বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

বৈচিত্র্যময় প্রতিমা, সম্প্রীতির বার্তা ও উৎসবের রঙে সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
বৈচিত্র্যময় প্রতিমা, সম্প্রীতির বার্তা ও উৎসবের রঙে সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার ৬১২ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব: ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা
শেখ আমিনুর হোসেন:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে আনন্দ, আবেগ, বিশ্বাস ও উৎসবের রঙে সেজে ওঠে বাংলার জনপদ। শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ। তবে দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিল্প-সৃজনশীলতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনারও এক অনন্য প্রকাশ। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ উৎসবের রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য।
সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরাতেও শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এবার জেলার সাত উপজেলায় ৬১২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের তথ্য দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। অন্যদিকে, জেলা পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে মণ্ডপের সংখ্যা ৬০৯টি। যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সংখ্যাগত এ পার্থক্য নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন হলেও উৎসবকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ, প্রস্তুতি ও প্রত্যাশায় কোনো ঘাটতি নেই।
এবারের দুর্গোৎসবের বিশেষ আকর্ষণ প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জায় ব্যতিক্রমী উপকরণের ব্যবহার। দেশলাই কাঠি, রেশমি সুতা, মুগ ডাল, মুক্তা, সাদা তিল, চুমকি, পাট ও ফাইবারের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা ও মণ্ডপের নান্দনিক সাজ। কোথাও তৈরি হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা, কোথাও প্রতিমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঝরনার পানি, আবার কোথাও কর্ণফুলী টানেলের আদলে নির্মিত পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শনের সুযোগ পাবেন। এসব আয়োজন সাতক্ষীরার দুর্গোৎসবকে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং স্থানীয় শিল্প, কারুশিল্প ও সৃজনশীলতার এক আকর্ষণীয় প্রদর্শনীতে পরিণত করেছে।
সৃজনশীলতায় অনন্য সাতক্ষীরার পূজামণ্ডপ:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা। সূক্ষ্ম কারুকাজে প্রতিমাকে ভিন্নমাত্রা দিতে আয়োজকদের এ উদ্যোগ দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। গত বছর চিন্নিগুঁড়া চাল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর পর এবার নতুন উপকরণে শিল্পকর্ম গড়ে তুলেছেন তাঁরা। এর মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয়, ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি শিল্পচর্চা ও নতুন কিছু সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষাও দুর্গোৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে।
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কাছারিপাড়া পূজামণ্ডপে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি মুগ ডাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। একই উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। অন্যদিকে, খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি শুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরে ফাইবারের প্রতিমার ওপর দিয়ে ঝরনার পানি প্রবাহিত হওয়ার নান্দনিক আয়োজন করা হয়েছে। পানির সংস্পর্শেও প্রতিমাগুলো অক্ষত থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়ার একটি মণ্ডপে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করে ১৬টি প্রতিমা সাজানো হয়েছে। চার শিল্পী প্রায় ১৫ দিন ধরে পরিশ্রম করে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। একই এলাকার অন্য একটি মণ্ডপে প্রায় ১২ কেজি চুমকি দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে আনা হয়েছে ঝলমলে নকশা। পাটকেলঘাটার একটি পূজামণ্ডপে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহার করে মণ্ডপসজ্জা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিমার সাজে ব্যবহৃত হচ্ছে রেশমি সুতা ও অন্যান্য উপকরণ।
শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা। উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আরপাঙ্গাশিয়া রাসমন্দির প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি পথ, যার মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। কালীগঞ্জ উপজেলার অমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে ককশিট বা ফোমশিট দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগও এবারের উৎসবে বৈচিত্র্য যোগ করেছে।
তালা উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপেও প্রতিমা নির্মাণে কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া ও বৈচিত্র্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। খড়, কাদামাটি, বাঁশসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করে দেব-দেবীর রূপ ও পৌরাণিক কাহিনি ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। দেবহাটা উপজেলার প্রতিমা নির্মাতারাও মাটির কাজ শেষে রং ও তুলির নিপুণ আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রতিমাশিল্পীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, শ্রম, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা। প্রতিটি প্রতিমার পেছনে থাকে বহু দিনের পরিকল্পনা, উপকরণ সংগ্রহ এবং নিখুঁত কারুকাজের প্রচেষ্টা। ফলে দুর্গোৎসব স্থানীয় মৃৎশিল্পী, কারিগর, রংমিস্ত্রি, ডেকোরেটর ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে। এই শিল্প ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে উৎসবের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
ধর্মীয় উৎসব থেকে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন:
