শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

মা: জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
মা: জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বিশ্ব মাতৃ দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ছবি, শুভেচ্ছা আর আবেগঘন কথায় ভরে উঠছে চারপাশ। কেউ মায়ের সঙ্গে পুরোনো ছবি প্রকাশ করবেন, কেউ লিখবেন স্মৃতির কথা, কেউবা হারিয়ে যাওয়া মায়ের জন্য অশ্রুসিক্ত হবেন নীরবে। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকে যায়Ñমাকে স্মরণ করার জন্য কি সত্যিই একটি বিশেষ দিনের প্রয়োজন আছে? যে মানুষটি আমাদের জন্মের আগেই আমাদের জন্য স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন, যার নিঃস্বার্থ ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের পুরো জীবন, তাঁকে কি কেবল একটি দিনের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখা যায়? ‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট অথচ সবচেয়ে গভীর শব্দগুলোর একটি।

 

এই একটি শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা, ভালোবাসা, ত্যাগ, ক্ষমা, মায়া, শাসন, প্রার্থনা আর আশ্রয়ের এক বিশাল পৃথিবী। মানুষের জীবনে প্রথম যে মুখটি দেখা হয়, প্রথম যে কণ্ঠস্বর শোনা হয়, প্রথম যে স্পর্শে নিরাপত্তা অনুভূত হয়Ñসেটি মায়ের। পৃথিবীর সব সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে, কিন্তু মায়ের ভালোবাসা বদলায় না। সন্তান ব্যর্থ হোক কিংবা সফল, সুন্দর হোক কিংবা অসুন্দর, ধনী হোক কিংবা দরিদ্রÑমায়ের চোখে সন্তানের পরিচয় একটাই, সে তাঁর সন্তান।সভ্যতার ইতিহাসে যত বড় মানুষ এসেছেন, তাঁদের জীবনের ভেতরেও মায়ের অবদান গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

 

পৃথিবীর বহু দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক কিংবা রাষ্ট্রনায়ক তাঁদের সাফল্যের পেছনে মায়ের প্রেরণার কথা স্বীকার করেছেন। কারণ একজন মা কেবল সন্তান জন্ম দেন না; তিনি একজন মানুষ গড়ে তোলেন। একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র কিংবা একটি সভ্যতার ভিত্তি নির্মাণ হয় মায়ের হাত ধরেই। আমাদের সমাজে মায়ের ভূমিকা নিয়ে কথা বলা হয় অনেক, কিন্তু বাস্তবতা প্রায়ই ভিন্ন। মা যেন একই সঙ্গে পরিবার, সংসার, সন্তান, সমাজÑসবকিছুর ভার বহনকারী এক নীরব যোদ্ধা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিবারের সবার প্রয়োজন পূরণ করতে করতে নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন কিংবা ক্লান্তির কথা তিনি ভুলে যান। অথচ সেই মায়ের কাজের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, নেই ছুটি, নেই বেতন, নেই অবসরকালীন সুবিধা।

 

সংসারের প্রতিটি কাজকে আমরা ‘দায়িত্ব’ বলে ধরে নিই, কিন্তু সেটি যে কত বড় শ্রম, তা খুব কম মানুষই উপলব্ধি করেন। গ্রামের এক কৃষক পরিবারের মায়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি শুধু রান্নাঘরের মানুষ নন। কখনো মাঠে কাজ করছেন, কখনো গরু-ছাগল সামলাচ্ছেন, কখনো সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন, আবার কখনো সংসারের হিসাব কষছেন। শহরের কর্মজীবী মায়েদের জীবনও কম কঠিন নয়। অফিসের দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে আবার সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়।

 

তাঁদের জন্য আলাদা কোনো বিশ্রামের জায়গা সমাজ তৈরি করেনি।সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, আমাদের সমাজে মায়ের ত্যাগকে এতটাই ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে দেখা হয় যে সেটি আর আলাদা করে মূল্যায়িত হয় না। একজন বাবা সংসারের জন্য অর্থ উপার্জন করলে তাঁকে সম্মান জানানো হয়, কিন্তু একজন মা সারাজীবন সংসার ও সন্তান সামলালেও সেটিকে ‘স্বাভাবিক দায়িত্ব’ হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতা বদলানো জরুরি। কারণ পরিবার টিকিয়ে রাখার পেছনে মায়ের অবদান অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরেও বিশাল সামাজিক মূল্য বহন করে। মাতৃত্ব কখনোই কেবল জৈবিক সম্পর্ক নয়; এটি একটি গভীর মানবিক অনুভূতি।

