সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের নদীভাঙন শুধু ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের এক বাস্তব চিত্র। দেশের নদীগুলো যেমন যমুনা, পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র এবং তিস্তা, তেমনি ছোট নদী যেমন বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচচাপ-সবই মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বেতনা নদীর ভাঙন সেই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এটি শুধু একটি বাজারের সমস্যা নয়, বরং আশাশুনি উপজেলার একাধিক গ্রামের জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

 

বুধহাটা বাজার আশাশুনি উপজেলার এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এটি শুধু গ্রামীণ অর্থনীতি চালায় না, বরং আশেপাশের গ্রামের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রও। বাজারের মূল পেশাদারদের মধ্যে রয়েছেন: স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। মুদি, দোকানদার ও হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা বাজারের অর্থনীতি চালায়। স্থানীয় পরিবহন ও শ্রমিকরা বাজারের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

 

বাজারের অর্থনৈতিক চেইন নদীভাঙনের আগে স্থিতিশীল ছিল। দোকানপাট, কৃষি ব্যবসা ও পরিবহন-সবই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। নদীভাঙনের ফলে এই চেইন ভেঙে যাচ্ছে। বাজার কেবল অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়; এটি গ্রামের মানুষদের সামাজিক কাঠামোও সংরক্ষণ করে। বন্ধুত্ব, প্রতিবেশিতা ও সামাজিক সমন্বয়, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও মেলামেশা, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ, নদীভাঙনের ফলে সামাজিক কাঠামোও বিপন্ন হচ্ছে। পরিবার ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, প্রতিবেশী ও বন্ধু হারাচ্ছে।

 

বেতনা নদী, কপোতাক্ষ নদী ও মরিচচাপ নদী-এই নদীগুলো আশাশুনি উপজেলার মানুষের জীবিকা, পানি সরবরাহ এবং কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেতনা নদী এবং আশেপাশের নদীসমূহের ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ভাঙনের ফলে দেখা যায়:গ্রামের পর গ্রাম নদীতে বিলীন,লক্ষাধিক মানুষ অভিবাসী হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। নদী খননের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যক্রমে মানবসৃষ্ট সমস্যার দেখা মিলেছে।

 

ম্যাপ অনুযায়ী নদীকে বাহাদুরের দিকে খনন করতে হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খনন করা হয়েছে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন অংশে, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র একটি ইটভাটাকে বাঁচানো। ফলে, নদীর ¯্রােত বিপর্যস্ত হয়েছে এবং বাজার ও আশেপাশের গ্রামের মানুষদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাউবোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও দেখা গেছে স্পষ্ট গাফলিতি: পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা: ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন হয়নি বাঁধ, জিওব্যাগ বা ড্রেজিং কার্যকরভাবে করা হয়নি। নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন হয়নি।

 

নদীভাঙন ও বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ হয়নি। ফলে, শুধু একটি ইটভাটা বাঁচানো হয়েছে, কিন্তু শত শত মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। নদীভাঙনের প্রভাব গভীর এবং বহুমাত্রিক। পরিবার অস্থায়ীভাবে ছিন্নভিন্ন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশী হারানো, স্থানান্তরের ফলে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব, বসতবাড়ি ও দোকানপাট ধ্বংস কৃষি জমি হারানো, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ঘরে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস, প্রিয়জনের কবর রক্ষা করতে না পারার মানসিক চাপ, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও মানসিক বাংলাদেশে নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।

 

বুধহাটা বাজার এবং আশাশুনি উপজেলার মানুষদের জন্য এটি স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। নদীভাঙনের শিকার মানুষরা বারবার ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সহায়তার অধিকার চেয়েও পাননি। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্র নদীভাঙনের শিকার মানুষদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছে না। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন নদীখাননের বাস্তবতা এবং বেতনা নদীর ভাঙনের চিত্র আমাদের শেখাচ্ছে যে: স্বার্থান্বেষণমূলক প্রকল্প মানুষের জীবন বিপন্ন করে। নদীখনন কেবল একটি ইটভাটাকে বাঁচানোর জন্য করা হলে আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়।

 