দুর্গোৎসবের মূল তাৎপর্য অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীকী বার্তার মধ্যে নিহিত। দেবী দুর্গার অসুরবধের পৌরাণিক কাহিনি মানুষকে অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক প্রেরণা দেয়। বর্তমান সমাজেও এ বার্তার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলার ঐতিহ্যে ধর্মীয় উৎসবগুলো বহু ক্ষেত্রেই সামাজিক মিলনমেলার রূপ ধারণ করেছে। দুর্গাপূজার সময় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বন্ধুদের মিলন, নতুন পোশাক পরা, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক নতুন করে প্রাণ পায়। সাতক্ষীরার মতো বহুধর্মীয় ও বৈচিত্র্যময় জনপদে এ উৎসব বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে। একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার সবার সমান। তাই দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দের বিষয় নয়; এটি সমাজের সব মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ প্রকাশেরও উপলক্ষ।
অসাম্প্রদায়িকতা মানে কারও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অস্বীকার করা নয়; বরং নিজের বিশ্বাসে অবিচল থেকে অন্যের বিশ্বাস ও অধিকারকে সম্মান করা। যে সমাজে ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পরের আনন্দে অংশ নিতে পারে, বিপদে পাশে দাঁড়ায় এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে অবজ্ঞা করে না, সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে সম্প্রীতির সমাজ। দুর্গোৎসবের আনন্দকে এ মূল্যবোধের বিকাশে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব:
উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ইতিমধ্যে দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, মণ্ডপগুলোতে টহল, সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে পূজারী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। মণ্ডপ কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমনপথ, বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের সুবিধার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।
গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে উত্তেজিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, অন্যের বিশ্বাস নিয়ে বিদ্রূপ না করা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি পরিহার করা উৎসবের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, এবার সাতক্ষীরার ৬১২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পূজা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলাবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পূজা উদযাপন পরিষদ ও পুলিশের দেওয়া মণ্ডপের সংখ্যায় আপাতত তিনটির পার্থক্য রয়েছে। এ ধরনের তথ্যগত অসামঞ্জস্য দ্রুত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট তালিকা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, জনবল বণ্টন ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কাজ আরও কার্যকর হবে। উৎসব ব্যবস্থাপনায় নির্ভুল তথ্য ও আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংস্কৃতি, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা:
সাতক্ষীরার দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমাশিল্প, মণ্ডপসজ্জা ও স্থানীয় ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে, তা সাংস্কৃতিক পর্যটনের সম্ভাবনাও তুলে ধরে। দেশলাই কাঠি, মুগ ডাল, মুক্তা, তিল কিংবা পাটের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি শিল্পকর্ম দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব শিল্পকর্মের পরিচিতি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা গেলে সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচিতি পাবে।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে। মণ্ডপের অবস্থান, যাতায়াতের পথ, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিমাশিল্পীদের কাজের স্বীকৃতি, তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাক, খাবার, পরিবহন, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষও আয় করার সুযোগ পান। ফলে ধর্মীয় উৎসবের সামাজিক গুরুত্বের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা যেন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মর্যাদা, পরিবেশের ভারসাম্য কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল আলোকসজ্জা ও ব্যয়ের পরিমাণে নয়; বরং এর সুশৃঙ্খল আয়োজন, শিল্পমান, মানবিকতা ও সামাজিক অংশগ্রহণে নিহিত।
সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়:
একটি উৎসব তখনই সার্থক হয়ে ওঠে, যখন তার আনন্দ বৃহত্তর সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুর্গোৎসবের শিক্ষা যদি মানুষের মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলে, তাহলে উৎসবের তাৎপর্য আরও গভীর হবে।
সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামণ্ডপকে ঘিরে যে আয়োজন, তা শুধু প্রতিমার বৈচিত্র্য কিংবা উৎসবের চাকচিক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। প্রতিটি মণ্ডপ হতে পারে মানবিকতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্র। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া গেলে এ আয়োজনের সামাজিক মূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ জন্য গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। উৎসবের ইতিবাচক দিক, স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা, সম্প্রীতির বাস্তব উদাহরণ এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিষয়ও দায়িত্বশীলভাবে প্রকাশ করতে হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্কতা এবং সব সম্প্রদায়ের মর্যাদা রক্ষা করে সংবাদ পরিবেশন জনমনে আস্থা তৈরিতে সহায়তা করবে।
পরিশেষে বলা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দের, আত্মশুদ্ধির, সৃজনশীলতার এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার উৎসব। সাতক্ষীরার বিভিন্ন মণ্ডপে ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও নান্দনিক সাজসজ্জা মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি করেছে, তা জেলারv সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করছে। কিন্তু উৎসবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে তখনই, যখন প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে, অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই সাতক্ষীরার শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা মানুষের মন থেকে দূর করুক হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন; প্রতিষ্ঠিত হোক সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও শুভবোধ। আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে আরও সমৃদ্ধ হোক সাতক্ষীরা, আরও দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন, এগিয়ে যাক দেশ ও জাতি।
লেখক: শেখ আমিনুর হোসেন, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী, সাতক্ষীরা।

