সম্পাদকীয়/ উপকূলের নারী শিক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত
ভৌগোলিক দুর্যোগ আর আর্থ-সামাজিক নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে টিকে থাকা উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগরে শিক্ষার আলো ছড়ানো সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার পথটি প্রায়শই অর্থাভাবে রুদ্ধ হয়ে যায়। এমন এক প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরার শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের শিক্ষকমন্ডলী ও সুভানুধ্যায়ীদের নিজস্ব অর্থায়নে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বইসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী।
একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে কেবল পরিকাঠামো বা সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সময়োপযোগী উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা। উপকূলীয় অঞ্চলে দারিদ্র্যের কারণে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের পর ঝরে পড়ে, বা বাল্যবিয়েসহ নানা সামাজিক সমস্যার শিকার হয়। এই অবস্থায় কলেজের শিক্ষকদের নিজেদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের পুরো সেট বই কিনে দেওয়া কেবল একটি আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকসমাজের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এটি শিক্ষার্থীদের মনে উচ্চশিক্ষার প্রতি নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, যা তাদের অনুভূতিতেও স্পষ্ট।
এই ধরনের মহতী উদ্যোগ শুধু একটি নির্দিষ্ট কলেজের পরিমন্ডলেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। উপকূলীয় ও দুর্গম অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের এই প্রচেষ্টা জাতীয়ভাবে অনুকরণীয় মডেল হতে পারে। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদন্ড হয়, তবে শিক্ষক ও সমাজের সুধীজনদের এমন সমন্বিত প্রয়াসই সে মেরুদন্ডকে শক্তিশালী করে তোলে।
আমরা শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের শিক্ষকমন্ডলী, প্রতিষ্ঠাতা, সুভানুধ্যায়ী ও পরিচালন পর্ষদকে তাঁদের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। আশা করি, সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এভাবে শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের পাশে এসে দাঁড়াবেন, যাতে অর্থের অভাবে উপকূলের কোনো আলোর প্রদীপ অকালে নিভে না যায়।
আপনার পত্রিকার নীতি বা শব্দসীমা অনুযায়ী এতে কোনো পরিমার্জন বা সংশোধন করার প্রয়োজন থাকলে জানাতে পারেন!





