শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেত্রবতী হাইস্কুলে বিদায় সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
বেত্রবতী হাইস্কুলে বিদায় সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯এপ্রিল) সকাল ১১টায় প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল এঁর সভাপতিত্বে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং ষষ্ঠ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী শিক্ষক মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, ডাক্তার আব্দুল জব্বার, বেত্রবতী হাইস্কুল জামে মসজিদের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, ডাক্তার আব্দুস সামাদ, সহকারী শিক্ষক মাওলানা আব্দুদ দাইয়ান, আবুবকর ছিদ্দীক, আনারুল ইসলাম, তজিবুর রহমান, সাইফুল আলম, নাছরিন সুলতানা, জাকিয়া পারভীন, সমীর কুমার সরকার, দেবাশীষ সরদার, শেখ মহিরুল ইসলাম, পপি মন্ডল, অফিস সহায়ক ফারুক হোসেন, এরশাদ আলী, প্রেসক্লাবের সদস্য কাজী সিরাজুর রহমান, মনিরুল ইসলাম মনি, বিদায়ী শিক্ষার্থী তানভীর সোহেল, আব্দুল্লাহ আল মুহিন, রোহান পিয়াল, আবির হাসান, শেখ মাসুম বিল্লাহ, সুরাইয়া আক্তার তন্বী, শামিমুজ্জামান শেখ, শিক্ষার্থী রিফাজ হোসেন, জেরিন তাবাচ্ছুম মেধা, নাদিমুল ইসলাম, প্রান্ত কর্মকার, ফাহিম হাসান, রুদ্রনীল পাল প্রমুখ। বক্তব্য শেষে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষাপোকরণ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানে স্মৃতি হিসেবে উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষে পরীক্ষার্থীসহ সকলের জন্য দোয়া পরিচালনা করেন বেত্রবতী হাইস্কুল জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আজহারুল ইসলাম। এছাড়া, এ বছর স্কুল থেকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ২জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়ায় তাদের পুরষ্কৃত করা হয়। বৃত্তি পাওয়া ২জন শিক্ষার্থী হলো নাদিমুল ইসলাম ও জুবায়ের হোসেন।

‘অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সাতক্ষীরার সব আসনে বিএনপির পরাজয়’
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গত নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই দলীয় প্রার্থীদের পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার একটি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তাঁরা এ অভিযোগ করেন।
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা দলীয় কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে বলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি গঠনের পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের আগের আন্দোলনে রাজপথে থাকা ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, “সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। রাজপথের সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হলে দল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে হলে মতপার্থক্য ভুলে তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত একীভূত হওয়া জরুরি। সঠিক নেতৃত্ব ও মূল্যায়নের মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো সফল করা সম্ভব।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টোর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুল ইসলাম সজীব, মাহমুদুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা শাহিন ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। সভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার এবং কেন্দ্রীয় যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Ads small one

গল্প/পদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
গল্প/পদক

 