Ads small one

ফেসবুকে প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়ে হত্যাকাণ্ড, অধরা মূল অভিযুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়ে হত্যাকাণ্ড, অধরা মূল অভিযুক্ত
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ফেসবুক লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে উস্কানি ছড়িয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটার পরও মূল প্ররোচনাকারী ফজলুল হজ আমিনী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে উন্মত্ত জনতা জড়ো করা, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়ে দেয়ালে আছাড় মারা ও পিটিয়ে হত্যার মতো বর্বরোচিত অপরাধের দায় নিজ মুখে স্বীকার করার পরও তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা।
‘মব জাস্টিস’-এর মূল কারিগর ফজলুল হক আমিনী ও তার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন অডিও-ভিডিও ও পোস্টের তথ্যানুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন ফজলুল হক আমিনী।
 উস্কানি ও স্বীকারোক্তি: তিনি নিজেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট স্বীকার করেছেন যে, তিনি ফেসবুক লাইভ ও পোস্ট দিয়ে ‘তৌহিদী জনতা’কে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেন এবং উস্কানি ছড়িয়ে মানুষকে উত্তেজিত করেন।
 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ: অডিও বার্তায় প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করতে দেখা গেছে—প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করলে করবে এবং এর পরিণামে তার জেল-জুলুম বা ফাঁসি হলেও কোনো পরোয়া নেই। এমন প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ও উস্কানির পরেও তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উস্কানিদাতার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে সুশীল সমাজ ও নেটিজেনদের ক্ষোভ
 ফজলুল হক আমিনীর ফেসবুক পোস্টেৎসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ কড়া ভাষায় এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করছেন: নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মন্তব্য করছেন যে, ফেসবুক লাইভ ও পোস্টের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে যেখানে মূল উস্কানিদাতাকে প্রথম সুযোগেই গ্রেপ্তার করার কথা, সেখানে সে কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় ও বড় বড় কথা বলে?
 এছাড়া রাষ্ট্রীয় ও আইনি কাঠামোর চরম ব্যর্থতা: একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতাল থেকে বের করে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো, আর যে লোক মাইকিং বা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এই রক্তক্ষয়ী মব সৃষ্টি করল, সে এখনও আইনের আওতার বাইরে থাকা মানে দেশে ‘মব কালচার’কে প্রশ্রয় দেওয়া।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ করেন মানসিক রোগাক্রান্ত ওয়াহিদুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ওই অডিওতে কটূক্তি সংক্রান্ত কথা রয়েছে দাবি করে দেবহাটার ফজলুল হক আমিনী ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ফেসবুকে লাইভ করে জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা ওয়াহিদুজ্জামানের বাড়ির গেট ভাঙচুর করে সুবর্ণাবাদ বাজারে নিয়ে মারধর করে। মঙ্গলবার রাতে ফজলুল হক আমিনীসহ বিক্ষুব্ধরা চিকিৎসাধীন শামীমকে চেম্বার থেকে বের করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরপর ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি লোক সখীপুর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ওয়াহিদুজ্জামানকে দেয়ালে আছাড় মারে এবং বাইরে এনে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইন হাতে তুলে নিয়ে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল জলিল।