 

পৃথিবীতে এমন বহু নারী আছেন, যাঁরা জন্ম না দিয়েও মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে সন্তান মানুষ করেন। এতিমখানার শিশুর প্রতি একজন সেবিকার মমতা, পথশিশুর মাথায় হাত রাখা একজন নারীর স্নেহ, কিংবা একজন শিক্ষিকার ছাত্রদের প্রতি যতœÑএসবও মাতৃত্বের বিস্তৃত রূপ। তাই মাতৃত্ব আসলে মানবতার সবচেয়ে কোমল ও মহৎ প্রকাশ। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও সমাজের কাঠামোও বদলাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার বাড়ছে, ব্যস্ততা বাড়ছে, প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভেতর এক ধরনের মানসিক দূরত্বও তৈরি হচ্ছে। এখন অনেক সন্তান বৃদ্ধ বাবা-মাকে সময় দিতে পারেন না।

 

কেউ বিদেশে, কেউ কর্মব্যস্ততায়, কেউ নিজের জীবনের প্রতিযোগিতায় এতটাই ব্যস্ত যে মায়ের সঙ্গে বসে দুটো কথা বলার সময়টুকুও বের করতে পারেন না। বৃদ্ধাশ্রমের দিকে তাকালে এই বাস্তবতা আরও নির্মম হয়ে ওঠে। সেখানে অনেক মা আছেন, যাঁরা একসময় সন্তানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, অথচ বার্ধক্যে এসে তাঁরা একাকিত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানকে বড় করতে গিয়ে যে মা নিজের খাবার, ঘুম, স্বপ্ন সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন, শেষ বয়সে সেই সন্তানদের কাছেই তিনি হয়ে উঠছেন ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’।

 

আধুনিক সভ্যতার এই নির্মমতা আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো। অথচ একজন মায়ের চাহিদা খুব সামান্য। তিনি সন্তানের কাছে বড় কোনো সম্পদ চান না; চান একটু সময়, একটু খোঁজখবর, একটু সম্মান আর ভালোবাসা। মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো সন্তানের আন্তরিকতা। মাতৃ দিবস আমাদের শুধু শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনারও দিন। আমরা কি সত্যিই আমাদের মায়েদের যথাযথ সম্মান দিচ্ছি?

 

তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবছি? তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি? নাকি শুধু সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করছি? আমাদের সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন, অবহেলা কিংবা মানসিক চাপের বড় একটি অংশের শিকার হন মায়েরা। অনেক মা সংসারের শান্তির জন্য বছরের পর বছর নির্যাতন সহ্য করেন। কেউ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের কষ্ট চেপে রাখেন। আবার কেউ অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার কারণে নিজের অধিকার আদায় করতে পারেন না। ফলে মাতৃত্বকে সম্মান করার কথা বললেও বাস্তবে অনেক মা নিরাপত্তাহীন ও অবমূল্যায়িত জীবন কাটান।

মায়ের স্বাস্থ্য নিয়েও আমাদের উদাসীনতা স্পষ্ট। গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো বহু মা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পান না। গর্ভকালীন সেবা, পুষ্টি, নিরাপদ প্রসব কিংবা প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যার অভাবে অসংখ্য নারী ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। দরিদ্র পরিবারের মায়েরা প্রায়ই নিজের চিকিৎসার আগে সন্তানের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন। ফলে দীর্ঘদিন অবহেলায় তাঁদের শারীরিক জটিলতা বাড়তে থাকে। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

একজন মা দিনের পর দিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি কিংবা অবমূল্যায়নের শিকার হলেও তা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়। সমাজ যেন ধরে নেয়Ñমা সব সহ্য করবেন। কিন্তু একজন মায়েরও ক্লান্তি আছে, স্বপ্ন আছে, ভেঙে পড়া আছে, কান্না আছে। তাঁকেও মানসিক সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের আবেগ প্রকাশের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক সময় সেখানে মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ বাস্তব দায়িত্ববোধের জায়গাকে আড়াল করে দেয়।