সাজেদা সুলতানা কলি
সকাল বেলায় পত্রিকার পাতায় চোখ পড়তেই নিলীমা চমকে ওঠে! হাতে লেখা একটি পা-ুলিপির ছবির নিচে লেখা- ‘এই হাতের লেখা কার? উপযুক্ত প্রমাণসহ খোজ চাই।’ এটা কিভাবে সম্ভব! এতকিছু হয়ে গেছে অথচ সে কিছুই জানলো না! সে কি তাহলে একবার পত্রিকা অফিসে যোগাযোগ করবে? স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। তবু বড় ম্যাডামকে ফোন করে ছুটি নিল নীলিমা। পাঁচ বছরের চাকরিজীবনে এমনটা সে কখনো করেনি। :বাবা, তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে? মন খারাপ করে কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছ? একটু বলেও তো যাও না। আমি তাহলে কিভাবে বাঁচবো? নাওয়া নেই, খাওয়া নেই। তোমার স্বাস্থ্যও তো পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। আমার তো এখন তোমাকে নিয়ে ভয় হচ্ছে। বাবার গা থেকে শার্টটা খুলে বাতাসে মেলে দিতে দিতে নীলিমা কথাগুলো বলল, : কোথাও যাইনি। তোর মায়ের কবরটা দেখে আসলাম। চারপাশে ঝোঁপঝাড়ে কবরটা আড়াল হয়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে দিয়েছি। বেঁচে থাকতে তো কখনো যতœ করিনি। এখন যতœ করে ঋণ শোধ করার চেষ্টা করছি। কথাটা বলে, হু হু করে কেঁদে উঠে নীলিমার বাবা।
সায়রা আর মুজাফ্ফরের বিয়ে হয়েছে পারিবারিকভাবে। মুজাফ্ফর মফস্বল শহরের একটা কলেজের বাংলার প্রভাষক। সায়রার বাবা ছেলে কলেজে পড়ায় শুনে বিয়েতে আর দ্বিমত করেননি। অনার্সে ভর্তির কয়েক মাস পর সায়রার বিয়ে হয়ে যায়। পড়াশোনাও চলছিল। নিলীমা যখন পেটে আসলো তখন শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিশেষ করে শ্বাশুড়ী সায়রাকে আর কলেজে যেতে দেননি। মেয়ের জন্মের পর থেকে সায়রা পুরোপুরি সংসারী হয়ে উঠেছে। এখন তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান মেয়ে নিলীমাকে বড় করা ।
কলেজের সময়টুকু ছাড়া মুজাফফরের অখ- অবসর। সে শিক্ষকতার পেশায় গেছেও এই অবসরটুকুর জন্য। তার প্রচুর বই পড়ার নেশা। একসময় লেখালেখিও শুরু করে। মাস শেষে সায়রার হাতে বেতনের টাকাটা তুলে দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ। প্রথম দিকে “নিয়ে সায়রা রাগারাগি করতো। এখন সে আর কিছু বলে না। মুজাফফরও স্বাধীন। অবসরে বই পড়া আর লেখালেখি ছাড়া তার কোনো কাজ নেই।
সুখের সংসারে ঝড় উঠলো একদিন। সায়রা পেটের ব্যথায় ছটফট করছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেলো গলব্লাডারে পাথর। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন যত তাড়াতাড়ি পাথর অপসারণ করা যায় তত মঙ্গল। কিন্তু ব্যথার ওষুধ খেয়ে আরাম পাওয়ায় বিষয়টা সায়রা আর গুরুত্ব দেয়নি। এদিকে মুজাফফর তো আগে থেকেই উদাসীন। যেদিন সায়রা ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল সেদিন মুজাফফরকে কিছুটা বিচলিত দেখা গেল। কারণ এবার সায়রার অসুস্থতা চিকিৎসার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। তার পেটের ভেতর কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে । নিলীমা তখন এইচএসসি পড়ছে। মেয়ের পড়ার খরচ আর মায়ের চিকিৎসার খরচ নিয়ে ভাবতে গিয়ে মুজাফ্ফর এলোমেলো হয়ে গেছে। সায়রা চলে গেল চিরতরে। নিলীমা তখন সদ্য এইচএসসি পাশ করে বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ।
মুজাফ্ফর তিন বছর ধরে একটা উপন্যাস লিখেছে। সায়রা মাঝে মাঝে দুষ্টুমি কওে বলতো, ‘আমি মরে যাবো তবুও তোমার এই উপন্যাস শেষ হবে না। একটা উপন্যাস লিখতে যদি এত সময় লাগে তাহলে হুমায়ুন আহমেদ কিভাবে এত বই লিখলেন?’ সবার লেখার ধাঁচ এক নয়। আমি চাই আমার উপন্যাস কালজয়ী হবে। তাই সময় নিয়ে লিখছি। মুজাফফরের এই উত্তর শুনে সায়রা কি ভাবলো কে জানে। আর কিছু না বলেসে রান্না ঘরে চলে গেলো। এর ক’দিন পরই সায়রা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সত্যি সত্যিই মুজাফফর উপন্যাস শেষ করতে পারেনি। সারাজীবন লেখালেখি করে কি লাভ হলো? আজ পর্যন্ত একটা লেখা মূলধারার পত্রিকায় ছাপা হলো না। অবশ্য এলাকা ভিত্তিক লিটল ম্যাগাজিনে অনেক লেখা ছাপা হয়েছে। কিন্তু এতে তো মন ভরে না। সায়রা চলে যাওয়ার পর সে এখন বই পড়ে না। লেখার কাগজ কলম ছুঁয়েও দেখে না। সুযোগ পেলেই চলে যায় স্ত্রীর কবরের কাছে। অনেক দিন হলো মুজাফফর পুরোপুরি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে গেছে। এখন আর দিন রাত নেই। সবসময়ই সায়রার কবরের কাছে বসে কি যেন বিড়বিড় করে। প্রথম দিকে নিলীমা কোথাও খুঁজে না পেলে চিন্তিত হতো। এখন জানে তার বাবা মায়ের কবর ছেড়ে কোথাও যায় না।
