রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

মাঠ হারালে, হারাবে বাংলাদেশ/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
মাঠ হারালে, হারাবে বাংলাদেশ/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

একসময় বাংলাদেশের গ্রাম মানেই ছিল খোলা আকাশের নিচে এক টুকরো মাঠ। বিকেল নামলেই সেই মাঠে ছুটে আসত শিশু-কিশোরেরা। কারও হাতে ফুটবল, কারও হাতে ক্রিকেট ব্যাট, কেউ আবার গোলপোস্ট বানাত দুটি ইট দিয়ে। ধুলোমাখা পায়ে, ঘামে ভেজা শরীরে, জয়ের আনন্দ আর হারের কান্না নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত খেলা। শহরেও ছিল পাড়ার মাঠ, স্কুলের মাঠ, ক্লাবের মাঠ।

 

মাঠ ছিল শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়; ছিল সামাজিক মিলনকেন্দ্র, বন্ধুত্বের ঠিকানা এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠার অন্যতম আশ্রয়। কিন্তু সময় বদলেছে। বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়েছে, নগরায়ণ বেড়েছে, নতুন নতুন স্থাপনা গড়ে উঠেছে, জনসংখ্যা বেড়েছে। এই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। কোথাও মাঠ দখল হয়ে যাচ্ছে, কোথাও গড়ে উঠছে বহুতল ভবন, মার্কেট কিংবা বিভিন্ন স্থাপনা।

 

কোথাও মাঠকে ব্যবহার করা হচ্ছে অস্থায়ী বাণিজ্যিক কাজে, কোথাও তা পরিণত হয়েছে আবর্জনা ফেলার স্থানে। গ্রামেও এখন আগের মতো খোলা জায়গা নেই। বসতবাড়ি, সড়ক, বাজার ও বিভিন্ন অবকাঠামোর বিস্তারে শিশুদের দৌড়ানোর জায়গাটুকুও ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কী এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলছি, যেখানে ভবন থাকবে, রাস্তা থাকবে, বাজার থাকবে, কিন্তু শিশুদের খেলার জন্য একটি মাঠ থাকবে না? এই প্রশ্ন আজ শুধু কোনো একটি উপজেলা, জেলা কিংবা শহরের নয়; এটি সমগ্র বাংলাদেশের প্রশ্ন। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন।

 

নতুন রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধুনিক নগরব্যবস্থা ছাড়া একটি দেশ এগোতে পারে না। কিন্তু উন্নয়ন যদি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো কেড়ে নেয়, তাহলে সেই উন্নয়নের মধ্যেও এক ধরনের সংকট তৈরি হয়। একটি শিশুর জন্য খেলার মাঠ বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। যেমন তার বিদ্যালয় প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন মুক্ত পরিবেশে দৌড়ানো, খেলাধুলা করা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠা। চার দেয়ালের মধ্যে শুধু বই আর মোবাইলের পর্দা দিয়ে একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়।

 

বাংলাদেশের শহরগুলোতে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর এবং দ্রুত সম্প্রসারণশীল পৌর এলাকাগুলোতে খোলা জায়গা কমছে। অনেক এলাকায় হাজার হাজার মানুষের জন্য একটি খেলার মাঠও নেই। শিশুরা রাস্তায় খেলতে পারে না যানবাহনের কারণে, পার্কে খেলতে পারে না জায়গার সংকটে, আর মাঠ নেই দখল ও স্থাপনার কারণে। গ্রামবাংলার চিত্রও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় গ্রামের মাঠ ছিল সবার।

 

এখন অনেক জায়গায় সেই জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে গেছে, কোথাও বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে, কোথাও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে গ্রামের শিশু-কিশোররাও হারাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক খেলাধুলার পরিবেশ। প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না, সমাজও নয়। মাঠে খেলাধুলার সুযোগ কমে গেলে শিশু-কিশোরদের অবসর অন্য কিছু দিয়ে পূরণ হয়। আজ সেই জায়গা দখল করছে মোবাইল ফোন ও ভার্চুয়াল জগৎ। প্রযুক্তি আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ।

 

