বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বৃষ্টি উপেক্ষা করে নৌকা বাইচ দেখতে চিত্রা নদীতে মানুষের ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নৌকা বাইচ দেখতে চিত্রা নদীতে মানুষের ঢল

সৈয়দ অনুজ, ফকিরহাট (বাগেরহাট): বাগেরহাটের ফকিরহাটে উৎসবমূখর পরিবেশে মায়ারখালী চিত্রা নদীতে ৩৬তম বার্ষিক গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শনার্থীদের ঢল নামে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাচীনতম এ উৎসব উপভোগ করতে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষ সহ নানা বয়সের মানুষ আনন্দে মেঠে উঠে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে ১০টি নৌকা অংশগ্রহন করে। নৌকাবাইচ এর আয়োজন করে মায়ারখালী যুব সংঘ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজন কমিটির সভাপতি পরিতোষ বাগচী, সাধারন সম্পাদক রঞ্জন বালা ও মিল্টন শাখারীসহ কমিটির কিরন মন্ডল, পঞ্চানন বিশ্বাস, গৌতম বিশ্বাস, সঞ্জিত বিশ্বাস, মনোজ গাইন, মিলন মোহšসহ অন্যান্যরা। নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার রোধে সময়োপযোগী পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার রোধে সময়োপযোগী পদক্ষেপ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের স্থল ও সামুদ্রিক বন্দরগুলো দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অবৈধ অর্থ স্থানান্তর এবং পাচার ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক কড়াকড়ি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’-এর আওতায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের ঋণপত্র (এলসি) খোলার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করার নতুন নির্দেশনা বৈদেশিক মুদ্রা সদ্ব্যবহার এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ফেরাতে একটি বড় পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে ওভার-ইনভয়েসিং বা পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার দেশীয় অর্থনীতির জন্য অন্যতম বড় ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। কাস্টমস ও সোনালী ব্যাংক সূত্রের তথ্যানুযায়ীÑআমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পণ্যের বিবরণ এবং মূল্যের যে তিন স্তরের আগাম যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা বহাল থাকলে ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার পাচারের সুযোগ অনেকাংশে বন্ধ হবে। কোনো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বা আমদানিকারক এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে অর্থদ- ও নিষেধাজ্ঞার বিধান রেখে অনিয়মের পথ আরও কঠিন করা হয়েছে।

তবে শুধু নতুন নীতিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর শতভাগ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিগত তদারকি, কাস্টমস হাউসের অনলাইন মনিটরিং এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সতর্ক ভূমিকা যদি সুসংহত না হয়, তবে অসাধু চক্র আইনের ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করতে পারে। সুতরাং, প্রশাসনিক পর্যায়ে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজনিত কারণে যেন বৈধ ও সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনাকারী আমদানিকারকেরা দীর্ঘসূত্রতা বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতার শিকার না হন, সেদিকেও সমান্তরাল দৃষ্টি রাখতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা ও অর্থনীতিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই জোরালো সমন্বয় অব্যাহত থাকবেÑএমটাই প্রত্যাশিত।

সমান অধিকার/ নাসরিন সুলতানা ডেইজি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সমান অধিকার/ নাসরিন সুলতানা ডেইজি

মুক্তমত

“নারীর সমান অধিকার” নিয়ে অনেকেই লিখেছেন বা লিখেন- বাবার সম্পত্তিতে সমান অধিকার পেলেই নাকি নারী তার সকল অধিকার পাবে। কিন্তু আদৌ কি সেটাই! সমান অধিকারের সংজ্ঞা কি সম্পত্তি দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়াকেই কেবল বোঝায়! একজন নারী যেদিন জন্ম নেয় সেদিন থেকেই তার জন্মগ্রহণটাই তো বৈষম্যের স্বীকার হয়।যখন একটা মেয়ে সন্তান এ পৃথিবীতে আসে তখন সংসার ও সমাজের কজন মানুষই আনন্দের সাথে স্বাগত জানায় তাকে!

 

এমনকি বাবা-মা ও কি একটু হলেও কষ্ট পায় না? মা! সেও মন খারাপ করে। কি অদ্ভুত তাই না! কেন বলুন তো? সে নিজেই তো একটা নারী। তাহলে! প্রশ্ন এখানেই। মা একজন নারী হলেও এ পৃথিবীর মানুষ তাকে এমন মানসিকতা দিয়ে গড়ে তোলে যে সে মনে করে মেয়ে সন্তান জন্ম দেয়া মানে -সে কিছুই অর্জন করল না। মেয়ে মানে আমার মা হিসেবে গর্ব করার আর অধিকার থাকলো না। আর এখান থেকেই শুরু হয় বৈষম্য। মানসিক বৈষম্য থেকেই সৃষ্টি হয় একজন নারীকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা।

 

