শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার: ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে তরমুজ চাষি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার: ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে তরমুজ চাষি

প্রতিকার চেয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির প্রতিনিধির ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার করে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার এক তরমুজ চাষি। এতে তাঁর প্রায় ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি পবিত্র কুমার মন্ডল আজ বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পবিত্র কুমার মন্ডল আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের নড়রাবাদ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। এক প্রতিবন্ধী সন্তানের জনক পবিত্র স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলতি মৌসুমে চাম্পাখালী মৌজায় ৮০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে তরমুজ গাছে ফল আসা শুরু হলে বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বায়ার কোম্পানির ‘কৃষি পরামর্শদাতা’ পরিচয় দিয়ে পবিত্রর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে বায়ারের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা দাবি করে পবিত্রকে আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর দেওয়া ১২ দিনের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ দিলে ফলন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

সূত্রের দাবিÑবিশ্বরূপের দেওয়া তিনটি ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল ক্ষেতে বালাইনাশক প্রয়োগ করেন পবিত্র। এর ৬-৭ দিন পর গাছগুলোর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। বিষয়টি বিশ্বরূপকে জানানো হলে তিনি অন্য কোনো কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করতে নিষেধ করেন এবং আগের ওষুধই চালিয়ে যেতে বলেন। পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ চালিয়ে যাওয়ার ফলে অধিকাংশ তরমুজ গাছ মরে শুকিয়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যসহ প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পবিত্র কুমার মন্ডল বলেন, “আমি সরকারি কৃষি অফিসের পরামর্শ না নিয়ে ওই ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে আজ পথে বসেছি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। কোম্পানি এখন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা করছে।”

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ছাড়া কোনো বেসরকারি কোম্পানির কথায় অনিবন্ধিত বা মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহার করা চাষিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু এ প্রসঙ্গে বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

অভিযুক্ত বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাষিদের দাবি, নামি কোম্পানির পরিচয় দিয়ে অনেক সময় অসাধু প্রতিনিধিরা গ্রামে এসে ভুল পরামর্শ ও নি¤œমানের ওষুধ গছিয়ে দেয়, যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত কৃষককেই নিতে হয়।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে বজ্য অপসারণ, পিলখানা অপসারণ, প্রাণসায়ের খালের পানি প্রবাহ রক্ষা করা, মাছ বাজারের ব্রিজ, শহরের পাকাপোল ব্রিজ, রাধানগর সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সড়ক ও থানা মসজিদ সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার।

 

এসময় জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন, প্রাণসায়ের খাল পাড়ে ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবেনা। খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে খালে কোন ময়লা আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনা হতে দেওয়া হবেনা। আজ সরেজমিনে এসে বলে গেলাম। এরপর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোন ব্রিজের উপর দোকান পাট ও চলাচলের রাস্তার দু’ধারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দোকান পাট ও অবৈধ স্থাপনা দেখতে চাইনা। আগামী শনিবার আবার আসবো পরিদর্শনে। সাতক্ষীরাকে সকলের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে জেলাবাসীকে সাথে নিয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল ইসলাম ফারুক, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা প্রমুখ।

 

উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মো. আসাদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মেদ, সহকারি প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত সাগর দেবনাথ, উপসহকারি প্রকৌশলী মোহাব্বাত হোসাইন, কামরুজ্জামান শিমুল, সাবেক অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত পারভেজ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নুর ইসলাম, সহ-সভাপতি তৈয়েব হাসান বাবু, অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ পাড়, আব্দুর রব ওয়ার্ছি, ফারহা দিবা খান সাথী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান রাসেল, মহিলা সম্পাদিকা সোনীয়া সুলতানা, যুগ্ম মহিলা সম্পাদকা রেবেকা সুলতানা, কৃষি ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আশরাফুল করিম (ধনি), সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ মুছা করিম, পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ হাফিজুল আল মাহমুদ (রিটু), আইটি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আসিফুল আলম, নির্বাহী সদস্য সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিউদ্দিন, সি.এম নাজমুল ইসলাম, সুলতানপুর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আ.স.ম আব্দুর রব, সহ-সভাপতি মো. আমিনুর রহমান, শহর কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রওশন আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. রজব আলী খাঁ, সাতক্ষীরা শহর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালিউল ইসলাম প্রমুখ।

সুলতানপুর বড় বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে জানান, সাতক্ষীরা প্রাণসায়ের খালের ধারে পৌরসভার কসাইখানা (পিলখানা) হলে আবারও ময়লা ও বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে এবং খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে। আদালতে এই পিলখানার জায়গা নিয়ে মামলা চলমান আছে। আদালত স্থিতিবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রাণসায়ের খালের ধারে কসাইখানা স্থাপন করার লক্ষ্যে টেন্ডার দিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক বলে জানান ব্যবসায়ীরা। খালের পাড়ে পিলখানা না করার অনুরোধ জানান তারা।

শ্যামনগরে চার হত্যাসহ দুই ডজন মামলার আসামী রবিউল র‌্যাবের হাতে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে চার হত্যাসহ দুই ডজন মামলার আসামী রবিউল র‌্যাবের হাতে আটক

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আলোচিত আমিরুল, আকিজ, আছাদুল্লাহ গালিব ও সফি মোড়ল হত্যা মামলার আসামী রবিউল জোয়ারর্দার(৪৫)কে আটক করেছে র‌্যাব। প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-৬ এর বিশেষ টিমের সদস্যরা শুক্রবার রাতে পলাতক অবস্থায় খুলনা থেকে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রাতেই রবিউলকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করে। সে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পাশের্^মারী গ্রামের অয়েন জোয়ারর্দারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা, অস্ত্র উদ্ধারসহ নানা অভিযোগে অন্তত দুই ডজন মামলা রয়েছে।
সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান হত্যা মামলার স্বাক্ষীদের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি তাদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় সম্প্রতি একটি মামলা হয়। হত্যাকান্ডসহ পুর্বের সব মামলায় জামিনে থাকলেও সর্বশেষ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ছিল। র‌্যাব সদস্যরা থানায় হস্তান্তরের পর রবিউলকে শনিবার দুপুরের দিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে জব্দ ভারতীয় রেনু পোনা ইছামতী নদীতে অবমুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে জব্দ ভারতীয় রেনু পোনা ইছামতী নদীতে অবমুক্ত

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় থানা পুলিশের অভিযানে জব্দকৃত ভারতীয় রেনু পোনা ইছামতী নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭ বল ভারতীয় রেনু পোনা জব্দ করা হয়। চোরাকারবারিরা অবৈধভাবে এসব রেনু পোনা দেশে এনে পরিবহনের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেগুলো ফেলে পালিয়ে যায়। পরে জব্দকৃত রেনু পোনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় একই দিন দুপুর ১টার দিকে ইছামতী নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলিম, এসআই সাহিদুর রহমান, এসআই বিপ্লব মালাকার, এসআই তুহিন, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, নাংলা ফাতেমা রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি বাবুরাম কুমারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ওসি আব্দুল আলিম বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে ভারতীয় রেনু পোনা এনে দেশীয় হ্যাচারির ক্ষতি করছে। এ ধরনের চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রেনু পোনাগুলো জব্দ করা হয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন শুক্রবারও পুলিশের অভিযানে ৯ বল ভারতীয় রেনু পোনা জব্দ করে একইভাবে ইছামতী নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছিল।