বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বর্ষার শুভ্র দূত: অনন্য রূপের চালতা ফুল/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বর্ষার শুভ্র দূত: অনন্য রূপের চালতা ফুল/ ‎তারিক ইসলাম

‎তারিক ইসলাম

‎প্রকৃতিতে আষাঢ়ের আগমন মানেই রিমঝিম বৃষ্টির গান আর চারপাশের সবুজের সমারোহ। বর্ষার এই চিরচেনা রূপের মাঝে অবহেলিত অথচ দারুণ এক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে চালতা গাছ। আমাদের গ্রামীণ জনপদে চালতা অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল হলেও, এর ফুলের রূপ-মাধুর্য নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। অথচ বর্ষার শুরুতে যখন চালতা ফুল ফোটে, তখন তার শুভ্রতা আর গঠনশৈলী যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।
‎চালতা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Dillenia indica|. এটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের একটি আদি বৃক্ষ। বর্ষার প্রথম বৃষ্টি স্পর্শ করার পর থেকেই চালতা গাছের ডালে ডালে গোল গোল সবুজ কুঁড়ি দেখা দিতে শুরু করে। আর সেই কুঁড়ি ফেটে যখন ফুলটি আত্মপ্রকাশ করে, তখন চারপাশ যেন এক স্নিগ্ধ আলোয় ভরে ওঠে।

 

‎চালতা ফুলের এই স্নিগ্ধ ও বিষণ্ন রূপ সবচেয়ে সুন্দরভাবে ধরা দিয়েছিল রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের চোখে। প্রকৃতির নশ্বরতা আর শাশ্বত সুন্দরের মেলবন্ধন বোঝাতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন-
‎“আমি চলে যাবো বলে, চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে, নরম গন্ধের ঢেউয়ে?”‎মানুষ চলে যায়, কিন্তু প্রকৃতি তার নিয়মেই রূপের পসরা সাজিয়ে রাখে। কবির এই আক্ষেপ মিশ্রিত জিজ্ঞাসা মনে করিয়ে দেয়, চালতা ফুল আর তার মিষ্টি সুবাস আমাদের যান্ত্রিক জীবনের আড়ালেও কতটা নীরবে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যের সাথে।

‎চালতা ফুলের গঠন অন্য দশটা ফুল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফুলগুলো বেশ বড় আকৃতির এবং নিচের দিকে মুখ করে ঝুলে থাকে। এর পাঁচটি বড়, পুরু ও সাদা রঙের পাপড়ি থাকে, যা দেখতে অনেকটা চামচের মতো বাঁকানো। ফুলের ঠিক মাঝখানে থাকে হলদে-সবুজ রঙের পরাগধানী এবং তার উপরে চাকার স্পোকের মতো ছড়িয়ে থাকে সাদা রঙের গর্ভকেশর। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ পাতার ক্যানভাসে কেউ যেন পরম যতেœ সাদা শ্বেতপাথরের কোনো শিল্পকর্ম ঝুলিয়ে রেখেছে।

‎চালতা ফুলের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর আয়ুষ্কাল। ফুলটি ফোটে মূলত ভোরের আলো ফোটার আগে, আর দুপুরের কড়া রোদ পড়ার আগেই এর পাপড়িগুলো ঝরে পড়ে। এই স্বল্পস্থায়ী মায়াবী সৌন্দর্যের কারণেই হয়তো এটি কবি-হৃদয়কে এতটা আলোড়িত করেছিল।

‎একসময় বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে, পুকুরপাড়ে বা ঝোপঝাড়ে প্রচুর চালতা গাছ দেখা যেত। বর্ষার সকালে ঝরে পড়া চালতা ফুলের পাপড়ি কুড়ানোর আনন্দ জড়িয়ে ছিল আমাদের শৈশবের স্মৃতিতে। কিন্তু নগরায়ণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আজ আমাদের চারপাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এই দেশীয় ঐতিহ্যবাহী গাছটি।

‎চালতা গাছ কেবল সৌন্দর্য ছড়ায় না, এটি আমাদের বাস্তুতন্ত্রের (ঊপড়ংুংঃবস) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে পরাগায়নে সাহায্য করে, আর টক-মিষ্টি ফল কাঠবিড়ালি, পাখি ও বন্য প্রাণীদের অন্যতম প্রধান খাদ্য।