 

ফেসবুকে মায়ের ছবি দিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়া সহজ, কিন্তু অসুস্থ মায়ের পাশে সময় নিয়ে বসা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভালোবাসা যেন অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার চেয়ে প্রদর্শনীতে বেশি সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাতেও মায়ের প্রতি সম্মান ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাওয়া দরকার। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই পরিবারের শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা পাবে, তখন সে বড় হয়ে আরও মানবিক নাগরিক হবে। কারণ মা শুধু একজন ব্যক্তির মা নন; তিনি একটি প্রজন্মের নির্মাতা।

 

আজকের পৃথিবীতে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা, লোভ ও বিভাজন বাড়ছে, তখন মাতৃত্বের মানবিক শিক্ষা আরও বেশি প্রয়োজন। একজন মা তাঁর সন্তানকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেন। এই মূল্যবোধগুলোই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি। বিশ্বের বহু দেশে কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিশুসেবা সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

 

বিশেষ করে বেসরকারি খাত ও অনানুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে কর্মরত মায়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া গৃহিণীদের শ্রমের অর্থনৈতিক মূল্য নিয়েও এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ একজন গৃহিণী প্রতিদিন যে পরিমাণ কাজ করেন, তা অর্থনৈতিকভাবে হিসাব করলে বিশাল মূল্য দাঁড়ায়। অথচ সেই শ্রমকে এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। মাতৃ দিবস তাই শুধু আবেগের নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নও।

 

একজন মাকে সম্মান জানানো মানে কেবল ফুল দেওয়া নয়; তাঁর অধিকার, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনেও মায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে ভাবা দরকার। শেষ কবে আমরা মায়ের সঙ্গে নির্ভার হয়ে গল্প করেছি? শেষ কবে তাঁর ক্লান্তির কথা জানতে চেয়েছি? শেষ কবে তাঁকে বলেছিÑ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি’? অনেক সময় আমরা ধরে নিই, মা তো আছেনই। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই বুঝতে হয়, মা আর নেই। তখন হাজার অনুশোচনাও আর কোনো কাজে আসে না।মা হারানোর বেদনা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর শূন্যতাগুলোর একটি। যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে সারাজীবন পাশে ছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভূত হয়।

 

তাই মা বেঁচে থাকতে তাঁর মূল্য বোঝা জরুরি। একজন মা কখনো সন্তানের কাছে বড় কিছু প্রত্যাশা করেন না। সন্তানের সামান্য সাফল্যেই তিনি আনন্দিত হন, সামান্য কষ্টেই উদ্বিগ্ন হন। পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ প্রার্থনাগুলো সম্ভবত মায়েদের মুখ থেকেই আসে। আজ মাতৃ দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। সেই মায়ের প্রতিও, যিনি গ্রামে সন্তানকে মানুষ করতে অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি শহরে চাকরি ও সংসারের দ্বৈত চাপ সামলাচ্ছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বিদেশে একা সংগ্রাম করছেন; সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন।

 

শ্রদ্ধা সেই মায়ের প্রতিও, যিনি সন্তান হারিয়েও বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজে নিয়েছেন। শ্রদ্ধা সেই বৃদ্ধ মায়ের প্রতিও, যিনি এখনো সন্তানের ফোনের অপেক্ষায় থাকেন। শ্রদ্ধা সেই একক মায়ের প্রতিও, যিনি একাই পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে লড়ে সন্তান মানুষ করছেন। মাতৃত্বের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। এটি ভালোবাসার সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মা শুধু পরিবারের দায়িত্ব বহনকারী মানুষ হবেন না; তিনি হবেন সম্মানিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক।

 

যেখানে মায়ের ত্যাগকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হবে না; বরং তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। মাতৃ দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিইÑমাকে ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি দায়িত্বও। সেই দায়িত্ব শুরু হয় পরিবারের ভেতর থেকে, আচরণ থেকে, সম্মান থেকে, সময় দেওয়া থেকে। প্রতিটি দিন হোক মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন। কারণ পৃথিবীতে যতদিন ‘মা’ শব্দটি থাকবে, ততদিন মানবতা বেঁচে থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক

