শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মৃত্যুর ৮ দিন পরও কেন মর্গে টুইশা শর্মার লাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর ৮ দিন পরও কেন মর্গে টুইশা শর্মার লাশ

টুইশা শর্মার মৃত্যুর আট দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু তার মরদেহ এখনও অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) ভোপালের শীতল মর্গে পড়ে রয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী সাবেক মিস পুনে ও বিপণন পেশাজীবী (মার্কেটিং প্রফেশনাল) টুইশার মৃত্যুর ঘটনার একটি ‘সুষ্ঠু ও স্বাধীন’ তদন্ত না পাওয়া পর্যন্ত তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা-বাবা।

মধ্যপ্রদেশ পুলিশ যে ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে ‘আত্মহত্যা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তা এখন যৌতুকের জন্য নির্যাতন, তথ্য-প্রমাণ লোপাট এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগে এক জটিল মোড় নিয়েছে।

টুইশার মা-বাবা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত তার ভাই দাবি করেছেন, নতুন করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে হবে এবং সেটি হতে হবে দিল্লির এইমসে। তাদের অভিযোগ, ভোপালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ও অসম্পূর্ণ ছিল, কারণ ভোপালে টুইশার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

টুইশার পরিবারের সন্দেহ, এটি কেবল সাধারণ আত্মহত্যা নয়। মাত্র পাঁচ মাস আগে ভোপালের আইনজীবী সমর্থ সিংহের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল টুইশার। বিয়ের পর থেকেই টুইশাকে যৌতুকের জন্য হেনস্তা, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিংহ পলাতক রয়েছেন এবং তার খোঁজ দিতে পারলে ১০ হাজার রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভোপাল পুলিশ।

এদিকে ভোপাল পুলিশ পরিবারকে চিঠি দিয়ে দ্রুত লাশ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন মরদেহ এভাবে রেখে দিলে তা পচে যেতে পারে। তাদের মতে, এইমস ভোপালের মর্গে মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে লাশ রাখা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে লাশ সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন, যা এইমস ভোপালে নেই বলে। তবে পরিবারের কাছে টুইশার এই ব্যবচ্ছেদহীন দেহই এখন শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের শেষ প্রমাণ।

প্রথম ময়নাতদন্তে কী মিলেছে?

গত ১২ মে ভোপালে টুইশার শ্বশুরবাড়িতে জিমনাস্টিক রিংয়ের দড়ির সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এইমস ভোপালের প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুইশার মৃত্যু হয়েছে গলায় ফাঁস লাগার কারণে। চিকিৎসকেরা তার গলায় লালচে জোড়া দাগ এবং শ্বাসরোধের কারণে মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণেরকথা উল্লেখ করেছেন। সহজ কথায়, মৃত্যুর আগে গলায় চাপের কারণে অক্সিজেন না পেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

তবে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুইশার দেহে একাধিক ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; যার মধ্যে হাত, আঙুল এবং মাথার ত্বকে কালশিটে দাগ মিলেছে। এই তথ্যগুলোই পরিবারের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে টুইশা গর্ভপাত করিয়েছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষার জন্য তার ডিএনএ এবং টক্সিকোলজি নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এসব আঘাতের বিষয়ে পুলিশ কোনও তদন্তই করেনি।

ফাঁসের উপাদান নিয়ে বড় প্রশ্ন

এই মামলার অন্যতম বড় রহস্য তৈরি হয়েছে গলায় ফাঁস দেওয়ার উপাদানটি নিয়ে। প্রথম দিকে পুলিশ দাবি করেছিল, টুইশা নাইলনের বেল্ট ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইমসের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট লেখা আছে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়নাতদন্তের সময় ফাঁসের সেই উপাদানটি চিকিৎসকদের কাছে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা গলার দাগের সঙ্গে ফাঁসের উপাদানের বৈজ্ঞানিক মিল খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে আবার টুইশার ঝুলন্ত লাশের ছাদ থেকে একটি ব্যায়ামের রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড উদ্ধারের কথা বলা হয়।

প্রমাণ লোপাটের এই চেষ্টাকে পুলিশের বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে দেখছে পরিবার। টুইশার বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ‘ফাঁসের উপাদান জমা না দিয়েই পোস্ট-মর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মতো সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার কীভাবে বিচারের আশা করতে পারে?’

