শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মা: জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
মা: জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বিশ্ব মাতৃ দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ছবি, শুভেচ্ছা আর আবেগঘন কথায় ভরে উঠছে চারপাশ। কেউ মায়ের সঙ্গে পুরোনো ছবি প্রকাশ করবেন, কেউ লিখবেন স্মৃতির কথা, কেউবা হারিয়ে যাওয়া মায়ের জন্য অশ্রুসিক্ত হবেন নীরবে। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকে যায়Ñমাকে স্মরণ করার জন্য কি সত্যিই একটি বিশেষ দিনের প্রয়োজন আছে? যে মানুষটি আমাদের জন্মের আগেই আমাদের জন্য স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন, যার নিঃস্বার্থ ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের পুরো জীবন, তাঁকে কি কেবল একটি দিনের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখা যায়? ‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট অথচ সবচেয়ে গভীর শব্দগুলোর একটি।

 

এই একটি শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা, ভালোবাসা, ত্যাগ, ক্ষমা, মায়া, শাসন, প্রার্থনা আর আশ্রয়ের এক বিশাল পৃথিবী। মানুষের জীবনে প্রথম যে মুখটি দেখা হয়, প্রথম যে কণ্ঠস্বর শোনা হয়, প্রথম যে স্পর্শে নিরাপত্তা অনুভূত হয়Ñসেটি মায়ের। পৃথিবীর সব সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে, কিন্তু মায়ের ভালোবাসা বদলায় না। সন্তান ব্যর্থ হোক কিংবা সফল, সুন্দর হোক কিংবা অসুন্দর, ধনী হোক কিংবা দরিদ্রÑমায়ের চোখে সন্তানের পরিচয় একটাই, সে তাঁর সন্তান।সভ্যতার ইতিহাসে যত বড় মানুষ এসেছেন, তাঁদের জীবনের ভেতরেও মায়ের অবদান গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

 

পৃথিবীর বহু দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক কিংবা রাষ্ট্রনায়ক তাঁদের সাফল্যের পেছনে মায়ের প্রেরণার কথা স্বীকার করেছেন। কারণ একজন মা কেবল সন্তান জন্ম দেন না; তিনি একজন মানুষ গড়ে তোলেন। একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র কিংবা একটি সভ্যতার ভিত্তি নির্মাণ হয় মায়ের হাত ধরেই। আমাদের সমাজে মায়ের ভূমিকা নিয়ে কথা বলা হয় অনেক, কিন্তু বাস্তবতা প্রায়ই ভিন্ন। মা যেন একই সঙ্গে পরিবার, সংসার, সন্তান, সমাজÑসবকিছুর ভার বহনকারী এক নীরব যোদ্ধা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিবারের সবার প্রয়োজন পূরণ করতে করতে নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন কিংবা ক্লান্তির কথা তিনি ভুলে যান। অথচ সেই মায়ের কাজের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, নেই ছুটি, নেই বেতন, নেই অবসরকালীন সুবিধা।

 

সংসারের প্রতিটি কাজকে আমরা ‘দায়িত্ব’ বলে ধরে নিই, কিন্তু সেটি যে কত বড় শ্রম, তা খুব কম মানুষই উপলব্ধি করেন। গ্রামের এক কৃষক পরিবারের মায়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি শুধু রান্নাঘরের মানুষ নন। কখনো মাঠে কাজ করছেন, কখনো গরু-ছাগল সামলাচ্ছেন, কখনো সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন, আবার কখনো সংসারের হিসাব কষছেন। শহরের কর্মজীবী মায়েদের জীবনও কম কঠিন নয়। অফিসের দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে আবার সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়।

 