তিনবেলা খাবারের মধ্েয বৈষম্য, পড়াশুনায় বৈষম্য-ছেলে সন্তানকে লেখাপড়া করতে হবেই কিন্তু মেয়ে সন্তান কোন একটা ডিগ্রি নিলেই হবে, কোনমতে একটু স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে বিয়ে দিয়ে বেহেশতের দরজা বাবা মায়ের জন্য নিশ্চিত করা,এ পৃথিবীতে জন্ম নিয়েও নারী নাকি নিজের মতো করে এ পৃথিবী দেখতে পারবে না-তাকে সর্বদাই পর্দার আড়ালে থাকতে হবে( ধর্মীয় বৈষম্য), বেহেশতেও পুরুষদের মতো কোন সুযোগ দেয়া হয়নি যেমন হুর (মৃত্যুর পরেও বৈষম্য), নারীকে বিভিন্ন ফতোয়া দেয়া হয় বেহেশতবাসী হওয়ার জন্য। যেন জোর করে এ পৃথিবীর নারীকে বেহেশতে পাঠাতে হবে। অথচ নিজেরা জান্নাতে যেতে পারবে কিনা প্রশ্ন রয়ে যায়। নারীর জন্ম নাকি কেবল অন্েযর ভোগের জন্য।

 

নারীর শারীরিক চাহিদা অস্বীকার করার এই যে মানসিকতা,তাকে ভোগ্যপন্য করে তোলার এই যে বৈষম্য এমনকি ‘সতিত্ব’ নামক এক ভয়ঙ্কর শব্দ মেয়েদের ওপর চাপানো যা সবই মেয়েরা নিজেরাও মেনে নিয়েছে। নারীর সমান অধিকার তখনই আসবে যখন একটা মেয়ে সাহিত্য, দর্শন, ধম, সৃষ্টি নিয়ে নিজেরাই উপলব্ধি করতে শিখবে। অন্যের চাপিয়ে দেওয়া চিন্তাকে ধারণ না করবে তখন আসল মুক্তি মিলবে।

 

মনের যে দাসত্বের শৃঙ্খল আছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই সব সমাধান। তার জন্য পড়াশুনা, নিজের জীবন যাপন নিজের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা, চিন্তাকে প্রসারিত করা, পৃথিবীকে পুরুষের মতো নিজের ও অধিকারের জায়গা মনে করা, এ ভুবনকে নিজের চোখে ও মনে উপলব্ধি করা তা যেন কোনভাবেই পুরুষের সৃষ্টি করা চোখে না হয়, সুখটাকে নিজে অর্জন করতে পারা।

 

সুখ বলতে মেয়েরা বোঝে কেবলই স্বামীর ভালবাসা কিন্তু আদৌ কি তা কারো কাছ থেকে পাওয়া যায়! এটা তো মন! মনের ওপর কি কারোর কোন নিয়ন্ত্রণ আছে? নারী চাইলেও স্বামীর কাছ থেকে সেটা পাবে না আর এই চাওয়াটাও বোকামি। অনেকে মনে করেন প্রভাবশালী ও ধনবান পিতার মেয়ে সন্তান হলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভয় করে চলে, অনেকে ভাবেন স্বামী নামকরা ব্যক্তিত্ব হলে সন্তানরা ও সমাজ তাকে মান্য করে। এটা ও এক ধরনের পরনির্ভরশীলতা।

 

এসব মানসিক বদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসলেই সবকিছু আপনাতেই নিজের অধিকারে চলে আসবে-তা বাবার সম্পত্তি হোক, সুখ হোক, সম্মান হোক এমনকি ধর্মের অধিকারসহ এ জগতের সবই জীবনে এমনিতেই পেয়ে যাবে একজন নারী। আগে আমরা নারীকে অন্েযর ওপর থেকে মানসিক ও আর্থিকসহ সকল নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসার মানসিকতা সৃষ্টি করি তখন কারোরই কোন ক্ষমতা থাকবে না তাকে অনৈতিক ও অন্যায় শাসন, শোষণ বা আধিপত্য বিস্তার করার।মোটকথা নিজের পরিচিতি তৈরীই একজন নারীর সকল অধিকার করায়ত্ত করার একমাত্র উপায়।

সমান কাজের সমান মজুরি: ন্যায়বিচার ন্যায্যদাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
সমান কাজের সমান মজুরি: ন্যায়বিচার ন্যায্যদাবি

সাকিবুর রহমান বাবলা

একজন মানুষ নারী না পুরুষ-তার ভিত্তিতে শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। কাজের ধরন, দক্ষতা, দায়িত্ব ও শ্রমের মূল্য যদি সমান হয়, তবে পারিশ্রমিকেও বৈষম্য থাকার কথা নয়। অথচ বাস্তবে বিশ্বের বহু কর্মক্ষেত্রে নারী এখনো পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে নারীরা গড়ে পুরুষের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম পারিশ্রমিক পান। এই বাস্তবতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক সমান মজুরি দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪/১৪২ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটির স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ২০২০ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক সমান মজুরি দিবস পালিত হয়।