যৌতুকের জন্য অত্যাচার ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশ

টুইশার পরিবার জানিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে তার ওপর অবিরাম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হতো। টুইশার পাঠানো বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেও সেই কষ্টের কথা লেখা ছিল। এর প্রতিবেদন অনুসারে, টুইশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং বর্তমানে তিনি কনজ্যুমার কোর্টে কর্মরত আছেন।

টুইশার বাবা আরও অভিযোগ করেন, ‘ভোপাল লোকায়ুক্ত পুলিশের প্রধান সত্যেন্দ্র সিংহ হলেন শাশুড়ি গিরিবালা সিংহের আত্মীয়। ফলে অভিযুক্তদের আড়াল করতে পুলিশের ওপর ওপরমহল থেকে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে।’

বিচারের দাবিতে আন্দোলন

ন্যায়বিচারের দাবিতে টুইশার পরিবার আদালতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত এবং সিবিআই অথবা সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের আবেদন জানিয়েছে। তবে বুধবার ভোপালের একটি আদালত লাশ সংরক্ষণের পরিকাঠামোগত অভাবের কথা উল্লেখ করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। যদিও একই দিনে ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার জানিয়েছিলেন যে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে পুলিশের কোনও আপত্তি নেই।

এদিকে কয়েক দিন ধরে ভোপালে অবস্থান নেওয়া টুইশার মা-বাবা বুধবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরই তারা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এই মৃত্যুর তদন্তে হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

পুলিশ ইতোমধ্যে যৌতুক নির্যাতনের মামলা দায়ের করে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে এবং টুইশার স্বামী সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছে। অন্যদিকে টুইশার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, টুইশার মানসিক সমস্যা ছিল, তিনি গাঁজা সেবন করতেন এবং আবেগবশত হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Ads small one

আজ থেকে নেট-পাটা অপসারণে নামছে প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
আজ থেকে নেট-পাটা অপসারণে নামছে প্রশাসন

সাতক্ষীরার নদ-নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনের মহাপরিকল্পনা:
কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনার ৩০২ অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ

আসাদুজ্জামান সরদার: আজ শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে নেট-পাটা অপসারণে নামছে প্রশাসন। সাতক্ষীরার নদ-নদী ও নৌ-খালগুলোর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং নাব্যতা রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত ও পুনরায় যাচাইয়ের ভিত্তিতে এই বিশেষ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব (এসএ) শাখা থেকে ইতিমধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনাটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টালে এই উচ্ছেদ রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন ও উচ্ছেদ পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলার প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী-কপোতাক্ষ, ইছামতি, বেতনা এবং বিভিন্ন সংযোগ নৌ-খাল দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিগ্রাসীদের অবৈধ দখলে রয়েছে। নদী অববাহিকার সরকারি জমি গ্রাস করে দখলদাররা গড়ে তুলেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিনের ঘর, বিশাল সীমানা প্রাচীর, বাণিজ্যিক মাছের ঘের, পুকুর, আমবাগান ও ফসলি জমি। এমনকি কিছু কিছু মৌজায় নদীর বুক চিরে গড়ে তোলা হয়েছে পরিবেশ বিধ্বংসী বাণিজ্যিক ইটভাটা এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানার শেড বা ছাউনি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রাধানগর মৌজায় ইছামতি নদীর তীরবর্তী প্রায় ১০ জন বড় দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা বিপুল পরিমাণ নদীর জায়গা দখল করে আছেন। অন্যদিকে, বিনেরপোতা মৌজায় বেতনা নদীর মূল সীমানা গ্রাস করে অবৈধ সীমানা প্রাচীর এবং ফ্যাক্টরির বিশাল ছাউনি নির্মাণের তথ্য মিলেছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বেতনা নদীর এই দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যে সর্বশেষ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে চলমান রয়েছে।