ইন্টারনেট শিক্ষা, যোগাযোগ ও জ্ঞান অর্জনের অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আর নিয়ন্ত্রণহীন আসক্তি এক বিষয় নয়। একটি শিশু যদি বিকেলে মাঠে যাওয়ার সুযোগ না পায়, বন্ধুর সঙ্গে খেলতে না পারে, শরীরচর্চার সুযোগ না পায়, তাহলে তার অবসর সময়ের বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই মোবাইলের পর্দায় বন্দী হয়ে পড়বে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অনলাইন গেমস, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং অনলাইন জুয়ার মতো উদ্বেগজনক প্রবণতা। কিশোর ও তরুণদের একাংশ দ্রুত এই ভার্চুয়াল আসক্তির মধ্যে ঢুকে পড়ছে।

 

রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার, পড়াশোনায় অমনোযোগ, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাÑএসব এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমরা সন্তানকে বলি, ‘মোবাইল ছেড়ে বাইরে যাও।’ কিন্তু বাইরে গিয়ে সে কোথায় যাবে? তার খেলার মাঠ কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু সন্তানদের দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, মাদকবিরোধী প্রচার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলছে। কিন্তু কেবল আইন প্রয়োগ করে এই সামাজিক সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তরুণদের সামনে ইতিবাচক বিকল্পও তৈরি করতে হবে। একজন তরুণ যখন প্রতিদিন অনুশীলনে ব্যস্ত থাকে, যখন তার সামনে একটি টুর্নামেন্ট থাকে, যখন সে দলের জন্য দায়িত্ব অনুভব করে, তখন তার জীবনযাপনের মধ্যে শৃঙ্খলা তৈরি হয়।

 

খেলাধুলা তাকে সময়ের মূল্য শেখায়, পরিশ্রম শেখায় এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার শিক্ষা দেয়। এ কথা বলা ঠিক নয় যে মাঠ থাকলেই মাদক থাকবে না। মাদকের পেছনে রয়েছে অপরাধচক্র, পারিবারিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য, হতাশা ও নানা অর্থনৈতিক কারণ। কিন্তু এটিও সত্য যে, সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ কমে গেলে তরুণদের বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই মাদক প্রতিরোধের সামগ্রিক কৌশলে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

একটি মাঠ অনেক সময় একটি থানার কাজও সহজ করে দিতে পারে। কারণ মাঠে ব্যস্ত তরুণ সমাজ অপরাধ ও আসক্তির বিরুদ্ধে একটি স্বাভাবিক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রতিভা জন্মায়, কিন্তু সুযোগের অভাবে হারিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন ও পাড়ায় অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। হয়তো কোনো কিশোর অসাধারণ ফুটবল খেলে, কেউ দ্রুতগতির দৌড়বিদ, কেউ ভালো ক্রিকেটার। কিন্তু প্রতিভা থাকলেই সফলতা আসে না। প্রতিভার প্রয়োজন পরিচর্যা। একজন খেলোয়াড়ের দরকার মাঠ, নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সামগ্রী এবং প্রতিযোগিতার সুযোগ।

 

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক প্রতিভাবান শিশু এসবের কিছুই পায় না। ফলে তারা একসময় খেলা ছেড়ে দেয়। জীবিকার প্রয়োজনে অন্য পেশায় চলে যায়। তাদের সঙ্গে হারিয়ে যায় দেশের সম্ভাবনাও। আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সাফল্যে আনন্দিত হই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় কোথা থেকে তৈরি হবে? যদি স্কুলে মাঠ না থাকে, ইউনিয়নে মাঠ না থাকে, জেলায় নিয়মিত প্রতিযোগিতা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরির ভিত্তিটাই দুর্বল হয়ে যাবে।

 

জাতীয় দলের স্বপ্ন আসলে শুরু হয় গ্রামের ছোট মাঠ থেকে। দুই ইটের গোলপোস্ট থেকে, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে, পাড়ার ছোট টুর্নামেন্ট থেকে। সেই শিকড়ই যদি শুকিয়ে যায়, তাহলে একদিন বড় সাফল্যের গাছটিও দুর্বল হয়ে পড়বে। মাঠের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো কোনো বইয়ে পাওয়া যায় না। সেখানে একজন শিশু শেখে দলবদ্ধতা। শেখে নিজের স্বার্থের বাইরে দলের স্বার্থ দেখতে। শেখে নিয়ম মানতে।

 

শেখে পরাজয় মেনে আবার ঘুরে দাঁড়াতে। আজকের সমাজে যখন অসহিষ্ণুতা, একাকিত্ব ও পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ছে, তখন মাঠের সামাজিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই মাঠে ধনী-গরিব, বিভিন্ন পেশা ও বিভিন্ন পরিবারের সন্তান একসঙ্গে খেলতে পারে। সেখানে পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে দল ও বন্ধুত্ব। ভার্চুয়াল জগতে একজন কিশোর হয়তো শত মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকে, কিন্তু বাস্তবে সে একা হয়ে যেতে পারে। আর মাঠে সে বাস্তব মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। হাসে, ঝগড়া করে, আবার মিলেও যায়।