অনিরুদ্ধ বাংলা সাহিত্যের ছাত্র এবং পরম ভক্তও। তার অদ্ভুত একটা শখ আছে। সে পুরনো বইয়ের দোকান খুঁজে খুঁজে বের করে। আর সেখান থেকে সংগ্রহ করে এমন কিছু বই যেগুলোর লেখককে কেউ চেনে না। মাত্র একটা বা দুটি বই প্রকাশ হয়েছে এমন লেখকের বইয়ে তার বুক শেলফ ঠাসা। তার যুক্তি হলো যে লেখক তার সারা জীবনে মাত্র একটা বই লিখেছেন সেটাতে তিনি তার সমস্তটা ঢেলে দিয়েছেন। তাই নিশ্চিত, এই বইটি হবে অসাধারণ। সেরকম একটা পুরনো বইয়ের দোকানে গিয়ে বই নাড়াচাড়া
করতে গিয়ে অনিরুদ্ধ পেয়ে গেলো চমৎকার একটা মাস্টারপিস!
অনেকগুলো পুরনো বইয়ের ভেতরে পা-ুলিপিটা পেয়েছিলো অনিরুদ্ধ। উল্টে পাল্টে দেখে দোকানীকে জিজ্ঞেস করল, : এটা কার? আমি কি এটা নিতে পারি? একতাড়া কাগজ দেখে দোকানী তাচ্ছিল্যের
সুরে বললো, ‘এটা দিয়ে আমরা কি করবো! নিয়ে যান।’ পা-ুলিপিটা পড়ে অনিরুদ্ধ সিদ্ধান্ত নিলো এটা সে ছাপাবে। কিন্তু অসমাপ্ত পা-ুলিপি কোনো প্রকাশক নিচ্ছিল না। কারণ এটার শেষের বেশ কয়েকটি পৃষ্ঠা ছুটে গেছে। শেষ পর্যন্ত অনিরুদ্ধ সেটা গুছিয়ে নিয়ে বই আকারে ছাপলো। নীলিমা আজকে স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছে। হলরুম লোকজনে পরিপূর্ণ। প্রধান অতিথি আসলেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনিরুদ্ধও এসেছে। নিলীমার সাথে কথা বলছে সে। সেদিন পত্রিকায় অনিরুদ্ধের ‘খোঁজ চাই’ বিজ্ঞপ্তি দেখে নীলিমা তার সাথে দেখা করে। দৈনিক পূর্ববাংলা পত্রিকার আয়োজনে আজকে এখানে অনেক খ্যাতিমানের মিলনমেলা বসেছে। অতিথিদের বক্তব্য শেষে আসলো পুরস্কার প্রদানের পালা। নীলিমা ধীর এবং শান্ত পায়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায়। হঠাৎ করে সে মাইকে ঘোষণা করে বসলো, ‘এই পুরস্কার আমি প্রত্যাখ্যান করলাম। এটা গ্রহণ করা মানে তিলে তিলে আমার নিজেকে শেষ করে দেওয়া। অনুষ্ঠান স্থলে গুঞ্জন উঠলো, কী ব্যাপার! কী হলো! সব তো ঠিকই ছিলো! নীলিমার বক্তব্য শুনে বোঝা গেল আসলে কিচ্ছু ঠিক নেই। নীলিমা বলতে শুরু করে- ‘সেদিন পত্রিকায় ‘সেরা বইয়ের পুরস্কার অর্জন’ কথাটার পাশে হাতে লেখা একটা কাগজের ছবির নিচে লেখা ছিলো, ‘এই হাতের লেখা কার? উপযুক্ত প্রমাণসহ খোঁজ চাই’। আমি দেখেই বুঝতে পেরেছি এটা আমার বাবার হাতের লেখা। পত্রিকা অফিস থেকে খোঁজ পাই অনিরুদ্ধের। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি সব বই কাগজওয়ালার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। ওখানে বাবার লেখা একটা উপন্যাসের পা-ুলিপি ছিলো। যেটা নিয়ে বাবা প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। যেটা লিখতে গিয়ে বাবা আমার মাকে কখনো সময় দেয়নি। মৃত্যুশয্যায় আমার মা অভিমান নিয়ে বাবাকে বলেছিলো, ‘এখন থেকে তুমি লেখালেখি নিয়ে থাকতে পারবে। কেউ কিছু তোমাকে বলবে না।’ সেই অপরাধবোধ থেকে বাবা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অপ্রকৃতিস্থ ছিলো। আমি সংসার করিনি, বাবাকে তাহলে কে দেখবে ? আমার বয়স এখন পঁয়তাল্লিশ। বাবার জন্য তো আমি ছিলাম। আমার জন্য কে আছে? আজ আমার বাবা বেঁচে নেই। এই পদক দিয়ে কি হবে? বেঁচে থাকতে মানুষটাকে কেউ দেখেনি। এখন এই সম্মান আমার কাছে অভিশাপ ছাড়া কিছু নয়।’ বলে, নীলিমা কান্নায় ভেঙে পড়ে। পুরো হলরুমে পিনপতন নীরবতা। অনিরুদ্ধ ও বাষ্পায়িত কণ্ঠে বলে উঠলো, ‘মানুষ বেঁচে থাকতে যদি তার বেতিভার স্বীকৃতি না পায়, মৃত্যুর পরের স্বীকৃতিতে তার কি আসে যায়? লেখক মুজাফফর হোসেন তাঁর জীবদ্দশায় একটি ভালো দৈনিক পত্রিকায়ও নিজের ভাপানো লেখা দেখেননি। এখন এই পদক কি তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পারবে? নীলিমার জায়গায় আমি হলেও পদক প্রত্যাখ্যান করতাম। নীলিমা মঞ্চ ছেড়ে নেমে আসে। হলরুম তখনো নিস্তব্ধ।

