শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ভারতে আগুনে মৃত্যু, মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
ভারতে আগুনে মৃত্যু, মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

ইব্রাহিম খলিল: ভারতে চিকিৎসায় গিয়ে আগুনে মৃত্যু, মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুইজনের মৃত্যুর খবরে দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া ও তেঁতুলিয়া গ্রামের পরিবেশ। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সঙ্গে এখন স্বজনদের একটাই আকুতি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক তাদের মরদেহ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বরেয়া গ্রামে মৃত আলিমুজ্জামান সাজুর (৪৫) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ি। বড় ভাই, ভাবিসহ পরিবারের সদস্যরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। কয়েক দিন আগেও যে বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ছিল, সেখানে এখন শুধুই শোক আর অপেক্ষা।

আলিমুজ্জামান সাজু মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন তিনি। কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকান্ডের পর তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, ৫ থেকে ৬ দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে। পরে জানতে পারি, ওই হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান করছিল। একজন আত্মীয়কে সেখানে পাঠানো হয়। পরে ছবির সঙ্গে লাশের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমার ছোট ভাই আর নেই।

কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমার ভাইয়ের মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে দেওয়া হয়। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।

সাজুর ছোটবেলার বন্ধু ও সহপাঠী রফিকুল ইসলামও বন্ধুকে হারিয়ে শোকে কাতর। তিনি বলেন, সাজু আমার ছোটবেলার বন্ধু। আমরা দুজন একসঙ্গে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। একসঙ্গে খেলাধুলা করেছি, বড় হয়েছি। ডাক্তার দেখাতে কলকাতায় গিয়ে সে মারা গেল এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমাদের অনুরোধ, সাজুর লাশটা যেন অতিদ্রুত দেশে আনা হয়। আমরা যেন শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে পারি এবং নিজের হাতে মাটি দিতে পারি।

অন্যদিকে একই অগ্নিকান্ডে মারা গেছেন কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে তালা ঝুলছে। চারপাশে নীরবতা। পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় বাড়িটি যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে।

রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকার। তাদের ছেলে অনিক সরকার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। তারা বর্তমানে উত্তরাখন্ডে অবস্থান করছেন।

রেবতীর স্বজন তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার বৌদি। গতকাল রাতে বৌদির ছেলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে আগুন লেগে বৌদি মারা গেছেন। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন, তবে এখন তার সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দাদা-বৌদির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও ভারতে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কীভাবে এই শোক সামলাবে, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়।

চিকিৎসার জন্য প্রিয়জনদের ছেড়ে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু ও রেবতী। পরিবারের আশা ছিল, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরবেন তারা। কিন্তু সেই অপেক্ষা এখন পরিণত হয়েছে মরদেহ ফেরার অপেক্ষায়।

স্বজনদের কান্না আর আহাজারির মধ্যে এখন একটাই দাবি সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কলকাতা থেকে তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দিক। শেষবারের মতো মুখটি দেখে, নিজ হাতে মাটি দিয়ে আপনজনকে বিদায় দিতে চান তারা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ভারতের হাই কমিশন থেকে লাশ দুটো দ্রুত প্রেরণের ব্যবস্থা করছে তারা। পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছে।

Ads small one

কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

পত্রদূত ডেস্ক: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকান্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে চায় তার পরিবার।

সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে বেনাপোল দিয়ে যাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে- তারা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবু।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতায় সৎকারের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগ্রহ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রেবতী সরকারের ছেলে তার মায়ের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে এ জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর কলকাতাতেই তার সৎকার করার ইচ্ছা পরিবারের।

এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া এবং বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের চিঠি দেওয়ার পরও নিউমার্কেট থানা থেকে জেনারেল ডায়েরির (জিডি) কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে নিহতদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ বলেন, জিডির কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে অগ্নিকান্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার অভিযোগে এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে একই এলাকায় ৯টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছিল। নতুন ১৭টি হোটেলসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল দমকল বিভাগ।

 

ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব আজ নানা ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ৮০০ কোটির অধিক মানুষের মিলিত আবাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও পৃথিবীর বহু অঞ্চলে মানুষ কেবল তাদের ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য, নিপীড়ন, হামলা এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয় এবং মানবাধিকারের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার এ/আরইএস/৭৩/২৯৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ২২ আগস্টকে “ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০১৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা, তাদের জন্য যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, কোনো ধর্ম, বিশ্বাস বা মতাদর্শকে কখনোই মানুষের জীবন, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ওপর আক্রমণের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি, সম্প্রদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষতি করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ মোকাবিলায় জাতিসংঘ বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক কাঠামো, রেজল্যুশন ১৬/১৮ এবং রাবাত কর্মপরিকল্পনা। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঘৃণামূলক বক্তব্য, বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং বাকস্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টার বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে চলেছেন।

বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তবে একই সঙ্গে ঘৃণা, গুজব, অপপ্রচার ও বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে কার্যকর নীতি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব বেড়েছে। জাতিসংঘ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যম শান্তি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। সংবিধানের ১২, ২৭, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। পাশাপাশি দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় উপাসনালয় ভাঙচুর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় সমাবেশে বাধা এবং সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব আইনি সুরক্ষা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশ্বে আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি স্বতন্ত্র ধর্ম ও আঞ্চলিক বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। এই বৈচিত্র্য মানবসভ্যতার এক মূল্যবান সম্পদ। তাই কয়েকজন ব্যক্তি বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের জন্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। পৃথিবীতে প্রধান ও বড় ধর্মগুলোর বাইরে ক্ষুদ্র অনুসারী বা কম প্রচলিত ধর্মের মধ্যে রয়েছে; শিখ ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, বাহাই ধর্ম, তাওবাদ, কনফুসিয়ানিজম, জৈন ধর্ম, শিন্তো ধর্ম, জরথুষ্ট্রবাদ বা পার্সি ধর্ম, আত্মাবাদ বা স্পিরিটিজম ও টেনরিকিও।

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে পরিচিত ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা এবং শিয়া মুসলিম ধর্মীয় সর্বোচ্চ ইরানের নেতা মোজতবা খামেনিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সংলাপ ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২২ আগস্টের এই আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবাধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের অধিকার। এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের যৌথ দায়িত্ব, যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে যথার্থ সম্মান করা হবে এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা, বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ এবং সহিংসতার পরিবর্তে শান্তির পথই হতে পারে মানবতার টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।

তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র নায়করাজ রাজ্জাক। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রয়াণ দিবসে রাজ্জাককে গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান। রাজ্জাককে শুধু কিংবদন্তি নয়, চলচ্চিত্রের অভিভাবক, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার অন্যতম আশ্রয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে শাকিব বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো। স্নেহ দিয়েছেন, আগলে রেখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক দিন দেখা না হলেও কীভাবে যেন বুঝে যেতেন, আমি কেমন আছি, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি! তাকে হারানোর বেদনা আমার কাছে নিজের অভিভাবক হারানোর মতো – খুবই ব্যক্তিগত।’

নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্রনায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্র
কিং খান পোস্টে আরও লেখেন, ‘তিনি নেই, কিন্তু তার স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, নায়করাজ ততদিনই থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অহংকার হয়ে।’

সবশেষে তিনি জানান, ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি আপনাকে। শান্তিতে থাকুন, আমাদের প্রিয় নায়করাজ।’