‎প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং আমাদের নিজস্ব উদ্ভিদ বৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে চালতা গাছের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কংক্রিটের এই নগরীতে বা গ্রামীণ বনায়নে আমরা যদি এই দেশীয় গাছগুলোকে ফিরিয়ে না আনি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শুধু জীবনানন্দের কবিতার লাইনেই ‘রূপসী বাংলার’ এই শুভ্র দূতকে খুঁজে বেড়াবে। বর্ষার এই মায়াবী রূপকে বাঁচাতে আমাদের বাড়ির আনাচে-কানাচে ও পতিত জমিতে চালতার মতো দেশীয় গাছ রোপণের এখনই সময়।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

 

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের বুক চিরে বয়ে চলা ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরা সদরের মিল বাজারস্থ সুন্দরবন ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এই সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রাণসায়ের খাল কেবল একটি জলাধার নয়, এটি সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্য ও ফুসফুস। অথচ চরম দখল ও দূষণের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী খালটি আজ অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। খালের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহরে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।

দেশ টিভির সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমনের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য ও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডমিন অফিসার শেখ আব্দুর রহমানের, বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বেলার প্রধান কার্যালয়ের অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ আল গালিব, খুলনা বেলা রিসার্চ অফিসের শাফায়েত উল্লাহ, বেলার ক্যাম্পেইন অফিসার মোজাফফর ফয়সাল, অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন অফিসার সামির রহমান এবং রিসার্চ অফিসার রাইসুল হাসান সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেনের।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না। এছাড়াও প্রাণসায়ের খালের তীরবর্তী সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও ইয়ুথ সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

শহরের পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় সভা থেকে অবিলম্বে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- খালের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করা, খালে বাসা-বাড়ি বা বাজারের বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে বন্ধ করা এবং খালটি পূর্ণাঙ্গভাবে খনন করে এর স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা।

বক্তারা বলেন, “প্রাণ-সায়ের খাল বাঁচলে, বাঁচবে আমাদের সাতক্ষীরা শহর। এই খালকে বাঁচাতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং নিজেদেরও খাল দূষণমুক্ত রাখার শপথ নিতে হবে।”

 

ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান

চীনের মুদ্রা রেনমিনপি বা ইউয়ান মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৭ পিপস বেড়ে ৬ দশমিক ৮১৩০-এ দাঁড়িয়েছে। বুধবার এ তথ্য দিয়েছে চীনের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা।

চীনের স্পট বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় মধ্যমূল্যের তুলনায় ইউয়ান সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে।

এই কেন্দ্রীয় হার নির্ধারণ করা হয় আন্তঃব্যাংক বাজার খোলার আগে বাজার-নির্ধারকদের দেওয়া দরগুলোর গড়ের ভিত্তিতে।

সূত্র: সিএমজি

আল্লাহর কাছে শুকরিয়া: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া: ট্রাম্প

ইরানের ওপর চলমান মার্কিন নৌ অবরোধের ব্যাপক প্রশংসা করে দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক নতুন পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান এখন দ্রুত একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

চলতি এই অবরোধকে নৌযুদ্ধের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে সফল অবরোধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, আমরা না চাইলে কোনও কিছুই এর ভেতর দিয়ে পার হতে পারে না। এটি একটি ইস্পাতের দেয়াল!

ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্পের হুঙ্কার
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ‘ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন একেবারে শূন্যের কোঠায়। তারা তাদের সামরিক বাহিনীকে বেতন দিতে পারছে না, এমনকি নিজেদের কোনও বিলও পরিশোধ করতে পারছে না। তারা দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে! তবে প্রচুর তেল বাইরে বেরিয়ে আসছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া!’

একই সঙ্গে চলমান এই মার্কিন অবরোধ কতটা কার্যকর, তা প্রচার না করার জন্য তিনি ‘ভুয়া গণমাধ্যমগুলোর’ প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পোস্টের বাইরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত নতুন কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতুগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা