শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব প্রাণি দিবস: প্রাণের বৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষের দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব প্রাণি দিবস: প্রাণের বৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষের দায়িত্ব

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রাণি প্রকৃতির অলংকার নয়, প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বন, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, জলাভূমি ও মানুষের জীবনÑসবকিছুর সঙ্গে প্রাণিজগতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক, প্রাণির প্রতি মানুষের দায়িত্ব এবং তাদের কল্যাণ ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রতি বছর ৪ অক্টোবর বিশ্ব প্রাণি দিবস পালিত হয়। দিনটি প্রাণিদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি আন্তর্জাতিক উপলক্ষ।

বিশ্ব প্রাণি দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জার্মান প্রাণি-সুরক্ষা আন্দোলনকর্মী, লেখক ও প্রকাশক হাইনরিখ জিমারম্যানের নাম। তাঁর উদ্যোগে ১৯২৫ সালের ২৪ মার্চ জার্মানির বার্লিনের স্পোর্ট প্যালেসে প্রথম বিশ্ব প্রাণি দিবসের আয়োজন হয়; এতে ৫ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। ১৯২৯ সালে দিবসটি প্রথমবারের মতো ৪ অক্টোবর পালিত হয়। পরে ১৯৩১ সালের মে মাসে ইতালির ফ্লোরেন্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রাণি-সুরক্ষা সংগঠনগুলোর কংগ্রেসে ৪ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রাণি দিবস হিসেবে সর্বজনীনভাবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। ৪ অক্টোবর ক্যাথলিক ঐতিহ্যে প্রাণি ও পরিবেশের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত সেন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসির ভোজোৎসবের দিন।

এই দিবসের মূল লক্ষ্য শুধু প্রাণিপ্রেমের কথা বলা নয়; প্রাণির কল্যাণের মান উন্নত করা, নিষ্ঠুরতা রোধ করা, দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রাণি সুরক্ষায় ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। ‘তাদের চোখ দিয়ে বিশ্বকে দেখো’ ২০২৬ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব প্রাণি দিবসের আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোতে সচেতনতা কর্মসূচি, আলোচনা, শিক্ষা, তহবিল সংগ্রহ, প্রাণিকল্যাণ কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

জীববিজ্ঞানে প্রাণীজগৎ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কশেরুকী প্রাণির পাশাপাশি পৃথিবীতে রয়েছে বিপুলসংখ্যক অমেরুদ-ী প্রাণিÑকীটপতঙ্গ, মাকড়সা, শামুক, কাঁকড়া, চিংড়ি, কেঁচো, জেলিফিশ, প্রবাল, স্পঞ্জসহ অসংখ্য প্রাণি। ক্যাটালগ অব লাইফ-এর ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর
এক্সটেন্ডেড রিলিজÑঅ্যানিমেলিয়াতে প্রায় ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ প্রজাতি তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে এটি পৃথিবীর সব প্রাণি প্রজাতির চূড়ান্ত সংখ্যা নয়; ক্যাটালগ অব লাইফ নিজেই জানায় যে বৈশ্বিক প্রজাতির তালিকা এখনও অসম্পূর্ণ এবং এতে সংশোধনের প্রয়োজন থাকতে পারে।

প্রাণির বৈচিত্র্য শুধু সংখ্যার বিষয় নয়। পরাগায়ন, বীজ বিস্তার, খাদ্যশৃঙ্খল, মাটির উর্বরতা, জলজ পরিবেশের ভারসাম্য এবং বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রাণিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি প্রজাতির বিলুপ্তি অনেক সময় তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য জীব ও পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রাণি সংরক্ষণ মূলত জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণেরই অংশ।

বর্তমান পৃথিবীতে প্রাণিজগতের ওপর নানা চাপ রয়েছে। আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড়, অতিরিক্ত শিকার ও আহরণ, অবৈধ বন্যপ্রাণি বাণিজ্য, দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন অনেক প্রজাতির অস্তিত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আইইউসিএন-এর ২০২৬-১ সংস্করণে ৪৯,৫০০-এর বেশি প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে; তবে আইইউসিএন একই সঙ্গে সতর্ক করেছে যে সব প্রাণি ও সব শ্রেণির প্রজাতি সমানভাবে মূল্যায়িত হয়নি।

