকরণ: পেশাদার চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় ডোপ টেস্টের পাশাপাশি তামাক আসক্তির মাত্রা মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শুধু শাস্তি নয়, চালকদের নিয়মিত মানসিক ও আচরণগত কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনতে হবে।

৩. প্রযুক্তিভিত্তিক তদারকি: দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকে ইন-ক্যাব সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ‘স্মোক ডিটেক্টর’ স্থাপন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। সেন্ট্রাল মনিটরিংয়ে স্টিয়ারিংয়ে বসে ধূমপানের প্রমাণ মিললে মালিক ও চালক উভয়কে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

৪. কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের আইনি সুরক্ষা: চালকরা অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকেই মূলত তামাক ও মাদকের আশ্রয় নেন। তাই আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী বাণিজ্যিক চালকদের টানা ৮ ঘণ্টার বেশি ড্রাইভিং নিষিদ্ধ করতে হবে এবং হাইওয়েগুলোতে পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. গণসচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: পরিবহন মালিক সমিতিগুলোকে কেবল মুনাফা না দেখে চালকদের স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী ও সাধারণ মানুষকেও চলন্ত গাড়িতে চালকের ধূমপানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে।

গাড়ির স্টিয়ারিং একটি বিশাল দায়িত্বের জায়গা সেখানে বসা চালকের হাত যদি দেশলাই বা সিগারেটের ধোঁয়ায় ব্যস্ত থাকে, তবে সেই বাহনটি আর কোনো যাত্রীবাহী যান থাকে না, তা হয়ে ওঠে একটি চলন্ত প্রাণঘাতী অস্ত্র। সময় এসেছে স্টিয়ারিং হাতে ধূমপানকে কেবল একটি ব্যক্তিগত ‘বাজে অভ্যাস’ হিসেবে না দেখে, সড়ক নিরাপত্তার জন্য একটি ‘প্রকাশ্য অপরাধ’ ও ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যত দ্রুত এই সত্য উপলব্ধি করবে, আমাদের মহাসড়কগুলো তত দ্রুত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে।

Ads small one

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে ‘বারসিক এনগেজ প্রকল্প’র ক্যাম্পেইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে ‘বারসিক এনগেজ প্রকল্প’র ক্যাম্পেইন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উন্নয়ন সংগঠন বারসিক’র এনগেজ প্রকল্প’র উদ্যোগে পরিবেশ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১০টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে উক্ত ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও নেটজ বাংলাদেশের অর্থায়নে দিনব্যাপী আয়োজিত ক্যাম্পেইন কর্মসুচির মধ্যে ছিল প্রদর্শনী, নাটক, র‌্যালী ও আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পেইনের শুরুতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত র‌্যালি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া বারসিক এনগেজ প্রকল্পের সুশীল সমাজ সংগঠন ও শিক্ষার্থী ফোরামের উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ স্টল প্রদর্শন করা হয়। স্টলগুলো পরিদর্শন করে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থী ও সিএসও সদস্যদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী কুমারেশ চন্দ্র। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, শ্যামনগর উপজেলার এনজিও সমন্বয়কারী গাজী আল ইমরান
বক্তারা পরিবেশ দূষণ রোধ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় সুশীল সমাজ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী ফোরামের সদস্যবৃন্দ, বারসিক এনগেজ প্রকল্পের রোকসানা পারভীন, সুপর্ণা মিত্র, মাহুয়া পারভীন এবং বারসিকের সকল কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সুশীল সমাজ সংগঠন ও শিক্ষার্থী ফোরামের উদ্যোগে জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক পথনাটক (থিয়েটার) পরিবেশিত হয়। নাটকটির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র, পরিবেশ ধ্বংসের কারণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
সবশেষে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশগত মানবাধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে উপস্থিত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও প্রতিনিধিরা একটি স্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পেইন সঞ্চালনা করেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শরিফুল ইসলাম।

বিচালি কাটা মেশিনে কেটে গেল কলেজছাত্রের হাতের ৫টি আঙুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
বিচালি কাটা মেশিনে কেটে গেল কলেজছাত্রের হাতের ৫টি আঙুল

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে বিদ্যুৎচালিত বিচালি (খড়) কাটা মেশিনে ডান হাত ঢুকে খায়রুল ইসলাম (২৮) নামের এক কলেজছাত্রের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বাড়িতে পোষা গাভীর খাবারের জন্য প্রতিদিনের মতো বিচালি কাটছিলেন খায়রুল। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর ডান হাতটি বিদ্যুৎচালিত মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে তাঁর ডান হাতের পাঁচটি আঙুলই কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডাকচিৎকারে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে খায়রুলকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (বার্ন ইউনিট) পাঠানো হয়। খায়রুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কালিগঞ্জে জামায়াতের লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে জামায়াতের লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইউনিয়ন আমির, সেক্রেটারি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ।
কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমির ও সেক্রেটারি ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীরা অংশ নেন। এতে নেতৃত্বের দায়িত্ব, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।