তাঁদের জন্য আলাদা কোনো বিশ্রামের জায়গা সমাজ তৈরি করেনি।সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, আমাদের সমাজে মায়ের ত্যাগকে এতটাই ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে দেখা হয় যে সেটি আর আলাদা করে মূল্যায়িত হয় না। একজন বাবা সংসারের জন্য অর্থ উপার্জন করলে তাঁকে সম্মান জানানো হয়, কিন্তু একজন মা সারাজীবন সংসার ও সন্তান সামলালেও সেটিকে ‘স্বাভাবিক দায়িত্ব’ হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতা বদলানো জরুরি। কারণ পরিবার টিকিয়ে রাখার পেছনে মায়ের অবদান অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরেও বিশাল সামাজিক মূল্য বহন করে। মাতৃত্ব কখনোই কেবল জৈবিক সম্পর্ক নয়; এটি একটি গভীর মানবিক অনুভূতি।

 

পৃথিবীতে এমন বহু নারী আছেন, যাঁরা জন্ম না দিয়েও মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে সন্তান মানুষ করেন। এতিমখানার শিশুর প্রতি একজন সেবিকার মমতা, পথশিশুর মাথায় হাত রাখা একজন নারীর স্নেহ, কিংবা একজন শিক্ষিকার ছাত্রদের প্রতি যতœÑএসবও মাতৃত্বের বিস্তৃত রূপ। তাই মাতৃত্ব আসলে মানবতার সবচেয়ে কোমল ও মহৎ প্রকাশ। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও সমাজের কাঠামোও বদলাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার বাড়ছে, ব্যস্ততা বাড়ছে, প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভেতর এক ধরনের মানসিক দূরত্বও তৈরি হচ্ছে। এখন অনেক সন্তান বৃদ্ধ বাবা-মাকে সময় দিতে পারেন না।

 

কেউ বিদেশে, কেউ কর্মব্যস্ততায়, কেউ নিজের জীবনের প্রতিযোগিতায় এতটাই ব্যস্ত যে মায়ের সঙ্গে বসে দুটো কথা বলার সময়টুকুও বের করতে পারেন না। বৃদ্ধাশ্রমের দিকে তাকালে এই বাস্তবতা আরও নির্মম হয়ে ওঠে। সেখানে অনেক মা আছেন, যাঁরা একসময় সন্তানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, অথচ বার্ধক্যে এসে তাঁরা একাকিত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানকে বড় করতে গিয়ে যে মা নিজের খাবার, ঘুম, স্বপ্ন সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন, শেষ বয়সে সেই সন্তানদের কাছেই তিনি হয়ে উঠছেন ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’।

 

আধুনিক সভ্যতার এই নির্মমতা আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো। অথচ একজন মায়ের চাহিদা খুব সামান্য। তিনি সন্তানের কাছে বড় কোনো সম্পদ চান না; চান একটু সময়, একটু খোঁজখবর, একটু সম্মান আর ভালোবাসা। মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো সন্তানের আন্তরিকতা। মাতৃ দিবস আমাদের শুধু শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনারও দিন। আমরা কি সত্যিই আমাদের মায়েদের যথাযথ সম্মান দিচ্ছি?

 

তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবছি? তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি? নাকি শুধু সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করছি? আমাদের সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন, অবহেলা কিংবা মানসিক চাপের বড় একটি অংশের শিকার হন মায়েরা। অনেক মা সংসারের শান্তির জন্য বছরের পর বছর নির্যাতন সহ্য করেন। কেউ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের কষ্ট চেপে রাখেন। আবার কেউ অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার কারণে নিজের অধিকার আদায় করতে পারেন না। ফলে মাতৃত্বকে সম্মান করার কথা বললেও বাস্তবে অনেক মা নিরাপত্তাহীন ও অবমূল্যায়িত জীবন কাটান।

মায়ের স্বাস্থ্য নিয়েও আমাদের উদাসীনতা স্পষ্ট। গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো বহু মা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পান না। গর্ভকালীন সেবা, পুষ্টি, নিরাপদ প্রসব কিংবা প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যার অভাবে অসংখ্য নারী ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। দরিদ্র পরিবারের মায়েরা প্রায়ই নিজের চিকিৎসার আগে সন্তানের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন। ফলে দীর্ঘদিন অবহেলায় তাঁদের শারীরিক জটিলতা বাড়তে থাকে। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