প্রকৌশলগত ভুল নদীর প্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যস্ত করে। প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন না হলে ¯্রােত এবং তীর সংরক্ষণ ব্যাহত হয়। মানবিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অবহেলা। সরকার নদীভাঙার শিকার মানুষদের পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করেনি। পুনর্বাসন ও পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া নদীভাঙন সামাজিক দুর্যোগে রূপ নেয়। পরিবার, বন্ধু, জীবনযাত্রা-সবই প্রভাবিত হয়। নদীভাঙনের ক্ষতি কমানোর জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নদী খনন হবে ম্যাপ অনুযায়ী এবং মানবিকভাবে।

 

তীর সংরক্ষণ ও বাঁধের মান নিয়ন্ত্রণ। দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং ও সতর্কতা ব্যবস্থা নদীভাঙার শিকার পরিবারকে স্থায়ী আশ্রয় প্রদান।খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা। স্থানান্তরিত মানুষদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা।নদীভাঙা মানুষের তালিকা তৈরি। পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়।বুধহাটা বাজার এবং বেতনা নদীর ঘটনা শুধু স্থানিক সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের এক পরীক্ষা ক্ষেত্র।

 

নদী খনন হবে পরিকল্পিত ও মানবিকভাবে। বুধহাটা বাজারের মানুষদের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ হবে। নদীভাঙনের ক্ষতি সীমিত করা সম্ভব। নদীভাঙন থামানো কঠিন, কিন্তু মানবিক ক্ষতি কমানো অসম্ভব নয়-যদি থাকে সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতা।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

শুভেন্দুর দাবী: ৪৮০০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
শুভেন্দুর দাবী: ৪৮০০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬

অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রোববার বলেছেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে স্থাপিত হোল্ডিং সেন্টারগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন তথাকথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী এই সংখ্যা জানালেও কবে, কখন এবং কোন সীমান্তে দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। একই সঙ্গে, এসব ‘অবৈধ অভিবাসী’র পরিচয় কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে সেই বিষয়ে এখনো ভারত সরকার বা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ মোকাবিলা এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তের যে ৫৫৬ কিলোমিটার অংশে এখনো বেড়া নির্মাণ করা বাকি রয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তর করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি বিএসএফকে দিয়েছি এবং উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেক করিডরকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

 

সিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে বেশি পরিচিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশের বাকি অংশের সংযোগ রক্ষাকারী একটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। সরকারের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে অধিকারী বলেন, যেসব অবৈধ অভিবাসী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়েন না, তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের বিধি অনুসারে সরাসরি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

 

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অন্যান্য অংশে এ ধরনের বিধান কার্যকর করা হলেও পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অবৈধ অভিবাসীরা সরকারি খরচে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছে।

 

এদিকে, গতকাল রোববার পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার দিবাগত রাতে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্তের ফ্লাডলাইটও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোমবার দিবাগত রাতে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্তের ফ্লাডলাইটও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, ১০ জন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, ১০ জন আটক

অনলাইন ডেস্ক: যশোরের ধর্মতলা এলাকায় ফের যুবলীগের ঝটিকা মিছিল হয়েছে। রোববার বিকেলে ২০-২৫ জনের একটি দল যুবলীগের ব্যানার নিয়ে নানা স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করে। ব্যানারে লেখা ছিলো সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হাজী আলমগীর কবীর সুমন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

 

পরে সেখানে ডিবি পুলিশ, কোতোয়ালি থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়। সন্দেহজনকভাবে সেখান থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে ১০ জনকে আটক করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এখনি নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

 

উল্লেখ্য, এরআগে শহরের বাবলাতলা, গরীবশাহ, পোস্ট অফিসপাড়ায় যুবলীগের ব্যানারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা শ্লোগান দিয়ে মিছিল করা। এসব ঘটনায়ও জড়িতথাকার অভিযোগে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করে।

পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

তালা প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি মোকাবিলা এবং অভিযোজনের জন্য উন্নত ও দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার পাইকগাছায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির জন্য অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাওসেড’ ও ‘পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম’ যৌথভাবে এই সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পাইকগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অখিল চন্দ্র ম-ল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওসেড-এর হেড অব প্রোগ্রাম শংকর রঞ্জন সরকার এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থার নলেজ ম্যানেজমেন্টের টিম লিডার মোসালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাওসেড-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হেলেনা খাতুন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, শ্যামাপদ ম-ল, নুরুন্নাহার পারভীন, শেখ জুলি, সুভাষ চন্দ্র ম-ল, নুর ইসলাম গাজী, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শহীদ এম. এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চারটি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।