 

Ads small one

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারাইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠন এবং কুয়েত ও সৌদি আরবে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার কথা ভাবছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দুজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের কিছু ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এতে ঘাঁটিটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্তত এক ডজন অন্যান্য ভবনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখনও এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত মাত্রা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন জনগণের মনোভাবে তীব্র পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের শর্তাবলি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা করার সময়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য সব ধরনের শত্রুতা ও লড়াই বন্ধ থাকবে।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির একটি জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান ‘যৌক্তিক ছিল না’।

তৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্রতৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্র
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর আসন্ন হুমকি দূর করতে’ ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল তাদের ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেনচিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেন
তবে নতুন জরিপটি দেখাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে হওয়া এই চুক্তিটি প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রতি জনমানুষের ধারণাকে দুর্বল করে দিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই তেমন কোনও মতভেদ নেই। দুই রাজনৈতিক দলেরই অধিকাংশ সমর্থক বিশ্বাস করেন, ইরানের পক্ষে এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ রয়ে গেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লক্ষ্য করলে একটি বিশেষ সংখ্যা চোখে পড়ে ‘১৮৯৩’। ফুটবল বিশ্বকাপের যাত্রা যেখানে শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে, সেখানে বিশ্বকাপ শুরুরও ৩৭ বছর আগের এই সালটি জার্সিতে থাকার কারণ নিয়ে অনেকের মনেই কৌতুহল রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিশ্বকাপেরও বহু বছর আগের এই সালটির গুরুত্ব কী?

আসলে জার্সিতে থাকা ‘১৮৯৩’ কোনো রহস্যময় সংখ্যা নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রতিষ্ঠাবর্ষ। দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শেকড় এবং দীর্ঘ ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই জার্সিতে এই সালটি ব্যবহার করা হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগে আর্জেন্টিনায় ফুটবল ছিল একেবারেই নতুন একটি খেলা। ব্রিটিশ অভিবাসী, ব্যবসায়ী ও রেলওয়ে কর্মীদের হাত ধরে দেশটিতে ফুটবলের প্রচলন শুরু হয়।

সেই সময় স্কটল্যান্ডের শিক্ষক আলেকজান্ডার ওয়াটসন হাটন আর্জেন্টিনায় এসে খেলাটির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া এই শিক্ষক স্কুলপর্যায়ে ফুটবল চালু করেন এবং তরুণদের মধ্যে খেলাটির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন।

তারই উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় আর্জেন্টাইন অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল লীগ। পরবর্তীতে এই সংস্থাই রূপ নেয় বর্তমানের আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এ। দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম জাতীয় ফুটবল সংস্থা।

আজকের দিনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশ হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার সংগঠিত ফুটবল যাত্রার আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছিল সেই বছরেই। এই কারণেই ‘১৮৯৩’ সালটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পায়।

দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শিকড় ও দীর্ঘ পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় দলের জার্সিতে এই সংখ্যাটি ব্যবহার করা হয়। জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসও বিভিন্ন সংস্করণের জার্সিতে ‘১৮৯৩’ যুক্ত করে সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরেছে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন হিসেবেও এএফএর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের ফুটবল ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা সংগঠিত ফুটবল কাঠামো গড়ে তুলেছিল। ফলে ‘১৮৯৩’ শুধু একটি সাল নয়, এটি দেশটির দীর্ঘ ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক।

মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা। কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লায়ন্স ক্লাব।
তিনি আজ (শুক্রবার) খুলনা লায়ন্স আই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার কখনো অভাব হবে না। তিনি চক্ষু সেবার পাশাপাশি লায়ন্স ক্লাবের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং অটিজম বিষয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। মানবতার সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, লায়ন্স এ কে এম গোলাম ফারুক, সাবিনা সিদ্দিকা ও ডা. মো: বোরহান উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র লায়ন্স ড. রনঞ্জিত কুমার নাথ। স্বাগত বক্তৃতা করেন লায়ন্স ডা. মনোজ কুমার দাস। তথ্যবিবরণী