বাংলাদেশের চিত্রও উদ্বেগমুক্ত নয়। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের জাতীয় প্রাণি লাল তালিকায় সাতটি প্রাণিগোষ্ঠীর ১,৬১৯টি প্রজাতি মূল্যায়ন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৯০টি প্রজাতি হুমকির মুখে এবং ৩১টি প্রজাতি বাংলাদেশ থেকে আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়। মূল্যায়িত প্রাণিগুলোর মধ্যে ছিল ১৩৮টি স্তন্যপায়ী, ৫৬৬টি পাখি, ১৬৭টি সরীসৃপ, ৪৯টি উভচর, ২৫৩টি স্বাদুপানির মাছ, ১৪১টি ক্রাস্টেশিয়ান ও ৩০৫টি প্রজাপতি।

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণির মধ্যে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে সুন্দরবনে ২০১৫ সালে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টি বাঘ পাওয়া যায়। বাঘের পাশাপাশি হাতি, গাঙ্গেয় শুশুক, হুলক গিবন, কচ্ছপ, ঘড়িয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণির আবাসস্থল রক্ষা করাও জরুরি।

প্রাণি রক্ষার দায়িত্ব শুধু বন বিভাগ বা সংরক্ষণ সংস্থার নয়। বন ও জলাভূমি রক্ষা, অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণি বাণিজ্য প্রতিরোধ, দূষণ কমানো, প্রাণির প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করা এবং আহত বা বিপদগ্রস্ত প্রাণিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়াÑএসব ক্ষেত্রেই নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিয়মিত প্রজাতি পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষিত এলাকার কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

প্রাণি সম্পর্কে মানুষের নৈতিক ধারণার সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধেরও যোগ রয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিতে প্রাণি আল্লাহর সৃষ্টির অংশ। কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ সব জীবন্ত প্রাণিকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের চলাচলের বিভিন্ন ধরন উল্লেখ করেছেন। আবার সূরা আল-আনআমের ৩৮ নম্বর আয়াতে প্রাণীদেরও “তোমাদের মতো বিভিন্ন সম্প্রদায়” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী ঐতিহ্যে প্রাণির প্রতি দয়া ও অকারণে কষ্ট না দেওয়ার শিক্ষা রয়েছে। অন্য ধর্মীয় ও নৈতিক দর্শনেও অহিংসা, করুণা ও জীবের প্রতি সহমর্মিতার মূল্যবোধ দেখা যায়।

বিজ্ঞান প্রাণির গঠন, জীবনপ্রক্রিয়া, বিবর্তন, পরিবেশগত সম্পর্ক ও বিলুপ্তির কারণ অনুসন্ধান করে; ধর্ম ও নৈতিক দর্শন মানুষের দায়িত্ব ও আচরণের প্রশ্ন সামনে আনে। দুটি ক্ষেত্রের আলোচনার ধরন ভিন্ন হলেও প্রাণির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও প্রকৃতির প্রতি যতেœর প্রয়োজনীয়তা মানবসমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বিশ্ব প্রাণি দিবস তাই কেবল প্রাণিদের জন্য একটি বিশেষ দিন নয়; এটি মানুষের নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবার দিন। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণি কোনো না কোনোভাবে জীবনের বৃহৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। একটি নিরাপদ আবাসস্থল, নির্মল পানি, খাদ্য ও মানুষের সহনশীল আচরণ অনেক প্রাণির টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিকে ভালোবাসা মানে শুধু পোষা প্রাণির যতœ নেওয়া নয়Ñবন্যপ্রাণি, পাখি, জলজ প্রাণি, কীটপতঙ্গসহ সমগ্র প্রাণিজগতের অস্তিত্বের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।

৪ অক্টোবরের এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñপ্রাণি রক্ষা মানে প্রকৃতি রক্ষা, আর প্রকৃতি রক্ষা মানে মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষা। তাই সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ, আইন প্রয়োগ এবং মানবিক আচরণের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে প্রাণি ও মানুষের জন্য আরও নিরাপদ পৃথিবী। ‘প্রাণি বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, রক্ষা পাবে বিশ্ব চরাচর। আসুন-বাড়িয়ে দিই ভালোবাসার হাত, নিরাপদ হোক ওদের ঘর।

Ads small one

গোপালগঞ্জসহ ৩ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জসহ ৩ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

শারদীয় দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হবে। এসব জেলায় ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।

তিনি বলেন, সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তি‌নি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৪২৫টি পূজামণ্ডপ। ব্যাটালিয়ন সদর দফতরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে এক হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকায় রয়েছে ১৮৩টি পূজামণ্ডপ।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলো এরই মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা সহায়তা সহজ করতে ২১টি বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, বিজিবি সদর দফতর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

পূজার সময় গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি থাকবে বলেও জানান তিনি। কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন ও উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন। সবার সহযোগিতায় দুর্গাপূজার প্রতিটি দিন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মোদি বিরোধী পোস্ট, ইমরান খানকে ১৫ লাখ রুপির প্রস্তাব!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
মোদি বিরোধী পোস্ট, ইমরান খানকে ১৫ লাখ রুপির প্রস্তাব!