এছাড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ‘নৌ-খাল’ দখল করে অবাধে ধান চাষ ও মাছ চাষ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাবুলিয়া মৌজায় ‘কামরুল এসবিবি’ ও ‘মনির এসবিএল’ নামের দুটি বাণিজ্যিক ইটভাটা নদীর সীমানার ভেতরে গড়ে তোলার চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পুরোপুরি উদ্ধার করার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ দিন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সাজানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা মাঠ পর্যায়ে এসিল্যান্ডদের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বেতনা নদীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য স্থানেও দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সামাজিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও নদী ও পরিবেশের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না।

সরকারি এই প্রতিবেদনে সবচেয়ে ভয়াবহ দখলদারিত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে তালা উপজেলার মাগুরা, জগদানন্দকাটি, পুটিয়াখালী, রাজেন্দ্রপুর ও জালালপুর মৌজায় কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায়। এখানে শতাধিক ব্যক্তি নদীর মূল জায়গা দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিনের ঘর তুলে বসবাস করছেন। জেলা প্রশাসন এই কপোতাক্ষ নদের দখলদারদের সরাতে ‘ভ্রাম্যমাণ উচ্ছেদ অভিযান’ বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কপোতাক্ষ নদের উচ্ছেদ পরিকল্পনার পথে বড় দুটি অন্তরায় বা চ্যালেঞ্জ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। প্রথমত, মাঠ পর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযান জোরালো ও একযোগে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তীব্র ‘জনবলের অভাব’ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সংকট রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই নদী অববাহিকা দখল করে যারা বসবাস করছেন, তাদের একটি বড় অংশই প্রকৃত ‘ভূমিহীন পরিবার’। ফলে মানবিক দিক বিবেচনা এবং তাদের পুনর্বাসনের জটিল বিষয়টি উচ্ছেদ অভিযানের অন্যতম মূল সামাজিক বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাতক্ষীরা জেলা সম্পাদক এবং নদী সুরক্ষা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, প্রাক্টিক্যালি আমাদের যে নদী আইন এবং পরবর্তীতে সংশোধিত যে নদী আইনটি হয়েছে। সেটা গুরুত্ব দিয়ে মাঠে সঠিকভাবে পালন করা হয়, তাহলে মানুষজন নদী দখল ও দূষণ থেকে পিছিয়ে আসবে। তবে তার আগে যেটি সবচেয়ে বেশি দরকার, সেটি হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা। নদী আসলে একটি জীবন্ত সত্তা; নদী না বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে না, নদী না বাঁচলে আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি বাঁচবে না। ফলে নদীকে কখনো ব্যক্তিগত সম্পদ বা সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করলে হবে না; এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ। যারা দখল ও দূষণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগ করলেই নদী সুরক্ষিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি যে, প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাতক্ষীরার প্রায় সাড়ে তিনশত নদী দখলকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদি তালিকাটি চূড়ান্ত হয়েই থাকে, তবে চিহ্নিত করার পরেও এই নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা বা দেরি কোথায়? আমি মনে করি, যেহেতু তারা চিহ্নিত, তাই প্রশাসনকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগ করে তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে। আর এই রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি কোনো বাধা-বিঘœ আসে, তবে প্রশাসনকে অত্যন্ত কঠোর হাতে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসনের কাছে এটাই জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম মইন বলেন, জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা ইতিমধ্যেই পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। প্রথমত, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বাজেট বা বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই ক্রমান্বয়ে সব দখলদারদের উচ্ছেদে মূল অভিযান শুরু হবে। তবে আজ শনিবার (১৮ জুলাই) থেকেই আমরা নেটপাটার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযান শুরু করছি, এর পরপরই বড় দখলদারদের হাত থেকে নদীর জায়গা উদ্ধার করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থেকে সরাসরি মনিটর বা তদারকি করা হচ্ছে, তাই উচ্ছেদের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বা প্রভাবশালী কেউ কোনো ছাড় পাবেন না। এছাড়া নদী রক্ষা ও পুনঃদখল ঠেকাতে উদ্ধারকৃত জায়গাগুলোতে বনায়ন করার মূল পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