নিহতের ছোট ভাই জেলা রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাহসিভ রহমান সাগর জানান, বুধবার রাতে এশার নামাজের পর শামীমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দুটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১২ বছর, ছোট ছেলের বয়স ৭ থেকে ৮ মাস। আজকে মামলা করবো।
ফজলুল হক আমিনী জানান, শামীম তার প্রতিবেশীদের সাথে কথাবার্তার মাধ্যমে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য করেছে এবং প্রতিবেশীদের কাছে এই সংক্রান্ত ভিডিও রেকর্ড বা প্রমাণ রয়েছে।
ওই যুবকের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো পাগল ব্যক্তি শুধু আল্লাহ, রাসূল, কোরআন, হাদিস, সাহাবি এবং ওলামায়ে কেরামকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক কথা বলে না। পাগলের লক্ষণ থাকলে সে অন্যান্য বিষয় নিয়েও কথা বলত, কিন্তু তার বক্তব্যে শুধুমাত্র ইসলাম ও কোরআন-হাদিসের বিরুদ্ধে কথা বলায় এটি কোনো পাগলের লক্ষণ হতে পারে না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন যে, ইসলাম ধর্ম, কোরআন বা রাসূলকে নিয়ে কেউ কটুক্তি বা অবমাননা করলে তা আইনের দৃষ্টিতে যেমন অপরাধ, তেমনি শরীয়তের দৃষ্টিতেও এর বিচার হওয়া উচিত। ধর্ম নিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান দীর্ঘ ছয় মাস ধরে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিল। ‘তৌহিদী জনতা’ গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করেছে।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি জানান যে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন, তবে কোরআন ও রাসূলকে নিয়ে কেউ বিরূপ মন্তব্য করলে তার প্রতিবাদ করাকে তিনি নিজের ঈমানী দায়িত্ব মনে করেন। তিনি ফেসবুক এবং লাইভে স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষ জড়ো করার বিষয়টির পাশাপাশি নিজের এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। এই বিষয়ে প্রশাসন বা অন্য কেউ তাকে ধরলে তার জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন এবং বাজারে এসে প্রশাসনের অপেক্ষায় করছেন, এমনকি এর পরিণামে তার ফাঁসি বা জেল-জুলুম হলেও তার কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন।
তিনি নিজের পেশাগত পরিচয় ও সামাজিক কাজের কথা উল্লেখ করে বলেন যে তিনি পারুলিয়া বাজারের গরু-ছাগল জবাইয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মসজিদে ইমামের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি বর্তমানে কোনো ইমাম অসুস্থ হলে তার প্রক্সি বা সহযোগিতায় এগিয়ে যান বলে তিনি জানান।
পরিশেষে তিনি বলেন, ইসলাম ও রাসূলের অবমাননার মতো ঘটনায় যারা কটুক্তি বা বিরূপ মন্তব্য করে, তাদের বক্তব্য আগে সম্পূর্ণ শোনা উচিত এবং ইসলামবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ও ক্ষোভ সবসময় অব্যাহত থাকবে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সকালে ফোন দিয়েছে এবং তারা থানায় এসে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
 তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইসবুক) ফজলুল হক আমিনীর লাইভ ও স্ট্যাটাসের বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে।
 এ বিষয়ে পুলিশ একটি ছায়া তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সাথে কারা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে।
হাসপাতাল ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছড়িয়ে পড়া সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের সনাক্ত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ জনগণের মতে, কোনো দেশে যদি ডিজিটাল মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে মানুষ হত্যা করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে, তবে তা সমাজের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। উস্কানিদাতা ফজলুল হক আমিনীসহ এ ঘটনার মূল হোতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে আইনের শাসনের ওপর মানুষের আস্থা বজায় রাখা কঠিন হবে।