একজন মা দিনের পর দিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি কিংবা অবমূল্যায়নের শিকার হলেও তা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়। সমাজ যেন ধরে নেয়Ñমা সব সহ্য করবেন। কিন্তু একজন মায়েরও ক্লান্তি আছে, স্বপ্ন আছে, ভেঙে পড়া আছে, কান্না আছে। তাঁকেও মানসিক সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের আবেগ প্রকাশের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক সময় সেখানে মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ বাস্তব দায়িত্ববোধের জায়গাকে আড়াল করে দেয়।

 

ফেসবুকে মায়ের ছবি দিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়া সহজ, কিন্তু অসুস্থ মায়ের পাশে সময় নিয়ে বসা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভালোবাসা যেন অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার চেয়ে প্রদর্শনীতে বেশি সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাতেও মায়ের প্রতি সম্মান ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাওয়া দরকার। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই পরিবারের শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা পাবে, তখন সে বড় হয়ে আরও মানবিক নাগরিক হবে। কারণ মা শুধু একজন ব্যক্তির মা নন; তিনি একটি প্রজন্মের নির্মাতা।

 

আজকের পৃথিবীতে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা, লোভ ও বিভাজন বাড়ছে, তখন মাতৃত্বের মানবিক শিক্ষা আরও বেশি প্রয়োজন। একজন মা তাঁর সন্তানকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেন। এই মূল্যবোধগুলোই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি। বিশ্বের বহু দেশে কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিশুসেবা সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

 

বিশেষ করে বেসরকারি খাত ও অনানুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে কর্মরত মায়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া গৃহিণীদের শ্রমের অর্থনৈতিক মূল্য নিয়েও এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ একজন গৃহিণী প্রতিদিন যে পরিমাণ কাজ করেন, তা অর্থনৈতিকভাবে হিসাব করলে বিশাল মূল্য দাঁড়ায়। অথচ সেই শ্রমকে এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। মাতৃ দিবস তাই শুধু আবেগের নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নও।

 

একজন মাকে সম্মান জানানো মানে কেবল ফুল দেওয়া নয়; তাঁর অধিকার, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনেও মায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে ভাবা দরকার। শেষ কবে আমরা মায়ের সঙ্গে নির্ভার হয়ে গল্প করেছি? শেষ কবে তাঁর ক্লান্তির কথা জানতে চেয়েছি? শেষ কবে তাঁকে বলেছিÑ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি’? অনেক সময় আমরা ধরে নিই, মা তো আছেনই। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই বুঝতে হয়, মা আর নেই। তখন হাজার অনুশোচনাও আর কোনো কাজে আসে না।মা হারানোর বেদনা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর শূন্যতাগুলোর একটি। যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে সারাজীবন পাশে ছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভূত হয়।

 

তাই মা বেঁচে থাকতে তাঁর মূল্য বোঝা জরুরি। একজন মা কখনো সন্তানের কাছে বড় কিছু প্রত্যাশা করেন না। সন্তানের সামান্য সাফল্যেই তিনি আনন্দিত হন, সামান্য কষ্টেই উদ্বিগ্ন হন। পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ প্রার্থনাগুলো সম্ভবত মায়েদের মুখ থেকেই আসে। আজ মাতৃ দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। সেই মায়ের প্রতিও, যিনি গ্রামে সন্তানকে মানুষ করতে অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি শহরে চাকরি ও সংসারের দ্বৈত চাপ সামলাচ্ছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বিদেশে একা সংগ্রাম করছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন।

 

শ্রদ্ধা সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তান হারিয়েও বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজে নিয়েছেন। শ্রদ্ধা সেই বৃদ্ধ মায়ের প্রতিও, যিনি এখনো সন্তানের ফোনের অপেক্ষায় থাকেন। শ্রদ্ধা সেই একক মায়ের প্রতিও, যিনি একাই পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে লড়ে সন্তান মানুষ করছেন। মাতৃত্বের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। এটি ভালোবাসার সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মা শুধু পরিবারের দায়িত্ব বহনকারী মানুষ হবেন না; তিনি হবেন সম্মানিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক।