মেঘের আয়নায় তোমার মুখ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
মেঘের আয়নায় তোমার মুখ

 

কাজী গুলশান আরা
আস্ত আকাশ সাথে একফালি মেঘ
অমলিন সবুজের মাঠ
এসেছে আষাঢ় এসেছে শ্রাবণ
জুলাইয়ের দাগ মুছে দিতে
যেন জলের প্লাবন
মেঘের জরায়ু ছিড়ে নামুক কবিতা
অপেক্ষায় উন্মুখর সহস্র কদম

ভুল করে ভুল ভেবে ভুল শিঙা বেজেছিল একদিন
এবার পাহাড়ি টিলায় ফিরতে চায় মন
যেখানে রাত্রির গায়ে নক্ষত্রের মিছিল
দ্বিধার আকাশে অঝর বৃষ্টি
মেঘের আয়নায় তোমার মুখ
কাঠবিড়ালি খুঁজে তার হারানো শৈশব!

হৃৎপি-ের প্রকাষ্ঠে জমুক বৃষ্টি
ভরুক উত্তাপ
দুকূল ছোঁয়ার স্বপ্ন বরং দূরেই থাক —
প্রাণের উঠোন থেকে রক্তের দাগ মুছে দিতে
তবে আজ -—
অবিরল বৃষ্টি হোক!

শোধ নেবো বলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
শোধ নেবো বলে

মুকুল ম্রিয়মাণ
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি,
রাগের,ক্রোধের- উদ্ধত ফণাগুলো অবদমন হয়ে গেছে সেই কবে,
এখন কোনো অপার্থিব ইশারায় অগ্নিচুল্লিতে চুপচাপ ফুটছে সব নির্ঘুম শান্ত্রিক ফুল।
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি আজ অব্দি,
ডুবে গেছে সব সংক্ষুব্ধ আবেগ, উবে গেছে সব ক্রুদ্ধস্বর আর প্রতিশোধের প্রতিচিন্তা।

অনুরাগের বিপ্রতীপ আনাগোনায়
অবশ্যম্ভাবী ভাবেই থেমে গেছে সব প্রতিপাক্ষিক দুঃখ বিলাপ;
কার বিরুদ্ধে শোধ নেবো?কার বিরুদ্ধেইবা ছুঁড়বো বিষমাখা তীর?
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি-
রক্তকণা থেকে মুছে গেছে সব ঘৃণা ও ধ্বংসের কার্তুজ,
তার ছুঁড়ে দেওয়া ব্যথা ও পাপ প্রণোদনা তাই আজ হয়েছে
এক সুবিশাল প্রেমের স্মারক।