 

এভাবেই তৈরি হয় সামাজিক দক্ষতা। খেলার মাঠকে অনেক সময় খালি জায়গা হিসেবে দেখা হয়। আর এই ‘খালি জায়গা’ দখল করার লোভ থেকেই শুরু হয় নানা অনিয়ম। কিন্তু মাঠ কখনো খালি জায়গা নয়। এটি জনস্বার্থের জায়গা। একটি বিদ্যালয়ের মাঠে স্থাপনা গড়ে উঠলে শুধু কিছু জমির ব্যবহার পরিবর্তন হয় না; হাজারো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীর অধিকার সংকুচিত হয়। একটি পাড়ার মাঠ দখল হলে এলাকার শিশুদের কাছ থেকে তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়। তাই খেলার মাঠ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

 

মাঠের মালিকানা ও সীমানা চিহ্নিত করতে হবে। অবৈধ দখল থাকলে তা আইনগতভাবে অপসারণ করতে হবে। মাঠকে অন্য কাজে স্থায়ীভাবে ব্যবহার করার আগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনের কথা ভাবতে হবে। মাঠ রক্ষা কেবল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এটি স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রশাসন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা এবং সর্বোপরি সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ডে কতগুলো খেলার মাঠ আছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা থাকা দরকার।

 

কোন মাঠ সরকারি, কোনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, কোনটি দখলের ঝুঁকিতেÑএসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। প্রতিটি এলাকায় জনসংখ্যার অনুপাতে খোলা ও ক্রীড়া স্থানের পরিকল্পনা করতে হবে। নতুন আবাসন প্রকল্প, বাজার কিংবা নগর সম্প্রসারণের সময় খেলার মাঠকে পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রাখতে হবে।

 

প্রথমত, সব সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠের তালিকা ও ডিজিটাল নথি তৈরি।

দ্বিতীয়ত, অবৈধ দখল ও স্থাপনা থেকে মাঠ উদ্ধার এবং সীমানা সংরক্ষণ।

তৃতীয়ত, ইউনিয়ন ও পৌরসভাভিত্তিক খেলার মাঠ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ।

চতুর্থত, স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত খেলাধুলা বাধ্যতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কার্যকর করা।

পঞ্চমত, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলাধুলার টুর্নামেন্ট আয়োজন।

ষষ্ঠত, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি বাড়ানো।

সপ্তমত, প্রবাসী, বিত্তবান ব্যক্তি, ক্রীড়া সংগঠন ও স্থানীয় সমাজকে মাঠ উন্নয়ন ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। বাংলাদেশ এগোচ্ছেÑএটি সত্য। নতুন সেতু হচ্ছে, মহাসড়ক হচ্ছে, শিল্পকারখানা হচ্ছে, শহর সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু একটি উন্নত দেশের পরিচয় শুধু কংক্রিটের স্থাপনায় নয়। একটি উন্নত সমাজের পরিচয় হলো, সেখানে শিশুর জন্য নিরাপদ খেলার জায়গা আছে কি না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে শিশুরা শুধু ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে মাঠের গল্প শুনবে।

 

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে ফুটবল থাকবে টেলিভিশনের পর্দায়, কিন্তু খেলার জন্য মাঠ থাকবে না। আমরা এমন প্রজন্মও চাই না, যারা বাস্তব মাঠের বদলে শুধু মোবাইলের ভার্চুয়াল মাঠে খেলবে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের হাতে। আর শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তারা কীভাবে বেড়ে উঠছে তার ওপর। তাদের হাতে শুধু মোবাইল তুলে দিয়ে, চারপাশে শুধু কংক্রিটের দেয়াল গড়ে দিয়ে এবং মাঠগুলো একে একে হারিয়ে দিয়ে সুস্থ প্রজন্মের স্বপ্ন দেখা কঠিন। আজ প্রয়োজন একটি জাতীয় অঙ্গীকারÑবাংলাদেশের কোনো খেলার মাঠ আর হারাতে দেওয়া হবে না।

 

