শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

বিরল রাজনৈতিক নিয়োগ: বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
বিরল রাজনৈতিক নিয়োগ: বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী

তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী কোনও দেশে রাজনৈতিক নিয়োগের পথে হাঁটছে ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীর নাম প্রস্তাব করেছে নয়াদিল্লি। ঢাকায় নতুন দূত নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে গত এক মাস ধরেই বিভিন্ন মহলে নানা নাম নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বিজেপির জ্যেষ্ঠ এই নেতাকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বেছে নিলো নয়াদিল্লি।

সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার লিখেছে, ত্রিবেদীর নাম ইতোমধ্যে ঢাকার কাছে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের ঘোষণা দেবে।

দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার কূটনীতিকদের মাধ্যমেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে দূত পাঠিয়ে আসছে ভারত। বর্তমানে ভারতের একমাত্র রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। তিনি অবসরের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হয়েছেন। লন্ডন ও ওয়াশিংটনের বাইরে সাধারণত রাজনৈতিক নিয়োগের ঘটনা বেশ বিরল। তবে নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে সাবেক সিবিআই প্রধান আর কে রাঘবনকে সাইপ্রাসে এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগকে সেশেলসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আর প্রতিবেশী কোনও দেশে সর্বশেষ রাজনৈতিক নিয়োগের ঘটনা ছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। ওই সময় ইতিহাসবিদ বিমল প্রসাদকে কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছিল।

শেখ হাসিনার পতনের ১৮ মাস পর সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভারত তাদের প্রতিবেশী দেশটিতে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে পড়েছিল। এখন সেই সম্পর্ক নতুন করে সাজাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপির জয় স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয় ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কোনও মন্ত্রী পর্যায়ের সফরে চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দুই দিনের সেই সফরে বাংলাদেশ বেশ কিছু অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত থেকে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান বিন হাদীর হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। এছাড়া জয়শংকর জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা, বিশেষ করে মেডিক্যাল ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা (১৯৯৪ ব্যাচের আইএফএস কর্মকর্তা) ব্রাসেলসে ভারতের দূত হিসেবে ইতোমধ্যে দায়িত্ব পেয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

কে এই দীনেশ ত্রিবেদী?

৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে রেল বাজেট পেশ করার সময় যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি দলীয় নেতৃত্বের তোপের মুখে পড়েন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। দীনেশ ত্রিবেদী লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেরই সদস্য ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার সদস্য এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরের মাসেই বিজেপিতে যোগ দেন।

Ads small one

শ্যামনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিষ্ণুপদ ও সম্পাদক কিরণ শংকর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিষ্ণুপদ ও সম্পাদক কিরণ শংকর

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি বিষ্ণু পদ মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক পদে কিরণ শংকর চ্যাটার্জী নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কাউন্সিলে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

শ্যামনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বিষ্ণুপদ মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জী, শ্যামনগর উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিধুশ্রুবা মন্ডল, জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন, কোষাধ্যক্ষ রায় দুলাল চন্দ্র, শ্যামনগর উপজেলা শাখার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অমল কৃষ্ণ মন্ডল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অসীম কুমার দাস।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংরক্ষণ এবং সামাজিক ঐক্য জোরদারে সংগঠনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

পরে কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বিষ্ণুপদ মন্ডল সভাপতি এবং কিরণ শংকর চ্যাটার্জী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের প্রতি সকলের আস্থা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শ্যামনগরে সম্প্রীতি রক্ষা, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা এবং সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় তারা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক কিরণ শংকর চ্যাটার্জী।

 

শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জামায়াতের র‌্যালি ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জামায়াতের র‌্যালি ও সমাবেশ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: “মাদক সমস্যার বৈশ্বিক চিত্র: অমীমাংসিত সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী পদক্ষেপ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে শ্যামনগর ঈদগাহ ময়দান থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর জেসি কমপ্লেক্স চত্ত্বরে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সাইদি হাসান বুলবুল। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান। বক্তব্য দেন উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রেজাউল ইসলাম, মাওলানা আমিনুর রহমান, অধ্যাপক গাজী আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক মহসিন আলম, ইমাম হাসান, আব্দুর রশিদ, আসাদুজ্জামানসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমানে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের কারণে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদকাসক্তির ফলে নৈতিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

 

ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি সমাজের জন্য অশনিসংকেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি সমাজের জন্য অশনিসংকেত

প্রতিকী ছবি

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎ধর্ম মানুষের আত্মিক শান্তি, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। একজন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও পরমতসহিষ্ণুতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে ‘ধর্মপ্রাণতা’ এবং ‘ধর্মান্ধতা’ এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়কে একাকার করে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা সমাজে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।

 

ধর্মান্ধতা বলতে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও উদ্দেশ্য না বুঝে অন্ধ অনুসরণ, গোঁড়ামি এবং অসহিষ্ণুতাকে বোঝায়। ধর্মান্ধ ব্যক্তি নিজের মতকেই একমাত্র সত্য মনে করেন এবং অন্যের মতামত বা বিশ্বাসকে সম্মান করতে চান না। এর ফলে সমাজে বিভেদ, বিদ্বেষ, উগ্রতা ও অশান্তির জন্ম হয়। অথচ কোনো ধর্মই এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।

 

অন্যদিকে প্রকৃত ধর্মপ্রাণতা মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম, মানবতা ও পরোপকারের শিক্ষা দেয়। ইসলাম নিজেকে মানবজাতির জন্য আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছে (সূরা আলে ইমরান: ১৯)। ইসলামের প্রকৃত অনুসারী ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর নির্দেশনা মেনে চলেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে দ্বীনদার মুসলিমদের ‘ধর্মান্ধ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

 

অথচ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে উগ্রতা নয়, বরং প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা ও ভারসাম্যের দিকে আহ্বান করে। মানুষের জ্ঞান সীমিত, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান অসীম। তাই কোনো বিষয় মানুষের বোধগম্যতার বাইরে থাকলেও আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা একজন মুসলিমের ঈমানের অংশ।

 

পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের ‘সর্বোত্তম উম্মত’ (সূরা আলে ইমরান: ১১০) এবং ‘মধ্যপন্থী জাতি’ (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বাড়াবাড়ি কিংবা শিথিলতা উভন্তয় চরমপন্থা থেকে দূরে থেকে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই ইসলামের শিক্ষা।

 

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য যুবসমাজকে সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ইতিবাচক সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ধর্মকে বিভেদ নয়, মানবকল্যাণ ও নৈতিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‎আসুন, আমরা গোঁড়ামি ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করে প্রকৃত ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে একটি শান্তিময়, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণকর সমাজ গড়ে তুলি।