সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

শহীদ মিনারে জুতা নয়: সাতক্ষীরায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চাই!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
শহীদ মিনারে জুতা নয়: সাতক্ষীরায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চাই!

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎শহীদ মিনার বাঙালির ভাষা আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার পবিত্র স্মারক। অথচ সাতক্ষীরা শহর-সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনারের “মূল চত্বর” ও প্রাঙ্গণকে ঘিরে অনাকাক্সিক্ষত আড্ডা, জুতা পায়ে “মূল চত্বর” ওঠা, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং নানা ধরনের অবমাননাকর কর্মকা-ের অভিযোগ ও দৃশ্য জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনার এবং সাতক্ষীরা জজ কোর্ট এলাকার শহীদ মিনার-সহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক তদারকি এখন সময়ের দাবি।

 

শহীদ মিনার কোনো সাধারণ বসার জায়গা কিংবা আড্ডার মঞ্চ নয়। এটি ভাষাশহীদদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জাতীয় মর্যাদার প্রতীক। একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বছরের ৩৬৫ দিনই এর মর্যাদা ও পরিবেশ রক্ষা করা নাগরিক ও প্রশাসনের দায়িত্ব। শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশে বিচারিক নির্দেশনাও রয়েছে। ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় ৮ দফা নির্দেশনা দেন। আদালত শহীদ মিনারের এলাকায় অসামাজিক কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং “মূল চত্বর” কোনো অনুষ্ঠান বা সভা “না” করার নির্দেশ দেন।

 

‎হাইকোর্টের এসব নির্দেশনা মূলত ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান এবং শহীদ মিনারের মর্যাদা সংরক্ষণ, দেশের সকল শহীদ মিনারের প্রশাসনিকভাবে অনুসরণযোগ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তাই সাতক্ষীরার শহীদ মিনারগুলোকে অবহেলায় ফেলে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

‎প্রশ্ন হচ্ছে সাতক্ষীরার শহীদ মিনারগুলো কি শুধু একুশে ফেব্রুয়ারির কয়েক দিনের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ থাকবে? বছরের বাকি সময় সেখানে যদি জুতা পায়ে ওঠা, আড্ডা, ময়লা ফেলা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকা- চলে, তাহলে ভাষাশহীদদের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও জাতীয় ও সামরিক স্মৃতিসৌধের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর আইন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে সামরিক সদস্যদের স্মরণে নির্মিত সরকারি স্মৃতিসৌধ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদ-ের বিধান রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়েও যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশ্বযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে ভাঙচুরের ঘটনায় ফেডারেল অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদ-ের বিধান থাকা ধারায় মামলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যেও স্মৃতিসৌধ ক্ষতিসাধনের বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেখানে ২০২২ সালের আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে স্মৃতিসৌধের ক্ষতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদ- পর্যন্ত বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো জাতীয় স্মৃতি ও আত্মত্যাগের প্রতীকগুলোকে শুধু আবেগ দিয়ে নয়, আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেও সুরক্ষা দেয়।

 

আমাদের দেশেও শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় বিদ্যমান আইন, আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান, জেলার গুরুত্বপূর্ণ সব শহীদ মিনারের একটি তালিকা করে সেগুলোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব নির্ধারণ করা হোক।

 

শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনার ও জজ কোর্ট এলাকার শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপত্তাবেষ্টনী এবং ‘জুতা পায়ে বেদিতে ওঠা নিষেধ’, ‘আড্ডা ও ময়লা ফেলা নিষেধ’ এমন স্পষ্ট সাইনবোর্ড স্থাপন করা হোক।

‎শুধু সাইনবোর্ড দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শহীদ মিনারের মর্যাদা নষ্ট করলে তার কর্মকা-ের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রচলিত আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

Ads small one

বুধহাটায় ফারিয়ার বার্ষিক নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
বুধহাটায় ফারিয়ার বার্ষিক নির্বাচন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ফারিয়ার (ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি সমিতি) বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাত নয়টায় বুধহাটা বাজারে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বুধহাটা কেমিস্টস সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মিজানুর রহমানকে সভাপতি, খায়রুল ইসলাম ও রাজন আলীকে সহসভাপতি, ময়েজউদ্দীন হামেদীকে সাধারণ সম্পাদক, জ্বলেমিন হোসেনকে যুগ্ম সম্পাদক, মোতাছিম বিল্লাহকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মাযহারুল ইসলামকে কোষাধ্যক্ষ এবং মামুন খানকে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে ‘বারসিক এনগেজ প্রকল্প’র ক্যাম্পেইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে ‘বারসিক এনগেজ প্রকল্প’র ক্যাম্পেইন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উন্নয়ন সংগঠন বারসিক’র এনগেজ প্রকল্প’র উদ্যোগে পরিবেশ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১০টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে উক্ত ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও নেটজ বাংলাদেশের অর্থায়নে দিনব্যাপী আয়োজিত ক্যাম্পেইন কর্মসুচির মধ্যে ছিল প্রদর্শনী, নাটক, র‌্যালী ও আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পেইনের শুরুতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত র‌্যালি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া বারসিক এনগেজ প্রকল্পের সুশীল সমাজ সংগঠন ও শিক্ষার্থী ফোরামের উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ স্টল প্রদর্শন করা হয়। স্টলগুলো পরিদর্শন করে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থী ও সিএসও সদস্যদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী কুমারেশ চন্দ্র। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, শ্যামনগর উপজেলার এনজিও সমন্বয়কারী গাজী আল ইমরান
বক্তারা পরিবেশ দূষণ রোধ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় সুশীল সমাজ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী ফোরামের সদস্যবৃন্দ, বারসিক এনগেজ প্রকল্পের রোকসানা পারভীন, সুপর্ণা মিত্র, মাহুয়া পারভীন এবং বারসিকের সকল কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সুশীল সমাজ সংগঠন ও শিক্ষার্থী ফোরামের উদ্যোগে জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক পথনাটক (থিয়েটার) পরিবেশিত হয়। নাটকটির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র, পরিবেশ ধ্বংসের কারণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
সবশেষে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশগত মানবাধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে উপস্থিত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও প্রতিনিধিরা একটি স্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পেইন সঞ্চালনা করেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শরিফুল ইসলাম।

বিচালি কাটা মেশিনে কেটে গেল কলেজছাত্রের হাতের ৫টি আঙুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
বিচালি কাটা মেশিনে কেটে গেল কলেজছাত্রের হাতের ৫টি আঙুল

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে বিদ্যুৎচালিত বিচালি (খড়) কাটা মেশিনে ডান হাত ঢুকে খায়রুল ইসলাম (২৮) নামের এক কলেজছাত্রের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বাড়িতে পোষা গাভীর খাবারের জন্য প্রতিদিনের মতো বিচালি কাটছিলেন খায়রুল। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর ডান হাতটি বিদ্যুৎচালিত মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে তাঁর ডান হাতের পাঁচটি আঙুলই কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডাকচিৎকারে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে খায়রুলকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (বার্ন ইউনিট) পাঠানো হয়। খায়রুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।