সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদকমুক্ত ও কিশোর গ্যাংরহিত সাতক্ষীরা চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত ও কিশোর গ্যাংরহিত সাতক্ষীরা চাই

‎তারিক ইসলাম

‎একটি সমাজ কতটা সংবেদনশীলতা হারালে সামান্য কথা-কাটাকাটি বা একটি ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হয় সম্ভাবনাময় এক তরুণকে? সম্প্রতি সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মোড়ে ঘটে যাওয়া জাকারিয়া খান হত্যার ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি আমাদের বর্তমান সামাজিক কাঠামোর এক ভয়াবহ ও রক্তাক্ত চিত্র। এই মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, সাতক্ষীরার যুবসমাজ আজ কতটা বিপথগামী এবং জনজীবন কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

‎খবর নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরা শহরের একটি চায়ের দোকানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ ও মারামারি শুরু হলে তা থামাতে এগিয়ে যান জাকারিয়া। আর সেই মহৎ উদ্যোগই কাল হলো তার জন্য। বখাটেদের হামলায় তাকে প্রাণ হারাতে হলো। যে বয়সে তরুণের হাতে থাকার কথা বই বা কলম, সেই বয়সের কিছু কিশোরের হাতে ধারালো অস্ত্র কীভাবে ওঠে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসে এক গভীর সামাজিক ও পারিবারিক বিচ্যুতির করুণ গল্প।

‎সাতক্ষীরার অলিগলি, পার্ক কিংবা ফাঁকা রাস্তাগুলোতে গত কয়েক বছর ধরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে একশ্রেণির কিশোর ও তরুণ অপরাধী চক্র। এদের দিন শুরু হয় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল রাইডিং, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ইভটিজিংয়ের মাধ্যমে। সন্ধ্যার পর এদের আড্ডা জমে ওঠে বিভিন্ন মোড়ে বা সীমান্তঘেঁষা ভোমরা এলাকায়, যেখানে চলে মাদক সেবনের আসর। এই মাদকাসক্তি মেটাতে কিংবা নিজেদের তথাকথিত ‘হিরোইজম’ জাহির করতে তারা বেছে নেয় চাঁদাবাজি ও মারামারির পথ। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে কিছু উঠতি বয়সি কিশোর-কিশোরীও, যা এক ভয়ংকর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

‎এ ধরনের অপরাধ একদিনে জন্ম নেয় না। বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়ম, প্রতিকারহীন সংস্কৃতি এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এই গ্যাংগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে। যখন দেখা যায় তুচ্ছ অপরাধের বিচার হচ্ছে না বা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের অপরাধের পরিধি খুনখারাবি পর্যন্ত গড়াতে দ্বিধা করে না। সাতক্ষীরার এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হবে।

‎সাতক্ষীরার বাতাসকে রক্তিম ও ভারী করে তোলা এই কিশোর অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে শক্ত হাতে। এর জন্য প্রয়োজন বহুমুখী ও কঠোর পদক্ষেপ:
‎১. মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: কিশোর গ্যাংয়ের মূল জ্বালানি হলো মাদক। ভোমরা সীমান্তসহ জেলার প্রতিটি কোণায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

‎২. প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও জবাবদিহিতা: পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের সন্দেহজনক আড্ডা, রাতবিরেতে বেপরোয়া বাইক রাইডিং এবং ইভটিজিং রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে।

‎৩. রাজনৈতিক ও সামাজিক সদিচ্ছা: অপরাধীদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক আশ্রয়প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অপরাধীর পরিচয় কেবল সে অপরাধী।

‎৪. পারিবারিক সচেতনতা: অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে-তা মনিটর করার দায়িত্ব পরিবারকেই নিতে হবে।

‎জাকারিয়া হত্যার পর সাতক্ষীরার বিবেকবান মানুষ শোকে ও ক্ষোভে স্তব্ধ। আমরা এমন একটি সাতক্ষীরা দেখতে চাই না, যেখানে তরুণের বুক চিরে রক্ত ঝরে। একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত এবং কিশোর গ্যাং বা অপরাধ সংস্কৃতিমুক্ত সাতক্ষীরা গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

জাকারিয়া হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনপদে আইনের শাসন ও স্বস্তি ফিরে আসতে পারে।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নিয়ে মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নিয়ে মতবিনিময় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শির্ষাগ্রামে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর বিকেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৃত্তিকা’ এ আলোচনার আয়োজন করে।

উপকূলীয় এলাকার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২০ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রায়হানুজ্জামান এবং মৃত্তিকা সংস্থার যুব সদস্য মো. আব্দুল আহাদসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সভায় জলবায়ু সহনশীল বাঁধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মতো টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং স্থানীয় জনগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ ও শস্যের ধরন পরিবর্তনের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শ্যামনগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। কলেজের হলরুমে অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যসচিব প্রতাপ কুমার রায়, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আল মোকাররম বিল্লাহ প্রমুখ।
এদিকে বনশ্রী শিক্ষানিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে র‌্যালি ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ছফুরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দরগাহপুর নকিমুদ্দীন দারুস সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসা, ধূমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নানা আয়োজনে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।

শ্যামনগরে মুন্ডা জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল নেতৃত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে মুন্ডা জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল নেতৃত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে সভা

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে মুন্ডা নারী ও যুবদের জলবায়ু সহনশীলতা এবং ডিজিটাল নেতৃত্ব উন্নয়নে এক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর সকালে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ‘ভয়েস অব চেঞ্জ: ডিজিটাল লিডারশিপ অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ফর মুন্ডা উইমেন অ্যান্ড ইউথ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) এ সভার আয়োজন করে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকের সভাপতিত্বে সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. কবীর আলম। সভায় জানানো হয়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী, রমজাননগর, শ্যামনগর সদর, ঈশ্বরীপুর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নে বসবাসরত মুন্ডা জনগোষ্ঠীর নারী ও যুবদের নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাঁদের জলবায়ু সহনশীলতা, ডিজিটাল নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

পাশাপাশি জলবায়ু-সহনশীল আয়বর্ধক কর্মকা-ে সম্পৃক্ততা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই জীবিকার মাধ্যমে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।