 

যেখানে মায়ের ত্যাগকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হবে না; বরং তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। মাতৃ দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিইÑমাকে ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি দায়িত্বও। সেই দায়িত্ব শুরু হয় পরিবারের ভেতর থেকে, আচরণ থেকে, সম্মান থেকে, সময় দেওয়া থেকে। প্রতিটি দিন হোক মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন। কারণ পৃথিবীতে যতদিন ‘মা’ শব্দটি থাকবে, ততদিন মানবতা বেঁচে থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক

 

Ads small one

শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা রবি চৌধুরী ও শাবনূর। একজন গায়ক, অন্যজন অভিনেত্রী। তবে দুজনের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সেই বন্ধুত্বের দৃশ্য আবারও দেখা গেল। ফেসবুকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিডনির রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন অভিনেত্রী, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন গায়ক। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান।

শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। এদিকে সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে সেখানে গেছেন রবি চৌধুরী। তার আসার খবরে শাবনূর আগেই থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলো। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবিকে ঘুরিয়ে দেখালেন তিনি।

এ সময় শাবনূরের অনুরোধে তার খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’।

শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেছেন তারা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।

সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা।

প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৫০। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ইনিংসে সব হিসাব পাল্টে দিলো ক্যারিবীয়রা। শুক্রবার রাঁচিতে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সফল রান তাড়ার তালিকায় অবশ্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ভারতের ২৪৯ রান পেরিয়ে সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পেসার মায়াঙ্ক যাদব পরপর দুই বলে ফেরান কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে। পরে ২৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তারা।

৩৮ রানে থাকতে মায়াঙ্ক যাদবের সহজ ক্যাচে জীবন পান রাদারফোর্ড। জীবন পেয়ে পরে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাদারফোর্ড। মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদবের বলে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছয়।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তোলার গতি ঠিকই ধরে রাখেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। তার ইনিংসে ভর করেই ৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছয়।

এর আগে স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল ভারত। ইনিংসের শুরুতে অভিষেক শর্মা ও স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র চার ওভারের কম সময়ে ৪২ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা।

তবে সেই ঝড়ো শুরু থামান রোস্টন চেজ। অভিষেককে (২০) ফেরানোর পর ৪৩ রান করা ঈশান কিষান ও শিবম দুবেকেও (৭) আউট করেন তিনি। শামার স্প্রিঙ্গারের শিকার হন স্যামসন (৮২)।

শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়ায় ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক বর্মা মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। আইয়ার ১৮ বলে করেন ৪০ রান। ইনিংসের শেষ ওভারের আগের বলে আউট হন তিনি। তাতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪৯ রান। তিলক ১৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন রোস্টন চেজ। ৬৪ রানে দুটি নেন শামার স্প্রিঙ্গার।

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে রবিবার।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আন্তর্জাতিক আইনের প্রখ্যাত প্রবক্তা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কৌঁসুলি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, পিল্লাইয়ের এমন মন্তব্যের জের ধরে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটি।

শুক্রবার পিল্লাইয়ের নোবেল বিজয়ের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নোবেল প্রাইজ কমিটি তাদের নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে। তারা এমন একজন কট্টর বর্ণবাদীকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেছে, যিনি একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন।

একই সঙ্গে পিল্লাই ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ও কুৎসা রটাতে উসকানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন দ্য অকুপাইড প্যালেনস্টাইন টেরিটরি-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। অবশ্য এই কমিশনটি জাতিসংঘের মূল প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি কথা বলে না। তবে গত বছর এক প্রতিবেদনে কমিশনটি উল্লেখ করে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা সংঘটিত করছে।

সূত্র: এএফপি