 

 

৩০২ অবৈধ দখলদারের তালিকা দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিসহ এ ধরনের সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণজমায়েত করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লালকার্ড‘ শীর্ষক স্লোগান দিয়ে উপস্থিত সবাই হাত উঁচু করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

সমাবেশে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সংসদের সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে ঝগড়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘দাসত্বমূলক চুক্তির’ বিষয়ে যেন ‘নীরবতার ঐক্য’ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিটি আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশনামা এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা জনগণকে জানানো হয়নি। মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা ৩২ পৃষ্ঠার দলিলটি পড়লে দেখা যায়, এটি কোনো চুক্তি নয় বরং বাংলাদেশকে কী করতে হবে, তার একটি মার্কিন হুকুমনামা।

এর ফলে প্রয়োজন বা দাম বিবেচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন জিনিস বিনা শুল্কে আমদানি করতে বাংলাদেশ বাধ্য হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর কর ও ভর্তুকির বোঝা বাড়বে।’

 

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে এই সর্বনাশী চুক্তির বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নীরব রয়েছে। ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাগবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বহুজাতিক করপোরেট স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন সবাই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।’

গণজমায়েতে গান পরিবেশনা করে উদীচী, গানের দল সমগীত ও কোরাস। নাটক পরিবেশনা করে নাট্যদল প্রাচ্যনাট ও বিবর্তন। এছাড়া, কবিতা আবৃত্তি করেন তাহসিন রেজা, অনন্যা মাহমুদ এবং মাসুদ মনিরুল। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ দেশীয় স্বার্থ বিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে আজকের গণজমায়েতে দেশের বাইরেও থেকেও সংহতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সম্মিলিত এই গণজমায়েতে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জোটসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, নারী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই

ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বার্বাডোজে নিজের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

অনেকের মতেই ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয় সোবার্সকে। টেস্ট ব্যাটার হিসেবে অনন্য সোবার্স বাঁহাতি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি অর্থোডক্স এবং রিস্ট স্পিন উভয় ধরনের বোলিংয়েই পারদর্শী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ফিল্ডার এবং ক্লোজ ইন ক্যাচার। তার এই বহুমুখী গুণের কারণেই সর্বকালের আরেক সেরা ক্রিকেটার স্যার ডোনাল্ড ব্রাডম্যান তাকে ফাইভ-ইন-ওয়ান ক্রিকেটার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন সোবার্স। ৫৭.৭৮ গড়ে তিনি রান করেছেন ৮,০৩২ এবং ৩৪.০৩ গড়ে নিয়েছেন ২৩৫টি উইকেট। বিশ্ব ক্রিকেটে তার এই অনন্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণে বছরের সেরা পারফরমারকে আইসিসির যে প্রধান বার্ষিক পুরস্কার দেওয়া হয়, তার নামকরণ করা হয়েছে ‘র গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি।

সোবার্সের প্রয়াণে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছে, একটি মহান ইনিংসের সমাপ্তি ঘটলো। আমাদের হৃদয়ে এখন এবং চিরকাল থাকবেন স্যার গারফিল্ড সোবার্স। তবে বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

ষোলো বছর বয়সে শুরু, অতঃপর বিশ্ব রেকর্ড

১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে সফরকারী ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি দলের প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করতে বাধ্য করেছিলেন। এর এক বছর পর জ্যামাইকাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার টেস্ট অভিষেক হয়। ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি ১৪ ও ২৬ রান করেন এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানে ৪ উইকেট নেন।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের টেস্টগুলো তিনি মূলত বোলার হিসেবে খেলেছিলেন। তবে ২৩ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পান এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাবিনা পার্কে ১৯৫৮ সালে ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে লেন হাটনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট স্কোরের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দেন। এই রেকর্ডটি ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ ছিল, যা পরবর্তীতে ব্রায়ান লারা ভেঙে দেন। সোবার্স নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে লারার সেই কীর্তি প্রত্যক্ষ ও উদযাপন করেছিলেন।