সমান মজুরি বলতে শুধু একই ধরনের কাজের জন্য একই টাকা বোঝায় না। সমান মূল্যের কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক-এই নীতিটি আরও বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১০০ নম্বর কনভেনশনে নারী ও পুরুষের সমান মূল্যের কাজের জন্য লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ছাড়া সমান পারিশ্রমিকের নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এই কনভেনশন অনুমোদন করেছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এর ৮ নম্বর লক্ষ্যের ৮.৫ নম্বর লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষ সবার জন্য পূর্ণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, শোভন কাজ এবং সমান মূল্যের কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নও এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সমান মজুরি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ইউএন উইমেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। ইকুয়াল পে ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন-এর মাধ্যমে সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনকে সমান মজুরি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। ২৮(১) অনুচ্ছেদে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য না করার কথা বলা হয়েছে। ২৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আবার ২৯ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবিধানের ২০ অনুচ্ছেদ। সেখানে কর্মকে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতে পারিশ্রমিকের নীতির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শ্রমের মর্যাদা এবং শ্রমের ন্যায্য মূল্য-দুটিই রাষ্ট্রের মৌলিক দর্শনের অংশ।

বাংলাদেশ শ্রম আইনেও সমান মজুরির বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শ্রম আইনের ৩৪৫ ধারায় একই প্রকৃতির বা একই মান বা মূল্যের কাজের জন্য পুরুষ, নারী ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের সমান মজুরির নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ৩৪৫ক ধারায় জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, লিঙ্গ পরিচয়, ধর্ম, রাজনৈতিক মতামত, জাতীয়তা, সামাজিক অবস্থান, বংশ বা প্রতিবন্ধিতার কারণে বৈষম্যমূলক আচরণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে আইন থাকলেই বৈষম্য শেষ হয়ে যায় না। বাস্তব জীবনে অনেক নারী এখনো কৃষিকাজ, দিনমজুরি, গৃহস্থালি শ্রম, পোশাকশিল্প, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম মজুরির মুখোমুখি হন। আইএলওর বাংলাদেশের তথ্যেও বিভিন্ন পেশায় নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধানের কথা উঠে এসেছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেশি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষাতেও শ্রমের মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামে শ্রমিকের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধের শিক্ষা রয়েছে। কোরআনে মানুষের নিজ নিজ অর্জন ও প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় শিক্ষাতেও শ্রমিক তার পারিশ্রমিকের যোগ্য-এই নীতি স্পষ্ট। সনাতন ধর্মীয় দর্শনেও কর্ম, কর্তব্য ও ন্যায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভাষা ভিন্ন হলেও শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং মানুষের মর্যাদার বিষয়টি বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্ব পেয়েছে।

সমান মজুরি তাই শুধু নারীর অধিকার নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়। একজন নারী একই যোগ্যতা, সময়, শ্রম ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে শুধু নারী হওয়ার কারণে তার পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়া তার শ্রমের মর্যাদাকে ছোট করা। আবার একজন পুরুষকে শুধু পুরুষ হওয়ার কারণে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়াও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই পরিবর্তন শুধু সরকার বা আদালতের মাধ্যমে সম্ভব নয়। একজন সচেতন নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারে গৃহস্থালি কাজকে শুধু নারীর দায়িত্ব মনে না করা, কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছ বেতন কাঠামো রাখা, একই কাজের জন্য বৈষম্যমূলক মজুরি না দেওয়া, শ্রমিককে তার অধিকার সম্পর্কে জানানো এবং কোথাও বৈষম্য দেখা গেলে প্রতিবাদ করা-এসবই নাগরিক দায়িত্বের অংশ।
নিয়োগকর্তাদেরও দায়িত্ব কম নয়। যোগ্যতা ও কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতিতে সমান সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ এবং বেতন কাঠামোয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। নারী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বের সুযোগও বাড়াতে হবে।

সমান মজুরি দিবস আমাদের শুধু একটি আন্তর্জাতিক দিবসের কথা মনে করিয়ে দেয় না; এটি আমাদের চারপাশের শ্রমজীবী মানুষের দিকে নতুন করে তাকাতে শেখায়। একজন কৃষিশ্রমিক নারী, একজন পোশাকশ্রমিক, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, একজন শিক্ষক কিংবা একজন পেশাজীবী-প্রত্যেকের শ্রমের মূল্য আছে। কাজের মূল্য যেন মানুষের লিঙ্গ দিয়ে নির্ধারিত না হয়, সেটিই এই দিবসের মূল শিক্ষা।

সমান কাজের সমান মজুরি কোনো দয়া নয়, কোনো অনুগ্রহও নয়-এটি ন্যায়সঙ্গত অধিকার। আইন, সংবিধান, আন্তর্জাতিক শ্রমনীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক নৈতিকতা-সবকিছুর আলোকে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি কর্মসমাজ, যেখানে মানুষ তার পরিচয়ের কারণে নয়, তার কাজের ন্যায্য মূল্য অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে। সেই সমাজ গড়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেমন, তেমনি নিয়োগকর্তা, শ্রমিক, পরিবার এবং প্রত্যেক সচেতন নাগরিকেরও।