বলিউড অভিনেতা ইমরানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে মুম্বাই পুলিশ। এই ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত নেটভুবন। সিনেপাড়ার কিছু সদস্য অভিনেতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আবার অনেকেই এই নির্দেশকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে আদা জল খেয়ে ময়দানে নেমেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বোমা ফাটালেন অভিনেতা নিজেই।

মোদি বিরোধী পোস্টের জন্য তাকে পনেরো লাখ রুপির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তবে অভিনেতা সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করেই ‘ককরোচ’দের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খানের এমন একটি পোস্ট দাবানলের গতিতে ভাইরাল হয়েছে।

পোস্টে লেখা ‘মোদি সরকার বিরোধী পোস্টের জন্য আমাকে ১৫ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আমি কখনই সেই প্রলোভনের ফাঁদে পা দিইনি। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই আমি প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলাম।’

তবে ইমরানের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল খতিয়ে দেখেও ওই ধরনের কোনও স্টোরি কিন্তু পাওয়া যায়নি। নেটিজেনদের একাংশেরও অনুমান, স্ক্রিনশটটি ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ভাইরাল টুইটটির প্রতিক্রিয়ায় এক নেটিজেনের প্রতিক্রিয়া, ‘আবারও ভুয়া স্ক্রিনশট! প্রতিদিন কোনও না কোনও সেলিব্রিটির নামে নতুন ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়ানো হয়।’

নেটভুবনের একাংশ আবার এই ভুয়া পোস্টটিকেই সত্য বলে দাবি করছেন। ভাইরাল হওয়া পোস্টের বিরুদ্ধে ইমরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় কিনা এখন সেটাই দেখার।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

আজ মহাষষ্ঠী।‌ দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মন্দিরগুলোতে ধূপ-ধুনুচি, পঞ্চপ্রদীপ, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেবীর বোধন, আবাহন এবং অধিবাসের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা করা হয়েছে।

এ দিন সকাল থেকে চণ্ডিপাঠে মুখরিত ছিল পূজামণ্ডপ। শঙ্খ ধ্বনি, ধূপের সুঘ্রাণ, আর ঢাকঢোলের বাদ্যের সঙ্গে ভক্তি-মন্ত্রে মেতে উঠেছে দেবী ভক্তরা। এরপর সায়ানকালে দেবীদুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে দুর্গার প্রতিমা। খড়গ-কৃপাণ, চক্র, গদা, তীর-ধনুক, ত্রিশূল আর কল্যাণ নিয়ে উপস্থিত হবেন এবং মহিষাসুর বধ করে হেসে উঠবেন দেবী।

সনাতন ধর্মমতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন—বাধা-বিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন—দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। এ বছর ভক্তদের কষ্ট দূর করতে দেবী দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে, আর দশমীর দিন বিদায় নেবেন নৌকায়।

মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে আর বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এ দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিদিনই নানান আয়োজনে চলবে পূজা উৎসব। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুই দিন মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দুর্গা দেবী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সায়ংকালে দেবীর বোধন সম্পন্ন করা হয়েছে। বোধন মানে জাগ্রত করা বা জাগানো। বোধন হয় বেল গাছের তলায়। দেবতারাও বেল গাছের তলায় বোধন করেছিলেন, এ গাছের অন্য নাম শ্রীবৃক্ষ। শ্রী অর্থ সম্পদ বা সৌন্দর্য। তাই পুরোহিতরা সম্পদ বা সৌন্দর্য বা সংসারের উন্নতির জন্য, জ্ঞান ভক্তি লাভের জন্য বেল গাছের মূলে দুর্গাপূজার বোধন করেন।

এদিকে প্রতিমার সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় রাজধানীসহ সারাদেশের মন্দির চত্বর উৎসবমুখর। শঙ্খ ও উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে ভক্তরা দেবীকে বরণ করে নিয়েছেন। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দেশজুড়ে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে চলবে দেবীর আরাধনা। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা দেড় হাজার বেশি। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মন্দির-মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে। ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি, আর ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।