সেই রেকর্ড গড়া ইনিংসের এক দশক পর, নটিংহামশায়ারের হয়ে খেলার সময় গ্ল্যামারগনের ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মেরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম এই কীর্তি গড়েন সোবার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বার্বাডোজ, নটিংহামশায়ার এবং সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার প্রথম শ্রেণির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৩৮৩টি ম্যাচ খেলে ৫৪.৮৭ গড়ে ২৮,৩১৪ রান করেছেন এবং ২৭.৭৪ গড়ে ১,০৪৩টি উইকেট নিয়েছেন।

সোবার্স ৯৫টি লিস্ট এ ম্যাচ খেললেও ওডিআই বা ওয়ানডে ক্রিকেটের সূচনালগ্নে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে চলে এসেছিল। ফলে তিনি মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন, ১৯৭৩ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ক্রিকেটে অনন্য সেবার জন্য ১৯৭৫ সালে তাকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর ২০০০ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক তাকে ব্রাডম্যান, স্যার জ্যাক হবস, স্যার ভিভ রিচার্ডস এবং শেন ওয়ার্নের পাশাপাশি ‘শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের’ একজন হিসেবে নির্বাচিত করে।

ছয় আঙুল নিয়ে জন্ম ও ক্যারিবীয়দের স্বপ্নসারথি

১৯৩৬ সালে বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া সোবার্স ছিলেন মা-বাবার ছয় সন্তানের মধ্যে পঞ্চম। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার বণিক-নাবিক বাবা মারা যাওয়ার পর মূলত তার মায়ের কাছেই তিনি বড় হন। জন্মের সময় দুই হাতেই তার ছয়টি করে আঙুল ছিল, তবে শৈশবেই অতিরিক্ত আঙুল দুটি অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয়। তিনি বাস্কেটবল, ফুটবল এবং গলফসহ সব ধরনের খেলাধুলাতেই পারদর্শী ছিলেন।

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ড. কিশোর শ্যালো সোবার্সকে ‘পৃথিবীর দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সোবার্সের পরিবার, বার্বাডোজ সরকার ও জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে তার মৃত্যুতে শোকাহত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

কিশোর শ্যালো আরও বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন একজন ব্যক্তির জীবন প্রজন্মের পর প্রজন্মের আশা, স্বপ্ন এবং পরিচয়ের সঙ্গে মিশে যায়। আজ ক্যারিবীয় অঞ্চল তেমনই একজন মানুষের প্রয়াণে শোকাহত… ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে তার দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। তবে তার আসল তাৎপর্য বাউন্ডারি লাইনের সীমানা ছাড়িয়ে আরও উঁচুতে পৌঁছেছিল।’

তিনি আরও বলেন, তিনি এমন এক সময়ে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে উঠে এসেছিলেন যখন আমাদের অঞ্চলটি বিশ্বমঞ্চে নিজের কণ্ঠস্বর ও অবস্থান জানান দিচ্ছিলো। তার এই শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তিনি আমাদের দ্বীপপুঞ্জের এবং প্রবাসী লাখ লাখ মানুষের মনে নতুন করে বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিলেন যে যেকোনও কিছুই সম্ভব। তিনি দেখিয়েছেন যে শ্রেষ্ঠত্ব কোনও দেশের আকার, দ্বীপের ভূগোল বা আমাদের শুরুর পরিস্থিতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্যার গারফিল্ড সোবার্স কেবল একজন ক্রীড়া আইকন ছিলেন না, তিনি ক্যারিবীয় শ্রেষ্ঠত্ব, স্থিতিস্থাপকতা এবং সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার অর্জন বার্বাডোজের জন্য গর্ব, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অনুপ্রেরণা এবং ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে প্রশংসা কুড়িয়ে এনেছিলো।

সূত্র: ক্রিকইনফো