যেখানে মাঠ নেই, সেখানে সুযোগ থাকলে মাঠ তৈরি করতে হবে। যেখানে মাঠ দখল হয়েছে, সেখানে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। যেখানে মাঠ আছে, সেখানে শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মাঠে শুধু বল গড়ায় না; সেখানে গড়ে ওঠে স্বপ্ন। মাঠে শুধু গোল হয় না; সেখানে জন্ম নেয় আত্মবিশ্বাস। মাঠে শুধু খেলোয়াড় তৈরি হয় না; তৈরি হয় শৃঙ্খলাবদ্ধ, সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক। আজ একটি মাঠ বাঁচানো মানে আগামী দিনের একটি শিশুর শৈশব বাঁচানো। একটি ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করা মানে শত তরুণকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

 

আর একটি প্রজন্মকে মাঠে ফিরিয়ে আনা মানে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরও সুস্থ, মানবিক ও শক্তিশালী করে তোলা। মনে রাখতে হবেÑমাঠ হারালে শুধু খেলা হারায় না। মাঠ হারালে হারায় শৈশব, হারায় প্রতিভা, হারায় সুস্থতা, হারায় স্বপ্ন। আর একদিন হয়তো হারাতে বসি আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশকেই। তাই এখনই সময়Ñদখলমুক্ত হোক মাঠ, ফিরুক খেলাধুলা; মাঠে ফিরুক বাংলাদেশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের প্রাণের উচ্ছ্বাস। মাঠ বাঁচান, প্রজন্ম বাঁচানÑমাঠ ফিরলেই জিতবে বাংলাদেশ।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 43;

এস এম হাবিবুল হাসান: সাতক্ষীরায় জাঁকজমকপূর্ণ জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আশাশুনি উপজেলা দল। তারা কালিগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর মেঘা ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দল বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নির্ধারিত সময় আশাশুনি উপজেলা দল ১-১ কালিগঞ্জ উপজেলা দল গোলের সমতায় শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ে আশাশুনি উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলা দল বিজয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারের প্রথম শর্ট নিতে আসে আশাশুনি উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় বেনজামা। টাইব্রেকারে বেনজামার গোলে এগিয়ে যায় আশাশুনি উপজেলা দল। পরে কালিগঞ্জের হয়ে টাইব্রেকারে শর্ট নিতে আসে আল আমিন। আল আমিনের শর্ট আশাশুনি উপজেলার গোলকিপার শান্ত দক্ষতার সাথে সেভ করলে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে দর্শক পরিপূর্ণ সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামের পুরো গ্যালারী।পরে আশাশুনি উপজেলা দল টাইব্রেকারে বাকি ৪টা শর্ট সরাসরি গোল করে। অপর দিকে টাইব্রেকারে কালিগঞ্জ উপজেলা দল বাকি ৩টা শর্টে গোল করলে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে। ফলে আশাশুনি উপজেলা দল জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এর আগে, জমকালো আয়োজনে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপচে পড়া ভীড় আর রৌদ্রোজ্জল বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়াম পরিনত হয় জনসমুদ্রে। প্রথমার্ধের শুরুতেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ আর উভয় দলের সমর্থক ও দর্শকদের মহুর মহুর করতালিতে জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলাটি হয়ে ওঠে প্রানবন্ত ক্রীড়া উৎসব। প্রথমার্ধের ৯ মিনিটের মাথায়আশাশুনি উপজেলা দল ৯ নাম্বার জার্সিধারী সবিজের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায়। ১-০ গেলের লিড নিয়ে আশাশুনি উপজেলা দল আরও আক্রমাত্মক খেলতে থাকে। উপর দিকে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কালিগঞ্জ উপজেলা দল পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে।
গোল পরিশোধের মরিয়া হয়ে আক্রমণের ধার ও খেলার ধরন পরিবর্তন করে প্রতি মুহূর্তে কালিগঞ্জ উপজেলা দল। কালিগঞ্জ উপজেলা দল শুরুতে ৪-৪-২ পজিশন থেকে গোল খেয়ে ৪-৩-২-১ পজিশনে খেলতে থাকে। অপর দিকে আশাশুনি উপজেলা দল আক্রমণের সান বাড়িয়ে ৪-২-২-২ পজিশনে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধের শেষে আর কোন অঘটন না ঘটায় আশাশুনি উপজেলা দলের সজীবের একমাত্র গোলে ১-০ তে লিড নিয়ে বিরতি যান উভয় দল।
ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দল ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে আরও আক্রমাত্মক খেলতে থাকে। অপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল গোল পরিশোধের মরিয়া হয়ে সর্বোচ্চ আক্রমাত্মক ভাবে খেলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১১ নাম্বার জার্সিধারীর ডি-বক্সের মধ্যে একা পেয়ে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা করে আশাশুনি উপজেলা দলের গোলরক্ষক জি কে শান্ত।
গোলকিপার শান্তর একক প্রচেষ্টায় এ যাত্রায় রক্ষা পায় আশাশুনি উপজেলা। খেলায় আশাশুনি উপজেলা ১-০ কালিগঞ্জ উপজেলা দল। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১০ নাম্বার জার্সিধারী আল আমিনের গোলে ১-১ সমতা নিয়ে ফেরে। ফলে আশাশুনি উপজেলা ১-১ কালিগঞ্জ উপজেলা দল। খেলার ৮৮ মিনিটের মাথায় আবারও আক্রমণে আশাশুনি উপজেলা দল। সজীবের শর্ট সেভ করেন কালিগঞ্জ উপজেলা দলের গোলকিপার নাঈম। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোন গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের সমতা নিয়ে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে শেষ করেন। নির্ধারিত সময়ে কোন দল জয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারের ফলাফল
আশাশুনি উপজেলা দল -১+১+১+১+১=৫। উপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল -০+১+১+১+-=৩
এর আগে ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মধ্যবিরতিতে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আয়োজক কমিটি।
ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে রেফারি হিসেবে মাঠ পরিচালনা করেন তরুন প্রজন্মের অন্যতম আইকন আবু সুফিয়ান। সহকারী নাসির উদ্দীন  ও জাহাঙ্গীর কবির। চতুর্থ রেফারি হিসেবে ছিলেন মিজানুর রহমান। ম্যাচ কমিশনার আতাউর রহমান। এছাড়া মাঠে ধারা বিবরণীতে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন ও আশরাফ হোসেন।

