বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

​পত্রদূত ডেস্ক: ​সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন তথ্য জেনে ফেলার কারণে সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির বিচার দাবি করে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান। আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
​আবেদনে ওবায়দুর রহমান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ২৩৬৭৪৫০৬৫৩) উল্লেখ করেন, বিগত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
​আবেদনকারীর দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুরের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ওবায়দুর রহমান আবেদনে দাবি করেন, তিনি এমপি গাজী নজরুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এই সুবাদে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অসামাজিক কার্যকলাপের তিনি প্রত্যক্ষদর্শী।
​আবেদনে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং গ্যাং বা ‘মব’ গঠন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এমপির বিতর্কিত গতিবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের কথা আবেদনে উল্লেখ করে তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। ​এমপি গাজী নজরুলের আদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে ওবায়দুর রহমান অভিযুক্ত হামলাকারী এবং নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাঁদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তাঁরা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। সংসদ সদস্য জানান, তাঁর শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।