শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বাগআঁচড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ ক্লিনিককে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাগআঁচড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ ক্লিনিককে জরিমানা

oppo_0

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় অভিযান চালিয়ে ৪ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল ) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম।

অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জোহরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা, আল-মদিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা, বাগআঁচড়া নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা, ও জনসেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অংশ হিসেবে শার্শার বাগআঁচড়ায় অবস্থিত ক্লিনিকগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ৫২ ধারা আইনে ৪টি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতেও অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় তার সাথে ছিলেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা শুভেন্দু বিশ্বাস ও শার্শা থানার পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

তালার শাহাজাতপুর ইউসুফগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
তালার শাহাজাতপুর ইউসুফগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

তালা প্রতিনিধি: তালার খেশরায় শাহাজাতপুর ইউসুফগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহাজাতপুর ইউসুফ স্মৃতি সংঘের কার্যালয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
এতে চেয়ার প্রতীক নিয়ে পল্লী চিকিৎসক মো. শফিকুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি পদে জয়লাভ করেন। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. জাহিদুল ইসলাম (মাছ প্রতীক) এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সুমন গাজী (ফুটবল প্রতীক) জয়লাভ করেন।
এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে জি. এম. শাহাদাত হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পদে মীর আজগর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মীর শাহিন, প্রচার সম্পাদক পদে মো. সোহেল রানা, দপ্তর সম্পাদক পদে মো. হাসান মোড়ল, কার্যকরী সদস্য পদে মো. আতিজুর রহমান শেখ এবং আমজাদ মোড়লকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সহসভাপতি (তিনটি), সহসাধারণ সম্পাদক, সহক্রীড়া সম্পাদক, সমবায় সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক এবং কার্যকরী সদস্যের চারটি পদের মধ্যে দুটি পদে কোনো মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. আ. হক মোড়ল জানান, মোট ১৫০ জন ভোটারের মধ্যে ১৪২ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর মনিটরিংয়ে দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। যেসব পদে প্রার্থীরা ছিলেন না, সেই শূন্যপদগুলো পরবর্তীতে নির্বাচিত কমিটি আলোচনা করে পূরণ করে নেবে।

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

 

পত্রদূত ডেস্ক: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণসহ নগরীর রেলওয়ে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়, মেট্রো পুলিশ লাইনস স্কুল, ভিক্টোরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ন্যাশনাল বয়েজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খানজাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের লোনাজলে নতুন স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের লোনাজলে নতুন স্বপ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়নের এই যুগে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমেই তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি, মিষ্টি পানির অভাব এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় এলাকার প্রথাগত কৃষিব্যবস্থাকে এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবে সেই প্রতিকূলতা ও স্থবিরতাকে মেনে নিয়ে থমকে যাননি সাতক্ষীরার কৃষককুল। বরং বিজ্ঞানের উদ্ভাবন আর নিজেদের অমূল্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা প্রকৃতির এই বিরূপতার বিরুদ্ধে নতুন এক লড়াই গড়ে তুলেছেন। লোনা পানির মাছের ঘেরের অনাবাদি আইলে অসময়ে তরমুজ ও নানাবিধ সবজি ফলিয়ে তাঁরা জলবায়ু অভিযোজনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

একসময় চৈত্র-বৈশাখ মাসে যখন উপকূলের মাটিতে লবণাক্ততার পরাকাষ্ঠা থাকত, তখন ঘেরের আশপাশের আইলগুলো পতিত হিসেবেই পড়ে থাকত। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় অসময়ের তরমুজ চাষ প্রায় ১৪১ হেক্টর জমিতে বিস্তৃত হয়েছেÑযা গত মৌসুমের চেয়ে বহুগুণ বেশি। ঘেরের পানিতে সাঁতার কাটছে মাছ আর ওপরের আইল বা মাচায় শোভা পাচ্ছে সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি, তৃপ্তির মতো প্রজাতি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে ফলানো রকমারি সবজি। দেবহাটা কিংবা তালার প্রান্তিক কৃষকদের এই সফলতা কেবল ব্যক্তিগত আয়ের নতুন উৎস তৈরি করেনি, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তায় এক দারুণ প্রভাব ফেলছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই নতুন কৃষিধারায় ঘরের নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় দিনমজুরদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে গ্রামীণ অর্থনীতির এক আশাব্যঞ্জক দিক।

তবে কৃষকদের এই বিস্ময়কর সাফল্যকে কোনোভাবেই চিরস্থায়ী ধরে নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। এই সম্ভাবনাময় উদ্যোগটির সামনে এখনো কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। এর মধ্যে প্রধান সংকট হলো সেচের উপযোগী মিষ্টি পানির তীব্র অভাব, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত। চারা টিকিয়ে রাখতে কিংবা ফলন ভালো রাখতে কৃষকদের যে অতিরিক্ত শ্রম ও খরচ মেটাতে হয়, তা অনেক সময় তাঁদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

উপকূলীয় কৃষকদের এই ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে একটি টেকসই কৃষিমডেল হিসেবে রূপ দিতে হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জোরদার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথমত, সেচসুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বৃষ্টিসংরক্ষণ প্রযুক্তি ও উপকূলীয় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ুসহিষ্ণু ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু বীজের সহজলভ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আধুনিক কৃষিতথ্যের তদারকি আরও জোরদার করা জরুরি।

সাতক্ষীরার লোনা পানির ঘেরে কৃষকদের হাত ধরে তরমুজের যে মৃদু হাসি ফুটে উঠেছে, তা কেবল একটি ফসলের ফলন নয়Ñতা প্রতিকূল প্রকৃতিকে জয় করে বেঁচে থাকার এক বলিষ্ঠ প্রতীক। সরকারি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, কার্যকর নীতিমালা এবং নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার সুযোগ পেলে উপকূলীয় এলাকার এই সবুজ বিপ্লব দেশের সার্বিক কৃষিখাত ও খাদ্য নিরাপত্তায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।