সুন্দরবনের জলদস্যু জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য আটক
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) ও ফারুক হোসেন (৩৬) নামে তিন জলদস্যুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিঞ্চি স্লুইসগেট এলাকা থেকে কৈখালী বিসিজি স্টেশন সদস্যরা তাদের আটক করে। এসময় আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের হরিণটানা খালসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুকসহ দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা।
কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় পরিচালিত অভিযানে তিন জলদস্যুকে মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়েছে। তারা সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবন থেকে একটি অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল তারা।
এদিকে শরীফ উদ্দীন ও জামির আলীসহ স্থানীয়রা জানিয়েছে রবিউল ইসলাম ওরফে চেঙ্গিজ রবিউল সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু মঞ্জু বাহিনীর সেকেন্ড-ইন কমান্ড হিসেবে ২০১৭ সালে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আবারও সুন্দরবনে দস্যুতায় সক্রিয় হয়ে জোনাব বাহিনী নামে কাজ শুরু করে। শ্যামনগর পৌরসদরের প্রভাবশালী দুই রাজনীতিকের প্রকাশ্য সহায়তায় সাম্প্রতিক সময়ে সামীন্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণসহ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে দস্যুতা চালিয়ে আসছিল তার বাহিনী। চেঙ্গিজ রবিউলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গডফাদারের নাম পরিচয় প্রকাশসহ অস্ত্র ভান্ডারের বিষয়ে গুরুত্বপুর্ন তথ্য মিলবে বলবে।
শ্যামনগর থানার থফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড সদস্যরা বাদি হয়ে মামলা দিয়েছে। অস্ত্র আইনের মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।