সাতক্ষীরায় দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবীতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবীতে মানববন্ধন

নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ ১০টি আদালতে বিচারক নেই, সীমাহীন দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থীরা

পত্রদূত রিপোর্ট: বিগত প্রায় এক বছর যাবৎ সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নেই। নতুন কোন মামলা দায়ের করতে পারছে না বিচারপ্রার্থীরা। ৫ হাজারের অধিক বিচারাধীন মামলার কার্যক্রমও ঝুলে আছে। দুর-দুরন্ত থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থী মানুষ আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক এর মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরে অবিলম্বে শূন্যপদে বিচারক নিয়োগের দাবী জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের জয়েন্ট কনভেনার মাধব চন্দ্র দত্ত। বক্তব্য রাখেন নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, দ্য ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাড. মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. সৌরভ হোসেন এবং নেটওয়ার্কের সদস্য অ্যাড. সাবিনা ইয়াসমিন লিমা প্রমুখ।

মানবন্ধনের বক্তারা আরো বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ছাড়াও সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের ২টি আদালত এবং সিভিল জজের ১টি আদালতে বিচারক নেই। সবমিলিয়ে জেলা জজশীপে ৪টি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর ৬টি আদালত দীর্ঘ দিন বিচারক শূন্য। বক্তারা বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় ৯৮, ১০০ ধারায় প্রতিকার চাইতে পারছেন না সংশ্লিষ্ঠরা। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় জেলা লিগ্যাল এইডেও দিনের পর দিন বিচারপ্রার্থীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরো বলেন, আদালতে বিচারক না থাকায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মনিরুদ্দিন। মানববন্ধনে ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি যশোরে আটক, ট্রাক চালককে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি যশোরে আটক, ট্রাক চালককে জরিমানা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাক থেকে জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করেছে র‌্যাব-৬। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক সাইফুল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের বকচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। র‌্যাব-৬ সিপিসি-৩ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্সের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাকে জেলি পুশ করা চিংড়ি মাছ পরিবহন করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বকচর এলাকায় ট্রাকটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাকে থাকা প্রায় ৩৬ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছগুলো পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিংড়ির ভেতরে জেলি পুশ করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় ট্রাকের চালক সাইফুল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ। একই সঙ্গে জব্দ করা চিংড়ি মাছ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা চিংড়ির ওজন ও আকার বাড়িয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মাছের শরীরে জেলি বা অন্যান্য পদার্থ পুশ করে থাকেন। এতে চিংড়ির স্বাভাবিক গুণগত মান নষ্ট হয়। পাশাপাশি এসব মাছ খাওয়ার মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

র‌্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চিংড়ি আটক ও জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।