শুক্রবার মহাষষ্ঠী: জাগ্রত হোক বিবেকের শক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
শুক্রবার মহাষষ্ঠী: জাগ্রত হোক বিবেকের শক্তি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, শিউলির সুবাস আর ঢাকের শব্দ জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের বার্তা। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে। ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার পালিত হবে এই তিথি। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু মহাষষ্ঠীর তাৎপর্য প্রতিমা প্রতিষ্ঠা কিংবা আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল শিক্ষা অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জাগরণ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। হিন্দু পুরাণের কাহিনি অনুসারে, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে দেবতাদের রক্ষা করতে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দীর্ঘ সংগ্রামের পর তাঁর হাতে মহিষাসুরের পরাজয় ঘটে। এই কাহিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হলেও এর অন্তর্নিহিত বার্তা সর্বজনীন। অহংকার, নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহার যত প্রবলই হোক, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন কখনো ফুরায় না। দেবী দুর্গার অসুরবিনাশী রূপ তাই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার প্রতীক। মহাষষ্ঠীর অন্যতম প্রধান আচার দেবীর বোধন।

 

প্রচলিত বিশ্বাসে, এদিন দেবীকে জাগ্রত করে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়। এই বোধনের একটি সামাজিক তাৎপর্যও রয়েছে। দেবীকে জাগ্রত করার পাশাপাশি মানুষের বিবেকও কি জাগ্রত হচ্ছে? প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিনাশ কামনা করি আমরা, অথচ বাস্তব জীবনে অন্যায় দেখেও অনেক সময় নীরব থাকি। নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে অসুরবিনাশিনীর আরাধনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় আটকে থাকে। এবারের দুর্গাপূজায় দেবীর আগমন ও গমনের বাহন নিয়েও প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, দেবীর আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় ঘোটকে আগমনকে ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’ বলা হয়, যা বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয়ের আশঙ্কার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনকে শস্যবৃদ্ধি ও সুখ-সমৃদ্ধির লক্ষণ মনে করা হয়; পাশাপাশি জলবৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কার কথাও প্রচলিত রয়েছে।

 

এসব বিশ্বাস ধর্মীয় ঐতিহ্য ও লোকাচারের অংশ। তবে দেবীর বাহনের সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এসব ব্যাখ্যাকে আতঙ্কের কারণ না করে বাস্তব দায়িত্ব পালনের তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে গণতান্ত্রিক আচরণ, সহনশীলতা ও আইনের শাসনের ওপর। আর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজন আগাম সতর্কতা, কার্যকর প্রস্তুতি ও দ্রুত ব্যবস্থা। দেবীর কাছে শান্তি কামনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; শান্তি রক্ষার কাজটিও মানুষকেই করতে হয়। দুর্গোৎসবের আরেকটি বড় শক্তি সামাজিক সম্প্রীতি।

 

বাংলাদেশে এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজন হলেও এর আনন্দ বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পূজাম-পে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সুযোগ তৈরি করে। এই মিলনই উৎসবের সামাজিক সৌন্দর্য। কিন্তু সম্প্রীতির প্রকৃত পরীক্ষা ম-পের আলোকসজ্জায় নয়, বরং উৎসবের বাইরের দৈনন্দিন জীবনে। সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষা ও সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পূজার কয়েকটি দিনে নিরাপত্তা জোরদার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সারা বছরই নাগরিকদের নিরাপদে ধর্ম পালন ও জীবনযাপনের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

 

প্রতিমা ভাঙচুর, উপাসনালয়ে হামলা, ভয়ভীতি কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীর পরিচয় যা-ই হোক, আইনের প্রয়োগে পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়।দুর্গোৎসবের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে আছে। প্রতিমাশিল্পী, ঢাকি, মৃৎশিল্পী, বাঁশ ও কাঠের কারিগর, আলোকসজ্জাকর্মী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মাসের পর মাস প্রস্তুতি নেন। তাঁদের শ্রমেই উৎসবের আয়োজন পূর্ণতা পায়।

 

