বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মানছে না ঘের নীতিমালা, হুমকির মুখে শতাধিক গ্রামীণ সড়ক, স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
মানছে না ঘের নীতিমালা, হুমকির মুখে শতাধিক গ্রামীণ সড়ক, স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও জেল-জরিমানার পরেও মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে ঘের ব্যাবসায়ীদের বৈরি আচারণে শতাধিক কাচা-পাকা গ্রামীণ সড়ক এখন হুমকির মুখে, জনমনে তৈরী হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা।

খোজ নিয়ে জানাগেছে, এ উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮ টি মৎস্য ঘের রয়েছে। এসব ঘেরের মালিকরা শতাধিক সরকারি সড়ক মাছের ঘেরের ভেড়ি (বাঁধ) হিসেবে ব্যবহার করায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে এসব মাছের ঘের গড়ে তোলায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।

ফলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিলাঞ্চলের হাজার ও নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকা সংকটে পড়েতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন ও সুধীজন।

কেশবপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় বিল ও জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে বিল বলদহালি, টেপুর বিল, গরালিয়া বিল, পদ্মবিল, ঘোচমারা বিল, কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিল, হাজোয়ার বিল, খুকশিয়া বিল, বোয়ালিয়ার বিল, গঙ্গাধার বিল ও বিষ্ণুপুর বিল উল্লেখযোগ্য।

সূত্রে জানাগেছে, নব্বইয়ের দশক থেকে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকায় মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা সরকারি রাস্তা ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। ফলে বিলভিত্তিক মৎস্যসম্পদে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কমে যায় এবং জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা সংকুচিত হয়ে পড়ে।

 

অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঘের মালিক সরকারি খালের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে ব্যক্তিগতভাবে কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। এতে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে উপজেলার নিন্মাঞ্চল স্থায়ী জলাবদ্ধতা শুরু হয়। যা দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে রয়েছে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক, কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়ক, কেশবপুর-ভেরচী সড়ক, কেশবপুর-ফতেপুর সড়ক, কলাগাছী-চুকনগর সড়ক, মঙ্গলকোট-হিজলডাঙ্গা সড়ক, মঙ্গলকোট-পাঁচপোতা সড়ক, বাকাবর্শি-গড়ভাঙ্গা সড়ক, মজিদপুর-লক্ষীনাথকাটি সড়ক, কেশবপুর-চিংড়া সড়ক, কেশবপুর-ত্রিমোহিনী সড়ক, মনোহরনগর-বাকডাঙ্গা সড়ক, ব্যাসডাঙ্গা-ইমাননগর সড়ক, গোলাঘাটা বাজার-মঙ্গলকোট সড়ক, শ্রীফলা-মঙ্গলকোট সড়ক ও সাবদিয়া-সরফাবাদ সড়ক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ফকির রাস্তা এলাকা থেকে কেশবপুর বাস-ট্রাক টার্মিনাল পর্যন্ত অংশ মাছের ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়কসহ অন্তত ১০টি পাকা সড়ক এবং আরও শতাধিক গ্রামীণ রাস্তা ঘেরের ভেড়ী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সড়কের ঢাল, শোল্ডার ও পিচের অংশ ভেঙে গিয়ে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী এম.এ. জাসির বলেন, ঘের মালিকরা অবৈধভাবে সড়ককে ভেড়ি হিসেবে ব্যবহার করায় সড়কের শোল্ডার ও পিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী সড়ক থেকে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, মৎস্য ঘের নির্মাণ আইন সম্পর্কে অবহিত করতে বিভিন্ন এলাকা ঘের ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা সভা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেখ সোনা খাতুন বলেন, যাঁরা মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে অবৈধভাবে ঘেরের পাড় হিসাবে সরকারি রাস্তা ব্যবহার করছে উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের বুক চিরে বয়ে চলা ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরা সদরের মিল বাজারস্থ সুন্দরবন ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এই সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রাণসায়ের খাল কেবল একটি জলাধার নয়, এটি সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্য ও ফুসফুস। অথচ চরম দখল ও দূষণের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী খালটি আজ অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। খালের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহরে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।

দেশ টিভির সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমনের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য ও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডমিন অফিসার শেখ আব্দুর রহমানের, বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বেলার প্রধান কার্যালয়ের অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ আল গালিব, খুলনা বেলা রিসার্চ অফিসের শাফায়েত উল্লাহ, বেলার ক্যাম্পেইন অফিসার মোজাফফর ফয়সাল, অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন অফিসার সামির রহমান এবং রিসার্চ অফিসার রাইসুল হাসান সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেনের।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না। এছাড়াও প্রাণসায়ের খালের তীরবর্তী সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও ইয়ুথ সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

শহরের পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় সভা থেকে অবিলম্বে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- খালের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করা, খালে বাসা-বাড়ি বা বাজারের বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে বন্ধ করা এবং খালটি পূর্ণাঙ্গভাবে খনন করে এর স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা।

বক্তারা বলেন, “প্রাণ-সায়ের খাল বাঁচলে, বাঁচবে আমাদের সাতক্ষীরা শহর। এই খালকে বাঁচাতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং নিজেদেরও খাল দূষণমুক্ত রাখার শপথ নিতে হবে।”

 

ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান

চীনের মুদ্রা রেনমিনপি বা ইউয়ান মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৭ পিপস বেড়ে ৬ দশমিক ৮১৩০-এ দাঁড়িয়েছে। বুধবার এ তথ্য দিয়েছে চীনের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা।

চীনের স্পট বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় মধ্যমূল্যের তুলনায় ইউয়ান সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে।

এই কেন্দ্রীয় হার নির্ধারণ করা হয় আন্তঃব্যাংক বাজার খোলার আগে বাজার-নির্ধারকদের দেওয়া দরগুলোর গড়ের ভিত্তিতে।

সূত্র: সিএমজি

আল্লাহর কাছে শুকরিয়া: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া: ট্রাম্প

ইরানের ওপর চলমান মার্কিন নৌ অবরোধের ব্যাপক প্রশংসা করে দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক নতুন পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান এখন দ্রুত একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

চলতি এই অবরোধকে নৌযুদ্ধের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে সফল অবরোধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, আমরা না চাইলে কোনও কিছুই এর ভেতর দিয়ে পার হতে পারে না। এটি একটি ইস্পাতের দেয়াল!

ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্পের হুঙ্কার
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ‘ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন একেবারে শূন্যের কোঠায়। তারা তাদের সামরিক বাহিনীকে বেতন দিতে পারছে না, এমনকি নিজেদের কোনও বিলও পরিশোধ করতে পারছে না। তারা দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে! তবে প্রচুর তেল বাইরে বেরিয়ে আসছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া!’

একই সঙ্গে চলমান এই মার্কিন অবরোধ কতটা কার্যকর, তা প্রচার না করার জন্য তিনি ‘ভুয়া গণমাধ্যমগুলোর’ প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পোস্টের বাইরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত নতুন কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতুগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা