মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মহেশ্বরকাটি মৎস্য সেটে ব্যবসায়ীকে ‘সম্মোহিত’ করে টাকা লোপাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
মহেশ্বরকাটি মৎস্য সেটে ব্যবসায়ীকে ‘সম্মোহিত’ করে টাকা লোপাট

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বৃহত্তম মৎস্য সেট মহেশ্বরকাটিতে এক মুদি ব্যবসায়ীকে ‘সম্মোহিত’ করে ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, গত বুধবার দুপুর তিনটার দিকে তিনি তাঁর মুদি দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-৭৬৬ নম্বরের প্রাইভেট কারে চড়ে কয়েকজন ব্যক্তি বাজারের দোকানের সামনে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে বিদেশি চেহারার এক ব্যক্তি অর্ধেক খোলা দোকানের ভেতরে ঢুকে ইংরেজিতে মালামালের নাম জিজ্ঞাসা করেন। এরপর তিনি একটি ২০০ টাকার নোট দিয়ে ভাঙতি চান এবং ইংরেজি ১০০০ টাকার নোট দেখতে চান। ব্যবসায়ী সরল বিশ্বাসে তাঁর ক্যাশবাক্সের ৬৫ হাজার টাকার বান্ডিল থেকে একটি ১০০০ টাকার নোট বের করে দিলে ওই ব্যক্তি বিদেশি ভঙ্গিতে টাকাটি দেখতে থাকেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় কৌশলে টাকাটিতে কোনো রাসায়নিক বা বিশেষ কিছু মাখিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর তারা গাড়ি নিয়ে চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার পাইকারি মালামাল কিনতে গিয়ে ব্যবসায়ী দেখতে পান তাঁর ক্যাশবাক্সের পুরো ৬৫ হাজার টাকাই গায়েব।
স্থানীয় এক যুবক কৌতুহলবশত ঘটনার সময় ওই প্রাইভেটকার ও দুই ব্যক্তির দোকানে ঢোকার ভিডিও ধারণ করেছিলেন, যা এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এর আগে ওই চক্রটি পাশের আরেকটি দোকানেও একই কায়দায় টাকা দেখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কর্মচারী ইংরেজি বুঝতে না পারায় তারা সফল হয়নি। আশাশুনি থানা-পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Ads small one

শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামের সামনের প্রধান সড়কে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর সংসদীয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছে ক্ষুব্ধ জনতা।
মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে এমপি নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। কর্মসূচির কারণে শ্যামনগর–মুন্সিগঞ্জ সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিডিও কা- ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই নৈতিক দায় স্বীকার করে তাঁর অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় শ্যামনগরসহ পুরো সাতক্ষীরা অচল করার পাশাপাশি সংসদ সদস্যের বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। ইতোমধ্যে তাঁকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ পায়, যেখানে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি নজরুলকে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে পরদিন তিনি ফেসবুকে দাবি করেন, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং সংশ্লিষ্ট দল থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনাটির পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

দেবহাটায় পাউবোর জমি দখল করে পাকা ইমারত, ঝুঁকিতে ইছামতীর বাঁধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পাউবোর জমি দখল করে পাকা ইমারত, ঝুঁকিতে ইছামতীর বাঁধ

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং ইছামতী নদীর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বসন্তপুর স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় গেট খালাসির ব্যবহারের জন্য পাউবোর একটি পাকা ঘর ছিল। সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা আরমান হোসেন সরকারি ওই ঘর ও আশপাশের জমি দখল করে পাকা স্থাপনা তৈরি করেছেন। নদী তীরবর্তী নির্জন এলাকা হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা- চালানো হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাড়ের সরকারি জমি প্রথমে পলিথিন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষে নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি কালীগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং সাতক্ষীরা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেন। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি; কেবল মৌখিকভাবে স্থাপনাটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া মাছ চাষের জন্য ইছামতীর বেড়িবাঁধ কেটে পানি চলাচলের পথ তৈরির অভিযোগও রয়েছে। এতে বাঁধ দুর্বল হয়ে নদীভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অবৈধ দখলমুক্তকরণ ও নদীর বাঁধ রক্ষায় জেলা প্রশাসক এবং পাউবো কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঠিকাদারের গাফিলতিতে শ্রীউলার সড়ক নির্মাণে জনভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
ঠিকাদারের গাফিলতিতে শ্রীউলার সড়ক নির্মাণে জনভোগান্তি

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালা হাইস্কুলের সামনের সড়ক মেরামতের কাজ সাব-ঠিকাদারের হাতে ন্যস্ত করায় চরম ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আনুলিয়া ইউপি অফিস থেকে মহিষকুড় হয়ে মাড়িয়ালা খেয়াঘাট সড়কের ৯০৫ মিটার অংশ মেরামতের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ৮৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজ পায় ‘মেসার্স করিম কনস্ট্রাকশন’। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ৮ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে মূল ঠিকাদার আলমগীর হোসেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই সাতক্ষীরার আবুল হোসেন নামের এক সাব-ঠিকাদারের কাছে কাজটি হস্তান্তর করেন। সময়মতো কাজ না হওয়ায় পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩ মে পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নেওয়া হলেও কাজের গতি ফেরেনি। সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা এবং নি¤œমানের বালি ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সাব-ঠিকাদার আবুল হোসেন নিজের উদাসীনতা প্রকাশ করে বলেন, দরকারে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব জানান, কাজে চরম গাফিলতি হওয়ায় ঠিকাদারকে ইতিমধ্যেই তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে। আর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান আশ্বাস দিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।