বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাউল সাধক কানাই দাস আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
বাউল সাধক কানাই দাস আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে বাউল সাধক কানাই দাস শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।

তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস তিনি যক্ষ্মা (টিবি)-তে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিস সমস্যাও তাঁর ছিল।

দৃষ্টিহীন হয়েও কানাই দাস বাউল বাউল সংগীত ও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রাম, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে তিনি গেয়েছেন মানবতার গান—‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’, ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’সহ বহু জনপ্রিয় গান।

তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল বেদনা ও মানবতার দর্শন, তেমনি ছিল আধ্যাত্মিক গভীরতা। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন। ২০১৯ সালে ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। উইলিয়াম ডালরিম্পলের বই ‘নাইন লাইভস’-এও তাঁর জীবন ও গান নিয়ে অধ্যায় রয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে বাউল জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে শোক জানিয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পান্থ কানাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন-

“তার কণ্ঠে ছিল মাটির গন্ধ, তার সাধনায় ছিল আত্মার খোঁজ। তিনি শুধু গান গাইতেন না, তিনি মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যেতেন—ভালোবাসা, ভক্তি আর সত্যের বাণী নিয়ে। এই প্রস্থান যেন এক শূন্যতা রেখে গেল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবু তার গান, তার দর্শন, তার পথচলা—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে।”

Ads small one

তালায় তৃণমূল সিএসওদের আইনগত সহায়তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
তালায় তৃণমূল সিএসওদের আইনগত সহায়তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

তালা  প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ে তৃণমূল সুশীল সমাজ সংগঠনের (সিএসও) সদস্যদের নিয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ভূমিজ ফাউন্ডেশনের হল রুমে এই সভা আয়োজন করা হয়।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান অচিন্ত কুমার সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা লিগাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ লিটন দাশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুশীল প্রকল্পের জেলা কো-অর্ডিনেটর অঞ্জন কুমার দে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাব (HAB)-এর সভাপতি আনিছ উজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। এছাড়া ১৩টি হাবের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে অচিন্ত কুমার সাহা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনি অধিকার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, লিগাল এইড এবং এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল সিএসওগুলো এই প্রক্রিয়ায় সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

বক্তারা বলেন, দেশের পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রায়শই সচেতনতার অভাব ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সঠিক আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। তৃণমূল পর্যায়ের সিএসও সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করায় ভুক্তভোগী মানুষকে সঠিক তথ্য ও আইনি পরামর্শ দিয়ে সরকারি-বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে দিতে পারেন।

 

বিশেষ বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর সিনিয়র লিগাল অফিসার শাহরিয়ার নাসিম তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্লাস্টের আইনি সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্লাস্টের স্পেশালিস্ট রবিউল ইসলাম তৃণমূল সিএসওদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনি সংকট মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

মুক্ত আলোচনা পর্বে জেলা লিগাল এইড অফিসার লিটন দাশ সরকারের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবর্ধনা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবর্ধনা 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় শিশুদের সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনন্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে টাউন সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে ‘আরেফ-তায়েমা ট্রাস্ট, সাতক্ষীরা’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত)  আহমেদুর রহিম।

টাউন সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পারভীন বিলকিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুলতানপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব  হাফেজ কাজী সাইদুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রি ক্যাডেট স্কুলের উপাধ্যক্ষ ছন্দা সিনহা রাহা, সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাজী সাহাবুদ্দিন সাজু।

বক্তারা বলেন, “শিশুদের সুরক্ষায় সমাজ ও পরিবারের সচেতনতা সবার আগে প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে প্রতিটি শিশুই আগামী দিনে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের এই কৃতিত্বের ধারা বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্য বক্তারা শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুরক্ষার বিষয়টি মনে করতে হবে। বুঝেশুনে চলতে হবে।

আগে যেভাবে শিক্ষদের সম্মান করতো এখন আর করে না। পারিবারিক শিক্ষা জরুরী। মুল্যবোধের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সাতক্ষীরা ডিবি গার্লস স্কুলে ফল উৎসব পালন 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা ডিবি গার্লস স্কুলে ফল উৎসব পালন 

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের দাবদাহ ছাপিয়ে তখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা আম-কাঁঠালের মায়াবী সুবাস। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের বিদায়লগ্নে, ঠিক তেমনই বৃহস্পতিবার সোনালী দুপুরে প্রকৃতির এই রসাল উপহারে মেতে উঠেছিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি.বি) গার্লস হাইস্কুল। ঋতুরাজের বিদায়বেলায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসেছিল এক আনন্দঘন ‘ফল উৎসব’।

​প্রকৃতির এই ফলদ সুধাকে বরণ করে নিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এমাদুল ইসলাম। তরুণের উদ্দীপনা আর প্রবীণের অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক টুকরো মিলনমেলায়।

​উৎসবে স্মৃতিচারণ ও আনন্দের ভাগাভাগিতে শামিল হয়েছিলেন সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিত কুমার মন্ডল। জ্যৈষ্ঠের এই ফলবান উৎসবকে মুখরিত করে তুলতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সাবেক অভিভাবক সদস্য রবীন্দ্র কর্মকার, সিনিয়র শিক্ষক অরুণ কুমার মন্ডল, গীডা রানী সাহা, মোঃ নজিবুল ইসলাম, এসএম শহীদুল ইসলাম এবং শামীমা আক্তার।

​ঋতুর এই রঙের ছোঁয়ায় মেতে উঠেছিলেন শিক্ষক মোঃ হাফিজুল ইসলাম, দেবব্রত ঘোষ, খালেদা খাতুন, ভানুবতী সরকার, কনক কুমার ঘোষ, মৃনাল কুমার বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম, আসমাতারা জাহান, ভৈরব চন্দ্র পাল, হারুনর রশীদ, লুৎফর রহমান, লুৎফুন্নাহার, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দেলওয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।

​পাকা ফল আর প্রাণের কলকাকলিতে ভরা এই আয়োজনটি কেবল একটি উৎসবই ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল যান্ত্রিক জীবনের মাঝে বাংলার চিরায়ত লোকজ ঐতিহ্য ও ঋতুবৈচিত্র্যের এক অনন্য উদযাপন।