অথচ ম-পের জাঁকজমক নিয়ে আলোচনা হলেও এই শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও কাজের নিরাপত্তা সব সময় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। উৎসবের সাফল্য বিচার করতে হলে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদার বিষয়টিও সামনে আনতে হবে। পরিবেশ ও জন নিরাপত্তাও আয়োজকদের দায়িত্বের অংশ। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা, যানজট ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিমা বিসর্জনে নদী-জলাশয়ের দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা ও যাতায়াতের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রস্তুতি থাকলে অনাকাক্সিক্ষত ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

 

মহাষষ্ঠী আমাদের সামনে তাই দুটি প্রশ্ন রাখে: আমরা কীভাবে দেবীর আরাধনা করছি, আর তাঁর শিক্ষাকে জীবনে কতটা ধারণ করছি? দেবী দুর্গার শক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। সেই সাহসের বাস্তব প্রকাশ ঘটতে হবে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানে, ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যানে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। এবারের মহাষষ্ঠীতে অঙ্গীকার হোকÑধর্মের পরিচয় দিয়ে কাউকে ভয় দেখানো যাবে না, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা যাবে না, আর নাগরিক অধিকার কারও দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় হতে পারে না।

 

দেবীর বোধন তখনই সার্থক হবে, যখন মানুষের বিবেক জাগবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে উঠবে এবং রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ম-পে অসুরবিনাশিনীর বন্দনা আর বাস্তবে অন্যায়ের সঙ্গে আপসÑএই দ্বিচারিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ, দেবীর আরাধনার সার্থকতা প্রতিমার উচ্চতায় নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অবস্থানে; উৎসবের আলোকসজ্জায় নয়, প্রতিটি মানুষের নিরাপদে বাঁচার অধিকারে।

লেখক: সংবাদকর্মী

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য প্যাকেটে হস্তক্ষেপমুক্ত সতর্কতা লেবেল চালুর দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য প্যাকেটে হস্তক্ষেপমুক্ত সতর্কতা লেবেল চালুর দাবি

বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারের উপর নির্ভরশীলতা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি। খাদ্য প্যাকেটের সামনে সহজ, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) এক্ষেত্রে ভোক্তার সচেতন খাদ্য নির্বাচন সহজীকরণ এবং খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তবে, খাদ্যশিল্পের নানামুখী চাপে এফওপিএল সংক্রান্ত “নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬” এর খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। বিশ্ব খাদ্য দিবস, ২০২৬ উপলক্ষ্যে আজ (১৫ অক্টোবর) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত “অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়” শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। আগামীকাল বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য “ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো”।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা ব্যপকহারে বাড়ছে। গবেষণা বলছে, দেশের ৯৭ ভাগ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার এসব খাবার খেয়ে থাকেন। তবে, বর্তমানে খাদ্য-প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য ভোক্তার পক্ষে বোঝা এবং সঠিক খাদ্য নির্বাচন করা কঠিন। এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এফওপিএল সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রবিধানমালা তৈরি করেছে, যা বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। জানা গেছে, খাদ্যশিল্পের দেশি-বিদেশি অংশীজনদের পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার বদলে স্বেচ্ছামূলক লেবেলিং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির অজুহাত, বাস্তবায়নের সময় বাড়ানো, ছোট প্যাকেটে ছাড় এবং সতর্কবার্তার পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর বা কম দৃশ্যমান এফওপিএল ব্যবহার প্রভৃতি অযৌক্তিক দাবি অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “খসড়াটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিয়েছি এবং ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সাথেও কাজ করছি। আশা করছি এটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।”

জনস্বাস্থ্যবিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। বাধ্যতামূলক এফওপিএল খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, তাই কোম্পানির হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে খসড়া প্রবিধানমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। ”

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, “প্যাকেটজাত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের স্পষ্ট ধারণা দিতে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল সবচেয়ে বেশি কার্যকর।”

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন,  “এফওপিএল বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ব্যয় কমবে এবং এসডিজি ৩.৪  অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।”

দৈনিক ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার এম শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এফওপিএল খুবই কার্যকরী পদক্ষেপ। খসড়া প্রবিধানমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কনসালটেন্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা। নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং যুব সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওয়েবিনারে অংশ নেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি